বঙ্গবন্ধুর ব্যক্তিজীবন ও রাজনৈতিক জীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হচ্ছে কলকাতা। এ শহরে প্রথমে তিনি এসেছিলেন চিকিৎসার জন্য। এখানেই তরুণ শেখ মুজিবের রাজনৈতিক জীবনের উত্থান ঘটে। ১৯৪২ সালে উচ্চ মাধ্যমিকের পাঠ গ্রহণের জন্য কলকাতায় আসেন বঙ্গবন্ধু। ভর্তি হন বিখ্যাত ইসলামিয়া কলেজে, যা বর্তমানে মৌলানা আজাদ কলেজ। এর ফলে সুযোগ ঘটে বাংলার বৃহত্তর রাজনীতির সঙ্গে একাত্ম হওয়ার। হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, এ কে ফজলুল হক, সুভাষচন্দ্র বসু, আবুল হাশিমদের মতো চিন্তানায়কদের সান্নিধ্য বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক জীবনের বুনিয়াদ নির্মাণে সহায়তা করে। জড়িয়ে পড়েন চল্লিশের দশকের কলকাতার উত্তাল অস্থির সময়ের রাজনৈতিক ও সামাজিক ঘটনাপ্রবাহে। ১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্ট পাকিস্তান সৃষ্টির পর বঙ্গবন্ধু ঢাকায় চলে আসেন। কিন্তু মাঝের এ চারটি বছর ছিল তার জীবনের ঘটনাবহুল সময়। ঘটনাবহুল এ কলকাতা জীবনের বিবরণ উঠে এসেছে ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’তে।
ঔপনিবেশিক ভারতবর্ষ তথা বাংলার সবচেয়ে অগ্রসর শহর হচ্ছে কলকাতা। শিক্ষা থেকে চিকিৎসা সবখানেই কলকাতা বাংলার অন্যান্য শহর থেকে যোজন যোজন দূরে এগিয়ে ছিল। আবার উপনিবেশ-বিরোধী আন্দোলন যখন দানা বাঁধছে তখন সব বিপ্লবীর আস্তানা ছিল কলকাতা। কলকাতার যেকোনো ঘটনার ঢেউ যেমন পূর্ব বাংলার বিভিন্ন শহরে এসে পৌঁছত, তেমনি পূর্ব বাংলার মানুষজনকে নানা কাজে কলকাতা যেতে হতো, তা শিক্ষা বা স্বাস্থ্য যাই হোক না কেন। এটা ছিল বাংলার নগরায়ণ গড়ে ওঠার সঙ্গে তৈরি হওয়া গ্রাম-নগরের এক ঐতিহাসিক প্রক্রিয়া। কলকাতার সঙ্গে বঙ্গবন্ধুর সম্পর্ক তৈরির প্রাথমিক যোগসূত্র হচ্ছে ঔপনিবেশিক বাংলার নগরায়ণের এ ঐতিহাসিক বাস্তবতা।
বঙ্গবন্ধু প্রথম দুইবার কলকাতা গিয়েছিলেন অসুস্থতার কারণে। প্রথম গিয়েছিলেন ১৯৩৪ সালে। কিশোর থাকা অবস্থায় তিনি বেরিবেরি রোগে আক্রান্ত হন। তার হৃদযন্ত্র দুর্বল হয়ে পড়ে। চিকিৎসার জন্য পিতার সঙ্গে কলকাতা গমন করেন। বঙ্গবন্ধু তার অসমাপ্ত আত্মজীবনীতে লিখেছেন, ‘হঠাৎ বেরিবেরি রোগে আক্রান্ত হয়ে আমার হার্ট দুর্বল হয়ে পড়ে। আব্বা আমাকে কলকাতায় চিকিৎসা করাতে নিয়ে যান। কলকাতার বড় বড় ডাক্তার শিবপদ ভট্টাচার্য, এ কে রায় চৌধুরী আরও অনেককে দেখান এবং চিকিৎসা করাতে থাকেন। প্রায় দুই বছর ওভাবে চললো।’
দ্বিতীয়বারও কলকাতা যান চিকিৎসার জন্য। ১৯৩৬ সালের দিকে তার আরেকটি সমস্যা দেখা দেয়। চোখের দৃষ্টিশক্তি কমে আসে। তাকে তখন কলকাতা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। সেখানে তৎকালীন বিখ্যাত চক্ষুরোগ বিশেষজ্ঞ টি. আহমেদ তার দুই চোখে অপারেশন করান। উদ্ধৃতি দীর্ঘ হলেও বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী থেকে সে অভিজ্ঞতা তুলে ধরছি:
১৯৩৬ সালে আবার আমার চক্ষু খারাপ হয়। গ্লুকোমা নামে একটি রোগ হয়। ডাক্তারদের পরামর্শে আব্বা আমাকে নিয়ে আবার কলকাতায় রওয়ানা হলেন চিকিৎসার জন্য। এই সময় আমি মাদারীপুর হাইস্কুলে সপ্তম শ্রেণিতে ভর্তি হয়েছিলাম লেখাপড়ার জন্য। কলকাতা যেয়ে ডাক্তার টি. আহমেদ সাহেবকে দেখালাম। আমার বোন কলকাতায় থাকত, কারণ ভগ্নিপতি এজিটিতে (অ্যাকাউন্ট জেনারেলের অফিস) চাকরি করতেন। তিনি আমার মেজ বোন, শেখ ফজলুল হক মণির মা। মণির বাবা পূর্বে সম্পর্কে আমার দাদা হতেন। তিনিও শেখ বংশের লোক। বোনের কাছেই থাকতাম। কোন অসুবিধা হত না। ডাক্তার সাহেব আমার চক্ষু অপারেশন করতে বললেন। দেরি করলে আমি অন্ধ হয়ে যেতে পারি। আমাকে কলকাতা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে দিলেন। ভোর ন’টায় অপারেশন হবে। আমি ভয় পেয়ে পালাতে চেষ্টা করতে লাগলাম, কিন্তু পারলাম না। আমাকে অপারেশন ঘরে নিয়ে যাওয়া হল। দশ দিনের মধ্যে দুইটা চক্ষুই অপারেশন করা হল। আমি ভাল হয়ে গেলাম। তবে কিছুদিন লেখাপড়া বন্ধ করতে হবে, চশমা পরতে হবে।
কলকাতার এই দুই বর্ণনা থেকে স্পষ্ট হয়ে যায়, নগরের সঙ্গে পিছিয়ে পড়া জনপদের সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল নানাবিধ অত্যাধুনিক সুবিধা ও সেবা গ্রহণের বাস্তবতায়। ঔপনিবেশিক বাংলায় যেহেতু উন্নয়ন আদতে কেবল কেন্দ্রেই ঘটেছিল, সেহেতু চিকিৎসার মতো মৌলিক বিষয়ের জন্যও নগরের দিকে তাকিয়ে থাকতে হতো। বঙ্গবন্ধুর উল্লেখজনক প্রথমদিককার কলকাতা সফর ঘটেছিল স্বাস্থ্যজনিত কারণে। পাশাপাশি আরেকটি বাস্তবতা আমাদের নজরে পড়ে। গ্রাম থেকে নগরের দিকে সর্বদাই জনগোষ্ঠীর একটা অংশের যাতায়াত থাকে। নগরে যাতায়াতের সঙ্গে শিক্ষিত মধ্যবিত্ত শ্রেণী গড়ে ওঠার ওতপ্রোত সম্পর্ক আছে। এই ক্ষেত্রে দেখি যে কলকাতায় বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ আত্মীয়স্বজন থাকেন। এ বাস্তবতা পরবর্তী সময়ে বঙ্গবন্ধুর জীবনের পরবর্তী অধ্যায় আরো সহজতর করে দিয়েছিল।
১৯৩৯ সালে তিনি যখন কলকাতা যান তখন তার উদ্দেশ্য ছিল রাজনৈতিক। সেখানে তিনি দেখা করেন হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর সঙ্গে। ১৯৩৮ সালের দিকেই হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও এ কে ফজলুল হকের সঙ্গে তার সাক্ষাৎ ঘটে গিয়েছিল। সেখানে মুসলিম লীগের নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি লেখেন-
‘১৯৩৯ সালে কলকাতা যাই বেড়াতে। শহীদ সাহেবের সঙ্গে দেখা করি। আবদুল ওয়াসেক সাহেব আমাদের ছাত্রদের নেতা ছিলেন। তার সাথেও আলাপ করে তাকে গোপালগঞ্জ আসতে অনুরোধ করি। শহীদ সাহেবকে বললাম, গোপালগঞ্জে মুসলিম ছাত্রলীগ গঠন করব এবং মুসলিম লীগও গঠন করব। খন্দকার শামসুদ্দীন সাহেব এমএলএ তখন মুসলিম লীগে যোগদান করেছেন। তিনি সভাপতি হলেন ছাত্রলীগের। আমি হলাম সম্পাদক। মুসলিম লিগ গঠন হল... ...আমি আস্তে আস্তে রাজনীতির মধ্যে প্রবেশ করলাম।...’
চিকিৎসা ও রাজনীতির এ টুকরো টুকরো সফরের পরে কলকাতার সঙ্গে বঙ্গবন্ধুর সম্পর্ক আরো ঘনিষ্ঠ হয় শিক্ষাজীবনকে কেন্দ্র করে। ১৯৪২ সালে প্রবেশিকা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে উচ্চশিক্ষার জন্য কলকাতার বিখ্যাত ইসলামিয়া কলেজে কলা বিভাগে ভর্তি হন। মফস্বল থেকে আসা শিক্ষার্থীদের জন্য নির্মিত বেকার হোস্টেলের ২৪ নম্বর কক্ষটি তার থাকার জন্য বরাদ্দ হয়। কলেজে ভর্তি হওয়ার পর খুব অল্প সময়ের মধ্যে তিনি জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন। রাজনীতিতে তার যে আগ্রহ ছিল সেটা পরিপূর্ণ বিকাশের রাস্তা পায় ইসলামিয়া কলেজে আসার পর। বলা যায়, এখানেই তার প্রকৃত রাজনৈতিক জীবনের শুরু। এ সময় পুরো ভারতবর্ষ এক ক্রান্তিলগ্নে উপস্থিত। ঔপনিবেশিক ব্রিটিশ ভারতবর্ষ ছেড়ে দিচ্ছে, কিন্তু যাওয়ার আগে একেবারে নিঃস্ব করে দিয়ে যাচ্ছে। একদিকে উপনিবেশায়নের শেষ প্রকোপে সাম্প্রদায়িকতা ডালপালা ছড়াচ্ছে, তার ফলে বাংলা ভাগ হচ্ছে এবং সেই সঙ্গে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কারণে বাংলা ভয়াবহ খাদ্য সংকট ও দুর্ভিক্ষের অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এমন প্রতিবেশেই শেখ মুজিবের রাজনীতির হাতেখড়ি। তখন বাংলার কৃষক ও মধ্যবিত্ত সবার কাছে, ভিন্ন ভিন্ন কারণে হলেও, পাকিস্তান এক স্বপ্ন। শেখ মুজিবও কৃষক পরিবারের সন্তান, তাই স্বাভাবিক কারণেই তিনি যোগ দিয়েছেন পাকিস্তান আন্দোলনে। তখন তার মনে হতো, ‘পাকিস্তান আনতেই হবে, নতুবা মুসলমানদের বাঁচার উপায় নাই।’ ইসলামিয়া কলেজই ছিল বাংলার মুসলমান ছাত্রদের আন্দোলনের প্রাণকেন্দ্র। এই প্রাণকেন্দ্রের গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে পরিণত হন বঙ্গবন্ধু। তিনি স্মরণ করেন-
এই সময় ইসলামিয়া কলেজে আমি খুব জনপ্রিয়তা অর্জন করেছি। অফিসিয়াল ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে প্রার্থী দাঁড় করিয়ে তাদের পরাজিত করলাম। ইসলামিয়া কলেজেই বাংলাদেশের ছাত্র আন্দোলনের প্রাণকেন্দ্র। পরের বছরও ১৯৪৩ সালে ইলেকশনে আনোয়ার সাহেবের অফিসিয়াল ছাত্রলীগ পরাজিত হলো... আমি ছাত্রনেতাদের নিয়ে আলোচনা করে যাদের করে দিতাম, তারাই নমিনেশন দাখিল করত, আর কেউ করত না। কারণ জানত আমার মতের বিরুদ্ধে কারও জিতবার সম্ভাবনা ছিল না।
ছাত্ররাজনীতি তথা মূলধারার রাজনীতির সঙ্গে তার গভীর সখ্যতা ও সম্পৃক্ততা গড়ে ওঠে ইসলামিয়া কলেজের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে। ১৯৪৬ সালে ওই ছাত্র নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় তিনি সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছিলেন।
তবে এ ছোট পরিসরে কলকাতা জীবনের সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় মূলত মন্বন্তর ও দাঙ্গার কাল। এ সময়ের অভিজ্ঞতা বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক দর্শনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। তিনি অসমাপ্ত আত্মজীবনীতে ৪৩-এর মন্বন্তরে কলকাতার মর্মন্তুদ বর্ণনা দিয়েছেন। বঙ্গবন্ধু নিজেকে এর সঙ্গে সম্পৃক্ত না রেখে পারলেন না। তার ভাষ্যে, ‘আমিও লেখাপড়া ছেড়ে দুর্ভিক্ষপীড়িতদের সেবায় ঝাঁপিয়ে পড়লাম। অনেকগুলি লঙ্গরখানা খুললাম। দিনে একবার করে খাবার দিলাম। মুসলিম লীগ অফিসে, কলকাতা মাদ্রাসায় এবং আরও অনেক জায়গায় লঙ্গরখানা খুললাম। দিনভর কাজ করতাম, আর রাতে কোনদিন বেকার হোস্টেলে ফিরে আসতাম, কোনোদিন লীগ অফিসে টেবিলে শুয়ে থাকতাম।...’
৪৩-এর মন্বন্তর যেমন নাড়া দিয়েছিল, তেমনি দাঙ্গার সময় তার সামনে আরেক ভয়াবহ পরিস্থিতি হাজির হয়েছিল। দাঙ্গা প্রতিরোধে বঙ্গবন্ধু তার সঙ্গীদের নিয়ে হিন্দু-মুসলমান সবাইকে বুক আগলে রক্ষা করার চেষ্টা করেছেন। বেকার হোস্টেলে ছাত্রদের নিয়ে ইসলামিয়া কলেজের গেট খুলে দিয়েছিলেন। মানুষের জন্য আশ্রয় কেন্দ্র তৈরি করেছিলেন। মুসলমানপ্রধান এলাকা থেকে হিন্দুদের উদ্ধার এবং হিন্দুপ্রধান এলাকা থেকে মুসলমানদের উদ্ধার করেছেন। এ কাজ করতে গিয়ে কয়েকবার দাঙ্গাবাজদের মুখোমুখিও হয়েছিলেন। আবার তার পরিবার নিয়েও উদ্বিগ্ন ছিলেন। বলছেন, ‘আমি নিজেও খুব চিন্তাযুক্ত ছিলাম। কারণ আমার ছয় ভাই-বোনের পাঁচজনই তখন কলকাতা ও শ্রীরামপুরে...’। দাঙ্গার বিবরণে তিনি বলছেন, ‘কলকাতা শহরে শুধু মরা মানুষের লাশ বিক্ষিপ্তভাবে পড়ে আছে। মহল্লার পর মহল্লা আগুনে পুড়ে গিয়েছে। এক ভয়াবহ দৃশ্য!’। এসব দেখে তার মনে হয়েছে, ‘মানুষ তার মানবতা হারিয়ে পশুতে পরিণত হয়েছে’।
দাঙ্গা প্রতিরোধে বঙ্গবন্ধুর এমন বিচিত্র ভূমিকার কথা অনেকেই স্মরণ করেছেন। যেমন ভারতের বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও ইসলামিয়া কলেজের তৎকালীন শিক্ষক ভবতোষ দত্ত স্মৃতিচারণে লিখেছেন, ‘এখানে কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করি ইসলামিয়া কলেজের সেই সব মুসলমান ছাত্রদের যারা আমাদের সঙ্গে করে নিয়ে বিপজ্জনক এলাকাটা পার করে দিতেন। এসব ছাত্রদের একজনের নাম ছিল শেখ মুজিবুর রহমান’।
সংক্ষেপে বললে, কলকাতা শহরের সঙ্গে বঙ্গবন্ধুর সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল এক ঐতিহাসিক বাস্তবতায়। চিকিৎসা ও শিক্ষার জন্য কলকাতায় যাওয়া হয়েছিল সেই বাস্তবতায়। অন্যদিকে কলকাতায়ই তার রাজনৈতিক জীবনের প্রাথমিক অধ্যায় শুরু হয়েছিল। পাশাপাশি কলকাতার তৎকালীন রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি তাকে রাজনীতির পাশাপাশি বৃহৎ পরিসরে সামাজিক কর্মকাণ্ডে যোগ দেয়ায় বাধ্য করে। বঙ্গবন্ধু তার সময়ের প্রয়োজনে আহ্বানে সাড়া দিয়েছিলেন যথাযথভাবে। কেবল সাড়াই দেননি, সময়কেও তৈরিও করে নিচ্ছিলেন, নিজের সঙ্গে। পরিশেষে কলকাতা সম্পর্কিত তার একটি ব্যক্তিগত স্মৃতিচারণ দিয়েই লেখাটার উপসংহার টানা যায়।
১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধু ছাত্রলীগের এক সম্মেলনে বক্তৃতাকালে বলেছিলেন, ১৯৪৭ কলকাতার পার্ক রোডের সিরাজ-উদ-দ্দৌলা হোস্টেলে একটা ঘরোয়া বৈঠক করি। সেখানে আমার সহকর্মী কয়েকজন ছাত্রনেতাকে বলেছিলাম, আমরা শেষ হয়ে গিয়েছি। নতুন করে সংগ্রাম শুরু করতে হবে। কলকাতা থেকে বিএ পাস করে এলাম ঢাকায়। ঢাকায় এসে রাজনৈতিক পরিবেশ দেখে বুঝতে বাকি রইল না, বাঙালির জাত শেষ হয়ে গেছে। সেই দিন শপথ নিলাম, বাংলার মানুষকে মুক্ত করতে হবে। ১৯৪৭ সালই হলো আমাদের সংগ্রামের সূচনা।
বাংলাদেশ আন্দোলনের চিন্তার প্রাথমিক ভ্রূণ তৈরি হয়েছিল বঙ্গবন্ধুর কলকাতা জীবন থেকেই।
লেখক: ট্রাস্টি সম্পাদক, গণহত্যা জাদুঘর





