ফজলে হাসান আবেদের মতো মানুষ চলে যাওয়ার মাধ্যমে বড় ধরনের শূন্যতা সৃষ্টি হয়। তিনি এমন একজন মানুষ, যিনি তার জীবনে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছেন এবং মানবাধিকার প্রতিষ্ঠান, সমাজসেবা প্রতিষ্ঠান প্রভৃতি গড়ার ব্যাপারে বড় ধরনের বলিষ্ঠ ভূমিকা রেখেছেন। তিনি যে কাজ হাতে নিতেন, সব শক্তি দিয়ে তা সফল করার জন্য চেষ্টা করতেন। তিনি তার কাজের সহযোগী হিসেবে যাদের বেছে নিতেন তাদেরও তিনি তার কাজের মাধ্যমে আকৃষ্ট করতেন, বিশেষ করে তার আন্তরিকতা ও নীতিগত প্রতিশ্রুতি দেখে সবাই আকৃষ্ট হতো। তিনি যে কাজগুলো করে গেছেন, তা সবসময় আমাদের প্রেরণার উত্স হয়ে থাকবে।
দারিদ্র্য বিমোচনে তিনি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে গেছেন, পাশাপাশি মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করেছেন। এটি তার কাজের গুরুত্বপূর্ণ দুটি দিক। তিনি একটি সংগঠন গড়ে তুলেছেন এবং এর মাধ্যমে মানুষের কল্যাণে কাজ করেছেন। কাছ থেকে তার কাজগুলো আমার দেখার সুযোগ হয়েছে। তার কাছ থেকে যারা কাজ শিখেছেন, আগামীতে তারাও ফজলে হাসান আবেদের দেখানো পথে অগ্রসর হবেন বলে আমার প্রত্যাশা।
তার বিশেষ গুণ ছিল—দরিদ্র মানুষ, সুবিধাবঞ্চিত মানুষ ও সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকারের জন্য তিনি নিজে কাজ করার পাশাপাশি অন্যদেরও এ ধরনের কাজে উত্সাহিত করেছেন, গড়ে তুলেছেন। তার মৃত্যুর পরও তার আদর্শ, তার কাজগুলো আজও রয়ে গেছে। তার আদর্শ ও কাজের মাধ্যমেই তিনি বেঁচে থাকবেন। যারা তার মতো আপসহীনভাবে কাজ করেন তারা সবসময় অন্যদের একই কাজে অনুপ্রাণিত করেন।
মানবাধিকারের কাজের ক্ষেত্রে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। এ কাজের মাধ্যমে একদিকে তিনি যেমন সমাজের সেবা করেছেন, তেমনি অনেককে এ ধরনের কাজে এগিয়ে আসতে উত্সাহ জুগিয়েছেন। তাই বলব অনেকেই তার আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে সমাজকর্মী, মানবাধিকারকর্মী হিসেবে বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজ করছেন।
তিনি অত্যন্ত সফল জীবন যাপন করেছেন।
বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের সময়কালে তিনি অবদান রেখেছেন। হাজারো মানুষ তার সেবায় উপকৃত হয়েছে। ফজলে হাসান আবেদের মতো মানুষের মৃত্যু হয় না। তার আদর্শ, নীতিতে অনুপ্রাণিত হয়ে যারা কাজ করছেন, তাদের কাজের মাধ্যমেই তিনি বেঁচে থাকবেন। চিরজীবী হবেন।
আমাদের সৌভাগ্য, আমরা তার মাধ্যমে জানতে ও শিখতে পেরেছি কীভাবে দৃঢ়তার সঙ্গে আপসহীনভাবে কাজ করতে হয়। তিনি তার জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত কাজের মধ্যে নিয়োজিত ছিলেন।
সামাজিক নিরাপত্তা সূচকে বাংলাদেশের অগ্রগতিতে তার বড় ধরনের ভূমিকা রয়েছে। তিনি একটি প্রতিষ্ঠান তৈরি করে গেছেন, যাতে করে তার অনুপস্থিতিতেও কাজগুলো সম্পাদিত হয়। এ ধরনের মানুষের মৃত্যু হয় না।
কাজের মাধ্যমে সারা পৃথিবীর মানুষের কাছে তিনি পৌঁছতে পেরেছিলেন, যা অনেক বড় একটি অর্জন। শুধু দেশের মানুষ নয়, দেশের বাইরেও শত শত মানুষকে তিনি উত্সাহিত করেছেন।
তার বিনয় আমাকে মুগ্ধ করে। কোনো ধরনের প্রচারণার জন্য তিনি কাজ করতেন না। একজন বড় মাপের মানুষের এটি সবচেয়ে বড় পরিচয়। তিনি





