চিরচেনা সাজে নারীমনের সবচেয়ে বড় আবেদন হচ্ছে গহনা।
প্রাচীনকাল থেকেই সাজগোজের অন্যতম অনুষঙ্গ হিসেবে গহনাকেই প্রাধান্য দেন নারীরা।
বিয়েশাদি, আচার-অনুষ্ঠান, পূজা-পার্বণ যেখানেই পা বাড়ানো হোক না কেন, নারীর সাজে গহনা থাকবে।
বর্তমানে শৌখিন নারীদের কাছে স্বর্ণের পাশাপাশি হীরা ও পান্নার গহনা বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। বিশ্বের সবচেয়ে প্রতিষ্ঠিত নিলামকারী প্রতিষ্ঠান সদবিস, ক্রিস্টিস, ফিলিপস, বনহামস ও পলির নিলামে গত বছর হংকংয়ে বিশেষ কিছু গহনা রেকর্ড গড়া দামে নিলাম হয়েছে। এমনই কিছু উজ্জ্বল রত্ন নিয়ে আমাদের আজকের আয়োজন...
গত অক্টোবরে হংকংয়ে সদবিসের নিলামে একটি আয়তকার মিশ্রণ কাট হীরা উঠেছিল। সাদা হীরার সঙ্গে স্বচ্ছ বেগুনি গোলাপি হীরার অভিনব এ আংটি রেকর্ড গড়া দামে বিক্রি হয়। ১০ দশমিক ৬৪ ক্যারেটের এ আংটির দাম উঠেছিল ১৯.৯ মিলিয়ন ডলার। টুকরোটির সঙ্গে জেমোলজিক্যাল ইনস্টিটিউট অব আমেরিকার (জিআইএ) একটি প্রতিবেদন জুড়ে দেয়া ছিল। প্রতিবেদনে আংটির প্রাণবন্ত বেগুনি গোলাপি ছায়াকে প্রাকৃতিক হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে এবং এ হীরাকে বলা হয়েছে অভ্যন্তরীণ ত্রুটিহীন। এটাকে টাইপ আইআইএ হীরা বলা হয়েছে, যাতে ব্যতিক্রমী অপটিক্যাল স্বচ্ছতা রয়েছে।
সমসাময়িক উচ্চমানের গহনা ডিজাইনারদের মধ্যে যারা আন্তর্জাতিক মনোযোগ আকর্ষণ করতে পেরেছেন, তাদের মধ্যে অন্যতম একজন চীনা বংশোদ্ভূত আন্না হু। সদবিসের নিলামে আন্না হুর ডিজাইন করা একটি চিত্তাকর্ষক হীরার নেকলেস তুলে ধরা হয়েছিল। তবে নেকলেসের সঙ্গে থাকা একটি টুকরো আলাদাভাবে বিশেষ নজর কাড়ে। বহুমুখী এ টুকরোটি স্ক্রোলড হীরার নেকলেস থেকে বিচ্ছিন্ন, তাই এটাকে ব্রোস বা দুল হিসেবেও পরা যায়। একতারার মতো কুশন আকৃতির সাদা হীরার এ দুলে তীব্র হলুদ রঙের হীরার মুকুট যুক্ত করা হয়েছে। নিলামে ১০০ দশমিক ২ ক্যারেটের এ দুলটির দাম উঠেছিল ৫ দশমিক ৮ মিলিয়ন ডলার।
১৫ দশমিক ৮ ক্যারেটের নাশপাতি আকৃতির দুলের মতো ডিজাইনের একটি নেকলেসও গত বছরের নিলামের সেরাদের মধ্যে জায়গা করে নিয়েছে। নেকলেসটিতে ক্লাস্পসহ নাশপাতি আকৃতির হীরায় পর্যায়ক্রমে সারি সারি করে কাটা হীরা যুক্ত করা হয়েছে। ১৮ ক্যারেট সাদা স্বর্ণের মাউন্ট করা এ নেকলেসটি সদবিসের নিলামে ১ দশমিক ২ মিলিয়ন ডলারে বিক্রি হয়েছে।
মহামূল্যবান ও বিরল ইম্পেরিয়াল জাডিট সংগ্রহ করতে অনেকেই অধীর আগ্রহে থাকেন। গত অক্টোবরে পলি নিলামে ম্যাগনিফিকেন্ট জুয়েলারি সামগ্রী নিলামের সময় একটি উচ্চ ট্রান্সলুয়েন্সির সবুজ জাডিটের একটি নেকলেস উঠেছিল। নিলামে ঝকঝকে এ নেকলেসটির দাম উঠেছিল ৪ দশমিক ২ মিলিয়ন ডলার। নেকলেসটিতে বাগুয়েট কাট হীরা এবং একটি রুবি সেট ক্লাস্প রয়েছে।
নিলামে আরেকটি উচ্চমানের ইম্পেরিয়াল জাডিটের নেকলেস ছিল। এটাতে ২৫টি জাডিট পুঁতি যুক্ত করা ছিল, যা উচ্চ ট্রান্সলুয়েন্সিযুক্ত। নেকলেসটির সঙ্গে ১৮ ক্যারেট স্বর্ণের একটি ক্লাস্প ৫ ক্যারেটের ডায়মন্ডের সঙ্গে সেট করা রয়েছে। নিলামে অসাধারণ এ নেকলেসটির দাম উঠেছিল ৩ দশমিক ৮ মিলিয়ন ডলার। এ নেকলেসটির সঙ্গে হংকং জেড অ্যান্ড স্টোন ল্যাবের একটি প্রতিবেদন যুক্ত ছিল। প্রতিবেদনে নেকলেসটির জাডিটের পুঁতিকে প্রাকৃতিক হিসেবে বর্ণনা করে সেটাকে ‘এ জেড’ নামে অভিহিত করা হয়েছে।
জাডিট ডিজাইনের পাশাপাশি নিলামে হ্যারি উইনস্টন স্বাক্ষরিত কলম্বিয়ার পান্না ও হীরা দিয়ে তৈরি এক সেট গহনা বেশ সাড়া ফেলেছিল। অবশেষে এটি ২ দশমিক ৩ ডলারে ক্রেতার কাছে গিয়েছিল। কলম্বিয়ার বিখ্যাত পান্না ও ডায়মন্ডের নেকলেস, ব্রেসলেট, কানের দুল এবং আংটি মিলিয়ে এ গহনা সেটে ১৯টি টুকরো ছিল, যার মোট ওজন ছিল ১৬৯ দশমিক ৩৪ ক্যারেট।
এর আগে গত বছরের মে মাসে হংকংয়ের নিলামে আরেকটি চমকপ্রদ গহনা সেট ছিল। মোজাইফের সাদা হীরার সঙ্গে বেগুনি গোলাপি হীরার সংমিশ্রণে আংটিসহ গহনার এ সেটটি তৈরি করা হয়েছিল। নিলামে এটি ৫ দশমিক ৭ মিলিয়ন ডলারে বিক্রি হয়। অভ্যন্তরীণ ত্রুটিবিহীন এ সেটে ৩ দশমিক ৪৩ ক্যারেটের অভিনব স্বচ্ছ বেগুনি গোলাপি হীরার সঙ্গে উজ্জ্বল কাট এবং নাশপাতি আকৃতির গোলাপি হীরা যুক্ত ছিল।
কলম্বিয়ার পান্নাও নিলামে আকর্ষণের কেন্দ্রে ছিল। কলম্বিয়ার পান্না দিয়ে তৈরি কানের দুলে দুটি নাশপাতি আকৃতির যথাক্রমে ২৩ দশমিক ৩৪ ক্যারেট এবং ২৩ দশমিক ১৮ ক্যারেটের দুলে ৩ দশমিক শূন্য ১ ক্যারেটের কাটা হীরা যুক্ত ছিল। নিলামে এটার দাম উঠেছিল ৪ দশমিক ৯ মিলিয়ন ডলার। দুলের সঙ্গে থাকা এসএসইএফের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছিল, পান্নাগুলো কলম্বিয়া থেকে এসেছে।
মে মাসে হংকংয়ের নিলামে কলম্বিয়ার পান্না দিয়ে তৈরি একটি আংটি উঠেছিল, যা ৬ লাখ ৩০ হাজার ডলারে বিক্রি হয়। ৯ দশমিক ৯৮ ক্যারেটের স্টেপ কাট পান্নার এ আংটিতে গ্যাবলিন রত্ন ল্যাবের একটি প্রতিবেদন যুক্ত করে দেয়া হয়। আরেকটি বাগুয়েট কাট হীরার আংটি ছিল। ৮ দশমিক ১৭ ক্যারেটের উজ্জ্বল কাট হীরার এ আংটির দাম উঠেছিল ৩৮ লাখ ডলার।
বিলাসবহুল এ গহনাগুলো এখন অভিজাত্যের প্রতীক হয়ে উঠেছে। এজন্য বিরল এ টুকরোগুলোর চাহিদা দিন দিন বেড়েই চলেছে। আর চাহিদার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে দাম।
সূত্র: স্টাইল ম্যাগাজিন





