২০১৬-এর ফেব্রুয়ারি হবে। ব্র্যাকে নতুন। তবে সেদিন যে কাজে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে গিয়েছিলাম সে আমার চেনা। গিয়েছিলাম ব্র্যাকের প্রতিষ্ঠাতা স্যার ফজলে হাসান আবেদের সঙ্গে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে যৌথভাবে বাংলাদেশ সরকার ও ব্র্যাকের তৈরি ‘ডিজিটাল পাঠ্য পুস্তকের’ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে স্যার বিশেষ অতিথি। তো কাজ হলো, পুরো অনুষ্ঠানে স্যার আবেদের অংশগ্রহণ ব্র্যাকের পক্ষ হতে সমন্বয় করা। এ কাজ আগে অনেকবার করেছি, তবে এবার কিছু পার্থক্য ছিল। আসছি সে কথায়।
এর আগে অন্তত ২৫-৩৯ বার প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের বা প্রধানমন্ত্রীর অনুষ্ঠান সমন্বয়ের দায়িত্বে ছিলাম। সেসব অনুষ্ঠানে জাতিসংঘের প্রধান বা উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেছেন। প্রতিবারই একটা অগ্রবর্তী দল অনুষ্ঠানটির খুঁটিনাটি যতটা সম্ভব জেনে আমাকে জানত। কাজেই অভ্যগতদের নিয়ে অনুষ্ঠানে ঢোকার আগেই ঠিক কোথায় এবং কখন কোন আনুষ্ঠানিকতা হবে, কোথায় প্রতিনিধি দল অপেক্ষা করবে, কে কোন চেয়ারে বসবেন সবই জানা থাকত। কাগজে-কলমে কাজ ছিল সংশ্লিষ্ট সবাই যেন ঠিক সময়ে ও ঠিক নিয়মে ঠিক স্থানে থাকে, সেটি নিশ্চিত করা। তবে অলিখিত প্রধান দায়িত্ব ছিল আন্তর্জাতিক সংস্থার এসব বড় কর্তারা যেন নিজ নিজ পদমর্যাদা অনুযায়ী যথাযথ ‘সম্মান’ পান তা নিশ্চিত করা। কিন্তু সেবার কোনো অগ্রবর্তী দল ছিল না। ব্র্যাকের সিনিয়র সহকর্মীরা আগে থেকে এত গোছগাছের প্রয়োজনই দেখলেন না। স্যার আবেদের সঙ্গে একই গাড়িতে অনুষ্ঠানে যাওয়ার ব্যবস্থা, সেটা সম্ভবত যাতায়াতের খরচ বাঁচাতেই করা হলো।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে প্রধান ফটকে নিরাপত্তা আনুষ্ঠানিকতায় কখনো বেশকিছুটা সময় লাগে। যাত্রার শুরুতেই ব্যাপারটা স্যার আবেদকে বললাম। তিনি মৃদু হাসলেন। কিন্তু প্রধান ফটকে পৌঁছে স্যার আবেদের নাম বলার সঙ্গে সঙ্গে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা একটু মাথা নামিয়ে দেখে নিলেন স্যার আবেদকে, তারপর চালককে বললেন, আপনি ভেতরে চলে যান। একটু অবাক হয়ে বললাম, ‘পাস, পাস লাগবে না’? নিরাপত্তা কর্মকর্তা একটু যেন বিরক্ত, ‘পাস? না উনার পাস লাগবে কেন?’ বিস্ময় যথাসম্ভব ঢেকে চালককে ভেতরে যাওয়ার ইঙ্গিত করলাম। জানতাম না যে অবাক হওয়ার আরো অনেক কারণ তখনো বাকি।
পুরনো সংসদ ভবনের অনুষ্ঠান। শুরুর আগে স্যার আবেদকে নিয়ে অপেক্ষার জন্য সাবেক সহকর্মীদের একটা কক্ষ ঠিক করে রাখতে অনুরোধ করেছিলাম। এক সহকর্মীকে স্যার আবেদকে নিয়ে সামনে আসার কথা বলে আমি জোর কদমে সেই কক্ষের কাছে এসে দেখলাম, কক্ষের বাতি জ্বলছে কিন্তু দরজা বন্ধ। অফিস সহকারী বোধ করি এদিকেই কোথাও আছে। একটু অপ্রস্তুত হলাম—চারদিকে তাকাতে লাগলাম সহকারীটির খোঁজে। এর মধ্যেই স্যার আবেদ কাছাকাছি এলেন। তিনি বুঝলেন ব্যাপারটা। বললেন, চলো সামনের চেয়ারে বসি। বললাম, কিন্তু স্যার ওই বন্ধ ঘরটা হলো ভিআইপি। স্যার আবেদ উত্তর দিলেন না, মৃদু হাসলেন, ধীরে ধীরে হেঁটে একটা চেয়ারে বসে পড়লেন। সঙ্গে সঙ্গেই পুরো হলের হইহট্টগোল বন্ধ





