এম মহিবুজ জামান। এসিআই হেলথ কেয়ার লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা। তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে দেশের ওষুধ শিল্পে অবদান রাখছে অ্যাডভান্সড কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ বা এসিআই। বর্তমানে ওষুধ শিল্পের পাশাপাশি বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির। তাদের প্রস্তুতকৃত ওষুধ স্থানীয় বাজারের পাশাপাশি বিশ্ববাজারেও স্থান দখল করে নিয়েছে। ফার্মাসিউটিক্যালসে বাংলাদেশে আগামীর সম্ভাবনা ও বিশ্ববাজারে রফতানি বৃদ্ধির সম্ভাবনা ও সীমাবদ্ধতার বিষয়ে তিনি কথা বলেছেন বণিক বার্তার সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মুহাম্মাদ শফিউল্লাহ
বিশ্ববাজারে ওষুধ রফতানিতে কোন দেশ বা প্রতিষ্ঠানের অ্যাক্রেডিটেশন অধিক গ্রহণযোগ্য?
ফার্মাসিউটিক্যালসে বলা হয় স্ট্রিনজেন্ট রেগুলেটরি অথরিটি (এসআরএ), আট-নয়টি দেশ রয়েছে এ গ্রুপে। এগুলোর অ্যাক্রেডিটেশন বেশি গ্রহণযোগ্য। কারণ এ দেশগুলো বিশ্বের বিভিন্ন দেশে উচ্চমানসম্পন্ন হিসেবে বিবেচিত ও গ্রহণযোগ্য হয়।
বৈশ্বিক অ্যাক্রেডিটেশন যেমন এফডিএ, এমএইচআরএর মতো সংস্থার অনুমোদন পাওয়ার ক্ষেত্রে আমাদের ওষুধ শিল্পের সীমাবদ্ধতা কী বলে মনে করেন?
আপনি যেসব সংস্থার কথা বললেন তারা সর্বোচ্চ মান পদ্ধতি অনুসরণ করে। দেশের বেশ কয়েকটি কোম্পানি এসআরএ যেমন—ইউএসএফডিএ, ইউকেএমএইচআরএ, ইইউ, অস্ট্রেলিয়া টিজিএ, কানাডার অনুমোদন আছে। আর সীমাবদ্ধতা নির্ভর করে পণ্যের গুণ ও তার ব্যয়ের ওপর। দেশের ওষুধ শিল্পে এখন ২৬০টির মতো কোম্পানি আছে। এগুলোর অর্থনৈতিক সক্ষমতা ভিন্ন ভিন্ন। আগে আমাদের বিনিয়োগ হতো সক্ষমতা বৃদ্ধিতে। ৩০টি টপ লিস্টেড কোম্পানি আছে যারা ১৫ বছর ধরে সক্ষমতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে মানসম্মত পণ্য তৈরিতেও বিনিয়োগ করছে। এখন তো আমাদের আট-নয়টি কোম্পানি আছে, যারা কোনো না কোনো এসআরএ দেশের তালিকাভুক্ত।
অ্যাডভান্সড কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ (এসিআই) লিমিটেডের যাত্রা শুরু হয় ১৯৯২ সালে। বাংলাদেশের প্রথম কোম্পানি হিসেবে এটি ১৯৯৫ সালে আইএসও ৯০০১ সনদ অর্জন করে। এসিআই প্রথম বাংলাদেশী ওষুধ কোম্পানি হিসেবে যক্ষ্মা রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধ উৎপাদনে সক্ষমতা অর্জন করেছে। বর্তমানে দেশে যক্ষ্মা আক্রান্ত রোগীদের ওষুধগুলো এসিআই ফার্মা উৎপাদন এবং সরবরাহ করছে। বর্তমানে এসিআই ৬৫০ ধরনেরও বেশি ডোজ তৈরি করে; যার মধ্যে রয়েছে কার্ডিওভাসকুলার, অ্যান্টি-ইনফেকটিভ, সিএনএস, অ্যান্টিডায়াবেটিকস, অ্যান্টিপাইরেটিক, ভিটামিন ও খনিজ, অ্যান্টিবায়োটিক, এনএসএআইডি, অ্যান্টি-আলসারেন্ট, স্টেরয়েড, অ্যান্টিস্পাসমোডিকস, অ্যান্টিসাইকোটিক, অ্যান্টিইমেটিকস, অ্যান্টিসেপটিকস ও অ্যান্টিএজমাটিকস ইত্যাদি। বহির্বিশ্বে এসিআইয়ের পদচারণা শুরু হয় দুই দশকের বেশি আগে শ্রীলংকায় ওষুধ রফতানির মাধ্যমে। পরবর্তী সময়ে তাদের উৎপাদিত ওষুধ বিভিন্ন দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন পেয়েছে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বব্যাপী ৫০টিরও বেশি দেশে এসিআইয়ের ওষুধ রফতানি হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটির ৮৫০টির বেশি ওষুধ বিভিন্ন দেশে নিবন্ধিত রয়েছে। ২০১৫ সালে যৌথ গবেষণার মাধ্যমে বিশ্বে সর্বপ্রথম নবজাতকের নাড়ির সংক্রমণ প্রতিরোধে হেক্সিকর্ড ওষুধ আবিষ্কার করে। এ ওষুধ নবজাতকের মৃত্যুহার ২৩ শতাংশ কমিয়েছে এবং ৬৮ শতাংশ অন্যান্য গুরুতর সংক্রমণও কমিয়েছে। ফলে ওষুধটি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার জরুরি ওষুধের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়। বর্তমানে এসিআইর ওষুধ যুক্তরাষ্ট্রে ওয়ালমার্ট, ওয়ালগ্রেন্স, পাবলিকস, সিভিএস ইত্যাদির মতো প্রসিদ্ধ চেইন স্টোরগুলো বিক্রি করছে। এসিআই লিমিটেড বাংলাদেশের হেলথকেয়ার ইকোসিস্টেম উন্নত করার লক্ষ্যে ২০২২ সালে হেলথকেয়ার ইকুইপমেন্ট নামে নতুন একটা বিভাগ চালু করেছে । মূলত হেলথকেয়ার ইকুইপমেন্ট এদেশের রোগীদের গুণগতমানসম্পন্ন চিকিৎসা সেবা প্রদানের জন্য অতীব প্রয়োজনীয় USFDA অনুমোদিত বিভিন্ন ডিভাইস যা হাসপাতালে, কিংবা বাসাতে প্রয়োজন তা নিরবিচ্ছিন্ন সরবারাহ করার জন্যই এই উদ্যোগ। বিশ্বমানের গবেষনা ও উদ্ভাবনী এবং রোগ নির্ণয়ের জন্য উন্নতমানের পণ্যের বিপুল চাহিদা রয়েছে চিকিৎসকদের মাঝে, যা তাদের রোগীদের উন্নত চিকিৎসা প্রদান এবং সঠিক সময়ে হাতের নাগালে থাকা গুরুত্বপূর্ণ। যেমন, পোড়া বা ক্ষতের চিকিৎসা, শ্বাসতন্ত্রের যত্নে বিভিন্ন রকম আধুনিক ডিভাইস, ডায়াবেটিস রোগীদের আধুনিক চিকিৎসা (ইনসুলিন পাম্প), ব্রেস্ট ক্যান্সার চিহ্নিতকরণ, স্পোর্টস মেডিসিন, হোম কেয়ার চিকিৎসার আধুনিক ডিভাইস যা উন্নত দেশে ব্যবহৃত হয়, এসিআই সেসব আধুনিক ডিভাইস বাজারজাত করার সঙ্গে সঙ্গে জনগণকে সচেতন করার কাজও বরাবরের মতো চালু রাখবে এই নতুন উদ্যোগের মাধ্যমে।
আপনার প্রতিষ্ঠানের প্রস্তুতকৃত ওষুধ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়নের জিএমপি স্বীকৃত। এ স্বীকৃতি রফতানিতে কেমন ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে?
আপনি যেগুলো বলছেন সেগুলোর বাইরেও এশিয়া, ইউরোপ, আফ্রিকা, যুক্তরাষ্ট্রসহ ৬০টিরও বেশি দেশে আমাদের জিএমপি অনুমোদন আছে। ৭০টার মতো দেশে ডসিয়ার (dossier) সাবমিশন আছে। বর্তমানে বিভিন্ন পর্যায়ে ৫০ টারও বেশি দেশে আমরা ওষুধ রফতানি করছি। এর পরও পণ্য হিসেবে প্রত্যেকটি দেশ ওষুধের নিজস্ব অনুমোদন চায়। যদিও SRA অনুমোদন থাকলে কোনো কোনো দেশ, জিএমপি অডিট ছাড়াই অনুমোদন প্রদান করে। যদিও এসআরএর অনুমোদন দেখে আরেকটি দেশের মনোভাব থাকে যে তোমার কোয়ালিটি আমি অডিট করব না। তারা রেজিস্ট্রেশন দিয়ে দেয়। অন্তত এ সাহায্যটুকু করে।
এসিআইয়ের ওষুধ রফতানির পাশাপাশি ৬০টি দেশে বিপণনেরও অনুমতি রয়েছে। এসব দেশে স্থানীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আপনাদের ওষুধ প্রতিযোগিতামূলক দাম নির্ধারণ করতে পারছে কি?
প্রতিযোগিতামূলক দামে সরবরাহ করতে পারছি বলেই দেশগুলোয় ওষুধ রফতানি করছি। এখন পর্যন্ত একটি পণ্য একটি দেশে রেজিস্ট্রেশন আছে, এমন ধরলে পাঁচশরও বেশি রেজিস্ট্রেশন আছে আমাদের। কিন্তু অতগুলো পণ্য বিক্রি করতে পারছি না। কারণ যেখানে যে পণ্যটি প্রতিযোগিতায় টিকতে পারছে না, সেটি আমরা দিচ্ছি না। আর সংশ্লিষ্ট দেশের ডিস্ট্রিবিউটর (পরিবেশক) বলছে, প্রতিযোগিতামূলক দাম নির্দারণে যথেষ্ট ভূমিকা পালন করে।
আপনার প্রতিষ্ঠানের কোন ওষুধ বিশ্ববাজারে বেশি রফতানি হচ্ছে?
আমাদের অনেক ধরনের পণ্য। একেক বাজারে একেক ধরনের পণ্য বেশি যায়। অ্যান্টিবায়েটিক, কার্ডিওভাসকুলার, পেইন কিলার, সাপ্লিমেন্টস (ভিটামিন, মিনারেল), গ্যাস্ট্রোইনটেস্টিনাল পণ্য বেশি রফতানি হয়।
রফতানিতে বাংলাদেশের ওষুধের বাজার দিন দিনই বড় হচ্ছে। উন্নত বিশ্বের স্থানীয় ওষুধ শিল্পের চেয়ে এমন কোনো ক্ষেত্র কি রয়েছে, যেখানে আমাদের ওষুধ কিছুটা পিছিয়ে রয়েছে?
বাংলাদেশ যেসব দেশে রফতানি করে সেগুলোর অনেকগুলোই তৃতীয় বিশ্বের দেশ। তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ ছাড়া কারো কোনো ফার্মাসিউটিক্যালস ইন্ডাস্ট্রি নেই। দ্বিতীয় বিশ্বের দেশগুলোও বাংলাদেশের তুলনায় অনেক পিছিয়ে। আমরা ডোজেস ফর্মে (খাওয়ার ওষুধ) অভূতপূর্ব উন্নতি করেছি। আমাদের বিজ্ঞানীরাই আমাদের ওষুধগুলো ডেভেলপ করেন। তবে অবশ্যই এখানকার বিদেশী কোম্পানিগুলোর মানবসম্পদ স্থানীয় শিল্পে এসেছে। বাংলাদেশ বিশ্বের অল্প কয়েকটি দেশের মধ্যে একটা, যে দেশটি ওষুধে স্বয়ংসম্পূর্ণ। যে দেশটির ৯৯ শতাংশ ওষুধ নিজে তৈরি করে।
রফতানি বাড়াতে কোন জায়গায় উন্নতি করা দরকার?
ওষুধ একটা বিশেষায়িত বা টেকনিক্যাল পণ্য। এটাকে কমোডিটির মতো ট্রেডিং করলে হয় না। কোম্পানিগুলো এটাকে টেকনিক্যাল পণ্য বা স্পেশালাইজড পণ্য হিসেবে রফতানিকারক দেশগুলোয় মার্কেটিং করতে পারে না। এর জন্য সেখানে লোকবল লাগবে, বিনিয়োগ লাগবে, মার্কেটিংয়ে বিনিয়োগ লাগবে। আবার সবকিছুর জন্য বৈদেশিক মুদ্রারও প্রয়োজন পড়বে। এটা অনেক বড় ব্যয়। সেগুলো আমরা এখনো করি না। আমাদের পাশের দেশ ভারত, তাদের অন্যান্য প্রত্যেক দেশে নিজস্ব সেটআপ রয়েছে। তারা মার্কেটিং করতে পারে। বাজারজাত করতে পারে। অথবা পরিবেশক অন্য কেউ হলে মার্কেটিং তারা নিজেরা করে। পরিবেশক আজকে বিক্রি করবে আজকেই মুনাফা নিবে। কিন্তু মার্কেটিং আজকের জন্য নয়, এটা ভবিষতের জন্য।
নতুন মলিকিউল ও উন্নতকরণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ওষুধ শিল্প এখনো স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করতে পারেনি। এর জন্য আমাদের নীতিগত ও পদ্ধতিগতভাবে কী পদক্ষেপ নেয়া যায় বলে মনে করেন?
নতুন ওষুধ আবিষ্কার বাংলাদেশের জন্য প্রায় অসম্ভব। এর কয়েকটি কারণ আছে। প্রথম অর্থনৈতিক সক্ষমতা, আমাদের পুরো ওষুধ শিল্পের আকার ৩ বিলিয়ন ডলার। আর একটা পণ্যের গবেষণা ও উন্নয়ন (আরঅ্যান্ডডি) করতে কয়েক বিলিয়ন ডলার খরচ হয়। এক হাজার পণ্য আরঅ্যান্ডডি করলে পাঁচটা পণ্য মার্কেটে থাকে, একটা পণ্য ব্লক ব্লাস্টার হওয়ার সম্ভাবনা থাকতে পারে। এটা অনেক বড় বিনিয়োগের ব্যাপার। দ্বিতীয়ত, বিজ্ঞানী, প্রযুক্তির মতো বিষয়গুলো...। অবশ্যই আমাদের এখানে অনেক বিজ্ঞানী আছেন। তবে এখানে নতুন ওষুধ বা মলিকিউল আরঅ্যান্ডডি হয় না, রিসার্চ হয় না, সেই সক্ষমতা আমাদের এখনো হয়নি, হয়তো ভবিষ্যতে হবে।
দেশীয় ওষুধ শিল্পের গবেষণা ও উন্নয়ন কার্যক্রমের প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ হচ্ছে কি?
গবেষণা ও উন্নয়ন বলতে গেলে এখানে ডোজেস ফর্মের গবেষণা উন্নয়ন হচ্ছে। এর জন্য ক্রমান্বয়ে বিনিয়োগ হচ্ছে। সেজন্য আজকে বাংলাদেশে উচ্চপর্যায়ের টেকনিক্যাল পণ্য হিসেবে কয়েকটি কোম্পানি ভ্যাকসিন, মিটার ডোজ ইনহেলার, ইনসুলিন, বায়োটেক, অ্যান্টি-ক্যান্সারসহ সব ধরনের পণ্য তৈরি করছে। এসব প্রযুক্তি বাংলাদেশ অর্জন করেছে বলেই পণ্যগুলো উৎপাদন করতে পারছে। ফর্মুলেশন টেকনোলজির দিক থেকে ওষুধ শিল্প খুবই উন্নত ও কমান্ডেবল। এটাকে উন্নত করার যথেষ্ট সুযোগ আছে। এ শিল্পের পণ্য নিয়ে যদি বিশ্বের বড় বাজার, যেগুলোকে আমরা এসআরএ মার্কেট বলি সেগুলোতে যাওয়া যায়, তবে প্রভূত প্রবৃদ্ধি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের ওষুধের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। তা আরো বেড়ে গেলে সে অনুপাতে জোগানের প্রস্তুতি এ দেশের ওষুধ শিল্পের রয়েছে কিনা?
আমরা জেনেরিক পণ্য তৈরি করি। এ ধরনের পণ্যের জন্য ডেভেলপমেন্ট টেকনোলজি আমাদের আছে। আর আমাদের দেশের মানুষের সবচেয়ে সুন্দর গুণ হলো আমরা যেকোনো টেকনোলজি দ্রুত আত্মস্থ করতে পারি। না হলে এ রকম টেকনিক্যাল একটা শিল্প এত বড় হতে পারত না। আর এ শিল্পের যথেষ্ট সক্ষমতা আছে। সব কোম্পানি মিলে আমাদের সক্ষমতার কোনো ঘাটতি নেই।
দেড় শতাধিক দেশে ওষুধ রফতানি হলেও আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া ও ইউরোপের বাজারে পরিপূর্ণ অবস্থান তৈরি করতে কী কী পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন বলে আপনি মনে করেন?
এসিআই বাংলাদেশের একমাত্র কোম্পানি, আমেরিকায় যাদের নিজস্ব সেলস মার্কেটিং ডিস্ট্রিবিউশন অফিস আছে। সেখানে থেকে আমরা যেটা দেখছি, অল দ্য প্লেয়ারস আর দেয়ার। বিশ্বের সব প্লেয়ারই ওখানে আছে। অল পাওয়ার টুগেদার মেকস দ্য মার্কেট ইকুইলিব্রিয়াম। সেখানে আমাদের প্রতিযোগিতা করে মার্কেট নিতে হচ্ছে। বাংলাদেশের অনেকগুলো কোম্পানি মিলে মাত্র সেখানে যাওয়া শুরু করেছি। ওষুধ তো টেকনিক্যাল প্রডাক্ট, কমোডিটি না, এর জন্য দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন। প্রতি বছরই আমরা নতুন নতুন পণ্য রেজিস্ট্রেশন করছি, অন্যান্য কোম্পানিও করছে। ইউরোপের জন্য করছে। আমাদের সুযোগ অবশ্য আছে। উত্তরোত্তর তা বাড়বে। আমার কাছে মনে হয়, কয়েক বছরের মধ্যে আমাদের ওষুধ শিল্পের রফতানি হারের প্রবৃদ্ধি বাড়তে থাকবে। এখন যা হচ্ছে তার থেকে কয়েক গুণ বেশি প্রবৃদ্ধি হবে। এসব মার্কেটে সরবরাহ বাড়াতে বেশ কয়েক বছরের চলমান প্রক্রিয়া থাকবে। আমরা যদিও অনেক বছর থেকে বলছি, ফার্মা অনেক ভালো করবে। তবে সেই ব্রেকথ্রুটা আমরা এখনো পাইনি।
অস্ট্রেলিয়া, জাপান, জার্মানির বাজারগুলোতেও কি আমরা একইভাবে যেতে পারছি?
জাপানের বাজারের অবস্থা একটু ভিন্ন। জেনেরিক পণ্যের জন্য দেশটি এখনো রক্ষণশীল অবস্থানে আছে। অন্য বাজারগুলোর জন্য পণ্য বাচাই করা, রেজিস্ট্রেশন করা, লাভ-ক্ষতির হিসাব করার কাজ আমরা করছি। এসব দেশে একেকটা পণ্য রেজিস্ট্রেশন করতে তিন-পাঁচ বছর সময় লাগে। তারপর আবার এটা অনেক ব্যয়বহুল বিষয়। আমরা প্রজেক্ট নিচ্ছি (রফতানি), আরো পাঁচ-ছয়টি কোম্পানি আছে তারা প্রজেক্ট নিচ্ছে। আমরা হয়তো একেবারে অনেকগুলো পণ্য নিতে পারছি না। কয়েকটা করে পণ্য আমরা আরঅ্যান্ডডি করছি, আমাদের পণ্যের সংখ্যা বাড়ছে।
ওষুধ রফতানিতে সরকার যে সুযোগ-সুবিধা দিচ্ছে, সেক্ষেত্রে নতুন কোনো নীতি যুক্ত করা যেতে পারে কিনা?
এটা তো সরকারের থ্রাস্ট সেক্টর। এ হিসেবে সরকারের যথেষ্ট সহায়তা আছে। সরকারের সাপোর্ট আছে বলেই ইন্ডাস্ট্রি ভালো করছে। তবে রফতানিতে ওষুধ শিল্পের সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর জন্য মার্কেটিং করতে হবে। মার্কেটিংয়ের জন্য সরকার ফান্ডের অনুমতি দিতে পারে। যেসব কোম্পানির সক্ষমতা আছে তাদের ফার্মাসিউটিক্যাল পণ্য বিক্রির জন্য ওই মার্কেটে ফান্ড দরকার, তার অনুমতি দিতে হবে। এতে রফতানি ত্বরান্বিত হবে। ওষুধ পণ্যকে আমরা যদি কমোডিটি হিসেবে বিক্রি করি আর তখন সত্যিকারের ওষুধ শিল্প হিসেবে ওই মার্কেটে প্রতিফলিত হবে। একই সঙ্গে বাজার ধরে রাখতে পারবে।
শ্রুতলিখন:
আরফিন শরিয়ত





