বিপুল পর্যটন সম্ভাবনাময় একটি দেশ বাংলাদেশ। এ দেশের প্রতিটি অঞ্চলের রয়েছে আলাদা সৌন্দর্য। নয়নাভিরাম প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, সমৃদ্ধ ইতিহাস, বৈচিত্র্যপূর্ণ সংস্কৃতি আমাদের দেশকে পরিণত করেছে একটি বহুমাত্রিক আকর্ষণসমৃদ্ধ অনন্য পর্যটন গন্তব্যে। পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট সুন্দরবন, পৃথিবীর দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত কক্সবাজার, পার্বত্য চট্টগ্রামের অকৃত্রিম সৌন্দর্য, সিলেটের সবুজ অরণ্যসহ আরো অনেক প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি, বাংলাদেশের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, ঐতিহাসিক এবং প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান শুধু দেশীয় নয় বিদেশী পর্যটক ও দর্শনার্থীদের কাছেও সমান জনপ্রিয় এবং সমাদৃত। তাই পর্যটন শিল্প বিকাশের অবারিত সুযোগ রয়েছে এখানে।
বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের আওতায় পর্যটন খাতের ৩১৫ দশমিক ৮৪ কোটি টাকা ব্যয়ে ৯টি চলমান উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে কক্সবাজার, পটুয়াখালী, বরিশাল, কুমিল্লা, সিলেট, শেরপুর, নাটোর, নেত্রকোনা, রংপুর, দিনাজপুর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নোয়াখালী, পঞ্চগড়, রাজশাহী, সিরাজগঞ্জ, বাগেরহাট ও গাজীপুর জেলায় পর্যটন সুবিধাদি প্রবর্তন এবং উন্নয়ন করা হয়েছে। এছাড়া কক্সবাজার, বরিশাল, খুলনা, পটুয়াখালী, রাজশাহী, বান্দরবান, জামালপুর, শেরপুর, কুমিল্লা, রংপুর, গোপালগঞ্জ ও ঢাকা জেলায় পর্যটন বিকাশের লক্ষ্যে পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়া পদ্মা সেতুকে কেন্দ্র করে মুন্সিগঞ্জ, ফরিদপুর ও শরীয়তপুরেও পর্যটন সুবিধাদি সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।
তেলের দামে ভর্তুকি বা কর অব্যাহতির মতো বিষয়গুলো দিয়ে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটা দাম যদি নির্ধারণ করা সম্ভব হয়, তাহলে সামগ্রিকভাবে বাংলাদেশের এভিয়েশন খাত উপকৃত হবে বলে মনে করেন টাস গ্রুপ ও জিএসএ-এয়ার এশিয়ার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোরশেদুল আলম চাকলাদার
আগামী মাসে জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করা হবে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বাজেট। এ বাজেটকে ঘিরে আপনাদের প্রত্যাশা কী?
বাজেট আমাদের জীবনেরই একটি অংশ। আমাদের আকাশ পরিবহন খাত বলেন, কিংবা অন্য যেকোনো খাতের কথাই বলেন, বাজেটে সবার জন্য নতুন কিছু থাকে। বাজেটে অনেক অঙ্গীকার থাকে, সেগুলোর আলোকে আমরা ভবিষ্যৎ ব্যবসায়িক পরিকল্পনাগুলো করে থাকি। এভিয়েশন খাতে আমাদের অনেকগুলো চাওয়া আছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো জ্বালানি তেলের দাম। অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশে জেট ফুয়েলের দাম বেশি। এখানে যদি তেলের দামে ভর্তুকি বা কর অব্যাহতির মতো বিষয়গুলো দিয়ে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটা দাম নির্ধারণ করা সম্ভব হয়, তাহলে সামগ্রিকভাবে বাংলাদেশের আকাশ পরিবহন খাত উপকৃত হবে বলে আমি মনে করি। কারণ এ জেট ফুয়েলের দামের কারণে কিন্তু আমাদের টিকিটের দামে প্রভাব পড়ে। সরাসরি যাত্রীদের ওপর এর প্রভাব পড়ে। তাস গ্রুপ কোনো আকাশ পরিবহন সংস্থা নয়। আমরা জিএসএ (জেনারেল সেলস এজেন্ট) হিসেবে কাজ করি। তার পরও আমরা চাই, বাংলাদেশে উড়োজাহাজের ইঞ্জিন ও যন্ত্রাংশ আমদানিতে সহনীয় হারে শুল্ক-কর আরোপ করা হোক। এতে বাংলাদেশের আকাশ পরিবহন সংস্থাগুলো উপকৃত হবে, যা সামগ্রিকভাবে বাংলাদেশের আকাশ পরিবহন খাতকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাবে।
বাংলাদেশে বিভিন্ন বিদেশী আকাশ পরিবহন সংস্থার প্রায় ৩২৩ মিলিয়ন ডলার বকেয়া রয়েছে। বাংলাদেশ সরকারের ডলার বরাদ্দের ক্ষেত্রে আকাশ পরিবহন খাতকে কতটা অগ্রাধিকার দেয়া উচিত?
আমরা আশা করি, আকাশ পরিবহন সংস্থাগুলোর রাজস্ব প্রত্যাবাসনে সরকারের আরো নজর আসুক। তবে সত্যি কথা বলতে আমরা যেসব আকাশ পরিবহন সংস্থার প্রতিনিধিত্ব করছি, সেগুলোর রাজস্ব প্রত্যাবাসনে তেমন সমস্যা হচ্ছে না। তবে রাজস্ব প্রত্যাবাসনের ক্ষেত্রে আমরা বাংলাদেশের ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে সহযোগিতা পেলেও আন্তর্জাতিক ব্যাংকগুলো থেকে সেভাবে সহযোগিতা পাচ্ছি না। বাংলাদেশে এখন কিন্তু অনেকগুলো বিদেশী আকাশ পরিবহন সংস্থা স্থানীয় ব্যাংকগুলোর সঙ্গে কাজ করা শুরু করেছে। ফলে রাজস্ব প্রত্যাবাসন কিছু সহজ হচ্ছে। তার পরও এ খাতে সরকারের আরো বাড়তি গুরুত্ব দেয়া দরকার। কারণ বিদেশী এয়ারলাইনসগুলো ঠিকমতো রাজস্ব প্রত্যাবাসন করতে না পারলে সামগ্রিকভাবে তা বাংলাদেশের বাজারকে প্রভাবিত করবে। রাজস্ব প্রত্যাবাসন বলি, আর ডলারের মূল্যবৃদ্ধি বলি দিনশেষে এর মাশুল দিতে হচ্ছে ভোক্তাশ্রেণীকে।
টিকিটের দাম বাড়লেও আকাশপথে মানুষের ভ্রমণ কিন্তু বাড়ছে।
আমাদের দেশের মানুষের ট্রাভেল করার প্রবণতা অনেক বেড়েছে। আগে এতটা ছিল না। মানুষ এখন ঘুরতে যেতে পছন্দ করে। তাদের কথা চিন্তা করে আমরাও পরিকল্পনা করছি। সুবিধাজনক ও সাশ্রীয় প্যাকেজ অফার করছি। আমরা অনেকভাবে ক্লায়েন্টকে সাপোর্ট করার চেষ্টা করি। যেটা আগে হয়তোবা এতটা ছিল না। ভোক্তাদের ওপর টিকিটের দামের যেন প্রভাব না পড়ে, সে কারণে আমরা কিন্তু ইএমআই সুবিধাও দিয়ে যাচ্ছি।
বাংলাদেশে টিকিটের দাম বেশি হলেও প্রতিবেশী ভারতে দাম কম। এ কারণে অনেকে ভারত হয়েও যাতায়াত করছেন। এতে কি বাংলাদেশের আকাশ পরিবহন খাতে বিরূপ প্রভাব পড়ছে?
বাংলাদেশ আর ভারতের আকাশ পরিবহন খাত ভিন্ন। তার পরও অনেকে বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে তুলনা করে। বাংলাদেশের পরিপ্রেক্ষিত অনুযায়ী রেমিট্যান্সের কারণে এবং ডলার ফ্রাকচুয়েশনের কারণে সবকিছু কিন্তু পড়ছে গ্রাহকের ওপর। যেমন মালয়েশিয়ায় যাচ্ছে যে লেবার, অনেক কষ্টের আয় দিয়ে, স্বপ্ন পূরণে যাচ্ছে। কিন্তু তার জন্য ব্যয় অটোমেটিক বেড়ে যাচ্ছে। মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুর রিটার্ন টিকিট একসময়ে আমরা ২৫-২৬ হাজার টাকায় বিক্রি করেছি। এটি এখন আর
আমরা পারছি না। ওয়ানওয়ে টিকিট এখন আমরা ১৮-২০ হাজার টাকায় বিক্রি করতে পারছি না।
কোনোভাবেই এটি সম্ভব হচ্ছে না। কারণ ডলারের মূল্যবৃদ্ধি, ফুয়েল চার্জ আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে। তারপর হলো ডিমান্ড ও সাপ্লাই। ডিমান্ড অনেক বেড়েছে। এখন আমাদের
দেশের মানুষের ট্রাভেল করার প্রবণতা অনেক বেড়েছে। যেটা আগে এতটা ছিল না। কভিডের পর
এটা অনেক বেড়েছে। মানুষ এখন ঘুরতে যেতে পছন্দ করে। দেশের ভেতরে ঘুরতে যেতে যে খরচ
বহন করতে হয় বাজেটটা আর একটু বাড়াতে পারলে হয়তোবা থাইল্যান্ড বা মালয়েশিয়া থেকে
ঘুরে আসা যাচ্ছে। তাই সে জায়গাগুলো আমরাও চেষ্টা করছি পরিবর্তন করার। সুন্দরভাবে
প্যাকেজের মধ্য দিয়ে বিভিন্ন অপশন তৈরি করে দিচ্ছি। প্রাইসিং নিয়ে আসলে বলতে চাই
আমরা অনেকভাবে একজন ক্লায়েন্টকে সাহায্য করার চেষ্টা করছি। যেটি আগে হয়তোবা এত বেশি
ছিল না। এখন একজন যিনি পরিবার নিয়ে ঘুরতে যাচ্ছে তার জন্য টিকিটের প্রাইস বড় একটি
বার্ডেন। এ কারণে কিন্তু আমরা অনেকগুলো ব্যাংকের কাছ থেকে ইএমআইয়ের ব্যবস্থাও করে
দিচ্ছি। এ ইএমআই সুবিধা নিয়ে বছরে একটি ট্রিপ দিতে পারবে বা প্রয়োজন একজন মানুষের
জন্য। যিনি সারা বছর কাজ করছে তার জন্য প্রয়োজন। সে জায়গাগুলো থেকে এত ভালো কিছু
জিনিস আমাদের তুলে ধরার সুযোগ হয়েছে সবার জন্য। এ কারণে প্রাইসিং বেড়েছে, কিন্তু
তার পরও ভ্রমণপ্রত্যাশী যারা আছেন তাদের সংখ্যা কমেনি, উল্টো বাড়ছে দিন দিন। ওই চিন্তা থেকে আরো একটু যদি কমফোর্ট জোনে
তাদের এনে দিতে পারি সে চেষ্টা করছি আমরা। আমাদের খরচ যদি একটু কমে আমরা তাহলে আর
একটু ভালো কিছু অফার করতে পারি।
কয়েকটি কারণে আমাদের টিকিটের দাম বেশি, যেমনটি আপনি বললেন।
তবে আমরা যদি প্রতিবেশী দেশ ভারতের দিকে তাকাই সেখান থেকেও কিন্তু একই গন্তব্য,
বাংলাদেশ থেকেও একই। তবে বাংলাদেশ থেকে টিকিটের যা দাম প্রতিবেশী দেশ ভারত থেকে
কিন্তু টিকিটের একই গন্তব্যের জন্য উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কম।
আগের
কথাগুলোর মধ্যেই কিন্তু অনেকগুলো বিষয় আছে। যেমন ডলারের দর বৃদ্ধি। এর মধ্যে ১১০ থেকে যদি ১১৭ টাকা
ব্যাংকিং রেট হয়ে যায় তাহলে এটি কিন্তু একটি বিশাল পরিবর্তন।
৭ টাকা তো অনেক, আগে যেখানে
ছিল ৮৬ থেকে ৮৭ টাকা ১ ডলার। সেখান থেকে ৯০, ৯১ এরপর ১০০ থেকে ১১৭ টাকা হয়েছে। সে জায়গা থেকে প্রাইসিং
চেঞ্জ হবে না কেন। আমাদের সবকিছু ডলারের ওপর চলছে। হয়তোবা আপনি বলবেন ফুয়েল চার্জ
আমাদেরও বেশি, সারা পৃথিবীব্যাপীই বেশি। কিন্তু আমাদের সঙ্গে যদি ভারতের তুলনা করা হয় তাহলে বলব, ভারতের ভলিউম আলাদা, তাদের গেম প্ল্যান একেবারেই আলাদা। সবকিছু মিলিয়ে তুলনাটি
চলে আসে। তবে এখানে তুলনার কিছু নেই। বাংলাদেশের পরিপ্রেক্ষিতে আমরা অনেক সমস্যার
সম্মুখীন হচ্ছি, আমরা অনেক দেশের সঙ্গে
তুলনা করছি। তবে আমাদের নিজেদের সমস্যার সমাধান নিজেদেরই করতে হবে। অথবা অন্যরা কীভাবে
নিজেদের সমস্যাগুলোর সমাধান করছে সেখান থেকে শিখে আমাদের ইমপ্লিমেন্ট করতে হবে।
শাহজালাল বিমানবন্দরে নতুন টার্মিনাল হচ্ছে। সরকার বলছে এ বছরই
বাণিজ্যিকভাবে চালু হবে। নতুন টার্মিনাল ঘিরে আপনাদের কোনো পরিকল্পনা আছে কি?
হ্যাঁ, আমরা আশা করছি এভিয়েশন সেক্টরে একটি নতুন যুগের শুরু হতে চলেছে। নতুন টার্মিনালটি চালু
হলে আমাদের আরো অনেক এয়ারলাইনস আসার সুযোগ হবে। আমরা এখনই বুঝতে শুরু করেছি। অনেক
এয়ারলাইনস, যারা আগে হয়তো বাংলাদেশে আসবে এ চিন্তাই করতে পারেনি, তারা এখন ভাবছে। এরই মধ্যে তারা আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু
করেছে। আরো অনেক নতুন জিএসএস সাইন হচ্ছে এবং অনেক নতুন এয়ারলাইনস আসতে শুরু করেছে।
আমরাও এখন বেশকিছু এয়ারলাইনস নিয়ে কাজ শুরু করেছি। আরো কিছু যুক্ত হবে আশা করছি।
দেশের বাইরের যেকোনো এয়ারপোর্টে গেলে সেখানে এয়ারপোর্টের ভেতরে হোটেল, ডিউটি ফ্রি শপ, ফুডকোর্টসহ অন্যান্য অনেক সুবিধা থাকে। এগুলো আমাদের
এয়ারপোর্টে নেই। যখন নতুন টার্মিনাল হবে মানুষ উপভোগ করতে পারবে। ভালো সময় কাটাতে
পারবে। আমি এর আগেও বেশকিছু সাক্ষাৎকারে বলেছি, আমার খুবই খারাপ লাগে একটি বিষয়, যখন ঢাকার বাইরে থেকে কেউ
বিদেশে যাবে তার পুরো পরিবার নিয়ে আসে। সে ভেতরে চলে এলে তার পুরো পরিবার বাইরে রোদ-বৃষ্টির মধ্যে দাঁড়িয়ে থাকে।
এখনো এ অবস্থাই আছে, কোনো পরিবর্তন হয়নি। তাই নতুন টার্মিনাল হলে আমার এক্সপেকটেশন
এটি থাকবে। যদি তাদের জন্য একটি ব্যবস্থা থাকে। আমি জানি হাজারো মানুষ, এত মানুষের
জন্য জায়গা করা সম্ভব নয়। তবে কোনো একটি সিস্টেমে কিছুটা জায়গা যেখানে পরিবার এসে
দেখা করে সুন্দরভাবে বিদায় জানাতে পারল, তাহলে মানুষের জন্য স্বস্তি ফিরে আসবে।
একটা মানুষ অনেক কষ্ট করে দেশে রেমিট্যান্স পাঠায়। ক্লিনার, শেফ বা কনস্ট্রাকশনের কাজ যে কাজই হোক অনেক কষ্ট করে একজন
মানুষ আয় করে। দেশে রেমিট্যান্স পাঠাচ্ছে তার পরিবারকে যদি আমরা এতটুকু স্বস্তি
দিতে পারি তবে ক্ষতি কী। বিষয়টি সরকারের দেখা প্রয়োজন।
নতুন টার্মিনালটা নিশ্চয়ই বাংলাদেশ থেকে বিভিন্ন
এয়ারলাইনসের ট্রানজিট নেয়ার ক্ষেত্রেও একটা আকর্ষণীয় জায়গা হতে পারে।
এটা
অবশ্যই একটা ভালো কেন্দ্র হতে যাচ্ছে। বাংলাদেশই আসলে ট্রানজিটের একটা ভালো কেন্দ্র। বাংলাদেশ
থেকে অসংখ্য ডেস্টিনেশন বিশেষ করে
এশীয় অঞ্চলগুলোর জন্য খুবই সুবিধাজনক সময়ের
মধ্যে পড়ে। এ কারণেই বাংলাদেশে আরো অনেক এয়ারলাইনস আগ্রহী হচ্ছে। বাংলাদেশের
দেশীয় এয়ারলাইনসগুলোরও অনেক উন্নতি হচ্ছে এবং দেশীয় এয়ারলাইনসের সংখ্যা ভবিষ্যতে আরো বাড়বে। এ খাতে আমি
বাংলাদেশের সমূহ সম্ভাবনা
দেখতে পাই।
বাংলাদেশের এয়ারলাইনসের কথা বললেন, এ হোম গ্রোন এয়ারলাইনসগুলো আসলে কেমন করছে?
১৫
বছর ধরে এভিয়েশন ইন্ডাস্ট্রিতে আমরা কাজ করছি, জিএসএ নিয়ে কাজ করছি। দেশীয়
এয়ারলাইনসের কথা বলতে গেলে খুব বেশি এয়ারলাইনস কিন্তু হয়নি এখনো। দেশীয়
এয়ারলাইনসের সংখ্যা খুবই সীমিত। এছাড়া একটা এয়ারলাইনস করা কোনো মুখের কথা নয়। বিশ্বব্যাপী
একটা কথা প্রচলিত আছে, বিলিয়নেয়ার থেকে মিলিয়নেয়ার
হওয়ার জন্য একটা এয়ারলাইনস যথেষ্ট। এটা ভালোভাবে চালানো কঠিন। ভালোভাবে
একটি এয়ারলাইনস চালানো অনেক চ্যালেঞ্জিং। তবুও আমি এ ব্যাপারটাকে সাধুবাদ জানাই যে ক্ষতি হলেও বিমান
বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যারিয়ার হিসেবে চলছে। ইউএস বাংলা এখনো টিকে থাকার চেষ্টা করছে। যেহেতু ইউএস বাংলা সরকারি কোনো এয়ারলাইনস না, তাদের ব্যালান্স শিটের ধারণা করা মুশকিল। পাশাপাশি
রিজেন্ট এয়ারওয়েজ তো বন্ধই হয়ে গেছে। নভোএয়ার চলছে। নভোএয়ারের রুট অবশ্য সীমিত। তবুও
বাংলাদেশের চাহিদা অনুযায়ী এভিয়েশন সেক্টরের সমূহ সম্ভাবনা আছে। তবে সেটা
তখনই সম্ভব যদি ভালো কিছু পদক্ষেপ নেয়া হয়। যদি কারো পর্যাপ্ত পরিমাণ অর্থ থাকে তাহলে সে এয়ারলাইনস ব্যবসা করতেই পারে।
বাংলাদেশে
বাজার আছে এটা এয়ারবাস জানে, বোয়িংও জানে। কিন্তু
চাইলেই তো এরা কাউকে একটা উড়োজাহাজ দিয়ে দিতে পারে না। এজন্য বিশাল
আকারের ফ্লিট সাইজ প্রয়োজন। এয়ার এশিয়ার ফ্লিট সাইজ বড়, ৩০০-এর ওপর এয়ার ক্রাফট রয়েছে। আপনার যদি
এমন ফ্লিট সাইজ থাকে তখন আপনার ফিজিবিলিটি অর্থাৎ আপনার বাজেট ক্যালকুলেশন, আপনার ফেয়ার অ্যালোকেশন, আপনার ডেস্টিনেশন এমনকি যে ডেস্টিনেশনে অন্যরা যেতে পারছে
না,
সেখানেও আপনি যেতে পারছেন, কারণ ইউ হ্যাভ এনাফ ফ্লিটস। তো আপনি ওই
জায়গাগুলো ট্যাব করতে পারেন। তখনই আসলে ব্যবসাটা আসে বা হয়। আমরা এখনো ওই
জায়গাটাতে পৌঁছাতে পারিনি। আমাদের কোনো এয়ারলাইনসই এখনো সেই পর্যায়ে যেতে পারেনি। তবে এখানে
অনেক সম্ভাবনা আছে, সেগুলো নিয়ে
কাজ করা যেতে পারে। সরকারি সাহায্য সহযোগিতা থাকলে যেকোনো গ্রুপ এয়ারলাইনস পরিচালনায় ভূমিকা
রাখতে পারে। কারণ বাংলাদেশে এয়ারলাইনসের চাহিদা অনেক বেশি এবং এটি
ট্রানজিটের জন্য একটি ভালো কেন্দ্র। কারণ এখান থেকে মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়ায়
যাওয়া যাচ্ছে, ওদিকে দুবাই, সৌদি আরব এ জায়গাগুলোয় খুব দ্রুত পৌঁছানো যাচ্ছে। এজন্য এথ্রি
সার্টিফায়েডেরও প্রয়োজন হচ্ছে না, ৪-৫ ঘণ্টায়
এসব ডেস্টিনেশনে পৌঁছাতে এ থ্রি টোয়েন্টিই যথেষ্ট। তাই এ
জায়গাগুলোয় কাজ করার বিশাল সম্ভাবনা বিদ্যমান।
বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে আপনাদের আসার কোনো পরিকল্পনা
আছে অথবা
এ বাজেট আপনারা কীভাবে দেখছেন?
পরিকল্পনা
যে নেই তা বলব না। এভিয়েশন আগ্রহী
হিসেবে আমাদের
অবশ্যই ইচ্ছা আছে। এখন তো আমরা জিএসএস নিয়ে কাজ করছি। কিন্তু দেশীয় এয়ারলাইনস হতে
পারার ইচ্ছা আমাদের অবশ্যই থাকা উচিত। ইচ্ছা না
থাকলে তো উপায় হয় না। কিন্তু ইচ্ছার সঙ্গে সঙ্গে আপনার বুঝেই নামতে হবে—এটা একটা লম্বা
সফর। এক-দুই
বছরের মধ্যে আপনি এর কোনো প্রতিমূল্য পাবেন না। আপনি যদি দুটি এটিআর দিয়েও শুরু করেন, এই ব্যবসা থেকে কিছু পেতে গেলে অন্তত চার-পাঁচ বছর সময়
লাগবে। আপনার
সেই ধৈর্যটা থাকতে হবে, পর্যাপ্ত পরিমাণ
অর্থ থাকতে হবে, মিনিমাম থ্রেশোল্ড থাকতে হবে। ওখানেও
অভ্যন্তরীণ বাজারে আপনাকে পদক্ষেপ নিতে হবে। সেই সঙ্গে বাজারের প্রতিযোগীদের সঙ্গে পেরে উঠতেও সময় লাগবে। অর্থাৎ
সবকিছু মিলিয়ে কাঙ্ক্ষিত জায়গায়ে পৌঁছতে আপনার অনেক সময় লেগে যাবে। সেটা মাথায় রেখে আমরা চিন্তাভাবনা করছি। আরেকটু ভালোভাবে চিন্তা করে দেখি সামনে আরো বড় কী করা যায়!





