আলী আহম্মেদ
চিফ কমার্শিয়াল অফিসার, বিকাশ
বাংলাদেশে মোবাইল আর্থিক সেবাখাত একযুগ পার করেছে। সরকারের দূরদর্শিতা, বাংলাদেশ ব্যাংকের যুগোপযোগী পেমেন্ট পলিসি, বিকাশ-এর মতো প্রতিষ্ঠানগুলোর সেবা এবং গ্রাহকের অংশগ্রহণে মোবাইল আর্থিক লেনদেন এখন প্রতিদিনের জীবনের অংশ। তবে সম্পূর্ণভাবে ক্যাশলেস হওয়ার যাত্রা এখন বেশ সুদূরতর। বর্তমান প্রেক্ষাপটে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো পেমেন্ট ইকোসিস্টেমকে শক্তিশালী করা। একটু সহজ করে বললে একজন গ্রাহক তাঁর সব ধরনের কেনাকাটার পেমেন্ট বিকাশ বা এই ধরনের সেবা ব্যবহার করেই দিতে পারবেন সে ব্যবস্থা করতে হবে। বড় শহরের সুপারশপ বা মার্চেন্ট দোকানগুলোতে গ্রাহক ক্যাশলেস পেমেন্টের সুযোগ যতটা পান প্রান্তিক পর্যায়ের ছোট দোকান বা খুচরা বিক্রির দোকানে ততটা সম্প্রসারিত নয়। সবধরনের কেনাকাটার পেমেন্ট যত দ্রুত ডিজিটাল করা যাবে ক্যাশলেস যাত্রা তত দ্রুত সম্প্রসারিত করা যাবে।
পেমেন্ট গ্রাহকদের অভ্যস্ততা তৈরি করতে বিকাশের নিরন্তর প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। গ্রাহকরা এখন যে কোনো ভিসা কার্ড দিয়ে বিকাশ অ্যাপ হয়ে সরাসরি সারাদেশের প্রায় ৬ লাখ মার্চেন্টকে কেনাকাটার পেমেন্ট করতে পারেন। গ্রাহকের পেমেন্ট অভিজ্ঞতা সহজ করতেই ভিসার সাথে যৌথভাবে এই উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। গ্রাহকের অভিজ্ঞতা সহজ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় করতেই বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সাথে বিভিন্ন রকম যৌথ উদ্যোগ নিচ্ছে বিকাশ। আবার ডিজিটাল পেমেন্টে গ্রাহকের অভ্যস্ততা ও সচেতনতা তৈরিতে আর্কষণীয় ক্যাশব্যাক, ডিসকাউন্ট, কুপনের মতো নানা অফার ও দেয়া হচ্ছে বছর জুড়ে। সামনের দিনগুলোতে পেমেন্ট গ্রাহকের অভিজ্ঞতা আরো স্বাচ্ছন্দ্যময় করতে নতুন সৃজনশীল সেবা আনবে বিকাশ।
কেবল গ্রাহক নয় প্রায় সব ধরনের মার্চেন্টদের ডিজিটাল পেমেন্টের আওতায় আনতে বিকাশের নানামুখী উদ্যোগ চালু রয়েছে। ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক উদ্যোক্তাদের জন্য পারসোনাল রিটেইল অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে ডিজিটাল কেনাকাটার সুযোগ তৈরিতে কাজ করে যাচ্ছি আমরা। বিকাশের মার্চেন্ট অ্যাপও সমৃদ্ধতর হচ্ছে। গ্রাহক পেমেন্ট করার সাথে সাথে মার্চেন্ট অ্যাপ এ ভয়েস নোটিফিকেশ পাওয়ার সুবিধা যুক্ত করা হয়েছে। মার্চেন্টদের জন্য অ্যাপ থেকে বিল পেমেন্ট, মোবাইল রিচার্জ, অন্য মার্চেন্টকে পেমেন্ট করার সুবিধা সহ আরো সুবিধা সংযুক্ত করা হচ্ছে।
ছোট ছোট এমন অসংখ্য উদ্যোগে দেশের ডিজিটাল পেমেন্ট ইকোসিস্টেম একটু একটু করে শক্তিশালী হয়ে উঠছে। সবপক্ষের সমন্বিত উদ্যোগ ও প্রচেষ্টা থাকলে অল্প সময়ের ব্যবধানে ডিজিটাল পেমেন্টের পরিসংখ্যানকে উল্লেখযোগ্য হারে বদলে ফেলা সম্ভব।





