বাংলাদেশে ঢেউটিনের শুরু চিটাগং স্টিল মিলসের মাধ্যমে। ১৯৬৭ সালে চালু হওয়া সরকারি এ কারখানায় বিলেট ও লোহার পাতের পাশাপাশি ঢেউটিনও তৈরি হতো। স্বাধীনতার পরও প্রতি বছর ঢেউটিন আমদানি হতো। মূলত নব্বইয়ের দশকে ঢেউটিনের চাহিদাকে বিবেচনায় নিয়ে উদ্যোক্তারা বড় কারখানা স্থাপনের উদ্যোগ নেন। ১৯৯৮ সালে চট্টগ্রামে ঢেউটিনের কাঁচামাল কোল্ড রোলড বা সিআর কয়েল তৈরির কারখানা স্থাপনের কাজ শুরু হয়। আবুল খায়ের, পিএইচপি, টিকে, কেডিএস ও এস আলমের মতো শিল্পপ্রতিষ্ঠান বড় ফ্যাক্টরি চালু করে। ক্রমে উৎপাদনে যুক্ত হয় স্বয়ংক্রিয় প্রক্রিয়া। রঙিন ঢেউটিন তৈরির মধ্য দিয়ে শুরু হয় বৈচিত্র্য। শুরুতে জিঙ্কের প্রলেপযুক্ত ঢেউটিন উৎপাদন হলেও পরে চালু হয় অ্যালুমিনিয়ামের প্রলেপযুক্ত ঢেউটিন। আবার ইস্পাতের কাঠামোর কারখানা নির্মাণে বড় বড় ঢেউটিন বা প্রোফাইলও উৎপাদন শুরু করেন বড় উদ্যোক্তারা। একসময় দেশে সাধারণ ঢেউটিন উৎপাদন হলেও এখন বহুমুখী পণ্য তৈরি হচ্ছে। জিঙ্ক ও অ্যালুমিনিয়ামের প্রলেপযুক্ত ঢেউটিন, রঙিন ঢেউটিন, কারখানার ছাদ তৈরির প্রোফাইলসহ অনেক পণ্য তৈরি হচ্ছে। দেশে নতুন উদ্যোগ গড়ে ওঠার সূত্র ধরে ব্যবসা সম্প্রসারণ হচ্ছে প্রোফাইল বা ইন্ডাস্ট্রিয়াল শিটের।
অপরিশোধিত ইস্পাতের পাত থেকে ঢেউটিন তৈরিতে নেতৃত্ব দিচ্ছে মূলত আবুল খায়ের ও পিএইচপি গ্রুপ। কেডিএস গ্রুপের কেওয়াইসিআর কয়েল ইন্ডাস্ট্রিজ, টিকে গ্রুপের হাতেও বাজার অংশীদারত্ব রয়েছে। ঢেউটিনের পাশাপাশি গ্রাম ছাড়িয়ে শহরেও চাহিদা বাড়ছে প্রোফাইল শিটের। মেট্রোরেল, উড়াল সড়ক, টানেলের মতো প্রকল্প এলাকায় প্রকল্পের চারপাশ ঘেরাও করার জন্য দরকার হচ্ছে প্রোফাইল শিট। নতুন করে বড় চাহিদা তৈরি হচ্ছে কারখানা ও শেড স্থাপনে। দ্রুত নির্মাণের জন্য ইস্পাতের কাঠামো ব্যবহৃত কারখানার সংখ্যা বাড়ছে। এসব কারখানায় ছাদ ও চারপাশ ঘেরাও করার জন্য দরকার শিল্পের ঢেউটিন বা প্রোফাইল। পণ্যের বহুমুখীকরণে বাজারও বড় হচ্ছে। অনেক প্রতিষ্ঠানই নানাভাবে এগিয়ে আসছে।
প্রোফাইল শিট তৈরিতে সামনের সারিতে রয়েছে আবুল খায়ের স্টিল, কেওয়াই স্টিল, পিএইচপি স্টিল, অস্ট্রেলিয়ান ক্যাঙারু ও টাটা ব্লু স্কোপ। শিটের রঙ সাধারণত নেভি ব্লু, গ্রিন, মিস গ্রিন, ব্রিক রেড কিংবা বিভিন্ন প্রকার হয়। প্রোফাইল বা ইন্ডাস্ট্রিয়াল শেড ঘরবাড়ি, ফ্যাক্টরি শেড, কনস্ট্রাকশন বাউন্ডারি অথবা সেফটি শেড, ওয়ার্কশপ, গ্যারেজ, এগ্রো ফার্ম শেড, মৎস্য খামার ও অন্যান্য কাজে বহুল ব্যবহৃত একটি নির্ভরযোগ্য পণ্য।
ইস্পাত শিল্পকে বলা হয় মাতৃশিল্প। লং স্টিলে শুধু রড, চ্যানেল ও অ্যাঙ্গেলের মতো গুটিকয় পণ্য রয়েছে। তবে ফ্ল্যাট স্টিল বা ইস্পাতের পাত শিল্প থেকে হাজারো পণ্য তৈরি হয়। প্রোফাইল শিট সেদিক থেকে একটি সম্ভাবনাময় খাত। দেশে চাহিদা বেশি থাকায় ইস্পাতের পাত শিল্পগুলো এখন সবচেয়ে বেশি উৎপাদন করছে ঘর ও কারখানায় ব্যবহারের ঢেউটিন। আগামীর দিনগুলোয় এ চাহিদা আরো বাড়বে বলে পূর্বাভাস দিয়েছেন খাতসংশ্লিষ্টরা।





