বাংলাদেশে বছরে ৪ হাজার কোটি টাকার মতো কাচ বিক্রি হয়। প্রতি বছর ব্যবহার হয় সোয়া পাঁচ লাখ টন কাচ। ক্লিয়ার, কালার, রিফ্লেক্টিভ—তিন ধরনের কাচের ব্যবহার দেশে বেশি। দেশে কাচপণ্য উৎপাদনকারী প্রধান প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি আকিজ বশির গ্লাস। হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলায় ১২৫ একর জমিতে অবস্থিত আকিজ গ্লাস ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের কারখানা। কারখানাটি গড়তে বিনিয়োগ হয়েছে প্রায় ২ হাজার ২০০ কোটি টাকা।

গ্লাস ফ্যাক্টরি শুরু হয়েছিল কভিডের আগে। কভিডের জন্য আটকে গিয়েছিল কাজ। পরবর্তী সময়ে দুই বছরে শেষ করে ফেলা হয়েছে কাজ। কারখানাটি যথেষ্ট ডিটেইলস। প্রাথমিকভাবে বার্ষিক দুই অংকের একটি গ্রোথ রেট অনুমান করা হয়েছিল; সেটা ছিল ১২ শতাংশ। বর্তমানে এ গ্রোথ রেট কমে এসেছে। গ্লাস ফ্যাক্টরির একটি ক্যাম্পেইন লাইন আছে। ১০ বছর চালানোর পর আবার দেড় বছর বন্ধ রাখতে হবে। যত গ্লাস ফ্যাক্টরি বর্তমানে বাংলাদেশে চালু আছে, তার চারটিই বন্ধ হওয়ার সিকোয়েন্সে ছিল। সেক্ষেত্রে মার্কেটে একটি গ্যাপ তৈরি হবে, সেখানেও একটি সুযোগ তৈরি হবে। সেটা মাথায় রেখেই বিনিয়োগ করেছে আকিজ গ্লাস। প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদিত গ্লাস তুলনামূলকভাবে স্বচ্ছ। শুধু আকিজ গ্লাসই ৭০০ পিপিএমের গ্লাস সরবরাহ করছে বাজারে। নতুন করে টার্গেট নেয়া হয়েছে ৫০০ পিপিএম করার। গ্লাস ফ্যাক্টরিতে আকিজ গ্লাস প্রায় ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৩০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে। 

অন্যান্য দেশে যে বৈচিত্র্যময় গ্লাস রয়েছে তা থেকে বাংলাদেশীরা পিছিয়ে। লোয়ি গ্লাস বাসায় লাগালে ৩০-৪০ শতাংশ বিদ্যুৎ বিল সাশ্রয় হয়। শীতকালে গরম ও গরমকালে ঠাণ্ডা করার খরচ কমে আসে। ইউরোপীয় বাসাবাড়িতে লোয়ি গ্লাস লাগানো হয়। আকিজ গ্লাস বর্তমানে এটা নিয়ে গবেষণা করছে। এছাড়া অন্যান্য ডিজাইন নিয়েও চলছে গবেষণা। চেষ্টা চলছে খাতটিতে যত ধরনের বৈচিত্র্য আনা যায়।

প্রাতিষ্ঠানিকভাবেই আকিজ গ্লাস পরিবেশের প্রতি সর্বাধিক গুরুত্ব দেয়। বর্তমানে মূল রেসপন্সিবিলিটিই হচ্ছে কার্বন রেসপন্সিবিলিটি। দিকটিকে খেয়াল রেখেই কাজ চলছে। এ বিষয়গুলোকে মান্য করেই প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে চেষ্টা করা হয়। আকিজ গ্লাসের মূল লক্ষ্য বাংলাদেশের গৃহনির্মাণ শিল্পে গ্রাহকের জন্য সেরা মানের গ্লাস পণ্যে অসাধারণ ক্ল্যারিটি ও প্রিমিয়াম সব ফিচার যুক্ত করা। এ সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার ভিত্তি সুদৃঢ় করতেই কোম্পানিটি পাঁচ বছর সময় নিয়ে যত্নসহকারে কারখানা তৈরির কাজ সম্পন্ন করেছে। সেই সঙ্গে পণ্য উৎপাদনে ব্যবহৃত মোট শক্তির ৫১ শতাংশ নবায়নযোগ্য মাধ্যম থেকে সংগ্রহ করার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, যা প্লান্টটিকে এ অঞ্চলের অন্যতম পরিবেশবান্ধব একটি শিল্প কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত করে তুলেছে। 

শুধু সেরা নয়, সর্বোৎকৃষ্ট মানের কাঁচামাল দিয়েই যেন পণ্য উৎপাদন করা যায়, সেজন্য এখানে সর্বাধুনিক স্যান্ড পিউরিফিকেশন প্লান্ট ও হোমোজিনাইজেশন প্লান্ট সংযুক্ত করা হয়েছে। তাছাড়া এ কারখানা স্থাপন করার ফলে স্থানীয় পর্যায়ে হাজারো মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। কোম্পানিটি সেরা পণ্য ও গ্রাহকসেবা নিশ্চিত করে আরো ইতিবাচকভাবে দেশের বাজারে দ্রুত বিস্তৃতি ও প্রসার অর্জনে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।