দেশের আইটি ও আইটিইএস খাত দীর্ঘ সময় কর অব্যাহতি পেলেও সে কর অব্যাহতির মেয়াদ শেষ হচ্ছে চলতি বছর। আসন্ন ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বাজেটে নতুন করে কর অব্যাহতি, কর ব্যবস্থা, ইন্ডাস্ট্রির সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলেছেন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেসের (বেসিস) সভাপতি রাসেল টি আহমেদ। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন আরফিন শরিয়ত

বেসিসের সদস্যদের ভোটে নির্বাচিত হয়ে দায়িত্বে এসেছেন, এর আগেও দায়িত্বে ছিলেন। বেসিস ও আইসিটি ইন্ডাস্ট্রির সম্ভাবনা সম্পর্কে জানতে চাই।

বেসিস ও আইসিটি ইন্ডাস্ট্রির সম্ভাবনার বিচার চিন্তা করলে এ ইন্ডাস্ট্রির অনেক দূর যাওয়ার সক্ষমতা আছে। সেটা লোকাল মার্কেটে হোক বা ইন্টারন্যাশনাল মার্কেটে হোক, দুই জায়গাতেই। আমরা ডিজিটাল বাংলাদেশের পুরো জার্নিটা দেখেছি। ডিজিটাল বাংলাদেশের জার্নিতে বেসিস সদস্যদের ভূমিকা ছিল অনেক বেশি। আমরা যখন বলি ডিজিটাল গভর্ন্যান্স বা ই-গভর্ন্যান্সে যে কাজগুলো হয়েছে তার অধিকাংশ করেছে আমাদের বেসিস সদস্যরা। 

আমরা স্মার্ট বাংলাদেশের জার্নি শুরু করে দিয়েছি, স্মার্ট বাংলাদেশ মানে শুধু আইসিটি না। এর কৃষি, শিক্ষা, ব্যাংকিং, আরএমজিসহ প্রত্যেকটা খাতকে স্মার্ট হতে হবে। প্রত্যেকটা খাতকে স্মার্ট করতে আইসিটি ভূমিকা রাখবে। সেজন্য এ ইন্ডাস্ট্রির ভূমিকা অপরিসীম। যার কারণে আমরা থ্রি বাই থ্রি ফর্মুলার কথা বলেছিলাম। এর মাধ্যমে তিনটি অংশীজন একই সঙ্গে কাজ করবে। সেগুলো হচ্ছে সরকার, ইন্ডাস্ট্রি ও একাডেমিয়া। 

দেশে আইটি ও আইটিইএস খাতে কর অব্যাহতি এ বছর শেষ হচ্ছে। কর অব্যাহতি নিয়ে আপনাদের চিন্তা কী?

আমরা কর অব্যাহতি পেয়ে আসছি অনেক বছর। এটা এ বছর শেষ হয়ে যাচ্ছে। এটা নিয়ে আমরা কথা বলছি। এ অব্যাহতি ২০৩১ সাল পর্যন্ত চলমান রাখা দরকার। সরকার নিজেও চায় আমাদের অব্যাহতি ধরে রাখতে। ২০২৬ সালে এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন উপলক্ষে আইএমএফের একটি প্রেসক্রিপশন আছে। সেখানে একটি অংকের জটিলতা তৈরি হয়েছে। 

আইএমএফের পরামর্শ মেনে এ ইন্ডাস্ট্রির ওপর কর বসানো কোনোভাবেই উচিত হবে না। এ ইন্ডাস্ট্রিতে কর বসানো মানেই আমাদের দুই থেকে আড়াই হাজার সদস্যের জন্য না, এর মাধ্যমে পুরো ইকো-সিস্টেম ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সেজন্য আমি বলতে চাই, আইসিটিকে শুধু কর অব্যাহতি নয়, আরো প্রণোদনা দেয়া হোক। 

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) আইটি ও আইটিইএস খাতে কর অব্যাহতির বিষয়ে কী বলছে?

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড একটি জরিপ করেছে, সেখানে দেখানো হয়েছে এ ইন্ডাস্ট্রিতে টার্নওভার হয় ৫০ হাজার কোটি টাকা। যেটা আরএমজি খাতের কাছাকাছি। তার মানে আমাদের কর অব্যাহতির কারণে ৫ হাজার কোটি টাকার ট্যাক্স দিচ্ছি না। কিন্তু আমাদের এ ইন্ডাস্ট্রির রেভিনিউ হচ্ছে ২ হাজার কোটি টাকা। এটা এনবিআরের ভুল তথ্য। আমরা সেটা এনবিআরকে ধরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করেছি। দ্বিতীয়ত, আমাদের ইন্ডাস্ট্রির ওপর কর আরোপ করা হলে সেটা ২০০ কোটি টাকার বেশি হয় না। সরকারের মোট রাজস্ব আয়ের ১ শতাংশও না। কিন্তু এখানে যদি করের বোঝা চাপিয়ে দেয়া হয় তাহলে সবগুলো সম্ভাবনা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। 

কর সুবিধা বাতিল হলে রফতানিতে কোনো প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা আছে?

স্মার্ট বাংলাদেশ গড়তে হলে, বিভিন্ন প্রকল্পে সরকারের খরচ বাড়বে। খরচ বাড়লে এখানে দেশীয় কোম্পানির স্থলে বিদেশী কোম্পানিগুলো টার্গেট করবে। ফলে আমরা রফতানির বদলে আমদানির প্রতি ঝুঁকব। পুরো ইন্ডাস্ট্রিটাই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। 

আবার খরচ বেড়ে গেলে আমরা যাদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করি রফতানি করতে সেখানে আমরা প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়ব। ফলে ৫ বিলিয়নের টার্গেটও মুখ থুবড়ে পড়বে। ফলে সামগ্রিক দিক বিবেচনায় অর্থনীতিতে এর প্রভাব পড়বে সবচেয়ে বেশি। 

কর বিষয়ে এনবিআরের পরিকল্পনাকে কীভাবে মূল্যায়ন করবেন?

এনবিআর কখনো দীর্ঘমেয়াদি ভাবে না। এনবিআর সবসময় তার এক বছরের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে থাকে। এতে ইন্ডাস্ট্রির ওপর তার অনেক বড় প্রভাব পড়ে। সব খাতেই প্রভাব পড়ে। আমার ওপরে কর বসালে আমি কয় টাকা দেব তা ভাবে, আমি যেসব খাতকে বড় করব, সব খাত থেকে আয় হবে তা অনেক বেশি। সেটা নিয়ে এনবিআর ভাবে না।

সরকার ৫ বিলিয়ন ডলার রফতানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। কিন্তু সে লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে পারছে না কেন?

লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করলেই তা পূরণ হয়ে যায় না, তা বাস্তবায়ন করতে হয়। পরিকল্পনা গ্রহণের পর বিনিয়োগ নেয়া, মানবসম্পদ উন্নয়নের কাজ করতে হয়, তারপর আরো বড় পরিকল্পনা নিতে হয়। 

লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণের পর পরিকল্পনার অভাব ছিল। সে পরিকল্পনার একটি অংশ আমরা দিয়েছি থ্রি বাই থ্রি ফর্মুলা। 

পরিকল্পনার পর তা বাস্তবায়ন করতে হয়, এরপর মূল্যায়ন করতে হয়। কিন্তু আমাদের এখানে পরিকল্পনার পর তার বাস্তবায়ন আর মূল্যায়ন হয়নি।