ফ্রিজ ও রেফ্রিজারেটর উৎপাদন এবং বিপণনে দেশীয় বাজারে বড় জায়গা করে নিয়েছে যমুনা ইলেকট্রনিকস অ্যান্ড অটোমোবাইলস লিমিটেড। শুধু সংখ্যায় নয়, গুণগত মানের দিক থেকেও প্রতিষ্ঠানটির এসব পণ্য গ্রাহকপ্রিয়তা পেয়েছে। এ ইন্ডাস্ট্রির নানা বিষয় নিয়ে বণিক বার্তার সঙ্গে কথা বলেছেন প্রতিষ্ঠানটির হেড অব বিজনেস মো. সাজ্জাদুল ইসলাম
যমুনা ইলেকট্রনিকসের যাত্রা কবে
শুরু হয়?
যমুনা ইলেকট্রনিকস
অ্যান্ড অটোমোবাইলসের
যাত্রা শুরু
হয় ২০১৪
সালে। এর
আগে আমরা
ইলেকট্রিক্যাল অ্যাপ্লায়েন্স
নিয়ে কাজ
করেছি। এ
ধারাবাহিকতায় প্রথমে
আমরা বাজারে
রেফ্রিজারেটর নিয়ে
আসি। এরপর
টিভি, এসিসহ
অন্যান্য হোম
অ্যাপ্লায়েন্সও যুক্ত
হয়।
গত এক
যুগে বাংলাদেশের হোম অ্যাপ্লায়েন্স শিল্পে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। এক্ষেত্রে রেফ্রিজারেটর নেতৃস্থানীয় ভূমিকা পালন করেছে। এ পথচলায় যমুনার অবদান
কতটুকু?
স্থিতিশীল মুনাফা
লাভের দিক
থেকে সব
কোম্পানির জন্য
রেফ্রিজারেটর একটি
গুরুত্বপূর্ণ পণ্য
হয়ে উঠেছে।
রেফ্রিজারেটর, ডিপ
ফ্রিজার ও
কমার্শিয়াল রেফ্রিজারেটরের
মাধ্যমে ৬৫-৭০
শতাংশ আয়
এসেছে সংশ্লিষ্ট
কোম্পানিগুলোর। গত
দুই দশকে
বাজারে অনেক
উন্নত মানের
পণ্য এসেছে।
এর মধ্যে
যুগান্তকারী বা
যুগ পরিবর্তনকারী
পদক্ষেপের মতো
বাজারে এসেছি
আমরা। গুণগত
মানের কারণে
সব পর্যায়ের
মানুষের কাছেই
আমাদের পণ্য
সাড়া ফেলেছে।
আমরা যারা
এ ইন্ডাস্ট্রির
অংশীদার আছি
তাদের প্রত্যেকের
সুবিধা-অসুবিধা
বিবেচনায় যমুনা
ভোক্তাবান্ধব মূল্য
সংযোজন করে
গেছে।
গুণগত মানের
দিক থেকে
কতটুকু গ্রাহকপ্রিয়তা পেয়েছে যমুনার ফ্রিজ ও
রেফ্রিজারেটর?
খুব অল্প
সময়ে বাজারে
এমন কথা
প্রচলিত হয়ে
গেছে যে
একমাত্র যমুনাই
৯৯ শতাংশ
গুণগত মানসম্পন্ন
রেফ্রিজারেটর সরবরাহ
করে। কাছাকাছি
প্রতিযোগীর যে
পণ্য, সেটির
গুণগত মান
৫০ শতাংশেরও
নিচে। গুণগত
মানের পরিস্থিতি
বুঝতে আমরা
অনেক ব্লাইন্ড
টেস্ট ও
টেকনিশিয়ান টেস্ট
চালিয়েছি। ইন্ডাস্ট্রির
তথ্য বলছে,
এ ইন্ডাস্ট্রিতে
যারা উৎপাদক
আছেন তারা
১০০টি পণ্য
ডেলিভারি দিলে
কমপক্ষে ৭-১২টির
ক্ষেত্রে অভিযোগ
আসে এবং
সেগুলো নিষ্পত্তি
করতে হয়।
কিন্তু বিস্ময়করভাবে
এবং সৌভাগ্যবশত
আমাদের (যমুনা)
পণ্যের ক্ষেত্রে
বিক্রয় পরবর্তী
ভোক্তার অভিযোগের
সংখ্যা শূন্যের
কাছাকাছি। এক
হাজারে একটিও
অভিযোগ আসেনি,
এমন ঘটনাও
ঘটেছে বহুবার।
গত ডিসেম্বর,
জানুয়ারি ও
ফেরুয়ারি ছিল
আমাদের জন্য
‘জিরো
কমপ্লেইন মান্থ’।
ক্রেতাদের কী
কী সুবিধা দিচ্ছেন?
যমুনার রেফ্রিজারেটর
আমরা গণমানুষের
জন্য সহজলভ্য
করতে পেরেছি।
এমন গুণগত
মানসম্পন্ন পণ্য
সাশ্রয়ী মূল্যে
সরবরাহ করতে
পেরে আমরা
নিজেদের আশীর্বাদপুষ্ট
বলে মনে
করি। বাংলাদেশে
এ ধরনের
গুণগত মানসম্পন্ন
পণ্য এ
দামে জনগণের
কাছে পৌঁছানোর
মতো প্রতিষ্ঠান
হয়তো খুব
বেশি নেই।
অন্যান্য অনেক
কোম্পানির চেয়ে
আমাদের রেফ্রিজারেটরের
উৎপাদন ব্যয়
এটির গুণগত
মানের অনুপাতে
১৫-২০
শতাংশ বেশি।
আমরা অনেক
ব্র্যান্ডের চেয়ে
সহনীয় দামেই
বিক্রি করছি।
মানবসভ্যতা ও
মানবসমাজকে সহযোগিতার
উদ্দেশেই প্রতিটি
শিল্পের বিকাশ
হয়। সে
অর্থে আমরা
বাজারে সেরা
মানের পণ্য
দিয়ে যাচ্ছি।
আমরা সাশ্রয়ী
মূল্য, দীর্ঘস্থায়িত্ব,
বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী,
আকর্ষণীয় ডিজাইন,
উন্নত কম্প্রেসর,
ওয়ারেন্টি, বিক্রয়োত্তর
সেবা এবং
অত্যাধুনিক প্রযুক্তির
পণ্যটি সরবরাহ
করছি।
যমুনার ফ্রিজার সম্পর্কে জানতে
চাই।
রেফ্রিজারেটরের মধ্যে
আমাদের আরেকটি
সেগমেন্ট ফ্রিজার।
কোনো রকম
বিদ্যুৎ ছাড়াই
যমুনার ফ্রিজার
১২০ ঘণ্টা
খাবারের সুরক্ষার
নিশ্চয়তা দিচ্ছে।
বাণিজ্যিক গ্রাহকদের
জন্য এটি
একটি সুখবর।
এছাড়া বাণিজ্যিক
সবচেয়ে টেকসই
ফ্রিজার হিসেবে
যমুনার ফ্রিজার
অতুলনীয়। আমরা
ভবিষ্যতে এ
ফ্রিজার নিয়ে
নিজেদের স্যাকলকের
সঙ্গে তুলনা
দেয়ার চিন্তা
করছি। স্যাকলকের
একটি গ্লোবাল
ব্র্যান্ড কিনতে
খরচ পড়বে
সোয়া লাখ
টাকা। আর
একই মান
নিশ্চিত করে
আমাদের ফ্রিজারের
দাম ২১
হাজার টাকা
থেকে শুরু।
যমুনার রেফ্রিজারেটর কতটা বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী?
গড়ে ১৫
বছরের লাইফ
সাইকেলের রেফ্রিজারেটরে
কিন্তু আপনাকে
বিদ্যুৎ বিল
দিয়ে যেতে
হবে। আর
আমাদের রেফ্রিজারেটরে
২২৮-৩৪৮
লিটার পর্যন্ত
৮০-১২০
টাকা পর্যন্ত
বিদ্যুৎ বিল
সাশ্রয় হয়।
বিদ্যুৎ বিলের
মতো ১৫
বছরে যমুনার
অবদানকে এমন
অনেক কিছু
দিয়ে মাপা
উচিত।
দেশের বাজারে ফ্রিজ শিল্পের সম্ভাবনা কেমন?
বাংলাদেশে দক্ষ লোকবলের অভাব রয়েছে। এ ইন্ডাস্ট্রির রিটেইল সেল চালানোর উপযোগী মানুষ নেই বললেই চলে। ভারতে এ খাতের রিটেইল সেল চালানোর জন্য যে ধরনের লার্নিং ও নলেজ প্লাটফর্ম রয়েছে, আমাদের তার ১০ শতাংশও নেই। ছোট দেশ হিসেবে আমরা কাস্টমাইজড অ্যাপ্রোচে ব্যবসা চালিয়ে আসছি। ফলে এ ইন্ডাস্ট্রির রিটেইল সেল বড় হয়নি। তবে বর্তমানে অনেক কোম্পানি ও উৎপাদক প্রতি বছর ভালো মুনাফা অর্জন করছেন। বাজারসংশ্লিষ্টদের ধারণা, দু-তিন বছরের মধ্যে এর মার্কেট সাইজ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাবে। তখন অনেকেই রিটেইল একাডেমি করতে পারেন। বিশ্বের বিভিন্ন স্থান থেকে বিশেষজ্ঞ নিয়ে আসবেন। আগামী শতক পর্যন্ত এটি অত্যন্ত আকর্ষণীয় ইন্ডাস্ট্রি হিসেবে অবস্থান তৈরি করে নেবে।





