দেশের আর্থিক লেনদেন ব্যবস্থা সাম্প্রতিক সময়ে দ্রুতগতিতে ডিজিটালে রূপান্তরিত হচ্ছে। ক্যাশলেস বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্য বাস্তবায়নে ব্যাংক এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো একযোগে কাজ করে যাচ্ছে। ব্যাংকগুলো গ্রাহককে ডিজিটাল লেনদেনে উদ্বুদ্ধ করার লক্ষ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ হাতে নিয়েছে। অধিকাংশই এখন ক্রেডিট কার্ড ইস্যু করছে। আমাদের গ্রাহকের জন্য রয়েছে চার ধরনের ক্রেডিট কার্ড। যেমন ভিসা সিগনেচার, ভিসা প্লাটিনাম, ভিসা গোল্ড ও ভিসা ক্ল্যাসিক ক্রেডিট কার্ড। বেশকিছু কারণেই গ্রাহকের কাছে এসব কার্ড জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। প্রধানত আমাদের কার্ড ইস্যুয়েন্স ফি এবং সুদের হার কম। এছাড়া রয়েছে ওয়ার্ল্ড ওয়াইড অ্যাকসেপটেন্স, কনভেনিয়েন্ট পেমেন্ট অপশন, সার্ভিস এক্সিলেন্স, যুগোপযোগী প্রডাক্ট ইত্যাদি।

দেশের জনসংখ্যার অনুপাতে যদিও ক্রেডিট কার্ডের সংখ্যা খুবই কম। এর বাজার সম্প্রসারণ না হওয়ার পেছনে বেশকিছু কারণ রয়েছে। এর মধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী বাধ্যতামূলক বেশকিছু ডকুমেন্টেশন এবং গ্রাহকের নিম্ন ঋণ গ্রহণযোগ্যতাকে প্রধান কারণ বলা যায়। তবে বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে মানুষ এখন ক্রেডিট কার্ডের প্রয়োজনীয়তা অনেক বেশি অনুভব করছে। সম্প্রতি বাজারে ডলার সংকটের কারণেও ক্রমাগত এর চাহিদা বাড়ছে। এটিকে কাজে লাগিয়ে ক্রেডিট কার্ডের বাজার আরো সম্প্রসারণ করা যাবে। এক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক কাগজপত্রের কিছুটা শিথিলকরণ হলে ক্রেডিট কার্ডের বাজার আরো সম্প্রসারিত হবে বলে আমরা আশা করছি।

ক্রেডিট কার্ড এখন আমাদের দৈনন্দিন জীবনের একটি অপরিহার্য পণ্য হয়ে উঠেছে। প্রথাগত আর্থিক লেনদেনের পাশাপাশি প্রত্যাশার চেয়েও দ্রুতগতিতে অত্যন্ত শক্তিশালীভাবে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে ডিজিটাল লেনদেন ব্যবস্থা। দেশের অধিকাংশ শিডিউল ব্যাংক তাই কার্ড সেবা দিয়ে যাচ্ছে এবং এর ধারাবাহিকতায় এনসিসি ব্যাংকও সেবা দিয়ে যাচ্ছে। গ্রাহকদের বিভিন্ন চাহিদার কথা মাথায় রেখে এনসিসি ব্যাংক সর্বদা গ্রাহক পর্যায়ে বিভিন্ন সুবিধা দিয়ে আসছে। এসব সুবিধা যেমন জনপ্রিয়তা বাড়াচ্ছে, তেমনি আমরাও এ জনপ্রিয়তা ধরে রাখার জন্য আমাদের কার্ড সার্ভিসকে ক্রমাগত উন্নত করে যাচ্ছি। সম্প্রতি আমরা মাল্টি-কারেন্সি ভিসা ডেবিট কার্ড চালু করেছি। গ্রাহকদের সেবা নিশ্চিত করার জন্য আমাদের ২৪/৭ কাস্টমার কেয়ার রয়েছে। খুব শিগগিরই আমরা কাস্টমার সেলফ সার্ভিস পোর্টাল নামে একটি অনলাইনভিত্তিক সেবা চালু করতে যাচ্ছি, যার মাধ্যমে গ্রাহক ঘরে বসেই বিভিন্ন ধরনের সেবা নিতে পারবেন।

আমাদের ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ডের স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যগুলোর মধ্যে রয়েছে বছরে মাত্র ১২টি লেনদেনে বার্ষিক ফি মওকুফের সুবিধা। তিনটি রেট-বেসড ইএমআই সুবিধা—ইন্সটাক্রেডিট, ইজিবাই ও নো বার্ডেন আউটস্ট্যান্ডিং। মাসিক মিনিমাম পেমেন্ট মাত্র ৩ শতাংশ। ৪০ লাখ টাকা পর্যন্ত বীমা সুবিধা। সিলেক্টেড গ্রোসারি শপগুলোয় পাঁচ গুণ, ফার্মেসিতে তিন গুণ ও ফুয়েল স্টেশনে দুই গুণ প্রিভিলেজ পয়েন্টস। বছরব্যাপী উৎসবভিত্তিক ক্যাশব্যাক অফার তো রয়েছেই। 

কার্ডের সংখ্যা বাড়াতে খুব শিগগিরই আমরা আমাদের উইমেন ব্যাংকিং ‘পরমা’র আওতায় ডেবিট, ক্রেডিট ও প্রিপেইড কার্ড এবং আমাদের ইসলামিক ব্যাংকিং—এনসিসি ইসলামিকের আওতায় ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ড চালু করতে যাচ্ছি। হজকে সামনে রেখে আমরা হজ প্রিপেইড কার্ড চালু করতে যাচ্ছি। ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে চালু করা হচ্ছে এসএমই ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ড। আমাদের পরিকল্পনার মধ্যে আরো রয়েছে ভার্চুয়াল কার্ড, মাস্টারকার্ড, লাউঞ্জ কী ইত্যাদি চালু করা। 

গ্রাহকদের বিভিন্ন চাহিদার কথা মাথায় রেখে পবিত্র রমজান এবং ঈদুল ফিতর উপলক্ষে বিভিন্ন সেগমেন্টে ক্যাশব্যাক এবং মূল্যছাড়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সেগমেন্ট গুলো হচ্ছে—লাইফস্টাইল, রেস্টুরেন্ট, অনলাইন ফুড ডেলিভারি, বিউটি ও হেলথ কেয়ার, ইলেকট্রনিকস, ফার্নিচার, গ্রোসারি, বিনোদন এবং ট্রাভেল। এছাড়া ৩৫টির বেশি স্বনামধন্য হোটেলে ও রেস্টুরেন্টে ইফতার এবং সাহ্‌রি বুফেতে থাকছে বাই ওয়ান গেট ওয়ান ফ্রি সুবিধা।