২০০২ সাল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে উৎপাদনে যায় মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের (এমজিআই) অঙ্গপ্রতিষ্ঠান ইউনিক সিমেন্ট ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড (ইউসিআইএল)। সিমেন্ট উৎপাদনে প্রতিষ্ঠানটি সবসময় সর্বাধুনিক ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ব্যবহার করে আসছে। এটি বাংলাদেশের অন্যতম সেরা সিমেন্ট উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান। ফ্রেশ সিমেন্ট, মেঘনাসেম সুপার ডিলাক্স এবং ঢালাই স্পেশাল এই তিনটি প্রতিষ্ঠিত ব্র্যান্ড নামে সিমেন্ট বাজারজাত করছে ইউসিআইএল। দেশের বাইরে ভারতে সিমেন্ট রফতানি করে প্রতিষ্ঠানটি। সর্বাধুনিক জার্মান পলিকম রোলার প্রেস প্রযুক্তি ব্যবহার করে ইউসিআইএল সিমেন্ট উৎপাদন করে। ২০০৫ সালে প্রতিষ্ঠানটি আইএসও অনুমোদন পায়। প্রতিষ্ঠানটির কাঁচামাল আমদানি করা হয় ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনাম থেকে।

ইউসিআইএলের মূল ফ্যাক্টরি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে অবস্থিত। প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদন সক্ষমতা দৈনিক প্রায় ২৫ হাজার টন। প্রাথমিকভাবে প্রতিষ্ঠানটির একটি ইউনিট ছিল। যেটা বর্তমানে ওল্ড সাইট নামে পরিচিত। পরে পুরনো ইউনিটের পাশে আরেকটি ইউনিট তৈরি করা হয়। যেটাকে বলা হয় নিউ সাইট। দুটি ইউনিটই বর্তমানে সচল। 

ইউসিআইএলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে বিদ্যুৎ সাশ্রয়। প্রতিষ্ঠানটির মূল লক্ষ্য সর্বনিম্ন বিদ্যুৎ ব্যয়ে দেশে নিজেদের ফুটপ্রিন্ট ধরে রাখা। বর্তমানে বাংলাদেশের সিমেন্ট কারখানাগুলোর মধ্যে সর্বনিম্ন বিদ্যুৎ ব্যয়কারী প্রতিষ্ঠান হচ্ছে ইউসিআইএল। কেএইচডি থেকে গ্লোবাল সিমেন্টের প্রোগ্রামে সর্বনিম্ন বিদ্যুৎ ব্যয়ের জন্য ইউসিআইএল এরই মধ্যে পুরস্কৃত হয়েছে। 

ইউসিআইএল-এর নিজস্ব লজিস্টিক ফ্যাসিলিটি থাকায় প্রতিষ্ঠানটি ক্রেতাদের ক্রয়সীমার মধ্যে সিমেন্ট-এর বাজারমূল্য ধরে রাখতে সক্ষম হচ্ছে। নিজস্ব ট্রাক এবং ভেসেল-এর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি সড়ক ও নদীপথে তাদের পণ্য দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পৌঁছে দিচ্ছে। সিমেন্ট লোডিং ও ডিস্ট্রিবিউশনের জন্য যে ধরনের সুযোগ-সুবিধা থাকা দরকার, তার সবই ইউসিআইএল-এর আছে। 

ইউসিআইএলে প্রত্যক্ষভাবে প্রায় ১ হাজার ৫০০ জনের কর্মসংস্থান হয়েছে। পাশাপাশি পরোক্ষভাবে সিমেন্ট ট্রান্সপোর্ট, ডিলারশিপ সরবরাহের কাজে নিয়োজিত কর্মীদের নিয়ে একটি বড় পরিবার হচ্ছে ইউসিআইএল। স্থানীয় কোম্পানি হলেও, ইউসিআইএল সুরক্ষা নিশ্চিতে অন্যদের তুলনায় এগিয়ে আছে। হেলমেট, সেফটি সুজ ও সেফটি ইস্যু নিয়ে প্রতিষ্ঠানটি খুবই সতর্ক। এসব সামগ্রী বিনামূল্যে কোম্পানি থেকে দেয়া হয়। পরিবেশ রক্ষার্থেও ইউসিআইএল এগিয়ে আছে। ফ্যাক্টরিতে কাঁচামাল খালাসের সময় সাধারণত ধুলার কারণে পরিবেশের ক্ষতি হয়। সেটি কমাতে প্রতিষ্ঠানটি ইকোহপারের মাধ্যমে কাঁচামাল খালাস করে। এর মাধ্যমে খালাস করা হলে ধুলা ওড়ে না। ফলে ইকোহপার পরিবেশগত দূষণ রোধ করে।

ইউসিআইএলের জনপ্রিয় ব্র্যান্ড ফ্রেশ সিমেন্ট, এরই মধ্যে দেশের সিমেন্ট খাতে অন্যতম প্রধান ব্র্যান্ড হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে। ‘‌অধিক ক্লিংকারযুক্ত মহাশক্তিশালী সিমেন্ট’ প্রতিশ্রুতি নিয়ে ব্র্যান্ডটি দেশের গুরুত্বপূর্ণ অনেক স্থাপনা নির্মাণে বিশ্বস্ততা অর্জন করেছে। শুধু ফ্রেশ সিমেন্ট দ্বারা নির্মিত হয়েছে দ্বিতীয় মেঘনা, কাঁচপুর ও গোমতী সেতু। এর বাইরে পদ্মা সেতু, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, দ্বিতীয় ভৈরব রেলওয়ে সেতু, যমুনা রেল সেতু, পায়রা বিদ্যুৎ কেন্দ্র, মাতারবাড়ী বিদ্যুৎ কেন্দ্রসহ সরকারি-বেসরকারি বহু গুরুত্বপূর্ণ এবং বড় অবকাঠামো নির্মাণে ব্যবহার করা হয়েছে ফ্রেশ সিমেন্ট। ফ্রেশ সিমেন্টের পাশাপাশি, ‘মোর ফাইন’ ও ‘বেটার বন্ড’ বৈশিষ্ট্য নিয়ে মেঘনাসেম সুপার ডিলাক্স নামেও সিমেন্ট বাজারজাত করছে ইউসিআইএল।

ইউসিআইএলের আরেকটি ব্র্যান্ড ঢালাই স্পেশাল সিমেন্ট, বাজারে আসার পর অল্প সময়েই ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। বাংলাদেশের প্রথম ও একমাত্র ঢালাইয়ের বিশেষজ্ঞ ‘‌র‍্যাপিড হার্ডেনিং’ বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন ঢালাই স্পেশাল সিমেন্ট, কংক্রিটের অবকাঠামো নির্মাণের ক্ষেত্রে ঢালাইয়ের কাজের জন্য এক যুগান্তকারী সূচনা। এই সিমেন্ট প্রথম দুই দিনেই ওপিসি সিমেন্টের সমান দৃঢ়তা অর্জন করে। সেই সঙ্গে একদিকে যেমন স্বল্প সময়ে সাধারণ পিসিসি সিমেন্টের তুলনায় দ্বিগুণ দ্রুত দৃঢ়তা লাভ করে, তেমনি সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদে স্থাপনাকে করে আরো সুদৃঢ়। ফলে যেকোনো স্থাপনার পাইলিং, ছাদ, বিম ও কলাম নির্মাণে ঢালাই স্পেশাল সিমেন্ট অধিক কার্যকর। 

ওয়ার্ল্ড সিমেন্ট অ্যাসোসিয়েশন (ডব্লিউসিএ) প্রজেক্ট অ্যাওয়ার্ড ২০২৩-এর গ্রাইন্ডিং আপগ্রেড স্বীকৃতি পেয়েছে ইউসিআইএল। গ্রাইন্ডিং সার্কিটে ইনোভেটিভ ডিজাইনের মাধ্যমে ক্যাপাসিটি বাড়ানো এবং পাওয়ার কনজাম্পশনে সাশ্রয়ের জন্য এ স্বীকৃতি পেয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। ইউসিআইএলের ফ্যাক্টরি ঘুরেও দেখা গেছে পরিবেশ সচেতনতা ও আধুনিক সব প্রযুক্তির উপস্থিতি। শ্রমিকদের নিরাপত্তা, অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা, পরিবেশবিষয়ক সচেতনতাসহ নানা কর্মযজ্ঞ চালু রেখেছে ইউসিআইএল।