নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন
মন্ত্রী, শিল্প মন্ত্রণালয়
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার
বৈশ্বিক নভেল করোনাভাইরাস মহামারী এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব অর্থনীতির ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলেছে। এর মধ্যেও বাংলাদেশ ২০২১-২২ অর্থবছরে প্রথমবারের মতো রফতানি আয়ে মাইলফলক অর্জন করেছে। গত অর্থবছরে বাংলাদেশ লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে ৫২ দশমিক শূন্য ৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রফতানি করেছে, যা এর আগের অর্থবছরের তুলনায় ৩৪ দশমিক ৩৮ শতাংশ বেশি।
পদ্মা সেতু উদ্বোধনের বছরেই দেশের রফতানি প্রথমবারের মতো ৫০ বিলিয়ন ডলার ছাড়ানোর বিষয়টি একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা, যা উদীয়মান রফতানি কেন্দ্র হিসেবে বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান নিয়ে বিশেষ বার্তা বহন করছে। রফতানি আয়ে নিটওয়্যার ও তৈরি পোশাকের রফতানি বড় অংশ দখল করে থাকলেও অপ্রচলিত অনেক পণ্যের রফতানিও বেড়েছে। কৃষি, প্লাস্টিক ও চামড়াজাত পণ্য রফতানি থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে আয় বেড়েছে, যা ইতিবাচক পরিবর্তন।
২০২৬ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে যুক্ত হওয়ার আগে রফতানিতে ৫০ বিলিয়ন ডলার আয়ের দেশের তালিকায় প্রবেশ নিঃসন্দেহে উৎসাহব্যঞ্জক। এতে আমাদের কর্মস্পৃহা আরো বাড়বে। যারা শঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন উন্নয়নশীল দেশের কাতারে নাম লেখালে রফতানি আয় কমবে, এ অর্জন তাদের ভুল প্রমাণিত করেছে।
বাংলাদেশ এখন রফতানিতে ‘৫০ বিলিয়ন ডলার ক্লাবে’র গর্বিত সদস্য। জ্বালানি তেল রফতানির হিসাব বাদ দিলে বাংলাদেশ এখন বিশ্বের শীর্ষ ৫০ রফতানিকারক দেশের একটি। এশিয়ায় এ অবস্থান শীর্ষ ২০-এর মধ্যে। আর দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের পরই বাংলাদেশের অবস্থান। এ অর্জনকে আমি তার চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ মনে করি। কারণ করোনার ধাক্কা সামলাতে এখনো হিমশিম খাচ্ছে বিশ্বের বাঘা বাঘা অর্থনীতির দেশগুলো। সেখানে বাংলাদেশ সবক্ষেত্রে উচ্চ প্রবৃদ্ধি ধরে রেখেছে। গত এক দশকে বর্তমান সরকারের হাত ধরে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে সব বিস্ময়কর অর্জন এসেছে। মধ্যম আয়ের দেশ হওয়া, উন্নয়নশীল দেশ হওয়ার গৌরব অর্জন করা, মাথাপিছু আয়, গড় আয়ুতে এমন চমৎকার সব অর্জন, একসময় যা অসম্ভব মনে হতো, আজ তা বাস্তবতা।
বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে এক অন্তর্নিহিত শক্তি আছে। বিশেষ করে তৃণমূলের অদম্য মানুষগুলো কোনো কিছুতেই দমে যায় না। কভিড-১৯ মোকাবেলা তারই প্রমাণ। সরকারের নীতিসহায়তায় অল্প সময়ের মধ্যে বেশ ভালোভাবেই ঘুরে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশের মানুষ। আশার কথা হলো, মহামারী যতটা বিপদে বাংলাদেশকে ফেলবে বলে ধারণা করা হয়েছিল, সরকারের সময়োচিত বিভিন্ন পদক্ষেপে তা অনেক ক্ষেত্রে এড়ানো গেছে। সরকারের প্রণোদনা প্যাকেজ অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে বড় ভূমিকা রেখেছে। গ্যাস ও বিদ্যুতের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহের পাশাপাশি বিনিয়োগ ও উৎপাদন সহায়ক পরিবেশ তৈরি করে দিয়েছে সরকার। ফলে আজকের এ অর্জন। আশা করছি রফতানি আয়ে প্রবৃদ্ধির এ ধারা আগামীতেও অব্যাহত থাকবে।





