আসাম বেঙ্গল রেলওয়ে কোম্পানি ব্রিটিশ আমলে অর্থাৎ ১৯২৯ সালে চট্টগ্রাম-ষোলশহর রেললাইন নির্মাণ করে। ষোলশহর থেকে নাজিরহাট পর্যন্ত রেলপথ নির্মাণ করা হয় ১৯৩০ সালে। ৪২ কিলোমিটার দূরত্বের দোহাজারী রেলপথ নির্মাণকাজ শেষ হয় ১৯৩১ সালে। আর ১০০ কিলোমিটার পেরোলেই কক্সবাজার। তাই আরো দক্ষিণের মানুষ স্বপ্ন দেখছিল হুইসেল বাঁজবে, কু ঝিক ঝিক শব্দে আসবে রেলগাড়ি। অবশেষে এল, ৯২ বছর পর আরো দক্ষিণে সমুদ্রতটে গিয়ে ভিড়ল সে ট্রেন। দেশের সর্ব উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ে পৌঁছেছে অনেক আগেই, এখন সর্ব দক্ষিণের কক্সবাজারও যুক্ত হলো রেল নেটওয়ার্কে।

পুরো দেশকে নিজেদের নেটওয়ার্কের আওতায় নিয়ে আসার জন্য বিভিন্ন সময়ে কক্সবাজার পর্যন্ত রেলপথ সম্প্রসারণের চিন্তাভাবনা করে রেলওয়ে। তবে সব পরিকল্পনাই কিছুদূর গিয়ে থেমে যায়। প্রয়োজনীয় সমীক্ষার পর ২০১০ সালের ৬ জুলাই দোহাজারী-কক্সবাজার রেলপথের প্রকল্প উন্নয়ন প্রস্তাব (ডিপিপি) পাস হয়। কয়েক বছর পর সেটিও ভেস্তে যায়। পরবর্তী সময়ে ট্রান্স-এশিয়ান রেল নেটওয়ার্কে বাংলাদেশের যুক্ত হওয়ার পরিকল্পনায় রেলপথ কক্সবাজারে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি আবারো আলোচনায় আসে। দাতা সংস্থার অর্থায়ন নিশ্চিত হওয়ায় ২০১৬ সালের ১৯ এপ্রিল অনুমোদন দেয়া হয় সংশোধিত ডিপিপি। শুরুতে ১ হাজার ৮০০ কোটি টাকার ব্যয় পরিকল্পনা ১৮ হাজার ৩৪ কোটি ৪৭ লাখ টাকায় গিয়ে ঠেকে। যদিও এ প্রকল্পের কক্সবাজার পর্যন্ত ১০০ কিলোমিটার রেলপথ নির্মাণে ব্যয় হচ্ছে ১৫ হাজার ৪৭৬ কোটি ৩৬ হাজার টাকা। বাকি টাকা খরচ হবে রামু উপজেলা হয়ে মিয়ানমারের কাছে গুনদুম পর্যন্ত ২৯ কিলোমিটার দীর্ঘ রেলপথ নির্মাণে। দ্বিতীয় পর্বের ওই কাজটি আপাতত স্থগিত। প্রকল্পটিতে আর্থিক সহায়তা দিচ্ছে এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (এডিবি)।

কক্সবাজারে রেল আসবে—সে গল্প শুনেছে প্রজন্মের পর প্রজন্ম। সর্বশেষ ৫ নভেম্বর সরকারি রেল পরিদর্শকের বিশেষায়িত ট্রেন যখন প্রথমবারের মতো দোহাজারী স্টেশন পেরিয়ে কক্সবাজারের দিকে যাচ্ছিল রেললাইনের দুপাশে লাখো মানুষ সেটিকে অভ্যর্থনা জানিয়েছে। সকাল ৯টায় চট্টগ্রাম স্টেশন থেকে ছেড়ে যাওয়া ট্রেনটি রেলপথ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে করতে কক্সবাজারে পৌঁছতে সময় লাগে ৯ ঘণ্টা ২০ মিনিট। যদিও প্রথম ট্রেনটিকে দেখতে হাজার হাজার মানুষ অপেক্ষায় থেকেছে সকাল থেকেই। ৯২ বছর ট্রেনের প্রতীক্ষায় থাকা এ অঞ্চলের মানুষের কাছে ৯ ঘণ্টা ২০ মিনিট ছিল তাই নস্যি। পথিমধ্যে বিলের ধারে, পাহাড়ের ঢালে, উঠোন কিংবা ঘরের জানালায় উঁকি দিয়ে ট্রেনটি দেখেছে স্থানীয়রা।

কক্সবাজারে রেল সংযোগে কেবল স্থানীয় মানুষই যে খুশি হয়েছে তা নয়, পুরো দেশবাসীই খুশি। পর্যটন নগরী কক্সবাজারে মানুষের নিত্য যাতায়াত। দেশের সর্ব দক্ষিণের এ জেলায় খুলনা, যশোর, পঞ্চগড় কিংবা সিলেট অঞ্চলের লোকজনের যাতায়াত সময়সাপেক্ষ, ব্যয়বহুল ও কষ্টসাধ্য। এমনকি ঢাকা থেকেও সড়কপথে কক্সবাজার যেতে ১০-১২ ঘণ্টা সময় লেগে যায়। রেলপথে সময় লাগবে শুরুতে ৮ ঘণ্টার কিছু বেশি। পর্যায়ক্রমে তা ৬ থেকে সাড়ে ৬ ঘণ্টায় নামিয়ে আনতে চায় রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।

দীর্ঘদিনের পুরনো, সরু ও আঁকাবাঁকা সড়কপথের কারণে কক্সবাজারকে করেছে দুর্গম। শিশু ও বয়োজ্যেষ্ঠদের পক্ষে যাতায়াত হয়ে পড়ে কঠিন। প্রতিনিয়ত এ সড়কে ঘটে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি। আবার অর্থায়ন জটিলতায় কক্সবাজার পর্যন্ত সড়কপথটি চার লেনে উন্নীত করার প্রকল্প এখনো অনিশ্চয়তার মধ্যে। ফলে এ পথ সম্প্রসারণ করতে আরো অন্তত ছয়-সাত বছর লেগে যাবে। তাই রেলওয়ে বলছে, ডিসেম্বরের মধ্যে কক্সবাজার পর্যন্ত ট্রেন চলাচল শুরু হলে সাশ্রয়ী, দ্রুত ও নিরাপদ যাত্রার জন্য যাত্রীরা ট্রেনকেই বেছে নেবে। এজন্য কক্সবাজারকে সামনে রেখে রেলের আগামী দিনের যাত্রী পরিবহন, পণ্য পরিবহনসহ আয় বৃদ্ধির পরিকল্পনা সাজানো হচ্ছে। পাশাপাশি দক্ষিণ চট্টগ্রামে গভীর সমুদ্রবন্দর, এক ডজনেরও বেশি অর্থনৈতিক অঞ্চল, টেকনাফ নৌবন্দরকে ঘিরে পূর্বাঞ্চল রেলের সবচেয়ে ব্যস্ত রুটের তকমা পেতে যাচ্ছে কক্সবাজার পর্যন্ত সম্প্রসারিত এ রেলপথ। তবে প্রকল্পটির মাধ্যমে আপাতত কক্সবাজার পর্যন্ত রেলপথ গেলেও দ্বিতীয় পর্যায়ে আরো ২৯ কিলোমিটার পথ সংযোগ করে মিয়ানমারের কাছে গুনদুম পর্যন্ত ট্রেন যাবে।

দোহাজারী থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত নতুন করে আটটি স্টেশন নির্মাণ করা হয়েছে প্রকল্পের অধীনে। দোহাজারীতে অবশ্য আগেই স্টেশন ছিল, যা ব্রিটিশ আমলে নির্মিত। এর পরবর্তী স্টেশনগুলো হচ্ছে সাতকানিয়া, লোহাগাড়া, হারবাং, চকরিয়া, ডুলাহাজারা, ইসলামাবাদ, রামু ও সর্বশেষ কক্সবাজার। এর মধ্যে কক্সবাজারেরটিকে বলা হচ্ছে আইকনিক রেলওয়ে স্টেশন। ১ লাখ ৮৭ হাজার ৩৫ বর্গফুটের স্টেশনটি নির্মাণে ব্যয় করা হচ্ছে ২১৫ কোটি টাকা। প্রতিদিন আসা-যাওয়া মিলিয়ে স্বাভাবিকভাবে ৯২ হাজার যাত্রীকে সেবা দিতে সক্ষম এটি। ছয় তলাবিশিষ্ট রেলওয়ে স্টেশনটিতে ট্রেনসংক্রান্ত কার্যক্রমের বাইরেও শপিং সেন্টার, অফিস, মিটিং রুম, বিনোদন কেন্দ্র, স্পোটর্স সেন্টার, আবাসিক হোটেল, রেস্টুরেন্ট, প্রদর্শনী কেন্দ্রসহ ব্যবসা-বাণিজ্যের নানামুখী কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। অনেকটা কক্সবাজার অঞ্চলের বিশেষ ট্রেড সেন্টার হিসেবে কাজ করবে আইকনিক রেলওয়ে স্টেশনটি।

দেশে রেলপথের মোট পরিমাণ প্রায় তিন হাজার কিলোমিটার ছাড়িয়েছে। বিশ্বের অন্যতম জনসংখ্যা ঘনত্বের দেশে লেভেল ক্রসিংয়ের পরিমাণ খুবই অপ্রতুল। ফলে যেখানে সেখানে অবৈধ রেলক্রসিং বানিয়ে চলে যানবাহন কিংবা মানুষ পারাপার। এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বেড়ে যায়। তাছাড়া পর্যাপ্ত গেটম্যান না থাকা, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার না করায় রেলওয়ে কিংবা দেশে রেল দুর্ঘটনার সিংহভাগই রেল ক্রসিংকেন্দ্রিক। এ সংকট দূর করতে নবনির্মিত দোহাজারী-কক্সবাজার রেলপথের একটি বড় অংশই রাখা হয়েছে আন্ডারপাস পদ্ধতি। প্রকল্পের শুরুতে ১০০ কিলোমিটার (কাজ হয়েছে ১০৩ দশমিক ৪৭ কিলোমিটার) রেলপথের প্রকল্পে লেভেল ক্রসিং রাখা ছিল ৯১টি। অর্থাৎ প্রায় এক কিলোমিটার অন্তর একটি করে লেভেল ক্রসিংয়ের সুবিধা রাখার কথা ছিল। কিন্তু ভৌত কাজ শুরুর পর স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সুবিধার্থে এবং নতুন করে মানুষের যাতায়াত শুরু ও সড়ক নির্মাণের কারণে সে সংখ্যা বাড়িয়ে ১১৫টিতে উন্নীত করা হয়। এর মধ্যে ৪৬টি বা ৪০ শতাংশই আন্ডারপাস, যা দেশের রেলপথের ইতিহাসে প্রথম। 

রেলওয়ে কর্মকর্তারা বলছেন, আন্ডারপাসগুলো একই সঙ্গে একাধিক সুবিধা দেবে স্থানীয়দের চলাচল ও প্রতিবেশ-পরিবেশে। প্রকল্পের নথিপত্র সূত্রে জানা গেছে, লট-১-এ ৫৫টি লেভেল ক্রসিং রাখা হয়েছে। এর মধ্যে ২৮টি আন্ডারপাস। অন্যদিকে লট-২-এ ৬০টি লেভেল ক্রসিংয়ের মধ্যে ৪২টিই আন্ডারপাস। লট-২ কক্সবাজার শহরকেন্দ্রিক হওয়ায় এখানে আন্ডারপাসের সংখ্যা তুলনামূলক বেশি। প্রকল্পের সবচেয়ে বড় আন্ডারপাস করা হয়েছে রামু উপজেলায়। এসব আন্ডারপাস রেলপথের উভয় পাশে বন্যাকালীন কিংবা বর্ষা মৌসুমে পানি চলাচলের পথ হিসেবেও কাজ করবে। সর্বশেষ বন্যায় সাতকানিয়া, লোহাগাড়া ও চন্দনাইশ উপজেলায় অতিবৃষ্টিপাতে স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যা তৈরি হয়। এজন্য রেলপথে অপর্যাপ্ত কালভার্ট, ব্রিজকেই দায়ী করেন স্থানীয় বাসিন্দা ও বিশেষজ্ঞরা।

কক্সবাজার পর্যন্ত রেলপথ সম্প্রসারণের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ হচ্ছে চুনতি, ফাঁসিয়াখালী বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য এবং মেধাকচ্ছপিয়া ন্যাশনাল পার্ক। চুনতি ১৫ দশমিক ৮ কিলোমিটার, ফাঁসিয়াখালী ১০ দশমিক ৩ কিলোমিটার ও মেধাকচ্ছপিয়া ন্যাশনাল পার্কে প্রায় এক কিলোমিটার রেলপথ থাকছে। শুরুতে এ পথ দিয়ে রেললাইন যাওয়ার বিষয়ে আপত্তি ওঠায় প্রকল্পের প্রয়োজনে নিধন হওয়া গাছ রোপণ, বণ্যপ্রাণীর জন্য একাধিক বিকল্প রেখে রেলপথটির নকশা প্রণয়ন করা হয়। চুনতিতে এশিয়ান হাতির পারাপারে ব্যবহার করা হচ্ছে বিশেষ ধরনের ওভারপাস, যা রেলপথে এশিয়ার মধ্যে প্রথম বলে জানান প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা। পাহাড়ের একপ্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে হাতি পার হবে রেললাইনের ওপর দিয়ে। এজন্য রেললাইনের ওপর কৃত্রিম পাহাড় ও বনাঞ্চল সৃষ্টি করা হয়েছে, যেখানে লাগানো হয়েছে ৪১ প্রজাতির গাছ। হাতির জন্য একটি লবণ পানির জলাধার, রেলপথে হাতি না উঠতে সীমানা প্রাচীরসহ লাগানো হয়েছে বেত গাছ। বনাঞ্চল বিনষ্ট হওয়ায় এবং হাতির খাবারের সহায়তায় লাগানো হচ্ছে সাত লাখ গাছ। এছাড়া হাতি পারাপারের জন্য রাখা হয়েছে তিনটি বিশেষ আন্ডারপাস। এ রেলপথে ট্রেন চলাচলে ইঞ্জিনে ব্যবহার করা হবে সেন্সরযুক্ত ডিভাইস। ফলে হাতি বা বন্যপ্রাণী রেললাইনে উঠে গেলে সর্বোচ্চ এক কিলোমিটার দূর থেকে চালক বুঝতে পারবেন।

কক্সবাজারে রেল সংযোগের প্রধান সুফল পাবেন স্থানীয় কৃষিজীবীরা। হ্যাচারি, লবণ, কৃষিপণ্য, রাবার শিল্পে তৈরি হবে নতুন উদ্দীপনা। মূলত ট্রেনে করে স্বল্প সময়ে ও সাশ্রয়ী মূল্যে পণ্য পরিবহনের সুযোগকে কাজে লাগিয়ে দক্ষিণ চট্টগ্রামের সাধারণ মানুষের কৃষি উদ্যোগকে চাঙ্গা করবে বলে মনে করা হচ্ছে। তাই কক্সবাজার পর্যন্ত আট স্টেশনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি উপকারভোগী হবে সাতকানিয়া, লোহাগাড়া ও চকরিয়া অঞ্চলের মানুষ। বিশেষ এ তিনটি উপজেলার কৃষি ও মৎস্য অর্থনীতি চট্টগ্রামে প্রসিদ্ধ। পাহাড়ের পাদদেশ ও সমুদ্রের সন্নিকটের এখানকার ভূমি কাঠামো কৃষির জন্য কার্যকরী। ফলে এখানে সবজিসহ বিভিন্ন ফসলের উৎপাদন চট্টগ্রামের যেকোনো অঞ্চলের চেয়েও বেশি। এক সময় দোহাজারী স্টেশন থেকে ট্রেনে করে সবজি কিংবা ফলমূল চট্টগ্রামে নিয়ে আসতেন কৃষক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। ট্রেনের সংখ্যা কমে যাওয়ায় তা অনেকটাই মন্দা যাচ্ছিল। নতুন করে ট্রেন যোগাযোগ কৃষি, মৎস্য এবং চকরিয়া, বাঁশখালী ও মহেশখালীর উৎপাদিত লবণ ট্রেনের মাধ্যমে সহজেই বাজারজাত করার সুযোগ পাবে এ অঞ্চলের মানুষ।

রেলপথটি টেকনাফ, সেন্ট মার্টিন ছাড়াও বান্দরবানের পর্যটনকেও প্রসারিত করবে। দেশের পার্বত্যাঞ্চলের মধ্যে সবচেয়ে বেশি পর্যটক সমাগম হয় বান্দরবানে। কক্সবাজারের মতোই ওই জেলায় যেতে সময়ক্ষেপণ হয় পর্যটকদের। রেলপথ হওয়ায় সাতকানিয়া হয়ে স্বল্প সময়ে বান্দরবানে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি পার্বত্য জেলাটির উৎপাদিত পাহাড়ি কৃষিপণ্য সহজেই রেলপথে চট্টগ্রামসহ সারা দেশে পৌঁছনোর সুযোগ তৈরি হবে। ঢাকা ও চট্টগ্রাম থেকে সরাসরি ট্রেন সার্ভিস ছাড়াও দেশের বিভিন্ন জেলা সদরকে সংযোগ করে আন্তঃনগর ট্রেন ছাড়াও লোকাল, মেইল, এক্সপ্রেস ও কমিউটার ট্রেন সার্ভিস চালু হবে কক্সবাজারে। প্রকল্পের শতভাগ কাজ শেষ হওয়ার পর চট্টগ্রাম ও ঢাকার সঙ্গে পণ্যবাহী ট্রেন সার্ভিস চালু করবে রেলওয়ে। মাতারবাড়ী সমুদ্রবন্দরসহ দক্ষিণ চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের বিভিন্ন অর্থনৈতিক অঞ্চলের পণ্য পরিবহনে এসব ট্রেন কার্যকর হয়ে উঠবে বলে মনে করছেন রেলওয়ে ও প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। 

এদিকে বাংলাদেশ রেলওয়ের নিয়ম অনুযায়ী স্বাভাবিক দূরত্ব ছাড়াও বিশেষ বিশেষ কারণে বাড়তি দূরত্ব বিবেচনায় নিয়ে নির্ধারণ করা হয় বাণিজ্যিক দূরত্ব। এ হিসাবে বাড়ে ভাড়ার পরিমাণ। আসাম বেঙ্গল রেলওয়ের নিয়ম অনুাযায়ী সেতু কিংবা ভায়াডাক্টের ওপর দিয়ে ট্রেন চলাচলের ক্ষেত্রে এক্সট্রা ডিসটেন্স অব পন্টেজ চার্জ আরোপের বিধান রয়েছে। সর্বশেষ নিয়ম অনুযায়ী, ১০০ মিটারের ঊর্ধ্বে সেতুর জন্য প্রতি কিলোমিটারকে ২৫ কিলোমিটার হিসেবে বিবেচনায় নিয়ে ভাড়া আদায় করা হবে। দোহাজারী থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত ১০০ মিটারের ঊর্ধ্বে সেতুর সংখ্যা ছয়টি। যার কারণে চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত রেলপথের দূরত্ব ১৫০ দশমিক ৮৭ কিলোমিটার হলেও পন্টেজ চার্জসহ বাণিজ্যিক দূরত্ব ধরা হয়েছে ১৮৯ কিলোমিটার।