দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের জন্য আমদানিই ছিল সিমেন্ট খাতের সর্বশেষ কথা। কিন্তু নব্বইয়ের দশক ও তার পরের দিনগুলোয় পরিস্থিতির পরিবর্তন হতে শুরু করে। সময়টিতে এগিয়ে আসেন বেসরকারি উদ্যোক্তারা। সিমেন্ট খাতে বিনিয়োগ করতে শুরু করেন তারা। সে সূত্র ধরেই ধারাবাহিকভাবে বাড়তে শুরু করে উৎপাদন সক্ষমতা। ক্রমে আমদানিনির্ভরতা থেকে রূপান্তর ঘটে সিমেন্ট শিল্পে স্বনির্ভর হয় দেশ। সম্প্রতি রফতানিকারকের খাতায়ও নাম লিখিয়েছে বাংলাদেশ। সিমেন্ট শিল্পের এ সফল অভিযাত্রায় অনিবার্যভাবে জড়িয়ে আছে শাহ সিমেন্টের নাম।

২০ বছর ধরে শাহ সিমেন্ট বাংলাদেশের শিল্প খাতে বিশ্বস্ত সহযোগী। বাংলাদেশ বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াচ্ছে দৃপ্ত ভঙ্গিতে। সেখানে সহযোগিতা করছে শাহ সিমেন্ট। দেশের এ সার্বিক অগ্রযাত্রার সঙ্গে নিজেদেরও প্রস্তুত করে নিয়েছে শাহ সিমেন্ট। দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে সিমেন্ট শিল্পে নেতৃত্ব দেয়া শাহ সিমেন্টের উৎপাদনে বিশ্বের সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়। প্রতিষ্ঠানটির ভার্টিক্যাল রোলার মিল বা ভিআরএমকে ‘পৃথিবীর একক বৃহত্তম’ হিসেবে সত্যায়িত এবং নথিভুক্ত করেছে গিনেজ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস। এর সঙ্গে বাংলাদেশের সিমেন্ট শিল্পও স্পর্শ করেছে এক নতুন মাইলফলক। শাহ সিমেন্টের ছয়টি রোলার সমন্বিত এই ভিআরএম প্রতিদিন ১৫ হাজার টন এবং বছরে ৬০ লাখ টন সিমেন্ট উৎপাদন করতে সক্ষম। এর গ্রাইন্ডিং টেবিল ডায়ামিটারটি ৮ দশমিক শূন্য ৮ মিটার এবং রোলার টেবিল ডায়ামিটারটি ২ দশমিক ৬৪ মিটার। জ্বালানিসাশ্রয়ী হিসেবে ভিআরএম প্রযুক্তি তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে সারা বিশ্বে সমাদৃত। শাহ সিমেন্টের নতুন এই ভিআরএম স্থাপনে কারিগরি ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা দিয়েছে ডেনমার্কের বিখ্যাত এফএল স্মিথ। নতুন এই ভার্টিক্যাল রোলার মিলে সর্বাধুনিক ডিজিটাল ও আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) প্রযুক্তি সংযুক্ত করা হয়েছে।

নতুন সৃষ্টি আর উদ্ভাবনে দেশের সর্বাধিক বিক্রীত এ সিমেন্ট সবসময়ই সামনে থেকে পথ দেখায়। এজন্যই শাহ সিমেন্ট দুই যুগ ধরে দেশের শীর্ষ সিমেন্ট উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান। যাত্রার শুরু থেকেই শাহ সিমেন্ট বাজারে শীর্ষস্থান দখল করে রেখেছে। প্রতি বছর সে অবস্থান আরো পোক্ত হচ্ছে। নতুন প্রযুক্তি যুক্ত হওয়ার মধ্য দিয়ে বাড়ছে সক্ষমতা। বাংলাদেশের সিমেন্ট শিল্পকে প্রতিষ্ঠানটি পৌঁছে দিয়েছে নতুন এক মাইলফলকে। শাহ সিমেন্ট ইন্ডাস্ট্রিয়াল কমপ্লেক্সের ভিআরএম প্রযুক্তির উৎকর্ষ, সার্বিক উৎপাদন ব্যবস্থা, মান ব্যবস্থাপনা, পণ্যের গুণগতমানের ধারাবাহিকতা ও স্টেট অব দ্য আর্ট ব্যাগিং প্লান্ট সেটাই প্রমাণ করে। প্রযুক্তিতে এগিয়ে থাকা এবং সিমেন্ট শিল্পে প্রতিষ্ঠানটির নেতৃত্বস্থানীয় ভূমিকা বাংলাদেশের নির্মাণ খাতে কাজ করা উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীদের অনুপ্রাণিত করেছে।

ক্রেতাবান্ধব হওয়াটাই মূলত বাজারে শীর্ষস্থানে থাকার প্রধান রহস্য। কেবল বসতবাড়ি নির্মাণে না দেশের বড় বড় প্রকল্পেও গুরুত্বপূর্ণ জায়গা দখল করে নিয়েছে শাহ সিমেন্ট।

শাহ সিমেন্ট যাত্রা শুরু করেছিল ২০০২ সালের মার্চে। উদ্দেশ্য ছিল দেশের নির্মাণ স্থাপনায় উল্লেখযোগ্য অবদান রাখা। তার জন্য সিমেন্ট উৎপাদনে বিশ্বের উন্নততর প্রযুক্তিকে বাংলাদেশের মাটিতে নিয়ে আসা। সেটা সম্ভবও হয়েছে তাদের হাত ধরে। বাংলাদেশে শাহ সিমেন্ট সবচেয়ে বড় সিমেন্ট উৎপাদন প্রতিষ্ঠান। বছরে প্রায় এক কোটি টন উৎপাদন সক্ষমতা প্রতিষ্ঠানটির।

শাহ সিমেন্টের প্লান্ট অবস্থিত মুন্সিগঞ্জের মুক্তারপুরে। শীতলক্ষ্যা ও ধলেশ্বরীর মধ্যবর্তী স্থানে। প্রাথমিকভাবে উৎপাদনক্ষমতা ছিল প্রতি বছর ৫২ লাখ টন। ক্রমে তারা ব্যবসা সম্প্রসারণ করেছে। সিমেন্টের ব্যবসা কেবল সিমেন্ট উৎপাদনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখেনি; সরবরাহের জন্য রাখা হয়েছে নিজস্ব পরিবহন ব্যবস্থা। জলপথ ও স্থলপথে আনা-নেয়ার ক্ষেত্রে যেন সরবরাহ চেইন নিরবচ্ছিন্ন রাখা এবং পরিবহন ব্যয় কমিয়ে রাখার জন্য নেয়া হয়েছে প্রচেষ্টা। পাশাপাশি সিমেন্টের ব্যাগের জন্য তৈরি করা হয়েছে স্বতন্ত্র ও সম্পূর্ণ নিজস্ব ব্যাগিং প্লান্ট। সে কারখানায় দিনে তিন লাখ ব্যাগ তৈরি হয়। শাহ সিমেন্টের অগ্রযাত্রা এখানেই থেমে যায়নি। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহে প্রতিষ্ঠানটির রয়েছে নিজস্ব বিদ্যুৎ কেন্দ্র; যেন উৎপাদনক্ষমতা কোনোভাবে ব্যাহত না হয়। শাহ সিমেন্টের নিজস্ব বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সক্ষমতা ১৭ মেগাওয়াট।

ক্রেতাদের সর্বোচ্চটা দেয়া নিশ্চিত করতে শাহ সিমেন্টের নিজস্ব মিক্সিং প্লান্ট আছে। প্রতিষ্ঠানটির তৎপরতা ও প্রচেষ্টা সিমেন্ট শিল্পকেই নতুনভাবে সংজ্ঞয়ন করছে এমন না। শাহ সিমেন্ট বাংলাদেশের নির্মাণ খাতের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছে দীর্ঘদিন ধরেই।

শাহ সিমেন্ট বাজারে গতানুগতিক সিমেন্টের তুলনায় শক্তিশালী। ফলে ভবন হয় আরো দৃঢ় ও দীর্ঘস্থায়ী। শাহ সিমেন্ট ভবনে দুর্বলতা রাখে না দেয়ালের ঘনত্ব বেশি থাকে। বালি ও ইটের মধ্যবর্তী শূন্যস্থানকে রাখে ন্যূনতম পর্যায়ে। ফলে ভবন হয় টেকসই। নির্মাণের মান যথোপযুক্ত রাখতে শাহ সিমেন্ট বরাবর বিচিত্র সব দিকে চোখ রেখেছে। বিনিয়োগকারী ও গ্রাহকের অনুকূলে থাকার পাশাপাশি সার্বিকভাবে দেশের কল্যাণে করেছে কাজ। সে সূত্র ধরেই বছরের পর বছর শাহ সিমেন্ট বেশকিছু দেশী ও আন্তর্জাতিক পুরস্কার ঝুলিতে তুলেছে। বাংলাদেশ ব্র্যান্ড ফোরাম সিমেন্ট ক্যাটাগরিতে সেরা ব্র্যান্ডের পুরস্কার চালু করার প্রথম বছরেই শাহ সিমেন্ট ২০১০ সালে সেরা ব্র্যান্ডের স্বীকৃতি অর্জন করে। এরপর ২০১৬ সালেও দ্বিতীয়বারের মতো শাহ সিমেন্ট অর্জন করে ‘শ্রেষ্ঠ সিমেন্ট ব্র্যান্ডের’ স্বীকৃতি। পরবর্তী বছরগুলোয়ও অব্যাহত রেখেছে সে সফলতার যাত্রা। ২০২৩ সালে টানা তৃতীয়বারের মতো ‘সুপারব্র্যান্ডস বাংলাদেশ’ পুরস্কার পায় প্রতিষ্ঠানটি।

শাহ সিমেন্ট টেকসই উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। বাণিজ্যিকভাবে পেশাদারিত্বের কারণে প্রশংসিত হয়েছে গ্রাহকের কাছে। গ্রাহকের সঙ্গে যোগাযোগ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। ভোক্তাকে অগ্রাধিকার দিয়েই পণ্যের মানকে ঠিক রেখে দামকে ন্যূনতম রাখার জন্য নেয়া হয়েছে পদক্ষেপ। তার প্রমাণ স্বরূপ বাজারে দুই যুগ ধরে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে কোম্পানিটি।