আকিজ বশির গ্রুপ বর্তমানে বাংলাদেশের শিল্প খাতে সবচেয়ে দ্রুতবর্ধনশীল কনগ্লোমারেটদের একটি। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই নিজেদের সম্প্রসারণের সময় আকিজ বশির গ্রুপ অসংখ্য চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে আসছে। ইস্পাতের বাজার যাচাইয়ের সময় আকিজ বশির লক্ষ করেছিল বিদ্যমান প্রিফেব্রিকেটেড স্টিল বিল্ডিং উৎপাদকরা বাজারের চাহিদা পুরোপুরি মেটাতে পারছে না। আকিজ বশির তখন নিজেদের দীর্ঘদিনের শিল্প খাতের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে এ খাতে যাত্রা শুরুর সিদ্ধান্ত নেয়। প্রতিষ্ঠার শুরু থেকেই ১০-১২ হাজার টন প্রিফেব্রিকেটেড স্টিলের বার্ষিক চাহিদার সঙ্গে তাল মেলাতে আকিজ বশির গ্রুপকে বারবার উপাদানের গুণগত মান এবং সরবরাহকারীদের থেকে কাঁচামাল ও অন্যান্য উপাদান দেরিতে সরবরাহ করা নিয়ে সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়েছিল।
এ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করার জন্য প্রতিষ্ঠাতা শেখ বশির উদ্দিনের উদ্যোগে ২০১৬ সালের শেষ দিকে মানিকগঞ্জের ঘিওরে আকিজ স্টিল মিলস লিমিটেডের (ASML) কারখানা প্রতিষ্ঠা করা হয়। ASML এর পর থেকে প্রিফেব্রিকেটেড/প্রিইঞ্জিনিয়ারড স্টিল বিল্ডিং ও ইস্পাত নির্মিত স্টোরেজ সলিউশনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অন্যতম নির্মাতা ও সরবরাহকারী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ASML সাশ্রয়ী মূল্যে গ্রাহকের চাহিদা অনুসারে কাস্টমাইজড কাঠামোর প্রিফেব্রিকেটেড স্টিল সরবরাহ করে। বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন দেশের সরবরাহকারীদের থেকে এ গ্রেডসম্পন্ন কাঁচামাল সংগ্রহ করে উচ্চ স্তরের গুণ-মান নিশ্চিত করা হয়। ASML উৎপাদিত ইস্পাতের কাঠামো সারা দেশে শত শত সফল প্রকল্প সম্পন্ন করতে ব্যবহার হয়েছে।
নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে প্রিফেব্রিকেটেড স্টিল বিল্ডিং ও হেভি ডিউটি র্যাকিং সিস্টেম ডিজাইন, উৎপাদন ও স্থাপনের ক্ষেত্রে ASML বর্তমানে ওয়ান-স্টপ সলিউশন হিসেবে পরিচিত।
৪০ হাজার বর্গফুটের শেড ও ২০০ কর্মী নিয়ে চালু হওয়া ASML-এর কারখানাটি নিজেদের উৎপাদনক্ষমতা ও দক্ষতা বাড়ানো এবং ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণের সুযোগ রেখে বিশেষভাবে ডিজাইন করা হয়েছিল। এখন পর্যন্ত কারখানাটি মোট ৪১৪ জন শ্রমিক নিয়োগ করেছে, যা প্রতিষ্ঠার পর থেকে কারখানার ক্রমবর্ধমান প্রবৃদ্ধি ও সম্প্রসারণের প্রতিফলন। কারখানার মূল শেড প্রাথমিক আকারের চেয়ে দুই-আড়াই গুণ সম্প্রসারণ হয়েছে। বর্তমানে ১ লাখ ১৩ হাজার বর্গফুটের শেডে সম্প্রসারণ হওয়ার পাশাপাশি এক লাখ বর্গফুট খোলা এলাকা কারখানার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। বর্তমানে এ কারখানার উৎপাদন সক্ষমতা বার্ষিক ২০-২২ হাজার টন। ব্যবসা অব্যাহতভাবে বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আকিজ স্টিল মিলস ভবিষ্যতে কারখানা আরোর সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করছে, যা কারখানার উৎপাদন সক্ষমতা ও দক্ষতা বাড়াবে।
আকিজ স্টিল মিলসের কারখানা সরাসরি ও পরোক্ষভাবে প্রায় দুই হাজার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে, যার মধ্যে উপকরণ সরবরাহ, নির্মাণ, পরিবহন ইত্যাদিত খাতসংশ্লিষ্ট কাজের সুযোগ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে কর্মীদের জন্য ব্যাপক সুবিধা দেয়া হয়। এর মধ্যে রয়েছে দুটি বার্ষিক বোনাস, গ্র্যাচুইটি, অতিরিক্ত কাজের পারিশ্রমিক, চিকিৎসাসেবা ও আকিজ ট্রাস্টের তত্ত্বাবধানে জাকাত ফান্ড থেকে অনুদান। শ্রমিকরা ৫২টি সাপ্তাহিক ছুটি, ২১টি অতিরিক্ত ছুটি ও ২০ দিন অর্জিত ছুটি উপভোগ করেন, যার মাধ্যমে তাদের জন্য সহযোগিতাপূর্ণ ও সহজ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা হয়।
কারখানায় বর্তমানে বিভিন্ন উন্নত ও আধুনিক যন্ত্রপাতি রয়েছে। যেমন—
১. সিএনসি ফাইবার লেজার কাটিং মেশিন (৩০-৪০ মিমি প্লেটের জন্য)।
২. শিয়ার মেশিন (দুটি ইউনিট, ১২-৩০ মিমি প্লেটের জন্য)।
৩. সাবমার্জড অটো আর্ক ওয়েল্ডিং মেশিন (এসএডব্লিউ)।
৪. শট ব্লাস্টিং মেশিন।
৫. একাধিক ওভারহেড ক্রেন ও গ্যান্ট্রি ক্রেন।
৬. স্লিটিং মেশিন (৬ মিমি পর্যন্ত)।
৭. ক্লিপ লক রুফিং প্রোফাইল মেশিন (১৫০ ফুট পর্যন্ত রুফিং করতে পারে, কোনো জয়েন্ট বা ক্রু ছাড়াই)।
বর্তমানে ASML দেশের বিভিন্ন ইপিজেড যেমন আদমজী ইপিজেড, ঢাকা ইপিজেড, চট্টগ্রাম ইপিজেড ও জামালপুর ইকোনমিক জোনে প্রিফেব্রিকেটেড ইস্পাত কাঠামোর উপকরণ সরবরাহ করছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক বাজার যেমন—নেপাল, পাকিস্তান, শ্রীলংকা ইত্যাদি দেশে নিজেদের উৎপাদিত পণ্য রফতানির পরিকল্পনাও রয়েছে বলে জানিয়েছে আকিজ স্টিল মিলস কর্তৃপক্ষ।





