বিপুল পর্যটন সম্ভাবনাময় একটি দেশ বাংলাদেশ। এ দেশের প্রতিটি অঞ্চলের রয়েছে আলাদা সৌন্দর্য। নয়নাভিরাম প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, সমৃদ্ধ ইতিহাস, বৈচিত্র্যপূর্ণ সংস্কৃতি আমাদের দেশকে পরিণত করেছে একটি বহুমাত্রিক আকর্ষণসমৃদ্ধ অনন্য পর্যটন গন্তব্যে। পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট সুন্দরবন, পৃথিবীর দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত কক্সবাজার, পার্বত্য চট্টগ্রামের অকৃত্রিম সৌন্দর্য, সিলেটের সবুজ অরণ্যসহ আরো অনেক প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি, বাংলাদেশের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, ঐতিহাসিক এবং প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান শুধু দেশীয় নয় বিদেশী পর্যটক ও দর্শনার্থীদের কাছেও সমান জনপ্রিয় এবং সমাদৃত। তাই পর্যটন শিল্প বিকাশের অবারিত সুযোগ রয়েছে এখানে।

বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের আওতায় পর্যটন খাতের ৩১৫ দশমিক ৮৪ কোটি টাকা ব্যয়ে ৯টি চলমান উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে কক্সবাজার, পটুয়াখালী, বরিশাল, কুমিল্লা, সিলেট, শেরপুর, নাটোর, নেত্রকোনা, রংপুর, দিনাজপুর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নোয়াখালী, পঞ্চগড়, রাজশাহী, সিরাজগঞ্জ, বাগেরহাট ও গাজীপুর জেলায় পর্যটন সুবিধাদি প্রবর্তন এবং উন্নয়ন করা হয়েছে। এছাড়া কক্সবাজার, বরিশাল, খুলনা, পটুয়াখালী, রাজশাহী, বান্দরবান, জামালপুর, শেরপুর, কুমিল্লা, রংপুর, গোপালগঞ্জ ও ঢাকা জেলায় পর্যটন বিকাশের লক্ষ্যে পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়া পদ্মা সেতুকে কেন্দ্র করে মুন্সিগঞ্জ, ফরিদপুর ও শরীয়তপুরেও পর্যটন সুবিধাদি সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।

দেশের অন্যতম সম্ভাবনাময় খাত পর্যটন শিল্প। কভিডে অনেকটাই মুখ থুবড়ে পড়েছিল এ খাত। সে ক্ষত সেরে উঠছে ধীরে ধীরে। আসছে বাজেটে পর্যটন খাতসংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা এবং এ শিল্পের বিকাশে করণীয় নানা দিক নিয়ে বণিক বার্তার সঙ্গে কথা বলেছেন ব্লু প্লানেট গ্রুপের চেয়ারম্যান এবং দ্য প্যালেস ল্যাক্সারি রিসোর্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আরিফুর রহমান। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন আল ফাতাহ মামুন


বাংলাদেশে পর্যটন খাতের বিকাশে প্রধান প্রতিবন্ধকতা কি?

বাংলাদেশে পর্যটন শিল্প খুব ভালোভাবে বিকাশ করবে। কারণ দেশজ অর্থনীতি যত শক্তিশালী হবে, দেশের লোকজনের মুভমেন্ট তত বাড়বে। এটা হলো একটা পয়েন্ট। আরেকটা পয়েন্ট, বিদেশী পর্যটক কীভাবে আমরা এখানে আনব? তাদের আকর্ষণ বাড়াব কীভাবে? বিদেশী পর্যটক আকর্ষণে সমস্যা হলো, আমরা তো মুসলিম সমাজ, ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে আমাদের অনেক সীমাবদ্ধতা আছে কিন্তু যে পর্যটক বিদেশে থেকে আমার দেশে এসেছেন তিনি তো আমার ধর্মের না, তিনি অন্য ধর্মের। তার ধর্মে অনেক কিছু এলাও করে যেটা আমার ধর্মে করে না। এ দুটির মধ্যে একটা ব্যালান্স করতে হবে, যে ব্যালান্সটা আমরা এখনো করতে পারছি না। দুবাইয়ের কথা যদি বলি, যারা পর্যটক ডাকছে, কাতার ওয়ার্ল্ড কাপের সময় দোহায় যেটা দেখাতে পেরেছে বিশ্বকে কিংবা সৌদি আরবের কথা যদি বলেন, হ্যাঁ মক্কা মদিনা ব্যতিক্রম—এটা ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক স্থান, সেটা নিয়ে কোনো কথা নেই। কিন্তু এর বাইরে বিভিন্ন স্টেট নিচ্ছে। নিজেদের জনগণের জন্য একটা আইন—তুমি যদি মুসলমান হও তাহলে তোমার জন্য এক আইন, আর যদি অমুসলিম হও তাহলে অন্য আইন। এমনকি মালয়েশিয়ায় দেখবেন রমজান মাসে বলে দেয়া হয় পর্যটকের জন্য খাওয়া-দাওয়া রেস্টুরেন্ট সব এলাও। যদি তুমি মুসলমান হও তাহলে নট এলাও। ফলে বিদেশী যে পর্যটক সে এসে কোনো অসুবিধায় পড়ছে না। সে কমফোর্টের সঙ্গে চলাফেরা করতে পারছে। এটাকে যদি আপনি একটা প্র্যাকটিসে আনতে না পারেন, শুধু আইন করে এটা হবে না। এখন আমাদের দেশে যে বিদেশী পর্যটক আসবে, তাকে যদি বলেন তোমার সব এনজয়ের পথ বন্ধ, বিকজ এটা আমার প্র্যাকটিস, তখন হয় কি তার জন্য তো এটা প্র্যাকটিস না, আমার জন্য এটা প্র্যাকটিস। আপনি বলতে পারেন সম্মান প্রদর্শন করতে হবে, সম্মান প্রদর্শনের কথা বললে সম্মান প্রদর্শন করে সে যেটা করবে সে আর আসবেই না।  সে এভোয়েড করবে। আমার মনে হয় সেটা আমাদের জন্য আরো খারাপ বা আরো ভয়ঙ্কর। এই যে এই মানসিকতাটা এটা বদলানো সবার আগে প্রয়োজন।   

এটাই কি প্রধান প্রতিবন্ধকতা বলছেন না অন্য কিছুও যোগ করবেন?

আপনাকে মাথায় রাখতে হবে, এ বিষয়টা যখন ধীরে ধীরে গ্রো করবে বা এই গোড়ামিটা কেটে যাবে তখনই কিন্তু পর্যটকের সংখ্যা অনেক বেড়ে যাবে। আমাদের দেশেরই তো এক কোটি লোক বাইরে থাকে। তারা তাদের বন্ধু-বান্ধব আত্মীয়স্বজনকে বলবে কিংবা তাদের নেক্সট জেনারেশনকে বলবে আমাদের দেশে এই আছে, সেই আছে, চলো দেশটা দেখে আসি। থাইল্যান্ড একটা ট্যুরিজম বেস্ট কান্ট্রি। সেখানে কিন্তু দেশের বাইরে থেকে যেমন অনেক মানুষ আসছে, আবার দেশের মানুষও ঘুরে বেড়ায়। এজন্য ইকোনমি একটা বড় ফ্যাক্টর। থাইল্যান্ডের লোকজন দেখবেন দেশের বাইরে কম যায়। মে কাম ব্যাক টু হোম। তারা হয়তোবা কাজের জন্য যায়, তারা চাকরির জন্য যায়, কিন্তু তারা আবার দেশে ফিরে আসে। মালয়েশিয়ানরাও কম যায়। কেন? কারণ ও ধরে নেয় যে ওর সব সুবিধা দেশেই বিদ্যমান আছে। তো আমাদের সে সুবিধাগুলো নিশ্চিত করতে হবে। যখন আপনি সব ক্ষেত্রে সুবিধা নিশ্চিত করতে পারবেন, তখন অটোমেটিক তার প্রভাব পর্যটন খাতেও পড়বে।

সুবিধা বলতে আপনি কী কী বোঝাচ্ছেন?

সব ধরনের সুবিধাই বোঝাচ্ছি। আপনার মানসিকতায় থাকতে হবে আমি একজন পর্যটককে সম্মান জানাব। তাকে আমি ওয়েলকাম করব। আমাদের একটা ধারণা আছে, আমাদের দেশে যে টাকায় ভ্রমণ করা যায়, বাইরের দেশে তার চেয়ে বেশি টাকায় ভ্রমণ করা যায়। এই চিন্তা থেকে আমাদের সরে আসতে হবে। অবশ্যই করা যায়। কিন্তু আমরা বোধহয় অনেক কিছু কাউন্ট করি না। আমরা শুধু যাওয়া-আসার টিকিটটা কাউন্ট করছি। ওখানে গিয়ে আমরা কতগুলো ডলার দিয়ে আসছি, সেটাকে যখন আপনি বাংলা টাকায় কনভার্ট করবেন, আমার মনে হয় না যে, আমাদের চেয়ে তাদের অনেক ফাঁরাক রয়েছে। আরেকটা জিনিস আছে, আমাদের কাছে মনে হয় একই সুবিধা পাওয়ার পরও আমার তো আসলে বিদেশ যাওয়া হলো না। আমাকে বিদেশ যেতে হবে। সেটা তো একটা ফ্যাক্টর। এ প্লাস-মাইনাস নিয়েই চলতে হবে। আমার কাছে মনে হয়, সামাজিকভাবে যে গ্রুম আপ, সেটাই আমাদের বড় প্রতিবন্ধকতা।

পর্যটন খাতে ব্যাংক ঋণ ও মূলধন জোগানের সুযোগ রয়েছে কি? পর্যটননির্ভর অন্যান্য দেশের সঙ্গে তুলনায় বাংলাদেশে ব্যাংক ঋণ ও মূলধন জোগানের চিত্রটি কেমন?

আমার কাছে মনে হয়, পর্যটন অলওয়েজ স্লো প্রডাক্ট। হসপিটালিটি ওয়ার্ল্ডওয়াইড স্লো প্রডাক্ট। কিন্তু হসপিটালিটি লং টাইম সাসটেইনেবল প্রডাক্ট। আপনি আজ একটা ফ্যাক্টরি করলেন, লেটস সে, আজ আমি একটা বিস্কুটের ফ্যাক্টরি করলাম বা একটা মোবাইলের ফ্যাক্টরি করলাম, একসময় আমরা বাটন ফোন ইউজ করেছি, এখন স্মার্ট ফোন ইউজ করছি। সামনে হয়তো আরো উন্নত প্রযুক্তি আসবে। এটার প্রযুক্তির অদল-বদল হয়। কিন্তু হসপিটালিটি সেক্টরে দেখবেন প্রযুক্তির অদল-বদল খুব কমই হয়। সেই প্রকৃতি দেখতে যায়, রুমে থাকে, সুইমিংপুলে সাঁতার কাটে, সিনেমা দেখে। সেখানে অদল-বদল কম হয়। এটা একটা সাসটেইনেবল প্রজেক্ট। সেখানে অদল-বদল কম হয়। বাট এটা একটা লং টার্মের বিনিয়োগ। লম্বা সময়ের বিনিয়োগ। সেখানে ব্যাংকিং কিছু ফ্যাসিলিটি দিতে হবে। কিন্তু আমাদের দেশে লম্বা সময়ের জন্য বিনিয়োগ ব্যাংকের জন্য কঠিন। ব্যাংক তো স্বল্পমেয়াদে সব আমানত আনে। বাট আবার এটা দীর্ঘ মেয়াদে না পেলে লাভ হবে না। তার সঙ্গে যোগ হয় কনস্ট্রাকশন পিরিয়ড যেটা থাকে, সেটার সঙ্গে পুরো সুদ কাউন্ট হয়। অনেক সময় দেখা যায়, একটা হোটেল বানাতে দুই-আড়াই-তিন বছর লেগে গেছে। তো আপনি পুরো টাকাটা নিলেন ব্যাংক থেকে, তিন বছর পরে দ্বিগুণ না হলেও কাছাকাছি চলে যাচ্ছে পুরো প্রজেক্টের কস্টটা। তারপর আপনি ওটা পে ব্যাক শুরু করলেন। তখন শুরুতেই একটা বড় ধাক্কা হয়ে যায়। আর বন্ড মার্কেটে যে সুবিধা সেটা আমাদের দেশে ধীরে ধীরে গ্রো করছে। আমার ধারণা, সিকিউরিটি এক্সচেঞ্জ কমিশন খুব ভালো উদ্যোগ নিচ্ছে। এর মধ্যে খুব ভালো নামকরা কয়েকটি হোটেল, রিসোর্ট এসেছে শেয়ারবাজারে। আমরাও চিন্তা করছি আমাদের গ্রিন প্লানেট রিসোর্ট লিমিটেড, যেটা অপারেটেড বাই দি প্যালেস লাক্সারি রিসোর্ট, সেটাকে নিয়ে আসার আমরাও চেষ্টা করব। আমরা অলরেডি এসইসির সঙ্গে কথা বলছি। এসইসির সম্মানীত চেয়ারম্যানও খুব আগ্রহ দেখিয়েছেন কীভাবে এটাকে শেয়ারবাজারে নিয়ে আসা যায়।

এক্ষেত্রে ব্যাংক ঋণের কোনো সুযোগ আছে কিনা?

ব্যাংক ঋণ তো ক্লায়েন্ট আর ব্যাংকের রিলেশনের ওপর ডিপেন্ড করে। আপনি ব্যাংক ঋণ নেবেন, দেখা যাচ্ছে একজনের ওপর ব্যাংক রিলেই করছে, আরেকজনের ওপর রিলেই করছে না। এটা খুবই আপেক্ষিক। তাছাড়া ব্যাংকে এখন সুদহার ধীরে ধীরে বাড়ছে। সেক্ষেত্রে আমার মনে হয় শেয়ারবাজার গুড অপশন।

বহির্বিশ্বে এক্ষেত্রে কী চর্চা হচ্ছে?

বহির্বিশ্বে দুই ধরনের চর্চা দেখা যায়। ওদের অনেক হ্যাচ ফান্ডিং আছে। ওরা ইকুইটিটা সেভাবে পায়। আর অনেকগুলো দেশে আমার জানা মতে আমাদের পাশেই ট্যুরিজম কান্ট্রি মালদ্বীপ, ব্যাংকক, মালয়েশিয়া, এসব জায়গায় ট্যুরিজমের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে আলাদা ফান্ড আছে। যে ফান্ড তারা রিসাইকেল বেসিসে ব্যবহার করতে পারে। আমাদের দেশেও সে রকম কিছু চিন্তা করা যেতে পারে। লং টার্মের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক হয়তো একটা ফান্ড করে দিতে পারে। অনেক ক্ষেত্রেই করেছে। হোটেল-রেস্তোরাঁর জন্য একটা করা যেতে পারে। এক্ষেত্রে ক্রাইটেরিয়া নির্ধারণ করে দেয়া যেতে পারে, আমি রেস্তোরাঁয় দেব না, ফাইভ স্টার হতে হবে, ফোর স্টার হতে হবে। ঢাকার বাইরে হতে হবে। তাহলে এ এই সুবিধা পাওয়া যাবে। সেক্ষেত্রে ঢাকার বাইরে আরো অনেক ট্যুরিজমের জায়গা ডেভেলপ করবে।

পর্যটন খাতকে এগিয়ে নিতে বাজেটে আপনাদের প্রত্যাশা কী?

বাজেটে আমার প্রত্যাশা একটাই। একটু আগেই যেটা বললাম, বাংলাদেশ ব্যাংক আছে। গভর্নর বা যারা নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আছেন, তারা যদি একটু ভাবেন, সিনেমা হলের জন্য যদি একটা ফান্ড করা যায়, টেক্সটাইলের জন্য যদি একটা ফান্ড করা যায়, তাহলে ঢাকার বাইরে বা জেলা শহরের বাইরে নতুন জায়গায় ট্যুরিজন শিল্প বিকাশের লক্ষ্যে কেন আলাদা একটি ফান্ড করা যাবে না। এটা স্বল্প সুদে লম্বা সময়ের জন্য হতে হবে। এছাড়া হবে না। তো বাজেটে যদি এ বিষয়টা নিয়ে আসা হয় আমার মনে হয় পর্যটন ব্যবসায়ীরা উপকৃত হবেন।  

পর্যটন খাতের জন্য পরিকল্পিত অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা এ খাতে বিনিয়োগ আকর্ষণে কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আপনি মনে করেন?

এটা তো সাবরাংয়ে করা হয়েছে। যেটা আসলে টেকনাফের পরে, মিয়ানমারের কাছে। মিয়ানমারে এখন খুব অস্থিরতা চলছে। কক্সবাজার, উখিয়া ও টেকনাফে বিশালসংখ্যক রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী আছে। যারা আমাদের জনগণ না। তো যতক্ষণ পর্যন্ত এই অস্থিরতা না কমবে  ততক্ষণ পর্যন্ত বিনিয়োগকারী কতটা উৎসাহী হবেন আমি সেটা নিয়ে সন্দিহান। 

চলমান অর্থবছরের বাজেটে পর্যটন খাতের জন্য সরকার বিশেষ কিছু ঘোষণা ছিল?

চলমান বাজেটে আমাদের জন্য কোনো ঘোষণা ছিল না।

নতুন নতুন পর্যটক আকর্ষণে সরকারি ও বেসরকারি খাতের করণীয় কি?

বেসরকারি খাতের লোকজন স্বপ্ন দেখতে পারে। নতুন নতুন প্রজেক্ট বানাতে পারে। আর সরকারের দিক থেকে দুটো জিনিস করণীয়। একটা হচ্ছে, স্বল্প সুদে দীর্ঘমেয়াদি ঋণ দেয়া যেতে পারে। আর দ্বিতীয় হচ্ছে, নীতিগত সহায়তা দেয়া যেতে পারে। এর বাইরে আসলে সরকারের খুব বেশি কিছু করার নেই। আরেকটা বিষয় হলো, শিক্ষা ব্যবস্থার পর্যটন খাত নিয়ে পাঠদান করতে হবে। সামাজিক সচেতনতা বাড়াতে হবে।

বিদ্যমান পর্যটন ক্ষেত্র রক্ষণাবেক্ষণ ও নতুন পর্যটন কেন্দ্রের বিকাশে কার্যকর পদক্ষেপগুলো কেমন হতে পারে?

আমাদের যে প্রত্নতাত্বিক নিদর্শনগুলো আছে সেগুলো ভালোভাবে সংরক্ষণ করতে হবে। আমরা প্রায়ই কাগজে পড়ি, কোনো বিশিষ্ট মানুষের বাড়ি দখল হয়ে যাচ্ছে, জন্মস্থান দখল হয়ে যাচ্ছে। পুরাকীর্তির ইট খুলে যাচ্ছে। এ জায়াগগুলো থেকে আমাদেরকেই বেরিয়ে আসতে হবে। আমাদের বুঝতে হবে এগুলো ঠিক থাকলে আমাদের ইকোনমি ঠিক থাকবে। ইকোনমি ঠিক থাকলে আমরাও ঠিক থাকব।