পৃথিবীর একটি বিশাল জনগোষ্ঠী বহুমাত্রিক দারিদ্র্যের কবলে জর্জরিত। অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, স্বাস্থ্য, শিক্ষা এসব থেকে তারা বঞ্চিত। অন্যদিকে সামাজিক অবস্থানে প্রান্তসীমা থেকে তারা সমাজ থেকে বিচ্ছিন্নপ্রায়। এসব লোক বলতে গেলে মানবেতর জীবনযাপন করছে। বিশ্বব্যাপী উন্নয়নের যে সুবিধা, তার ছোঁয়াও তাদের কাছে পৌঁছেনি। মানব জাতির জন্য এটি একটি বিরাট কলঙ্ক। এই ব্যক্তিদের যারা শুধু দরিদ্রই নয়, অবহেলিত ও বঞ্চিত তাদের টেনে তোলা এবং তাদের অবস্থার উন্নতির জন্য বিভিন্ন সময়ে কিছু বিরল ব্যক্তির আবির্ভাব ঘটেছে, তাদের মধ্যে বাংলাদেশের স্যার ফজলে হাসান আবেদ একজন। বাংলাদেশে জন্ম হলেও এবং বাংলাদেশে তার কীর্তির অশেষ নিদর্শন থাকলেও স্যার আবেদ বিশ্বের জন্য একটি বিরল ব্যক্তিত্ব। তিনি বিশ্বের আর্থসামাজিক উন্নয়নের সত্যিকারের একজন পথিকৃত্। বাংলাদেশের সুনামগঞ্জের একটি সাধারণ জনপদ থেকে ব্র্যাকের মাধ্যমে তার কার্যক্রম শুরু হলেও দেশীয় পর্যায় থেকে তার কর্মকাণ্ড বিশ্ব পর্যায়ে পৌঁছেছে। অর্থাত্ বাংলাদেশে শিকড় স্থাপিত হয়ে এ দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অভাবনীয় অবদান রেখে ব্র্যাককে একটি কার্যকরী, সফল এবং শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠান হিসেবে তিনি গড়ে তুলেছেন। স্যার আবেদের কাজ এখানেই শেষ হয়নি। বাংলাদেশের বাইরে দূর-দূরান্তে বিভিন্ন দেশে তার দারিদ্র্য বিমোচন কর্মসূচি এবং এর বহুমাত্রিক বিষয়গুলো যেমন শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বাসস্থান নিশ্চিত কার্যক্রম অত্যন্ত সফলভাবে পরিচালিত হচ্ছে; যারা উন্নয়নকর্মী, তারা সাধারণ ছোটখাটো পরিসরে পরীক্ষামূলক প্রকল্প নিয়ে কাজ করেন এবং সুনির্দিষ্ট একটি ভৌগোলিক এলাকায় তাদের কাজ সীমাবদ্ধ থাকে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই ‘রেপ্লিকেশন’ অর্থাত্ কার্যক্রমের পরিধি অন্য স্থানে নিয়ে যাওয়ার মাধ্যমে অনেকেই সফল হয় না। এটার কারণ প্রকল্পের দুর্বলতা অথবা সংগঠকের দক্ষতার অভাব। স্যার আবেদ এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম। তার কার্যক্রম ছিল অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক ও যুগোপযোগী। তারই সঙ্গে যোগ হয়েছে স্যার আবেদের ব্যবস্থাপনা ও সাংগঠনিক দক্ষতা। এরই ফলে আমাদের ব্র্যাকের কার্যকলাপ বিশ্বের সবার নজরে কেড়েছে। ব্র্যাক বিশ্বের সর্ববৃহত্ বেসরকারি উন্নয়ন প্রতিষ্ঠান। স্যার আবেদের একটি বিশেষ লক্ষ্য ছিল দরিদ্র মানুষের ক্ষমতায়ন। অর্থ, প্রশিক্ষণ, চিন্তার বিকাশ, সচেতনতা ও সংগঠন—এগুলোর মাধ্যমে তিনি দরিদ্র-অসহায় মানুষকে স্বাবলম্বী করে তুলেছেন। শুধু বৈশ্বিক চাহিদা পূরণ নয়, মানুষের চিন্তার সুযোগ, কথা বলার সুযোগ, নিজেকে বিভিন্নভাবে প্রকাশ করার সুযোগ এগুলোও ছিল তার কার্যক্রমের বিশেষ কতগুলো দিক। সার্বিকভাবে বিশ্বব্যাপী দরিদ্র মানুষের জাগরণের এক অগ্রদূত হিসেবে বিবেচিত হবেন স্যার আবেদ। শুধু আর্থসামাজিক উন্নয়নই নয়, স্যার আবেদ বিশ্বের একটি বিশাল সমস্যা আবহাওয়া ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব সম্পর্কে ছিলেন সচেতন। পৃথিবী একটাই এবং এর সব সম্পদ সংরক্ষণ করা এবং ভবিষ্যত্ প্রজন্মের জন্য পৃথিবীকে বাসযোগ্য রাখার জন্য বিশ্বব্যাপী যে প্রয়াস চলছে, তার কার্যক্রমের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে স্যার আবেদ বাংলাদেশে বিভিন্ন প্রকল্প চালু করেছেন। জাতিসংঘের সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট গোলে যে ১৭টি ক্ষেত্র আছে, তার বেশির ভাগেই ব্র্যাকের অত্যন্ত সক্রিয় ও