কেনাকাটায় নগদ লেনদেন অনেক ঝামেলাপূর্ণ; বিশেষ করে ঈদবাজারে অর্থ বহনে রয়েছে বড় ঝুঁকি। ইলেকট্রিক ও ফার্নিচার পণ্যসহ বড় অংক পরিশোধে কার্ডভিত্তিক পেমেন্টকে অগ্রাধিকার দেয়া হয়। ক্রেডিট কার্ডে বিল পরিশোধে আর্থিক জবাবদিহিতা নিশ্চিতের পাশাপাশি গ্রাহক ইএমআই (ইকুয়েটেড মান্থলি ইনস্টলমেন্ট) ও ডিসকাউন্ট পেয়ে থাকে। ফলে ক্রেডিট কার্ডের ব্যবহার দিন দিন বেড়েই চলেছে।
চতুর্থ প্রজন্মের ব্যাংক হিসেবে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এসবিএসি ব্যাংক ডিজিটাল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসকে সর্বাধিক প্রাধান্য দিয়ে আসছে। তারই ধারাবাহিকতায় আমরা এটিএম, সিডিএম, ডেবিট-ক্রেডিট কার্ড ও ডিজিটাল ওয়ালেট সেবা ‘বাংলাপে’-এর মাধ্যমে গ্রাহকদের ডিজিটাল সেবা দিয়ে আসছি। ব্যাংকগুলোয় ক্রেডিট কার্ডে যেসব বৈশিষ্ট্য রয়েছে, সেগুলো আমাদেরও আছে। প্রকৃত পক্ষে সব ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ডের ফিচার কাছাকাছি; পার্থক্যটা মূলত সেবা, পরিধি ও আন্তরিকতায়। এসবিএসি ব্যাংকের কার্ডের যেসব সুযোগ-সুবিধা রয়েছে, তাহলো নির্দিষ্ট শপ থেকে ইনস্টলমেন্টে (কিস্তি) কেনাকাটা, বিশেষ ডিসকাউন্ট, ক্রয়কৃত পণ্যের মূল্য কিস্তিতে পরিশোধ ইত্যাদি। এগুলো লয়্যালটি প্রোগ্রামের আওতায়। তাছাড়া দেশের বাইরে গিয়ে শপিং, হোটেল বুকিং, এয়ারলাইন টিকিট পার্সেজ, ই-কমার্স ট্রানজাকশন—সবই করা যায় এ কার্ডে।
আমাদের কার্ডের বিশেষ একটা ফিচার আছে; যেটা অন্যদের চেয়ে একটু আলাদা। আর সেটা হলো ক্রেডিট কার্ডে যে ব্যালান্স আছে সেটা ফান্ড ট্রান্সফার করে কার্ড চেক অথবা ই-মেইল রিকোস্টের মাধ্যমে অ্যাকাউন্টে ট্রান্সফার করে উপভোগ করতে পারবেন। সেক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৪৫ দিনের জন্য সুদমুক্ত সুবিধা পাওয়া যাবে। এ সুবিধায় একটা প্রসেসিং ফি আছে। সাধারণত অধিকাংশ ব্যাংক এ সুবিধা দিতে ১ দশমিক ৫০ শতাংশ চার্জ নিলেও আমরা একেবারে সর্বনিম্ন ভ্যাটসহ ১ শতাংশ হারে নিয়ে থাকি। মূলত এ সুবিধা থাকায় এসবিএসি ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ডের সংখ্যা গত ছয় মাসে ২৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
নগদ অর্থের ব্যবহার কমাতে ক্যাশলেস সোসাইটি গড়তে নানামুখী উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বিগত এক যুগ ধরে অন্তর্ভুক্তিকরণের নীতি গ্রহণ করেছে আর্থিক ব্যবস্থা। এরই ধারাবাহিকতায় দেশের ব্যাংক খাতে পরিশোধ ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন সাধিত হয়েছে। একটা সময় রিয়াল টাইম লেনদেনের বিষয়টি ভাবাই যেত না। এখন যেকোনো ব্যাংকের অ্যাকাউন্টে টাকা স্থানান্তর করা যাচ্ছে মুহূর্তে। এর পরই মোবাইল ব্যাংকিং সেবা আমাদের দৈনন্দিন লেনদেনকে আরো সহজ করে দিয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি আমরা ক্যাশলেস সোসাইটিতে যাত্রা করেছি। এসব কিছু সম্ভব হয়েছে লেনদেনে আধুনিকায়নের ফলে। এখানে অন্যতম ভূমিকা রেখেছে ক্রেডিট কার্ড। গত দুই দশক কার্ডভিত্তিক লেনদেন একটা জায়গা করে নিয়েছে। ডিজিটাল ফাইন্যান্সিয়াল ইনক্লুশন যেটা এখন চলছে সেটায় ব্যাংকগুলো কিন্তু কার্ডের মাধ্যমে ডিজিটালে এসেছে। কার্ড আগেও ছিল, ভবিষ্যতেও থাকবে। তবে হ্যাঁ, এখন যেমন প্লাস্টিকের কার্ড, সামনে হয়তো সেটা থাকবে না। পরিবর্তন হবে। তবে কার্ডের যে কনসেপ্টটা সেটা থেকে যাবে। এখন বিকাশ, নগদ বা রকেট আছে। কিন্তু সেটা ডেবিট বেইজড। মানে অ্যাকাউন্টে টাকা থাকতে হবে। কিন্তু আমরা ক্রেডিট বেইজড। মানুষ কিন্তু নগদ টাকা খরচ করতে চায় কম। যদি তাকে একটা ক্রেডিট লাইন দেন তাহলে সে খরচ করবে। এখন এ ক্রেডিট কার্ড ফিচারটাকে যদি ফুল ডিজিটালে নিয়ে যায়, মানে প্লাস্টিকের কার্ডের বদলে ফুল ওয়ালেটে চলে যাবে। তখন ফিচারটা আরো বাড়বে। মানুষের ব্যবহারও বাড়বে।
ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারে অবশ্য গ্রাহকের সচেতনতা জরুরি। সীমার মধ্যে খরচ করলে, কেনাকাটা করলে মাস শেষে বেতন পেয়ে দিয়ে দিতে হবে। এখন হয়তো ইন্টারেস্ট নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। হ্যাঁ, সাধারণত আমরা ব্যাংক থেকে যে লোন নিয়ে থাকি সেটার চেয়ে এটার সুদ একটু বেশি। কিন্তু ইন্টারেস্ট হাই কেন? সেটার কারণ সুদ ছাড়া ৪৫ দিনের যে সুবিধাটা দিলাম এটার জন্য তো ফান্ডের একটা কস্ট আছে। অনেক কাস্টমার আছেন যারা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে টাকা পরিশোধ করে দেন। ব্যাংক কিন্তু তাদের কাছ থেকে কোনো আয় করতে পারে না। আবার ব্যাংকারদের জায়গা থেকে দেখলে ক্রেডিট কার্ড একটা অনিরাপদ প্রডাক্ট। এখানে টাকা রিকভারি না হওয়ার একটা ঝুঁকি থাকে। যেহেতু কোনো জামানত নেয়া হয় না সেহেতু অনেক সময় টাকাগুলো অনাদায় থেকে যায়। এতে ব্যাংক লস করে। সে কারণেই সুদটা একটু বেশি নেয়া হয়।
প্রযুক্তি প্রসারের সঙ্গে সঙ্গে নিরাপত্তার ইস্যুটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সে বিষয়টি সর্বোচ্চ বিবেচনায় নিয়ে আমরা শুরু থেকে সর্বাধিক সুরক্ষা নিশ্চিতকরণে ইএমভি প্রযুক্তির ‘চিপ’ কার্ড গ্রাহকদের দিচ্ছি। কার্ড ট্রানজেকশনে মাল্টিফেক্টর অথেনটিকেশনসহ (বহু স্তরবিশিষ্ট নিশ্চিতকরণ ব্যবস্থা) ই-কমার্স ট্রানজেকশনে ওয়ান টাইম পাসওয়ার্ড (ওটিপি) ব্যবহার করে আসছি। উপরন্তু প্রতিটি লেনদেনে গ্রাহকদের এসএমএস ও ই-এলার্ট (ই-মেইল) নোটিফিকেশনের মাধ্যমে জানিয়ে দেয়া হয়, যাতে করে গ্রাহক লেনদেনে যথার্থতা নিশ্চিতকরণের পাশাপাশি জালজালিয়াতি থেকে রক্ষা পাচ্ছেন। এখন ধরুন, কেউ ট্রানজেকশন করেননি কিন্তু তিনি একটি ট্রানজেকশন এসএমএস পেলেন, তাহলে বুঝতে হবে এটি একটি ফ্রড ট্রানজেকশন। সেক্ষেত্রে তিনি সতর্ক থাকবেন এবং ব্যাংককে তাৎক্ষণিক অবহিত করবেন, আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব। এজন্য আমরা ২৪/৭ কল সেন্টার (১৬৩২৭) স্থাপন করেছি।





