দেশের বাজারে ওষুধ বাজারজাতকারী অন্যতম শীর্ষ প্রতিষ্ঠান স্কয়ার ফার্মা। প্রায় তিন দশক ধরে বিশ্ববাজারেও ওষুধ রফতানি করছে প্রতিষ্ঠানটি। বর্তমানে ৩৫টিরও বেশি দেশ স্কয়ারের তৈরি ওষুধের ক্রেতা। সম্প্রতি রফতানিতে প্রাতিষ্ঠানিক অভিজ্ঞতা, সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে বণিক বার্তার সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় ছিলেন স্কয়ার ফার্মার ব্যবস্থাপনা পরিচালক তপন চৌধুরী। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বদরুল আলম

বাংলাদেশের ওষুধ রফতানি ক্রমেই বাড়ছে। এ দেশের ওষুধের ওপর বৈশ্বিক আস্থা সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন জানতে চাই।

রফতানি বাড়ছে মানেই বিদেশের বাজারে বাংলাদেশের তৈরি ওষুধের ওপর আস্থাও বাড়ছে। এ আস্থাকে সামনে রেখে সঠিক মানে, সঠিক সময়ে, সঠিক প্যাকেজিংয়ে ও সঠিক মূল্যে রফতানি চালিয়ে যেতে পারলেই সে ভলিউমে অনেক পরিবর্তন আসবে। তবে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের বাজারে ওষুধ সরবরাহকে আমরা রফতানির ওপরে গুরুত্ব দেই।

প্রায় তিন দশক ধরে বিশ্ববাজারে স্কয়ার ওষুধ রফতানি করছে। বর্তমানে ৩৫টির বেশি দেশ আপনার প্রতিষ্ঠানের ওষুধের ক্রেতা। এখন পর্যন্ত রফতানিতে স্কয়ারের অভিজ্ঞতা কেমন?

ওষুধ রফতানিতে আমরা এখনো কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছতে পারিনি। অনেক ধৈর্য নিয়ে, অনেক বিনিয়োগ করে, অনেক কাজ আমাদের করতে হচ্ছে। রফতানি বাজারকেন্দ্রিক ব্যবসা পরিচালনা নীতি আমাদের পূর্বনির্ধারিত লক্ষ্যে যেতে সাহায্য করছে। কেনিয়ায় আমাদের নতুন কারখানা, ফিলিপাইনে মার্কেটিং কোম্পানি গঠন, ব্রাজিলের জিএমপি সার্টিফিকেশন—এসবই আমাদের রফতানি বাণিজ্য সম্প্রসারণের একেকটি পর্যায়। বিশ্বের সর্ববৃহৎ বাজার যুক্তরাষ্ট্রে আরো বেশি ওষুধের অনুমোদন লাভ ও রফতানি মূল্য বৃদ্ধির পরিকল্পনায় আমাদের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

দেশের একটি স্বনামধন্য ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড। স্যামসন এইচ চৌধুরীর নেতৃত্বে চার বন্ধু ডা. কাজী হারুনার রশিদ, ডা. পিকে সাহা ও রাধাবিনোদ রায়ের হাত ধরে পাবনা শহরের শালগাড়িয়ায় ১৯৫৮ সালে স্কয়ারের যাত্রা শুরু হয়েছিল। তখন নাম ছিল স্কয়ার ফার্মা। ২০ হাজার টাকা মূলধনের সেই কারখানায় শ্রমিক ছিল মাত্র ১২ জন। ১৯৬৪ সালে স্কয়ার ফার্মা নাম বদল করে হয় স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড। ১৯৭৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের জনসন অ্যান্ড জনসন এবং বেলজিয়ামের জনসেন ফার্মাসিউটিক্যালসের সঙ্গে প্রযুক্তিগত উদ্যোগে যুক্ত হয় স্কয়ার। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। ১৯৮৭ সালে ওষুধ রফতানিতে প্রতিষ্ঠানটি অগ্রণী ভূমিকা পালন করে। বর্তমানে ৩৫টির বেশি দেশে অ্যান্টিবায়োটিক এবং অন্যান্য ওষুধ রফতানি করে আসছে। এর মধ্যে এশিয়ার দেশ আফগানিস্তান, আজারবাইজান, ভুটান, কম্বোডিয়া, জর্জিয়া, হংকং, মালয়েশিয়া, মালদ্বীপ, মিয়ানমার, নেপাল, ফিলিপাইন, শ্রীলংকা, ভিয়েতনাম, ইয়েমেন; ইউরোপের যুক্তরাজ্য (কন্ট্রাক্ট ম্যানুফ্যাকচারিং); উত্তর আমেরিকার যুক্তরাষ্ট্র; আফ্রিকার কেনিয়া, লিবিয়া, মৌরিতানিয়া, মরিশাস, মোজাম্বিক, সোমালিয়া, তানজানিয়া, উগান্ডা; ওশেনিয়ার ফিজি, পালাউ, পাপুয়া নিউগিনি এবং মধ্য ও দক্ষিণ আমেরিকার বেলিজ, কোস্টারিকা, জ্যামাইকা, নিকারাগুয়া, সুরিনামে প্রতিযোগিতামূলক মূল্যে মানসম্পন্ন পণ্য সরবরাহ করে আসছে প্রতিষ্ঠানটি। ব্যবসা ও পরিষেবার এ সম্প্রসারণ স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডকে নিয়ে গেছে অনন্য উচ্চতায়। স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসের এখনকার টার্গেট বিদেশে নিজেদের শক্ত অবস্থান গড়ে তোলা। সে লক্ষ্যে এরই মধ্যে কেনিয়ায় কারখানা তৈরি করছে কোম্পানিটি। নব্বই দশকের শুরুতে কোম্পানিটি পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি হিসেবে বাজারে শেয়ার ছাড়ে।         

ওষুধের কাঁচামাল আমদানির কোনো উল্লেখযোগ্য সমস্যা রয়েছে, যা রফতানিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে?

বাংলাদেশ সরকার ওষুধ রফতানি প্রবৃদ্ধিতে অনেক যত্নশীল। এ শিল্পের সঙ্গে যুক্ত আমরা সবাই প্রধানমন্ত্রীর দূরদৃষ্টি ও সার্বক্ষণিক উৎসাহের জন্য কৃতজ্ঞ। তবে রফতানির উদ্দেশ্যে আমদানীকৃত কিছু কাঁচামালের ওপর থেকে শুল্কহার ‘শূন্য’ করা গেলে রফতানি আয় বাড়ত। সেই সঙ্গে বর্তমান সময়ে ব্যাংক থেকে এলসি (ঋণপত্র) খোলার সময় প্রাধিকার বিবেচনা আমাদের সবার জন্যই খুব সহায়ক হতো।

বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের ওষুধের দাম আর স্থানীয় বাজারে দামের তারতম্য সম্পর্কে জানতে চাই। দুই বাজারে ওষুধের মানে ভিন্নতা রয়েছে কি?

বাংলাদেশের বাজারে ওষুধের দাম সরকার নির্ধারণ করে দেয়। আর বাংলাদেশ যেসব দেশে ওষুধ রফতানি করে সেখানে বাজারমূল্য নির্ভর করে সরবরাহের ওপর। সেসব দেশে সাধারণত খুচরা বিক্রেতারাই সরবরাহ ও প্রস্তুতকারক কোম্পানি বিচারে বিক্রয়মূল্য ঠিক করে। তাই বাংলাদেশে কোনো ট্যাবলেট ১০ টাকায় বিক্রি হলেও রফতানি বাজারে তার খুচরা মূল্য হতে পারে ৫০ টাকা। তাছাড়া রফতানির ক্ষেত্রে সবসময়ই বাজারভেদে ও আমদানিকারক দেশের সামষ্টিক অর্থনীতির বিবেচনায় মূল্যের তারতম্য ঘটে। 

এছাড়া রফতানীকৃত আর বাংলাদেশে সরবরাহকৃত ওষুধের পার্থক্য হচ্ছে কেবল মোড়কে। স্কয়ার তার প্রতিটি উৎপাদন ইউনিটে একই মানদণ্ড অনুসরণ করে। উৎপাদনের পর ওষুধগুলো দেশ বা আমদানিকারকভিত্তিক রিলিজ স্পেসিফিকেশন অনুসারে পরীক্ষা করে প্যাকেটজাত করা হয়।

উন্নত বিশ্বের ওষুধ শিল্পের সঙ্গে তুলনা করলে বাংলাদেশের ওষুধ শিল্পের অবস্থান ও মান সম্পর্কে আপনার পর্যবেক্ষণ কী?

বাংলাদেশের প্রথম সারির প্রত্যেকটি কোম্পানির উৎপাদন ও মানদণ্ড নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা এখন উন্নত বিশ্বের দেশগুলোর সমতুল্য। পার্থক্য হচ্ছে একটাই, আমরা বাংলাদেশের সীমারেখায় তৈরি করছি আর ইউরোপ-আমেরিকার কোম্পানিগুলো তাদের নিজ নিজ ভৌগোলিক অবস্থানে থেকে একই কাজ করে যাচ্ছে।

১৫২টি দেশে ওষুধ রফতানি করছে বাংলাদেশ। তবে ইউরোপ, আমেরিকা ও অস্ট্রেলিয়ার বাজারে এখনো শক্তিশালী অবস্থান তৈরি হয়নি। এফডিএ, এমএইচআরএর মতো সংস্থার অ্যাক্রেডিটেশন পাওয়ার ক্ষেত্রে দেশীয় ওষুধ শিল্পের সীমাবদ্ধতাগুলো কী? 

যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিম ইউরোপের দেশগুলোয় ওষুধ রফতানিতে একটা দীর্ঘ প্রস্তুতির প্রয়োজন হয়। অনেক ক্ষেত্রেই এ অপেক্ষার সময়টা ১০ বছরের কাছাকাছি। আমার জানামতে বাংলাদেশের শীর্ষ দশের অনেক কোম্পানিই সেই সময়টা পার করছে বা করে ফেলেছে। বাংলাদেশের কোম্পানিগুলোর প্রতিনিয়ত যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ওষুধ অনুমোদনের খবর তারই ইঙ্গিত দেয়। যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফডিএ) বা যুক্তরাজ্যের মেডিসিনস অ্যান্ড হেলথ কেয়ার প্রডাক্ট রেগুলেটরি এজেন্সির (এমএইচআরএ) কাছ থেকে জিএমপি সার্টিফিকেশন প্রাপ্তিতে যে সীমাবদ্ধতাগুলো আছে বা সামনে আসবে, তা কোম্পানিগুলোর নিজের কারিগরি ও মানদণ্ড নিয়ন্ত্রণের সক্ষমতাতেই দূর করতে হবে।

ওষুধ শিল্পে স্কয়ারের অবদান প্রায় ৬৫ বছরের। অ্যালোপ্যাথিক, হারবাল ও পুষ্টি, পশু এবং কৃষির কয়েক হাজার ওষুধ প্রস্তুত করছে; মেডিকেল ডিভাইসও রয়েছে। স্কয়ারের কোন কোন ওষুধ বিশ্ববাজারে শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করতে পেরেছে?

স্কয়ারের অনেকগুলো ব্র্যান্ডই বিশ্ববাজারের বিভিন্ন দেশে শীর্ষস্থানে রয়েছে। আমাদের অ্যান্টিবায়োটিক ‘জিম্যাক্স’ সাসপেনশন মালয়েশিয়া, জ্যামাইকা, উগান্ডা ও তানজানিয়ায় মার্কেট লিডার। ফিলিপাইনে রাইনাইটিসের ওষুধ ‘ফ্লোনা স্প্রে’ ও স্নায়ুরোগের ওষুধ ‘ভেলোয়েট সিরাপ’ নিজ নিজ ক্যাটাগরিতে সর্বোচ্চ বিক্রীত ব্র্যান্ড। ‘ক্লোফেনাক’ ইঞ্জেকশন মিয়ানমারের ক্লিনিক ও হাসপাতালে এক অতিপরিচিত ব্যথানাশক। শ্রীলংকার বাজারে আধিপত্য বজায় রেখে চলেছে জীবন রক্ষাকারী ‘স্পেকব্যাক’ ইঞ্জেকশন, শিশুদের জন্য তৈরি ‘সেডনো সিরাপ’ ও ‘এইস সাপোজিটরি’। নেপালে আমাদের চোখের ড্রপ লুবটিয়ার ‘অ্যালাকট’ ও ‘নেক্রোমিন’ সর্বোচ্চ মার্কেট শেয়ার অর্জন করেছে। শুধু তা-ই নয়, আমাদের ব্রেস্ট ক্যান্সারের ওষুধ ‘লেরজল’ মার্কেট কম্পিটিশনে সবার আগে। কেনিয়ায় স্নায়ুরোগের ওষুধ ‘ডিপ্রেক্স’, ‘মেলক্যাম’, ‘পাইলোট্রিপ’ ও ‘টরি’ এক দশক বাজার ধরে রেখেছে। এমনকি প্রশান্ত মহাসাগরের দেশ ফিজিতেও ডায়াবেটিসের ওষুধ ‘সিগ্লিম্যাট’ ডাক্তারদের আস্থার শীর্ষে। আশা করছি যুক্তরাষ্ট্রের বাজারেও আমরা উচ্চরক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের ওষুধগুলো নিয়ে একটি ভালো অবস্থানে যেতে পারব।

বিশ্ববাজারে ন্যায্যমূল্যে ওষুধ রফতানিতে ওই দেশগুলোর স্থানীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কেমন প্রতিযোগিতার মুখে পড়তে হচ্ছে বাংলাদেশের কোম্পানিগুলোকে?

রফতানি বাজারে সেখানকার স্থানীয় কোম্পানিগুলোর আধিপত্য থাকবেই। বাজারমূল্যে তাদের সঙ্গে পেরে ওঠা সত্যিই মুশকিল। তার ওপর সরকারি ক্রয়ে তারা সবসময়ই একটা প্রাধান্য পায়। তাদের মোকাবেলায় আমাদের বাংলাদেশের তৈরি ওষুধের মান ও সেখানকার ডাক্তারদের আস্থার ওপর ভীষণভাবে নির্ভর করতে হয়।

ওষুধ শিল্পে আমাদের গবেষণা নেই বললেই চলে। এ অবস্থা আগামীর রফতানিকে সংকুচিত করবে কিনা? আর নতুন ওষুধ উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের আদৌ কোনো সম্ভাবনা দেখতে পান?

বাংলাদেশের একটি দায়িত্বশীল জেনেরিক ম্যানুফ্যাকচারার হিসেবে আমাদের নতুন ওষুধ উদ্ভাবনের মৌলিক গবেষণা এখনই শুরু করার প্রয়োজন আছে বলে আমি মনে করি না। মৌলিক গবেষণার মাধ্যমে নতুন ওষুধ উদ্ভাবন এবং সেটির ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের খরচ জোগানো বাস্তবে আমাদের প্রস্তুতকৃত অন্যান্য ওষুধের দামকে বহুগুণে বাড়িয়ে তুলবে। অনাবশ্যক ও অযৌক্তিক মূল্যে দেশের বাজারে ওষুধ বিক্রিকে আমরা কখনই সমর্থন করি না। তবে ওষুধ শিল্পে আমাদের গবেষণা নেই—এ কথা ঠিক নয়। কালিয়াকৈর ও পাবনায় স্কয়ারের দুটি বড় রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট সেন্টার রয়েছে। বাংলাদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করা শতাধিক বিজ্ঞানী সেখানে কাজ করছেন। উন্নত দেশে প্রাপ্য অন-পেটেন্ট, উচ্চমূল্যের জীবনরক্ষাকারী ওষুধকে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে নিয়ে এসে সহজলভ্য করতে দেশের ওষুধ বিজ্ঞানীদের গবেষণা ও অবদানকে কখনই অস্বীকার করা যায় না। মূল্যসাশ্রয়ী, অফ-পেটেন্ট জেনেরিক ফর্মুলেশনের গবেষণাই আমাদের ওষুধ রফতানি খাতে কাঙ্ক্ষিত প্রবৃদ্ধি নিয়ে আসবে।

এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন-পরবর্তী পরিস্থিতি ও মেধাস্বত্বের সুবিধা বাতিল হওয়ার প্রেক্ষাপটে ওষুধ শিল্পের প্রস্তুতি সম্পর্কে জানতে চাই। এমন কোন পদক্ষেপ রয়েছে, যা এখনই নেয়া প্রয়োজন?

বাংলাদেশের মধ্যম আয়ের দেশে উত্তরণ এক আনন্দের ব্যাপার। দেশের সব সাধারণ মানুষের মতো আমরাও সে সময়ের অপেক্ষায় আছি। দেশের মধ্যম আয়ের দেশে রূপান্তরের সঙ্গে সঙ্গে ওষুধ শিল্পের বর্তমান বিলম্বিত মেধাস্বত্বের সুবিধাটি আর থাকবে না। মেধাস্বত্ব আইন প্রয়োগের কারণে তখন বাংলাদেশের কোম্পানিগুলো অন-পেটেন্ট ওষুধগুলোর জেনেরিক ভার্সন উৎপাদনের অধিকার হারাবে। এটির মানে হচ্ছে, বাংলাদেশের মানুষ তখন বিশ্ববাজারে অন-পেটেন্ট এমন ওষুধ আর বর্তমান মূল্যে কিনতে পারবেন না। বর্তমান সময়ের ওষুধ ব্যবহারের ধরনে, সে সময় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন যাদের ডায়াবেটিস, উচ্চরক্তচাপ, কিডনির সমস্যা, লিভারের রোগ ও ক্যান্সার রয়েছে। এ পরিস্থিতির সঠিক ও কার্যকরী মোকাবেলা একমাত্র বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের সব সদস্য এক হয়ে করতে পারেন। মধ্যম আয়ের দেশে উত্তরণের ঠিক আগে জাতীয় সংসদ যদি এমন একটি সিদ্ধান্তের ঘোষণা দেয় যে মধ্যম আয়ের দেশে উত্তরণ মুহূর্তের আগে যত ওষুধ বাংলাদেশের বাজারে বিক্রি হতো সেসবের জন্য মেধাস্বত্ব আইন কার্যকর হবে না, যেমনটি করেছিল ভারত ২০০৪ সালে তাদের উত্তরণের সময়। আমি বিশ্বাস করি, তাহলেই বাংলাদেশে আসন্ন দুর্ভোগ থেকে সবাইকে রক্ষা করা যাবে।