শিল্প-কারখানায় প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ বিঘ্নিত হলে নতুনভাবে এলপিজি ব্যবহারের মাধ্যমে কারখানার স্টিম চালু রাখার এক বিকল্প পদ্ধতি দেশে নিয়ে এসেছে ওমেরা পেট্রোলিয়াম লিমিটেড।এ পদ্ধতিতে ব্যবহৃত হয় সিনথেটিক ন্যাচারাল গ্যাস (এসএনজি)। সাধারণত, যেসব কারখানার ওভেন বন্ধ করলে লোকসানে পড়তে হয়, সেসব শিল্পে প্রাকৃতিক গ্যাসের চাপ কমার সঙ্গে একই সময় একই পরিমাণ এসএনজি ব্যবহার করে মেশিনারিজ চালু রাখা সম্ভব। ফলে নতুন এ পদ্ধতি ব্যবহারে ৩০ শতাংশ গ্যাস খরচও কমে যায়। বাংলাদেশ সরকার প্রাকৃতিক গ্যাসের সরবরাহ নিশ্চিতকরণে গ্যাস খনন কাজসহ অন্যান্য প্রচেষ্টা চালিয়ে গেলেও দেশে পর্যাপ্ত প্রাকৃতিক গ্যাসের সংকট এখনো বিদ্যমান। এরই মধ্যে আমরা দেখেছি, অনেক কারখানা গ্যাস সংযোগের আওতায় আসতে পারছে না। গার্মেন্টস ইন্ডাস্ট্রিসহ যারা বিশেষত বয়লার, স্ট্যান্টার পরিচালনা করে তারা পর্যাপ্ত গ্যাস প্রেসার পাচ্ছে না। আবার ডিজেলের দামও তুলনামূলক অনেক বেশি। এসব জায়গায় এলপিজি ব্যবহার করে স্টিম চালু করা সম্ভব। এছাড়া আরো ৩০ শতাংশ সাশ্রয়ী মূল্যে ব্যবহার করা সম্ভব। শিল্পকে সক্রিয় রাখতে ওমেরা এসএনজি পদ্ধতি নিয়ে কাজ করছে। এ পদ্ধতির মাধ্যমে শিল্পে এলপিজির নতুন ব্যবহারকারী তৈরি হচ্ছে। এর ফলে অনেক শিল্প বিশেষ করে গার্মেন্ট ফ্যাক্টরি, স্টিল, সিরামিক, কাচ শিল্পের উদ্যোক্তারা এগিয়ে আসছেন।
তানজীম চৌধুরী, সিইও, ওমেরা পেট্রোলিয়াম লিমিটেড এবং ওমেরা সিলিন্ডার্স লিমিটেড
এর মধ্যে দুই রকম ব্যবহারকারী আছে। এক রকম হচ্ছে যাদের গ্যাস সরবরাহ নেই, আরেক প্রকার হচ্ছে যাদের গ্যাস আছে, কিন্তু গ্যাসের চাপ কম। এলপিজি ৩০ শতাংশ সাশ্রয়ী মূল্যে যেহেতু পাচ্ছে সেহেতু তারা এর প্রতি ঝুঁকছে। সামনে এ মার্কেট আরো বড় হবে। এছাড়া অটোগ্যাস আছে, যা পেট্রোল, ডিজেলের তুলনায় অনেক বেশি সাশ্রয়ী। অনেক গাড়ি অটোগ্যাসের প্রতি আগ্রহ দেখাচ্ছে।
সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জের ভুলতায় অবস্থিত ফকির ফ্যাশনস লিমিটেডকে (এফএফএল) এলপিজি সরবরাহ করতে চুক্তি করেছে ওমেরা পেট্রোলিয়াম লিমিটেড সাথে দেশের শিল্প খাতে প্রাকৃতিক গ্যাসের পরিবর্তে এলপিজি ব্যবহার বাড়াতেও ওমেরা কাজ করছে। ২০১৫ সালে যাত্রা হওয়া ওমেরা পেট্রোলিয়াম এখন দেশের বৃহত্তম এলপিজি অপারেটরদের একটি।
এলপিজি খাত নিয়ে ইস্ট-কোস্ট গ্রুপ পরিকল্পনা শুরু করে নব্বইয়ের দশকে। গ্রুপের চেয়ারম্যান আজম জে চৌধুরী এ নিয়ে পরিকল্পনাও করেন। সর্বশেষ বিনিয়োগের পূর্ণ সিদ্ধান্ত নেয়া হয় ২০০৭-০৮-এর দিকে। বিনিয়োগের জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাও করে গ্রুপটি। বিনিয়োগকারীরা দেখেছেন, ২০০১ সালের আগে এলপিজি আমদানি হতো মোংলা বন্দরে ও চট্টগ্রাম বন্দরে। সেখান থেকে সিলিন্ডার বোতলে করে গ্যাস সরবরাহ হতো সারা দেশে। বিনিয়োগ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বিদেশী পরামর্শকদের মাধ্যমে সারা দেশ ম্যাপিং করা হয়। এ সময় দেশের কোন কোন অঞ্চলে স্যাটেলাইট প্লান্ট স্থাপনের মাধ্যমে ভোক্তার কাছে সবচেয়ে কম মূল্যে ও স্বল্প সময়ে এলপিজি সিলিন্ডার পৌঁছে দেয়া যায় তা নির্ধারণ করা হয়। ম্যাপিংয়ের মাধ্যমে চার-পাঁচটি স্থান নির্ধারণ করেন পরামর্শকরা। সে অনুযায়ী স্যাটেলাইট প্লান্ট স্থাপন ও যাবতীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেয়া হয়।
২০১১-১২ সালের দিকে একসঙ্গে চারটি প্লান্টের নির্মাণকাজ শুরু করে ওমেরা। তার মধ্যে একটি ইমপোর্ট টার্মিনাল, তিনটি বোটলিং প্লান্ট। এর সঙ্গে ছিল তিনটি জাহাজ, আলাদা কোম্পানি ওমেরা সিলিন্ডারস লিমিটেডের মাধ্যমে সিলিন্ডার প্রস্তুতকরণ শুরু হয়। ওমেরা পেট্রোলিয়ামের সহযোগী কোম্পানি হিসেবে এর কার্যক্রম শুরু হয়। একসঙ্গে পাঁচটি ইন্ডাস্ট্রি, জাহাজের অবকাঠামো নির্মাণও শুরু করেন বিনিয়োগকারীরা।
ওমেরা পেট্রোলিয়াম লিমিটেডের ইপিসি ছিল একটা জয়েন্ট কোম্পানি, ফ্রেঞ্চ-বেলজিয়াম জয়েন্ট ভেঞ্চার। এটা পুরোটাই ইউরোপীয় সেটআপ এবং সিলিন্ডার ফ্যাক্টরি তুরস্কের সেটআপ ছিল। কোনো ধরনের সমস্যা ছাড়াই ২০১৪ সালে শেষ হয় প্রকল্পের কাজ। ২০১৫ সালে ওমেরা পেট্রোলিয়াম লিমিটেড আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা করে।
ওমেরা প্রতি মাসে একটা ভিএলজিসি (ভেরি লার্জ গ্যাস ক্যারিয়ার) আমদানি করে। এর ধারণক্ষমতা ৪৪ হাজার মেট্রিক টন। সোর্স হিসেবে কাতার, যুক্তরাষ্ট্র, সৌদি আরামকো থেকে সরাসরি আমদানি করা হয়। এখানে কোনো মধ্যস্বত্বভোগী নেই। সেখান থেকে ভিএলজিসি আসে, সেটা বঙ্গোপসাগরে অপেক্ষা করে। ভিএলজিসি থেকে এলপিজি নিয়ে আসা হয় ফিডার ভেসেলে। এগুলো আড়াই-তিন হাজার মেট্রিক টন ধারণক্ষমতার। ফিডার ভেসেলগুলো কুতুবদিয়া থেকে মোংলা ও চট্টগ্রামে গ্যাস নিয়ে আসে, পরে বোটলিং করা হয়। সেখান থেকে আবার তুলে দেয়া হয় ছোট ভায়াসে, ঢাকায় নিয়ে আসার জন্য। আবারো বোটলিং করে বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হয়।
কারখানা নির্মাণকালীন নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতা মোকাবেলা করতে হয় বিনিয়োগকারীদের। বিশেষ করে অর্থসংস্থান, বিদ্যুৎ, গ্যাস সংযোগ, স্থান নির্ধারণ, শ্রমিকের জোগান, প্রযুক্তিগত সমস্যা মোকাবেলা প্রতিবন্ধকতাগুলোর অন্যতম। প্রথমত, কৌশলগত ভূমিপ্রাপ্তি বিনিয়োগকারীদের জন্য বড় প্রতিবন্ধকতা। তবে বিদেশী পরামর্শক টিমের পরামর্শ অনুযায়ী, কৌশলগত অবস্থানে ওমেরা টিম জায়গা ক্রয় করে। এতে কোম্পানির পর্যাপ্ত সময়ও ব্যয় হয়েছে। তবে বাস্তবতা মেনে নিয়ে কাজ করতে থাকে ওমেরা টিম। স্থানীয়দের সহযোগিতা অবশ্য কাজকে আরো সহজ করে দিয়েছিল। যন্ত্রাংশ ব্যবহারে ওমেরা ইপিসির সুযোগ নিয়েছে। এতে ইউরোপীয় যন্ত্রপাতি ও গ্যাস প্রুফ লাইট আমদানি সম্ভব হয়েছে। এর মাধ্যমে পূর্ণ কারখানা গড়ে তুলতে পেরেছে ওমেরা পেট্রোলিয়াম লিমিটেড।
দেশে প্রাকৃতিক গ্যাস সংকট এলপিজি ব্যবসাকে বিস্তৃত করছে। ২০১৪-১৮ সাল পর্যন্ত সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, নতুন করে বাসাবাড়িতে গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব নয়। নীতিনির্ধারকদের পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছিল, প্রাকৃতিক গ্যাস যাবে শিল্পাঞ্চল, সার কারখানা, উৎপাদনশীল খাতে। ফলে বাসাবাড়িতে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করার ঘোষণা এবং শিল্পে প্রাকৃতিক গ্যাস সংকট এলপিজির বাজার বিস্তৃতে ভূমিকার রেখেছে। দেশে এখন প্রায় ১৫ লাখ মেট্রিক টন গ্যাস আমদানি হয়। ভারত বা থাইল্যান্ডের তুলনায় এ পরিমাণ যদিও খুব সামান্যই। বর্তমানে দেশে এলপিজি ব্যবহার বাড়ানোরও অনেক সুযোগ রয়েছে। জাইকার হিসাব অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে এ সরবরাহ ৩০ লাখ মেট্রিক টনে পরিণত হবে। এ প্রবৃদ্ধিতে সহযোগিতা করতে এ শিল্পের বড় অবকাঠামো ব্যবস্থা প্রয়োজন। এর জন্য অবশ্য প্রয়োজনীয় নীতিসহায়তা দেয়া হচ্ছে সরকারের পক্ষ থেকে।
এ খাতে অবশ্য বিভিন্ন সংকটও রয়ে গেছে। গ্যাস আমদানিতে এখনো ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে কোম্পানিগুলোকে। ভিএলজিসির মাধ্যমে বিদেশ থেকে গ্যাস আনার পর বহির্নোঙরে দীর্ঘ সময় রাখার কারণে বড় অংকের ভাড়া গুনতে হচ্ছে। আড়াই হাজার মেট্রিক টন ধারণক্ষমতার ফিডার ভেসেলে অল্প অল্প করে তা নিয়ে আসায় জাহাজকে বহির্নোঙরে রাখতে হয় প্রায় এক মাস। যদি পুরো ভিএলজিসি নিয়ে একেবারে গভীর সমুদ্রবন্দরে খালাস করা সম্ভব হতো তাহলে ব্যয় কমে আসত। তখন এলপিজির দামও আরো কমে যাবে।
এলপিজির বাজার আগামীতে আরো বড় হবে বলে বিশ্বাস এ খাতের অংশীজনদের। কেননা এখন ডিজেলের দাম বেশি। দুই বছর আগে ডিজেলে ভর্তুকি দিত সরকার। ফলে এলপিজির চেয়ে তখন ডিজেলেই মানুষ বেশি আগ্রহী হতো। এখন ধীরে ধীরে ভর্তুকি তুলে দেয়া হচ্ছে, সামনের দিনে এটি আরো থাকবে না। তখন মানুষ এলপিজির প্রতি আগ্রহী হবে।
আমদানি ও সরবরাহের মাধ্যমে এলপিজির বাজার ব্যবস্থাপনা নিয়ন্ত্রণ করা হয়। বর্তমানে দেশে বছরে ১৫ লাখ মেট্রিক টন এলপিজির চাহিদা রয়েছে। মাসে আমদানি হয় ১ লাখ ১০ থেকে ২০ হাজার মেট্রিক টন। এর মধ্যে ৪৪ হাজার মেট্রিক টন এলপিজি আমদানি করে ওমেরা পেট্রোলিয়াম লিমিটেড। অর্থাৎ মার্কেট শেয়ারে ৫০ শতাংশের কাছাকাছি এলপিজি আসে এ কোম্পানির মাধ্যমে। আবার আমদানীকৃত এলপিজির ৩৫ হাজার মেট্রিক টন ওমেরা পেট্রোলিয়াম নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় সরবরাহ করে। বাকি ৯ হাজার মেট্রিক টন সরবরাহ করে অন্য অপারেটররা।
এলপিজি ব্যবহারে পরিবেশগত ইতিবাচক দিকও রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এক টন এলপিজি ৪৬টি গাছের জীবনচক্রের সমান। গ্রামে গাছ পোড়ানোর মাধ্যমে যে পরিমাণ কার্বন ডাই-অক্সাইড উৎপন্ন হয়, এলপিজি ব্যবহারের মাধ্যমে তা দ্রুত কমে আসে। ফলে বাসাবাড়িতে এলপিজি ব্যবহারের মাধ্যমে ৪৬টি গাছ পোড়ানো থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব। এর মাধ্যমে বড় ধরনের পরিবেশগত সংকটও মোকাবেলা করা হয়। এলপিজি ক্লিন অ্যান্ড গ্রিন ফুয়েলের অন্তর্ভুক্ত, যা পরিবেশকে ক্ষতি থেকে রক্ষা করে।
এলপিজি সরবরাহে অগ্রণী ভূমিকা রাখছে ওমেরা পেট্রোলিয়াম লিমিটেড। সবচেয়ে বড় শক্তি হচ্ছে তাদের সাপ্লাই সিস্টেম। ওমেরার রিফাইনারি থেকে বাসা পর্যন্ত পুরো সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর নিয়ন্ত্রণ রয়েছে ওমেরার। যে সিলিন্ডারে গ্রাহক গ্যাস পাচ্ছে, সেটিও তারা তৈরি করে দিচ্ছে। এর বাইরে নিরাপত্তা ও গুণগত মানোন্নয়নের জন্যও কাজ করছে ওমেরা। সারা দেশের গ্রাম ও মহল্লায় নিরাপত্তা কর্মসূচি নিচ্ছে, যাতে মানুষ এলপিজি দুর্ঘটনা নিয়ে সচেতন হয়। অ্যানুয়াল মেইনটেন্যান্স কন্ট্রাক্ট (এএমসি) কিনলে তিন মাস পরপর ইন্ডাস্ট্রিতে সেফটি অডিট করে দেয় ওমেরা। সব ধরনের এলপিজি মেশিনারিজ পরীক্ষা করে। তাছাড়া হটলাইন সেবা ১৬৭৯৭-এ কল করলে এলপিজিভিত্তিক যেকোনো সেবা দেয় প্রতিষ্ঠানটি। এর বাইরে ওমেরা এলপিজি সলিউশন নামে একটি অ্যাপ নিয়ে আসছে। এ অ্যাপের মাধ্যমে সব ধরনের সেবাই থাকবে। কেননা গুণে-মানে কোনোভাবেই আপস করতে চায় না ওমেরা।
জুলাই-আগস্টের আন্দোলনের সময়ও এলপিজি সরবরাহের মাধ্যমে রান্নার সাপ্লাই চেইন ধরে রেখেছিল ওমেরা। ওই সময় কারফিউ জারির পর ব্যাংক বন্ধ ছিল। তাই প্রতিষ্ঠানটির প্রথম অবজেক্টিভ ছিল–মানুষকে নিরাপদে রাখতে হবে। তারা নিশ্চিত করতে চেয়েছিল, গ্রাহকদের কাছে ঠিকভাবে এলপিজি পৌঁছাচ্ছে কিনা। পুরো কারফিউতে তাই ওমেরার প্লান্ট খোলা ছিল। এ সময় রোড ট্যাঙ্কার কাজ করেছে। কারফিউর শিথিলের ৬-৭ ঘণ্টার মধ্যে প্রত্যেকটা রিটেইল সেলারের কাছে যাতে তা পৌঁছে যায় সে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। অনেক ডিস্ট্রিবিউটরের কাছ থেকে পরেও পেমেন্ট নিয়েছে। ওমেরা নিশ্চিত করতে চেয়েছে, মানুষ যাতে নিরাপদ থাকে, তাদের রান্না ও খাবার যাতে নিয়মিত হয়।
ওমেরা তাদের এলপিজির পরিবেশকদের সব সময় পার্টনার হিসেবে বিবেচনা করে। প্রতিষ্ঠানটির ৩০০-এর মতো পার্টনার রয়েছে। এর বাইরে ডিস্ট্রিবিউটররা রিটেইলারদের কাছেও এলপিজি বিক্রি করছে। রিটেইলারের পরিমাণ কয়েক হাজার। সারা দেশে ওমেরার ৬০ লাখ সিলিন্ডার আছে। ফলে একদম তৃণমূলের হিসাব করলেও প্রায় ২ কোটি ৮০ লাখ গ্রাহক ওমেরা পেট্রোলিয়াম লিমিটেডের কাছ থেকে সেবা পাচ্ছে।





