ধরুন, বিশাল একটি এলাকাজুড়ে কোনো একটি বিশেষ পণ্য উৎপাদনের জন্য অসংখ্য যন্ত্রপাতি ও স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। দিনে ২৪ ঘণ্টা আর বছরে ৩৬৫ দিনই এখানকার সব স্থাপনার সব যন্ত্রপাতি চালু থাকে, কখনই এক সেকেন্ডের জন্যও কারখানার উৎপাদন বন্ধ হয় না। বিশাল এ কারখানা চালাতে প্রয়োজন হয় হাজারের বেশি মানুষ, যাদের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থাও করা হয়েছে আবার এ এলাকার ভেতরেই। পাশাপাশি অনেকেই থাকছেন পরিবারসহ যাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা, শিক্ষা, বিনোদন ইত্যাদির ব্যবস্থাও করা হয়েছে একই প্রাঙ্গণে। অর্থাৎ বলা যায় একটা বড়সড় গ্রাম কিংবা ছোটখাটো শহর। চিন্তা করতেই খুব আশ্চর্যজনক মনে হয় তাই না? এ জাতীয় বিশাল স্থাপনাকে সাধারণত মেগাফ্যাক্টরি হিসেবে অভিহিত করা হয়।
বাংলাদেশে মেগাফ্যাক্টরির ধারণাটি পরিচিত হয়েছে খুব বেশিদিন হয়নি বলা যায়। শিল্পোন্নত দেশগুলোয় বিশাল সব শিল্প-কারখানা গত শতাব্দীর শুরুতেই স্থাপন করা হলেও আমাদের নিজস্ব শিল্প-কারখানাগুলোর বেশির ভাগই বিদেশী বড় কারখানার অনুপাতে ছোট বলা চলে। কিন্তু গত শতাব্দীর শেষদিকে ও এ শতাব্দীর শুরুতে দেশে বেশকিছু কারখানা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ও হচ্ছে যেগুলো মেগাফ্যাক্টরির চেয়ে কোনো অংশে কম নয়। টাংগাইলের দুবাইলে এমনই বিশাল একটি এলাকা নিয়ে গড়ে উঠেছে বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ ফ্লোট গ্লাস কারখানা ‘নাসির ফ্লোট গ্লাস ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড’। প্রায় আড়াইশ বিঘার কাছাকাছি জায়গা নিয়ে গড়ে ওঠা এ ফ্যাক্টরিতে বর্তমানে সবচেয়ে আধুনিক ফ্লোট প্রযুক্তিতে প্রতিনিয়ত কাচের বিভিন্ন পণ্য উৎপাদিত হচ্ছে।
নাসির গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা নাসির উদ্দিন বিশ্বাসের বড় ছেলে নাসিম বিশ্বাস বর্তমানে ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে নাসির ফ্লোট গ্লাস কারখানার দায়িত্বে আছেন। তার ভাষায়, ‘গ্লাস উৎপাদন শুরু ও এ শিল্পে যুক্ত হওয়ার গল্প জানার জন্য আমাদের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান আমার বাবা নাসির উদ্দিন বিশ্বাসকে নিয়েই বলতে হবে আগে। তার আইডিয়া ছিল মূলত এ ব্যবসায় আসার বিষয়টা। বাংলাদেশে তখন তেমন কোনো গ্লাস ফ্যাক্টরি ছিল না। শুধু সরকারি ব্যবস্থাপনায় উসমানিয়া শিট গ্লাস ফ্যাক্টরিতে অল্প পরিমাণ কাচ উৎপাদিত হতো। অর্থাৎ দেশের চাহিদা মেটাতে কাচ প্রায় সম্পূর্ণই আমদানি করতে হতো। নাসির গ্রুপের নাম তখন সুপরিচিত হওয়ায় আর সবসময়ই আমাদের পণ্য সংশ্লিষ্ট খাতে সবচেয়ে অগ্রগণ্য থাকায় এ ক্ষেত্রেও আমরাই উৎপাদন শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়ে বাজার পর্যবেক্ষণ শুরু করি। যেহেতু বাজারে তখন কাচের অনেক চাহিদা ছিল—কারণ দেশজুড়েই গৃহস্থালি ছাড়াও বাণিজ্যিক অনেক প্রকল্প গড়ে উঠছিল—সেহেতু ২০০৫ সালে আমাদের প্রথম গ্লাস কারখানা চালু হয় এবং ২০১৯ সালে সালে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি বিশিষ্ট দ্বিতীয় ইউনিট ফ্লোট গ্লাস ইন্ডাস্ট্রি চালু হয়। আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন গ্লাস উৎপাদনকে প্রাধান্য দিয়েই আমরা শুরু থেকে কাজ করে এসেছি ও করতে চেয়েছি।’
কাচ সম্পূর্ণ গ্যাসভিত্তিক শিল্প, কেননা গ্যাসের মাধ্যমেই কাঁচামাল গলানোর ফার্নেস চালু রাখা হয়। আর এ ফার্নেসে প্রায় ১২০০-১৪০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা সর্বক্ষণ বজায় থাকা আবশ্যক। কাচ বানানোর বর্তমান যেই প্রযুক্তি তথা ফ্লোট গ্লাস পদ্ধতি যথেষ্ট স্পর্শকাতর ও সূক্ষ্ম হওয়ায় একবার এ প্রযুক্তিতে ব্যবহৃত ফার্নেস বন্ধ করা হলে বহু টাকা মূল্যের উৎপাদন ক্ষতি হওয়ার পাশাপাশি ফার্নেসেরও ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। ফার্নেসটি একবার চালু হলে সাধারণত ৮-১০ বছর টানা চালু রাখতে হয়। কোনো কারণে ফার্নেসের ক্ষতি হলে বা ফার্নেস নষ্ট হয়ে গেলে নতুন ফার্নেস বানাতে সময় প্রয়োজন হয় প্রায় এক বছর, যা দীর্ঘ সময়ের জন্য উৎপাদন বন্ধের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। পাশাপাশি ফার্নেস চালু করার পদ্ধতিও যথেষ্ট সময় ও ব্যয়সাপেক্ষ। ফলে গ্যাস সরবরাহ কোনো কারণে ব্যাহত হলে বা অন্য যেকোনো সমস্যায় ফার্নেস বন্ধ হয়ে গেলে বিশাল ক্ষতির সম্মুখীন হতে হবে—এ ঝুঁকির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই কাচ কারখানা চালু করতে হয়। বিশেষ করে করোনা মহামারীর মতো অপ্রত্যাশিত আঘাতে যখন পৃথিবীর স্বাভাবিক কার্যক্রম দীর্ঘ সময়ের জন্য স্থবির হয়ে গিয়েছিল তখনো নাসির ফ্লোট গ্লাস কারখানার ফার্নেস চালু রাখতে হয়েছে। এমডি নাসিম বিশ্বাস জানান এই জাতীয় অসংখ্য ঝুঁকি নিয়েই কারখানা শুরু করতে হয়। এই প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘It’s part of the game and we have accepted it.’
এত বড় কারখানা শুরু করার জন্য বিশাল পরিমাণ জমি অধিগ্রহণ, জমির ওপরের স্থাপনাকে শিল্প-কারখানার জন্য তৈরি করা, স্থানীয় কর্তৃপক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় অনুমতি প্রাপ্তি ও পরিবেশসংক্রান্ত সব নিয়ম-নীতি মেনে কাজ করার মতো বড় আরো অনেক বাধার সম্মুখীন হয়েও নাসির ফ্লোট গ্লাস সফলভাবে তাদের কারখানাটি প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হয়। ফ্লোট গ্লাস কারখানায় ব্যবহৃত বর্তমান ফার্নেসটির আয়ুষ্কাল প্রায় দশ বছর, যা কিনা ২০১৯ সাল থেকেই চলমান রয়েছে।
এক্ষেত্রে উল্লেখ্য যে নাসির গ্রুপের কাচ কারখানা শুরুর আগে বাংলাদেশে মূলত কনভেনশনাল শিট গ্লাস প্রযুক্তিতে কাচ তৈরি করা হতো সরকারি তত্ত্বাবধানে উসমানিয়া শিট গ্লাস ফ্যাক্টরিতে। পরবর্তী সময়ে নতুন প্রযুক্তি নিয়ে নাসির গ্রুপ কাচ উৎপাদনে যুক্ত হয়। কিন্তু কেন এ নতুন প্রযুক্তি?
মূলত শিট গ্লাস ও ফ্লোট গ্লাস প্রযুক্তির পার্থক্য তাদের উৎপাদন কৌশলে। শিট গ্লাস পদ্ধতি প্রায় কয়েকশ বছরেরও বেশি সময় পুরনো। এ পদ্ধতিতে খাড়াভাবে কাচের শিট প্রস্তুত করা হয়, যা সাত-আট মিলিমিটারের বেশি পুরু করা সম্ভব হয় না। কিন্তু ফ্লোট গ্লাস পদ্ধতিতে আনুভূমিকভাবে ভাসমান উত্তপ্ত তরলের প্রবাহ আকারে কাচ প্রস্তুত করা হয়, যা কিনা প্রায় ২০-২২ মিলিমিটার পর্যন্ত পুরু করা সম্ভব। এক্ষেত্রে ফ্লোট গ্লাস পদ্ধতিতে প্রস্তুত করা কাচ বেশি মসৃণ, সমান পুরুত্ববিশিষ্ট ও মজবুত হয়ে থাকে। বর্তমানে আধুনিক টেকনোলজির অসংখ্য ডিভাইস যেমন স্মার্টফোন, কম্পিউটার, টিভি ইত্যাদির ডিসপ্লে হিসেবে ফ্লোট গ্লাস পদ্ধতিতে তৈরি করা কাচ ব্যবহার করা হয়। কাচ শিল্পে বিশ্বজুড়ে ফ্লোট গ্লাস পদ্ধতিই সবচেয়ে আধুনিক তবে দিন দিন আরো বেশি পুরুত্ব বা সূক্ষ্ম পুরুত্বের কাচ, বেশি আয়ুষ্কালবিশিষ্ট ফার্নেস এবং বেশি মজবুত কাচ তৈরির ফিচার নিয়ে কাজ চলছে, যার সঙ্গে ক্রমান্বয়ে ভবিষ্যতে মানিয়ে নেয়ার জন্য নাসির ফ্লোট গ্লাস তৈরি রয়েছে বলে প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন নাসিম বিশ্বাস।
এ জাতীয় অত্যাধুনিক স্থাপনা ও কারখানায় উৎপাদিত পণ্য রাখার জন্য প্রয়োজন আসলে বিশাল এলাকার। কাচ যেহেতু ভঙ্গুর ও সহজেই ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এমন একটি পণ্য তাই এর সংরক্ষণ, রক্ষণাবেক্ষণ, বিপণন ও বিতরণের প্রয়োজনে যথেষ্ট জায়গা ও প্রয়োজনীয় সতর্কতা প্রয়োজন হয়। আর এখানেই মেগাফ্যাক্টরির ধারণাটি হয়ে উঠেছে বেশি প্রাসঙ্গিক। লেখার শুরুতে মেগাফ্যাক্টরি নিয়ে যেই ধারণা দেয়া হয়েছিল তেমনি বিশাল (প্রায় আড়াইশ বিঘা বা ২০০ একরের বেশি) এলাকাজুড়ে অবস্থিত টাঙ্গাইলের দুবাইলে নাসির ফ্লোট গ্লাসের কারখানা। বাংলাদেশের বর্তমান বাজারের পরিপ্রেক্ষিতে দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মিটিয়ে আরও বেশি কাচ উৎপাদন করছে দেশীয় কোম্পানিগুলো। যেহেতু প্রক্রিয়াটি বছরের সব দিনই ২৪ ঘন্টা চলমান থাকে তাই সারা বছর এমনকি প্রাকৃতিক দুর্যোগকালীন সময়ও কাচ উৎপাদন বন্ধ হয় না। ফলে করোনা মহামারির সময় বিপণন বন্ধ থাকলেও উৎপাদিত কাচ অধিগ্রহণকৃত জমির ভেতরের রাস্তায় সংরক্ষণ করা হতো, যার ফলে ক্ষতির আশংকাও ছিল। তবে পরবর্তীতে ক্রমান্বয়ে নিজেদের কারখানার স্থাপনা সম্প্রসারণের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ছাউনি, গুদাম ইত্যাদি তৈরি করে দৈনিক প্রায় ৬০০ টন কাচ উৎপাদন ও বিপণন নিশ্চিত করছে নাসির ফ্লোট গ্লাস। পাশাপাশি এ বিশাল কারখানার রক্ষণাবেক্ষণের জন্য দিন-রাত খেটে যাওয়া ১৪০০ শ্রমিকের জন্য রয়েছে আবাসন, খাওয়ার ব্যবস্থা, চিকিৎসা, বিনোদনের জন্য ঘুরাফেরার জায়গা, খেলাধুলার জন্য মাঠ, ঘরোয়া বিনোদনের জন্য ক্লাব, পরিবহন ব্যবস্থা ইত্যাদি সুবিধা। কর্মীদের সন্তানদের স্কুলে যাওয়ার সুবিধার্থে পরিবহন দেয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে কারখানা এলাকায়ই কিন্ডারগার্টেন স্কুল স্থাপনের চিন্তাভাবনাও করছে কর্তৃপক্ষ। কর্মীদের পদ ও অবস্থান অনুসারে তিন ধরনের বোর্ডিং ব্যবস্থা রয়েছে। নগর থেকে কিছুটা দূরে হওয়ায় প্রকৃতির কাছে থাকতে পেরে নাসির ফ্লোট গ্লাসের কর্মীরাও নিজেদের নিয়োজিত রাখেন প্রতিষ্ঠানের প্রতি দায়িত্ববোধ থেকেই। নাসিম বিশ্বাসের ভাষায়, ‘You can say it’s a self dependent satellite city.’
বিশাল এ স্থাপনা সম্পূর্ণ প্রতিষ্ঠা করতে খরচ হয়েছে প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা। শুধু স্থাপনা তৈরি নয়, দেশের প্রথম এ প্রযুক্তিতে কারখানা চালু করার ফলে প্রযুক্তি স্থাপনেও বিনিয়োগ করতে হয়েছে নাসির গ্রুপকে। বর্তমানে কারখানায় কোনো বিদেশী কর্মী না থাকলেও শুরুর দিকে দেশের বাইরে থেকে প্রকৌশলী ও বিশেষজ্ঞ নিয়ে এসে নিজেদের কর্মীদের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছিল। তাদের প্রশিক্ষিত কর্মীরাই পরবর্তী সময়ে কারখানায় যোগ দেয়া নতুনদের তৈরি করে যাচ্ছেন প্রতি বছর। এছাড়া প্রযুক্তিগত এ আধুনিকায়নের জন্য পর্যাপ্ত বিনিয়োগ করে আধুনিক যন্ত্রপাতি আনা হয়েছে চীন ও ইউরোপ থেকে। বলা যায় চীন ও ইউরোপের প্রযুক্তির সমন্বয়ের মাধ্যমে ফ্লোট গ্লাস ইন্ডাস্ট্রিতে এখন কাচ তৈরি হচ্ছে।
বাংলাদেশের কাচ শিল্পের বাজার অতীতে ছিল সিংহভাগই আমদানিভিত্তিক। পরবর্তী সময়ে নাসির, পিএইচপি, এবি ইন্ডাস্ট্রিজসহ দেশীয় কোম্পানিগুলো কাচ উৎপাদন শুরু করলে দেশের সম্পূর্ণ চাহিদা ক্রমান্বয়ে নিজস্ব উৎপাদনে মেটানো শুরু হয়। স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়ার পর আসলে উৎপাদিত হতে থাকা অতিরিক্ত পণ্যগুলো নিয়ে চ্যালেঞ্জ দেখা দেয়। কাচের উৎপাদন প্রতিনিয়ত চলমান হওয়ায় এবং কাচের তৈরি পণ্য ভঙ্গুর হওয়ায় স্থানীয় বাজারের চাহিদা মেটানোর পর বাকি পণ্য নষ্ট হওয়ার আশংকা থাকে। ফলে শীঘ্রই রফতানি বাজারে প্রবেশ করে দেশের কাচ শিল্প যেখানে অগ্রণী ভূমিকা রাখে নাসির ফ্লোট গ্লাস।
শুরুতে বিজ্ঞাপন দিয়ে ও বিপণনকারী ডিলারদের মাধ্যমে দেশীয় ব্র্যান্ডের বিষয়ে ক্রেতাদের জানাতে প্রায় বছর দুই সময় লেগে গিয়েছিল। তখন ধৈর্য ধরে গ্রাহকদের বিদেশী ব্র্যান্ডের জায়গায় দেশী ব্র্যান্ডে আস্থা ফেরানোর জন্য কাজ করে গেছে নাসির গ্রুপ। আর তারই ধারাবাহিকতায় এখন নাসির ফ্লোট গ্লাস হয়ে উঠেছে গ্রাহকদের আস্থার জায়গা। দেশে একবার এ আস্থা ও ভরসার স্থান দখল করে নেয়ার পর নাসির ফ্লোট গ্লাসের উৎপাদিত পণ্য বিদেশে রফতানির জন্য খুব বেশি বেগ পেতে হয়নি। ২০২২-২৩ অর্থবছরে বাংলাদেশ প্রায় ১০.৮ মিলিয়ন ডলারের ফ্লোট গ্লাস রফতানি করেছে। ফ্লোট গ্লাসে বর্তমানে বাংলাদেশের রফতানির প্রধান গন্তব্য ভারত, নেপাল, আফ্রিকার দেশ তানজানিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং শ্রীলংকা।
এত সম্ভাবনাময় বাজার ও উৎপাদনের পরও বর্তমানে বাংলাদেশের প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকার কাচের বাজার থেকে হওয়া রফতানি বৈশ্বিক রফতানির দিক থেকে খুবই ক্ষুদ্র বলা চলে। বিশ্বে কাচ উৎপাদনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় স্থান দখল করে আছে চীন, যারা বিশ্বের মোট উৎপাদিত কাচের প্রায় ২৮ শতাংশ সরবরাহ করছে। অন্যদিকে বাংলাদেশ এ পরিসংখ্যানে প্রথম ৩০-এর মাঝেও নেই। এদিকে দেশের কাচের উৎপাদন বৃদ্ধি, নতুন সব কোম্পানির এ উৎপাদনে আগ্রহ প্রমাণ করে আমাদের সামনে এখনো রফতানিমুখী বিরাট বাজারের অংশ হওয়ার সুযোগ রয়েছে। এ খাতে বাজারের অগ্রগতি ও উৎপাদনের ক্রমোন্নতি বজায় রাখতে গ্রাহকদের দেশীয় পণ্য ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ করার পাশাপাশি গ্যাসের মূল্য কমানোর চেষ্টা করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন নাসির ফ্লোট গ্লাস ইন্ডাস্ট্রিজ কর্তৃপক্ষ।





