সাবেক পররাষ্ট্র সচিব ফারুক চৌধুরী তখন ব্র্যাক ব্যাংকের উপদেষ্টা। ২০০৬ সালের অক্টোবরে তিনি আমার বাসায় এসে বললেন, ‘আবেদ তোমার সাথে দেখা করতে চাচ্ছে’। আবেদ ভাইয়ের বাসায় গেলাম তার সঙ্গে দেখা করতে। তিনি বললেন, ‘ব্র্যাকের বেশকিছু সামাজিক ব্যবসা প্রকল্প রয়েছে। এসব উদ্যোগ এগিয়ে নিতে আপনার সহযোগিতা প্রয়োজন। রুমি, আমি চাই আপনি ব্র্যাকে যোগদান করে এসব সামাজিক ব্যবসা প্রকল্পের সবগুলো আপনার হাতে নেন’। আমি আবেদ ভাইকে আশ্বস্ত করে বললাম, ‘অবশ্যই স্যার, আমি আমার সর্বাত্মক চেষ্টা করব’।
২০০৭ সালের ১৫ জানুয়ারি আমি ব্র্যাকে যোগদান করি। অফিসের প্রথম দিন তিনি আমার হাতে নিয়োগপত্র দিলেন। নিয়োগপত্রে উল্লেখিত বেতনের পরিমাণ দেখে আমি হতাশ হলাম। কেননা, বেসরকারি খাতের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে আমি অন্যতম উচ্চবেতনভোগীদের একজন ছিলাম। তাই বাংলাদেশ ব্যাংক ছাড়ার পর পুনরায় বেসরকারি খাতে যোগদানের সময় আমার প্রত্যাশাও বেশি ছিল।
হতাশার সুরে আবেদ ভাইকে বললাম, ‘ইজ দিস দ্য বেস্ট ইউ ক্যান ডু ফর মি?’ আবেদ ভাই ভুবন ভোলানো হাসি দিয়ে বললেন, ‘আই ক্যান নট ডু বেটার দ্যান দিস’। তার হাসির নিজস্ব একটি ঢঙ ছিল, যা দেখার পর আদ্যোপান্ত আর কোনো ক্ষোভ থাকত না।
তিনি ব্র্যাকের কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত করার পাশাপাশি আমাকে ব্র্যাক ব্যাংক ও ব্র্যাক নেটের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য করলেন।
ব্র্যাকের সঙ্গে আমার শুরুটা এভাবেই। এখানে যোগদান আমার কল্পনার বাইরে ছিল। আমি জানতাম, ব্র্যাক একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান। কিন্তু এর ভেতরে যে বিভিন্ন সেক্টর রয়েছে, ধীরে ধীরে আমি সে সম্পর্কে জানতে শুরু করলাম। আমি ব্র্যাকের কাজের যত গভীরে প্রবেশ করছি, তত আবেদ ভাইয়ের দূরদর্শিতা উপলব্ধি করছি। আবেদ ভাইকে আমরা দারিদ্র্য দূরীকরণের প্রথিকৃত্ এবং একজন সমাজসেবক হিসেবে জানলেও আমার মনে হয়েছে মূলত তিনি ছিলেন একজন দুর্দান্ত নতুন উদ্যোক্তা এবং ব্যতিক্রমী ব্যবসায়িক মডেল তৈরির কারিগর। তার প্রতিটি উদ্ভাবন সমাজের কল্যাণের জন্য। তিনি প্রতিটি উদ্যোগ নিয়েছেন সমাজের মানুষের প্রয়োজন অনুসারে। আর এসবের নেপথ্যে ছিল তাঁর সুগভীর চিন্তা ও দূরদর্শিতা।
আবেদ ভাইয়ের মতে, দরিদ্রতা ভাগ্যের লিখন নয়। মানুষের দরিদ্রতার কারণ হলো, তিনটি মৌলিক চাহিদায় তাঁর প্রবেশাধিকার নেই। স্বাস্থ্য, শিক্ষা, ও ক্ষুদ্র বিনিয়োগে (আর্থিক) মানুষের প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা গেলে সে নিজেই দরিদ্রতা থেকে বের হয়ে আসতে পারবে। কারণ, এই তিন মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করার মাধ্যমে মানুষকে ক্ষমতায়ন করা সম্ভব। এভাবে তিনি প্রান্তিক মানুষের চাহিদা নির্ণয়ের চেষ্টা করে গেছেন। দরিদ্রতা থেকে মুক্তি ও ক্ষমতায়নের এ নতুন সংজ্ঞা আবেদ ভাই তৈরি করে দিয়েছিলেন।
এ সংজ্ঞার ওপর ভিত্তি করে এসেছে ব্র্যাকের সব প্রতিষ্ঠান, যা প্রতিনিয়ত মানুষকে দরিদ্রতা থেকে মুক্তি দিতে কাজ করছে ও মানুষকে ক্ষমতায়নের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। উদাহরণস্বরূপ প্রথমে আড়ংয়ের কথা বলি, বাংলাদেশের





