বাংলাদেশের নয় মাসের মুক্তিযুদ্ধে লাখ লাখ শহীদের আত্মত্যাগের বিষয় আমাদের গর্বের ইতিহাস, আমাদের ঐতিহ্যের স্বাক্ষর। আমাদের দুঃখের সীমানা ছাড়িয়ে চোখের জলে সিক্ত। সবকিছু লিপিবদ্ধ করার প্রচেষ্টা আমাদের সাধ্যের বাইরে। অনেক ইতিহাস অজানাই থেকে যাবে, তবু তাদের সম্মিলিত জীবনের মূল্যেই পেয়েছিলাম আমাদের পরম স্বাধীনতা। কিছু কিছু মানুষ আর তাদের কাহিনী আমাদের পথ দেখায়। শহীদ অধ্যাপক ডা. শামসুদ্দীন আহমেদ তাদের মধ্যে একজন।

মুক্তিযুদ্ধের প্রথম দিকে সিলেট মেডিকেল কলেজের সার্জারির প্রধান অধ্যাপক ডা. শামসুদ্দীন আহমেদ ও তার সহকর্মীরা নিজের প্রাণ দিয়েও যুদ্ধাহত মানুষের জন্য খোলা রেখেছিলেন হাসপাতালের দ্বার।

তিনি ছিলেন অত্যন্ত দূরদর্শী এবং বাঙালির ওপর পশ্চিমাদের ২৩ বছরের দুঃশাসন ও তাদের মনোভাব দেখে নিশ্চিত ছিলেন তারা বঙ্গবন্ধুকে ক্ষমতা হস্তান্তর করবে না। তাই তিনি ৩ মার্চের পরই পাকবাহিনীর হত্যাযজ্ঞ শুরু হওয়ার আশঙ্কায় আহত রোগীদের চিকিৎসার জন্য ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেন। তিনি হাসপাতালে ব্লাড ব্যাংক খোলেন এবং আহত রোগীদের চিকিৎসার জন্য একটি ইমার্জেন্সি ফোর্স গঠন করেন। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে পাকবাহিনীর হত্যাযজ্ঞ শুরু হওয়ার পর পরই শামসুদ্দীন আহমেদ হাসপাতালে সর্বক্ষণের জন্য ব্যস্ত থাকেন। মিলিটারিদের গুলিতে হাসপাতালে আহতদের ভিড় বাড়তে থাকে।

তিনি তার ছাত্র ও পরিচিত তরুণদের শহর ত্যাগ করার পরামর্শ দেন ও সুসজ্জিত পাকিস্তানি আর্মিদের প্রতিহত করার জন্য সতিকারের সামরিক ট্রেনিং গ্রহণের পরামর্শ দেন। তখন মুক্তিযুদ্ধ মাত্র শুরু, ৩ এপ্রিল তার ছোট ছেলে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের জন্য শহর ত্যাগ করে তেলিয়াপাড়া চা বাগানে বিদ্রোহী বেঙ্গল রেজিমেন্টের সৈনিকদের সঙ্গে যোগদান করে।

সেই সময় সিলেটের পাঞ্জাব রেজিমেন্টের দুই বাঙালি অফিসার ক্যাপ্টেন মাহবুব ও লেফটেন্যান্ট ডা. মইনকে তারা গুলি করে হাসপাতালের বারান্দায় ফেলে যায়। অনেক চেষ্টা করেও মাহবুবকে বাঁচানো গেল না। তিনি লেফটেন্যান্ট ডা. মইনকে অপারেশনের পর একজন কর্মচারী দিয়ে সিলেটের বাইরে পাঠিয়ে দিলেন। ডা. মইন তাকেও সিলেট থেকে সরে যাওয়ার জন্য অনেক অনুরোধ করেন। তিনি বলেন, তাদের মিলিটারি ডাক্তার হওয়ার পরও তার?