দেশের বাজারে একটি ভালো জায়গা অর্জন করেছে কনকা ফ্রিজ। অত্যাধুনিক নানা প্রযুক্তিসংবলিত ফ্রিজটি ক্রেতাদের দিচ্ছে নানা রকমের সুবিধা। সেসব কিছু মিলিয়েই বণিক বার্তার সঙ্গে কথা বলেছেন ইলেক্ট্রোমার্ট লিমিটেডের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ নূরুল আফসার

বর্তমানে বাজারে বিভিন্ন আধুনিক ফ্রিজ রয়েছে। এসবের চাহিদাও অনেক। কিন্তু এ ফ্রিজগুলো কতটা বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী?

কনকা, হাইকো ও গ্রি ব্র্যান্ডের ফ্রিজে ব্যবহূত আধুনিক প্রযুক্তি, ডিজিটাল ডিসপ্লে ও ইনভার্টার টেকনোলজির কারণে এসব ফ্রিজ ৭১ শতাংশ পর্যন্ত বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী। এছাড়া কনকা, হাইকো ও গ্রি ব্র্যান্ডের সব ফ্রিজ বিএসটিআই কর্তৃক অনুমোদিত ও ফাইভ স্টার এনার্জি সেভিংস রেটিংপ্রাপ্ত।

ফ্রিজের ব্যবহার প্রতিনিয়ত বাড়ছে। বর্তমানে চাহিদা পরিস্থিতি কেমন? তাছাড়া দেশে ফ্রিজের বাজার কত বড়?

বর্তমানে দেশে ফ্রিজের বাজার প্রায় ২৫ লক্ষাধিক। সরকারের প্রচেষ্টায় মানুষের মাথাপিছু আয় বেড়েছে। তাছাড়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দক্ষ নেতৃত্বে গ্রামীণ পর্যায়ে শতভাগ বিদ্যুতায়নের ফলে ইলেকট্রনিকস পণ্যের চাহিদাও দ্রুত বাড়ছে। কনকা, হাইকো ও গ্রি ব্র্যান্ডের ফ্রিজ বর্তমান বাজার চাহিদার ২৫ শতাংশেরও বেশি বিক্রির মাধ্যমে বড় একটা স্থান দখল করে আছে। আমরা আশা করি আগামী পাঁচ বছরে দেশে ফ্রিজের অভ্যন্তরীণ চাহিদা দ্বিগুণ হবে।

ফ্রিজ দীর্ঘস্থায়ী করা বা অন্যান্য প্রয়োজনে নিয়মিত ফ্রিজ সার্ভিসিংয়ের বিষয়ে ব্যবহারকারীর সচেতনতা কতটুকু জরুরি?

ব্যবহারকারীদের সুবিধার্থে কনকা, হাইকো ও গ্রি ব্র্যান্ডের ফ্রিজে দেয়া হচ্ছে বিশেষ বিক্রয়োত্তর সুবিধা, যাতে প্রতিটি ফ্রিজ স্বাচ্ছন্দ্যে ব্যবহার করা যায়। কনকা, হাইকো ও গ্রি ব্র্যান্ড ফ্রিজের কম্প্রেসরের ১০ বছরের রিপ্লেসমেন্ট ওয়ারেন্টি রয়েছে, অন্যান্য যন্ত্রাংশের রয়েছে পাঁচ বছরের ওয়ারেন্টি। তাছাড়া পাঁচ বছরের ফ্রি বিক্রয়োত্তর সেবাও দেয়া হচ্ছে। ফলে নিয়মিত সার্ভিসিং অনেক সহজ হয়ে পড়বে।

বর্তমানে দেশের বাজারে অনেক ফ্রিজ রয়েছে। যেগুলোর চাহিদা বেশি রয়েছে সেগুলো কতদিন ব্যবহারের উপযোগী?

কনকা, হাইকো ও গ্রি ফ্রিজে কম্প্রেসর ও বিভিন্ন যন্ত্রাংশের যতদিন ওয়ারেন্টি দেয়া হচ্ছে তাতে তা নিশ্চিত দীর্ঘদিন ব্যবহারের উপযোগী।

ভালো ফ্রিজ বাছাইয়ের ক্ষেত্রে গ্রাহকদের জন্য কী পরামর্শ দেবেন? ফ্রিজে বাংলাদেশের বাজারে থাকা টেকসই ব্র্যান্ড সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানাবেন আমাদের।

ভালো ফ্রিজ বাছাইয়ের ক্ষেত্রে ফ্রিজের বেশকিছু বৈশিষ্ট্য ও প্রযুক্তি গ্রাহককে বিবেচনায় নিতে হবে। যেমন বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী, ফ্রিজের ধারণক্ষমতা, ফ্রস্ট নাকি নন ফ্রস্ট, গুণগত মান, দীর্ঘস্থায়িত্ব ও সাশ্রয়ী মূল্য। কনকা, হাইকো ও গ্রি ফ্রিজের বিশেষ বৈশিষ্ট্য ও সর্বাধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয় একে এনে দিয়েছে বাজারে খ্যাতি ও বিশেষ সুনাম। এ ফ্রিজে রয়েছে ব্লু জোন অ্যান্ড ভিটামিন ফ্রেশ টেকনোলজি। এছাড়া অ্যাক্টিভ কার্বন ডিওডোরাইজার থাকায় ফ্রিজের ভেতরে সংরক্ষণ করা খাবারের একটির গন্ধ অন্য খাবারে মিশ্রিত হয়ে যায় না। কনকা ফ্রিজে অ্যাক্টিভ কার্বন ডিওডোরাইজার টেকনোলজি ব্যাকটেরিয়াগুলোকে ডিঅ্যাক্টিভ করে দেয়, যার কারণে দীর্ঘদিন পর্যন্ত ফ্রিজে খাবারের স্বাদ-গন্ধ একই রকম থাকে এবং একটি খাবারের গন্ধ অন্য খাবারে মিশ্রিত হয় না। এছাড়া কনকা ফ্রিজের সবজি বক্সে হিউমিডিটি কন্ট্রোলার নামে একটি টেকনোলজি আছে, যার কারণে সবজি সতেজ রাখার জন্য যতটুকু হিউমিডিটি দরকার ততটুকুই প্রবেশ করে। এর কারণে দীর্ঘদিন পর্যন্ত সবজি সতেজ থাকে। এ ফ্রিজে রয়েছে ইউরোপিয়ান স্ট্যান্ডার্ড মানের অ্যান্টিফাঙ্গাল ডোর গ্যাসকেট, যার কারণে বাইরের কোনো ফাঙ্গাস ও জীবাণু ভেতরে প্রবেশ করতে পারে না। এতে কুলিং লসও হয় না। ডিজিটাল ডিসপ্লে টেকনোলজি ও ইলেকট্রনিকস কন্ট্রোল সিস্টেমের মাধ্যমে বাইরে থেকে ফ্রিজের অভ্যন্তরীণ কার্যক্রম সহজে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। ফ্রিজে থাকা ডিজিটাল ডিসপ্লে ইনভার্টার টেকনোলজির কারণে ৭১ শতাংশ পর্যন্ত বিদ্যুৎ সাশ্রয় করে। তাছাড়া কনকা ডিপ ফ্রিজারে থাকা অটো কনভার্সন টেকনোলজির মাধ্যমে ব্যবহারকারী যেকোনো সময় ডিপ ফ্রিজারকে নরমাল রেফ্রিজারেটরের মতো কনভার্সন করে ব্যবহার করতে পারবেন। এছাড়া সুপার কুল মোড ব্যবহার করে অনেক বেশি পরিমাণ খাবারকে মাত্র ১৫ মিনিটে আইস করে খাবারের গুণ ও মান সংরক্ষণ করাও যাবে।

প্রতি বছরই দেখা যায় ঈদুল আজহার আগে ফ্রিজের চাহিদা বেড়ে যায়। সামনেই ঈদ। এক্ষেত্রে আপনাদের প্রস্তুতি কেমন?

ঈদুল আজহা উপলক্ষে দেশে ফ্রিজের চাহিদা অনেক বেড়ে যায়। বার্ষিক চাহিদার প্রায় ২৫ শতাংশ ফ্রিজ এ সময়ে বিক্রি হয়। এজন্য আমাদের যথেষ্ট প্রস্তুতি রয়েছে এবং গ্রাহকদের চাহিদা বিবেচনায় রেখে এ সময়ে পণ্যে বেশ ছাড় দেয়া হয়।

ক্রেতাদের জন্য কী কী ধরনের সুবিধা দিচ্ছেন আপনারা?

আমাদের ৭০টিরও বেশি মডেলের ফ্রিজ রয়েছে। এর মধ্যে সর্বনিম্ন ১২ হাজার ৫০০ থেকে সর্বোচ্চ ১ লাখ ৩৫ হাজার টাকা দামের ফ্রিজ রয়েছে। ফ্রিজ কেনার ক্ষেত্রে প্রায় ৩৫টি ব্যাংকের ক্রেডিট ও ডেবিট কার্ডসহ নগদ এবং মাসিক তিন থেকে ১৮ মাসের কিস্তিতে আমাদের পণ্য বিভিন্ন শোরুম, ডিসপ্লে সেন্টার ও ডিলারদের মাধ্যমে কেনা যায়। ঈদুল আজহা উপলক্ষে স্ক্র্যাচ কার্ডের মাধ্যমে একটি কিনলে একটি ফ্রি অথবা নগদ ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত ছাড় এবং বিশেষ উপহারও থাকছে ক্রেতাদের জন্য।