এনজিও অ্যাডভাইজর শীর্ষ ৫০০ এনজিওর নতুন তালিকা ঘোষণা করার পর সিদ্ধান্ত নেয়, ‘ভালোর জন্য’ বিশ্বের আইভি লিগ হিসেবে পরিচিত এ র্যাংকিংয়ে যেসব সংস্থা স্থান পেয়েছে, তাদের প্রধান নির্বাহীদের ধারাবাহিক সাক্ষাৎকার প্রকাশ করেছে। ব্র্যাকের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারপারসন স্যার ফজলে হাসান আবেদের সাক্ষাৎকারের মধ্য দিয়ে এ প্রক্রিয়া শুরু হয়। আবেদ কাজ করছেন এমন সংস্থার জন্য, বিশ্বব্যাপী সর্বাধিক প্রভাবশালী এবং কার্যকর সংস্থা হিসেবে আমরা যাকে স্বীকার করি। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন এনজিও অ্যাডভাইজরের প্রধান সম্পাদক জিন-ক্রিস্টোফ নোথিয়াস

জিন-ক্রিস্টোফ নোথিয়াস (জেসিএন): র‍্যাঙ্কিংয়ে ১ নম্বর (২০১৮-তেও প্রথম) এনজিওর স্থান পাওয়া একটি বড় অর্জন এবং একটি দারুণ স্বীকৃতি, একই সঙ্গে চ্যালেঞ্জিংও বটে। বড় প্রতিষ্ঠান হিসেবে ব্র্যাকের ক্ষেত্রে কী এমন ঝুঁকি রয়েছে যে, এটির পতন হলে সামগ্রিক অর্থনীতিতে বিরূপ প্রভাব পড়বে?

স্যার ফজলে হাসান আবেদ (স্যার আবেদ): প্রথমে পুরো ব্র্যাক পরিবারের পক্ষ থেকে এনজিও অ্যাডভাইজরের স্বীকৃতির জন্য আমি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। বর্তমানে বিশ্বে অনেক সুশীল সামাজিক সংগঠন তাদের সমাজে পরিবর্তন আনার জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এ-জাতীয় তালিকার শীর্ষে বা তার কাছাকাছি থাকা ব্র্যাকের জন্য সত্যিই একটি বড় সম্মানের বিষয়।

আমি বলব না যে, ব্র্যাকের ব্যর্থতা কখনই সামগ্রিক অর্থনীতির বিপর্যয়ের কারণ হতে পারে। বাংলাদেশে এর আগে শুধু ব্র্যাক বা এ-জাতীয় অন্যান্য বেসরকারি সংস্থা যে সব কাজ করছিল, তার অনেকগুলোই এখন রাষ্ট্রীয়ভাবে সম্পাদন হয়; এ প্রবণতা ক্রমে বাড়ছে। যেমন বাংলাদেশের ধারাবাহিক সরকারগুলো সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাধ্যমে আরো অনেক সম্প্রদায়ের কাছে যেতে সক্ষম। আমরা এটিকে বিরাট সাফল্যের লক্ষণ হিসেবে দেখছি।

আমি এর সঙ্গে যুক্ত করতে চাই যে, ‘ব্যর্থতা’ ব্র্যাকে খারাপ বিষয় হিসেবে দেখা হয় না। আমি আমাদের কর্মীদের সবসময় ব্যর্থতাকে আমাদের প্রদত্ত সেবাগুলোকে উন্নত করার সুযোগ হিসেবে দেখতে উত্সাহিত করেছি। ১৯৮০-এর দশকে শিশুমৃত্যুর হার কমানো নিয়ে যে ক্যাম্পেইন করা হয়েছিল, তখন আমাদের প্রথম দিকের উদ্যোগগুলো আসলে একটি বিপর্যয় ছিল। স্থানীয়ভাবে সহজলভ্য পানি, চিনি এবং লবণ ব্যবহার করে শিশুদের ডায়রিয়ার জন্য কীভাবে নিজেরাই খাবার স্যালাইন তৈরি করতে পারে, তা গ্রামীণ নারীদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ব্র্যাকের দেশব্যাপী ছড়িয়ে যাওয়ার এটাই প্রথম প্রচেষ্টা ছিল। প্রথম দিকে আমাদের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত মায়েদের ১০ শতাংশেরও কম সমাধানটি ব্যবহার করেছিল। শতভাগ সাফল্য অর্জন না হওয়া পর্যন্ত আমরা প্রশিক্ষণটি বারবার সংশোধন করেছি। এরপর প্রতিটি মায়ের কাছে পৌঁছে দেয়ার জন্য এটিকে আমরা ছোট করে দিয়েছি।

জেসিএন: আমরা পর্যবেক্ষণ করি যে, অলাভজনক বিশ্ব উত্কর্ষের সন্ধান করে। তার মানে কি এই যে, সফল সংস্থাগুলো বিশেষায়িত উদ্যোগের বদলে ‘বিশেষ পদ্ধতি’র জন্য পরিকল্পিত? ব্র্যাক নানামাত্রিক কর্মকাণ্ডের কথা বলে থাকে এবং বিভিন্ন ধরনের পদ্ধতিকে কাজের জন্য সংযুক্ত করে, যার কিছু অলাভজনক এবং কিছু লাভজনক করপোরেশন। আপনি কি মনে করেন সমাজে স্থায়ী প্রভাব ফেলা বা টেকসই হওয়ার জন্য এটাই ভবিষ্যৎ? সামাজিক উদ্যোগ কী এমন একটি অলাভজনক খাতে বিপ্লব ঘটাবে, যা এখনো দাতব্য পদ্ধতিতে পরিচালিত হচ্ছে?

স্যার আবেদ: এটি সত্য যে, ব্র্যাক প্রতিষ্ঠার পেছনের ধারণাটি হচ্ছে বৈষম্যের ব্যবস্থা পরিবর্তন করা। ব্র্যাকের এমন কিছু কর্মসূচি রয়েছে, যার জন্য সবসময় কিছু স্তরে ভর্তুকির প্রয়োজন হয়। যেমন আমাদের অতিদরিদ্র বিমোচন কর্মসূচি। তবে আমি এটিকে ‘দাতব্য পদ্ধতি’ বলব না, যেহেতু সবসময় এর লক্ষ্য অন্যের ওপর