ফার্নিচারের বাজারকে আরো সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতামূলক মান ও মূল্যের ফার্নিচারের সরবরাহ নিশ্চিত করা আবশ্যক। বাজেটকে সামনে রেখে খাতটিকে ঘিরে বিনিয়োগকারীদের সমস্যা ও প্রত্যাশা নিয়ে কথা বলেছেন হাতিল কমপ্লেক্স লিমিটেডের চেয়ারম্যান ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর সেলিম এইচ রহমান

চলমান অর্থবছরের বাজেটে ফার্নিচার খাত নিয়ে প্রত্যাশার প্রতিফলন কেমন ছিল?

চলমান অর্থবছরের বাজেটে ফার্নিচার খাতের প্রত্যাশার প্রতিফলন ছিল না। শুধু বিগত বাজেট নয় কয়েক বছরের বাজেটে ফার্নিচার খাতের প্রত্যাশা ছিল আংশিক রফতানিমুখী শিল্প হিসেবে ফার্নিচার খাতে শতভাগ ব্যাংক গ্যারান্টির বিপরীতে শুল্ক বন্ড সুবিধা প্রদান, যা এখন পর্যন্ত বাস্তবায়ন করা হয়নি। এছাড়া রেগুলেটরি ডিউটি (আরডি), সাপ্লিমেন্টরি ডিউটি (এসডি) শূন্য/হ্রাস করার প্রত্যাশা ছিল। অ্যাডভান্স ইনকাম ট্যাক্স (এআইটি) হ্রাস করে ৩ শতাংশে নির্ধারণের দাবি করা হয়। যার কোনোটি পূরণ করা হয়নি।

ফার্নিচার খাতের বর্তমান প্রেক্ষাপটে সরকারের কাছ থেকে কী ধরনের নীতিসহায়তা আপনারা প্রত্যাশা করেন?

আংশিক রফতানিমুখী শিল্প হিসেবে ফার্নিচার খাতে শতভাগ ব্যাংক গ্যারান্টির বিপরীতে শুল্ক বন্ড সুবিধা প্রদান, রেগুলেটরি ডিউটি (আরডি) ও সাপ্লিমেন্টরি ডিউটি (এসডি) শূন্য/হ্রাসকরণ এবং অ্যাডভান্স ইনকাম ট্যাক্স (এআইটি) হ্রাস করে ৩ শতাংশে নির্ধারণের প্রত্যাশা করছি।

আগামী অর্থবছরের বাজেটে ফার্নিচার খাতের উল্লেখযোগ্য দাবি সম্পর্কে জানতে চাই

আগামী অর্থবছরের বাজেটে অনুচ্ছেদ ২-এ বর্ণিত তিনটি বিষয় বাস্তবায়নের দাবি জানাচ্ছি।

বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের ফার্নিচারের অবস্থান কীভাবে দেখছেন?

বিশ্বের রফতানি বাণিজ্যে বাংলাদেশের অবস্থান প্রায় ২ শতাংশ। বাংলাদেশ থেকে ২০২২-২৩ অর্থবছরে ফার্নিচার রফতানির পরিমাণ ৯৭ দশমিক ৬৭ মিলিয়ন ডলার, যা পূর্ববর্তী অর্থবছরের তুলনায় ১৭ দশমিক ৮৪ শতাংশ কম। ফার্নিচার খাত পুঁজি, প্রযুক্তি ও শ্রমঘন। খাতটির বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে বাংলাদেশের অবস্থা অত্যন্ত সংগতিপূর্ণ। এ হিসেবে খাতটি দেশের রফতানি বাণিজ্যে বস্ত্র খাতের ন্যায় একটি নির্ভরশীল পণ্য খাত হিসেবে আবির্ভূত হওয়ার সক্ষমতা রাখে। 

ফার্নিচার তৈরির কাঁচামাল কত ধরনের হতে পরে? সেগুলোর উৎস কী কী?

ফার্নিচার তৈরির মূল কাঁচামাল হচ্ছে ক. কাঠ, বোর্ড, প্লাইউড ইত্যাদি, খ. লেকার, গ. হার্ডওয়্যার, ঘ. ফ্যাব্রিকস, রেক্সিন, মাইক্রোফাইবার ইত্যাদি, ঙ. ফোম ও চ. গ্লাস। ফার্নিচার তৈরিতে এসব পণ্যের আওতায় হাজারো কাঁচামালের প্রয়োজন।

দেশের বাজারে মূল্যস্ফীতির এ সময়ে ফার্নিচারের চাহিদা কতটুকু?

প্রাক্কলন অনুযায়ী করোনা-পূর্ববর্তী সময়ে দেশে ফার্নিচারের চাহিদা ছিল ৩০ হাজার কোটি টাকা। কভিড-১৯, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ ও মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধজনিত কারণে মুদ্রাস্ফীতি ব্যাপক পরিমাণে বেড়েছে। যার কারণে ফার্নিচারের অভ্যন্তরীণ চাহিদা কমপক্ষে ২০ শতাংশ কমেছে। 

নিজের প্রয়োজন বুঝে ফার্নিচার কেনা এবং সঠিক প্রক্রিয়ায় সেটি ব্যবহার করার ক্ষেত্রে দেশীয় ভোক্তাদের প্রতি কী বার্তা দেবেন?

ফার্নিচারের দীর্ঘস্থায়ী মূলত নির্ভর করে কাঠের উপযুক্ত ট্রিটমেন্টের ওপর। ক্রেতারা ফার্নিচার ক্রয়ের ক্ষেত্রে এটি নিশ্চিত করতে পারলেই তা দীর্ঘদিন পর্যন্ত ব্যবহার উপযোগী থাকবে। এক্ষেত্রে অনেক কম দামি কাঠ থেকেও এ সুবিধা পাওয়া যেতে পারে। ক্রেতাসাধারণকে এ বিষয়ে গুরুত্ব দেয়া আবশ্যক।

ফার্নিচারের বাজারকে আরো সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে কী করণীয়?

ফার্নিচারের বাজারকে আরো সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতামূলক মান ও মূল্যের ফার্নিচারের সরবরাহ নিশ্চিত আবশ্যক। প্রতিযোগিতামূলক মূল্য নিশ্চিতের ক্ষেত্রে মূল প্রতিবন্ধকতা কাঁচামালের ওপর উচ্চ আমদানি শুল্ক। সরকার কর্তৃক উচ্চ আমদানি শুল্ক হ্রাস করে বিশেষভাবে আরডি ও এসডি শূন্যে আনা হলে ফার্নিচার সব ধরনের ক্রেতার ক্রয়সীমার নাগালের মধ্যে এসে পড়বে।

ফার্নিচার ব্যবসায়ের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতাগুলো কী কী?

ফার্নিচার ব্যবসায়ের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতাগুলো নিম্নরূপ

ক. কাঁচামালের উচ্চ আমদানি শুল্ক

খ. শ্রমিকদের উৎপাদনশীলতা কম

গ. সরকার কর্তৃক ফার্নিচারকে বিলাসদ্রব্য হিসেবে বিবেচনায় অব্যাহতভাবে কাঁচামালের আমদানি শুল্ক বৃদ্ধি

ঘ. মানসম্পন্ন পণ্যের সঙ্গে তুলনামূলক কম মানের মূল্যের অসম প্রতিযোগিতা

ঙ. ডিজাইন উন্নয়নে প্রাতিষ্ঠানিক অবকাঠামোর অভাব