২০২৪-২৫ অর্থবছরের বাজেটে ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রত্যাশা নিয়ে বণিক বার্তার সঙ্গে কথা বলেছেন আইপিডিসি ফাইন্যান্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রিজওয়ান দাউদ সামস

আগামী ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বাজেটে ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রত্যাশা কী? 

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মধ্যে একটি বড় উদ্বেগের বিষয় হলো নন-পারফর্মিং লোন (NPLs) বৃদ্ধি। ফলে পরিচালন ব্যয় বাড়ে এবং ঋণের ক্ষুধা কমে, যা ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগে প্রভাব ফেলে। এ সমস্যা প্রতিকারের লক্ষ্যে বার্ষিক বাজেটে নির্দেশনা দেয়ার প্রয়োজন। বিশেষ করে তারল্য সংকটের মধ্যে এ খাতে ব্যাংক এবং নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তহবিল বাড়ানোকে উৎসাহিত করতে পেনশন স্কিম ব্যতীত অন্য সঞ্চয় অ্যাকাউন্টগুলোর জন্যও প্রত্যক্ষ কর প্রণোদনা বাড়ানো যেতে পারে। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ ব্যাংকের পলিসি রেটের সাম্প্রতিক বৃদ্ধি অর্থপ্রবাহকে আরো সংযত করবে। কিন্তু মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও তারল্য ব্যবস্থাপনার মধ্যে একটি সূক্ষ্ম ভারসাম্য প্রয়োজন। তারল্য সংকট কিছুটা কমানো যেতে পারে যদি পুঁজিবাজারে বন্ড ও সিকিউরিটিতে বিনিয়োগকে উৎসাহিত করা যায়।

সাবসিডিয়ারি কোম্পানির মাধ্যমে এনবিএফআইগুলো পুঁজিবাজারভিত্তিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এক্ষেত্রে আপনারা বাজেটে কোনো করছাড় প্রত্যাশা করছেন কি?

আর্থিক শিল্পে তারল্য সংকট নিরসনে বিনিয়োগের প্রবাহ নিশ্চিত করার জন্য আরো প্রাণবন্ত ও সক্রিয় করপোরেট বন্ডের বাজার গড়ে তোলা যেতে পারে। ব্যাংক ও এনবিএফআই আরো উৎসাহিত হবে যদি জিরো কুপন বন্ড ইস্যু করমুক্ত করা হয়।

বাজেটে অপ্রদর্শিত অর্থ বৈধ করার সুযোগ চান কি? কোন খাতে এ সুযোগ দেয়া হলে অর্থনীতির জন্য ভালো হবে বলে মনে করেন?

অর্থনীতিতে তারল্যের সঞ্চালন নিশ্চিত করার জন্য এ-জাতীয় নীতিগুলো সাধারণত বেশির ভাগ অর্থনীতিতে প্রয়োগ করা হয়, যা অন্যথায় দেশের বাইরে চলে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। অর্থনীতিতে চলমান তারল্য সংকট বিবেচনায় জমি ও রিয়েল এস্টেট ছাড়াও ব্যাংক ও পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের মাধ্যমে অপ্রকাশিত আয় ও সম্পদকে বৈধ করার বিধান অব্যাহত রাখা সমীচীন হবে।

এনবিএফআই খাতে সরকারের পক্ষ থেকে কী ধরনের পরিবর্তন বা উন্নয়ন করলে জাতীয় রাজস্বে আপনাদের অবদান বাড়বে বলে মনে করেন?

এরই মধ্যে উৎসে কর কম কর্তনের জন্য কর রিটার্নের প্রমাণ দাখিল বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। আমি বিশ্বাস করি, এটি রাজস্ব আদায়কে গতিশীল করবে এবং আমরা অদূর ভবিষ্যতে এর প্রভাব প্রত্যক্ষ করব।

খেলাপিদের বিষয়ে এবারের বাজেটে কোনো নীতিগত সিদ্ধান্ত প্রত্যাশা করেন কিনা?

দেশের আর্থিক শিল্পের ক্রমবর্ধমান এনপিএল প্রতিকারের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক একীভূতকরণ ও অধিগ্রহণসহ বেশ কয়েকটি নির্দেশিকা পেশ করেছে। বার্ষিক বাজেটে এনপিএলের কারণে মূলধন পর্যাপ্ততা চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন ব্যাংকগুলোর পুনঃপুঁজিকরণের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংককে নির্দেশ দিতে পারে। এতে সমস্যাগ্রস্ত ব্যাংকগুলোয় অতিরিক্ত মূলধন প্রবেশ করানো বা তাদের আর্থিক অবস্থানকে শক্তিশালী করার জন্য একীভূতকরণ ও অধিগ্রহণের সুবিধা অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।