মালয়েশিয়ার জীবন নিয়ে লিখতে চট করে এক দৌড়ে নিজের স্মৃতির ভাঁড়ারে গিয়ে উঁকি দিলাম। ভেতরকার লোকাল বাসের মতো জবরজং অবস্থা দেখে একটু দমেই গেলাম। কারণ বরাবরই ‘ওহে গৃহবাসী’ টাইপ আটপৌরে মানুষ আমি। ঘর-সংসার, বাজারসদাই, আনাজপাতি, ওয়াশিং মেশিন, ঘরদোর, ঝাড়পোছ নিয়েই আমার জীবনের আবর্ত। এরপর জীবনের গল্প, অভিজ্ঞতাগুলো বলা কি এত সহজ?

এই যে দেখুন না, মালয় ভাষাটা পর্যন্ত আজ অবধি শিখে উঠতে পারিনি, কারণ আমি স্টুডেন্ট বা চাকরিজীবী নই, আর এদের অনেকেই ইংরেজিটা জানে। পরিসংখ্যানও চমকে যাওয়ার মতো, ৫০-৬০ ভাগ মালয়েশিয়ান মানুষের কাজ চলার মতো ইংরেজিতে দক্ষতা রয়েছে, তাই অসুবিধা হয় না। আর আকার-ইঙ্গিতের ভাষা তো আছেই।

তাই আমার দৌড়—সাতু দুয়া তিগা (এক, দুই, তিন), সুসু (দুধ), কাম্পুং আয়াম (দেশী মুরগি), গুলা (চিনি), আইস কোরাং (বরফ কম দেবেন), তেরি মা কাসি (ধন্যবাদ), কেলুয়ার (এক্সিট), নাসি গোরিং আয়াম (চিকেন ফ্রাইড রাইস) আর সোয়ামি (ইস্ত্রি)—এ পর্যন্তই।

মোহ

আমার মালয়েশিয়ায় বসবাস শুরু সেই ২০১৩-এর নভেম্বর থেকে। বিবিএ কমপ্লিট করে বিয়ে হয়ে গেল। এর পরই চলে এলাম মালয়দের রাজ্যে। মাত্র তিন কোটি মানুষের এ দেশ, আয়তনে বাংলাদেশের প্রায় দুই গুণ।

পেট্রোনাস টুইন টাওয়ার, লাংকাউ, গ্যাংটিং, পেনাং, পানেকার আইল্যান্ডের মতো প্রসিদ্ধ ট্যুরিস্ট স্পটের মাঝেও আমাকে আকর্ষণ করে রুমের খোলা জানালায় দেখা পাহাড়ের ভাঁজে পাহাড়, বৃষ্টির ঝঞ্ঝাটের পর এক আকাশ রংধনু, মেঘের অবাধ বিচরণের মাঝে অন্য রকমের পূর্ণিমা চাঁদ। আমি এক মহাকাল কাটাতে রাজি হয়ে গেলাম।

বছর পার হতেই ভিসার অপেক্ষা আর পাসপোর্টের রিনিউকে গলায় বেঁধে আমি প্রভুর অপার সৌন্দর্য গিলি। মাঝেমধ্যে ঝড় অতিবৃষ্টি-অতিগরম বা বন্যা, ডেঙ্গু, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি কিংবা বিদেশী বলে হেয় হওয়া, যেটা কিনা হসপিটাল বিল বেশি আসা থেকে শুরু করে বাসা ভাড়া নেয়ার সময় বাংলাদেশী বলে ফোন কেটে দেয়া অবধি গিয়ে ঠেকে। আমার কাব্যিক মন লাগামছাড়া। সে নেশাতুরের মতো প্রকৃতি দেখেই কাটায়। দেখতে দেখতে মালয়েশিয়ায় বহু দিন কাটালাম। এরই মধ্যে বার কয়েক দেশে গেলাম-এলাম, তাই বছরটা নয় ছুঁইছুঁই করলেও একটানা থাকার অভিজ্ঞতা এই বছর পাঁচ থেকে ছয়।

বেটারহাফের চাকরি আর পড়াশোনার সুবাদে এখানে থাকা। অবশ্য তিনি লিখতে বসলে তথ্য-উপাত্তে ভরপুর একটা খাসা গবেষণাপত্র পাঠক পেয়ে যেতেন।

আবহাওয়া পুঁথি

আজীবন দেখে এলাম মালয়েশিয়া থেকে যারাই দেশে আসেন, তারা জ্যাকেট পরে থাকেন, আর সঙ্গে নিয়ে আসেন কম্বল। কিন্তু স্বয়ং এ দেশেই যে এয়ার কন্ডিশনিং রুম ছাড়া কম্বল প্রায় লাগেই না, কে জানত। জ্যাকেট তো দূরে থাক ।

এরপর দমে গেলাম গরম কমছে না দেখে। অক্টোবর-ডিসেম্বর আমাদের বাংলাদেশীদের প্রধান কাজই হচ্ছে, শীতকে ‘এসো হে’ বলে সোয়েটার আর লেপ মুড়িয়ে বসে পিঠা খাওয়া। কিন্তু এখানে নভেম্বরতক এসেও যখন সাধের লাল সোয়েটারটি কোনো কাজেই লাগল না, মনটা যে কী খারাপ হলো!

এদের প্রধানত একটাই ঋতু—বর্ষা। প্রায় সারা বছর বৃষ্টিপাত লেগে থাকলেও অক্টোবর-মার্চ অন্য সব সময়কে ছাড়িয়ে যায়, বন্যাও হয়। এ সময় ট্যুরিস্ট আকর্ষণ কম থাকে। অনেক দ্বীপে ট্যুরিস্ট যাওয়া বন্ধ থাকে অতিরিক্ত সতর্কতার জন্য। বৃষ্টিপ্রধান দেশ হলেও শীত অনুভূতির বালাই নেই। কারণ গরমের রাজত্বও বৃষ্টির সমান সমান।

এরা শীত খুঁজতে যান ক্যামেরুন হাইল্যান্ড (২৬০০-৫২৫৯ ফিট), গ্যাংটিং হাইল্যান্ড (৬১১৮ ফিট), ফ্রেজার হিল (৪৪৭৭ ফিট), ফ্র্যাঞ্চ ভিলেজে (২৬০০ ফিট)। [সবগুলোর উচ্চতা সি-লেভেল থেকে বলা হয়েছে] ।

বনজঙ্গল, পাহাড়ের ছড়াছড়ি আর বৃষ্টিপ্রধান হওয়ার কারণে ডেঙ্গু আর সাপের অভয়ারণ্য বলা চলে মালয়েশিয়াকে। বলা হয়, ১৬০টির বেশি প্রজাতির সাপ, যাদের প্রায় ৩৫টি বিষাক্ত। মালয়েশিয়া বিশ্বের এমন একটি অংশ, যেখানে আপনাকে পা ফেলার আগে খুব সাবধান থাকতে হবে। এছাড়া গুইসাপ, বানর, কাঠবিড়ালি, বনবিড়াল, কচ্ছপ এসবের দেখা মেলে শহরেও। কারণ বন আর পাহাড়ের ভাঁজে ভাঁজেই প্রায় শহরগুলোর অবস্থান।

এত এত সবুজ এত অরণ্য দেখেও আমাদের এক ভাবি বলতেন, ‘এ সবুজে আমার দেশের মতো মায়া পাই না’। নিজের দেশ বলে কথা।

বিবাহনামা

আমার কাছে আচানক লাগে এদের বিয়েগুলো। প্রায় মুসলিম বিয়েই মসজিদে হয়, তারপর ছেলে-মেয়ে উভয়ের পক্ষ থেকে একটা যৌথ প্রোগ্রাম হয়। যতটা শুনলাম অধিকাংশ খরচই ছেলের পক্ষ থেকে হয়, মেয়েরও নিজস্ব আয়ের অংশবিশেষ থাকে। তবে বেশির ভাগ সময়ে খানাপিনার লোভে যাই বলে এর সত্যতা অনুসন্ধানে বর বা বৌয়ের কাছে যাওয়ার সময় পাই না। ফুলে ফুলে সাজানো অনুষ্ঠানে গেট ধরাধরি নেই, নেই লবণ-পানি খাওয়ানো নিয়ে জাতাজাতি। স্বয়ং কন্যা এগিয়ে এসে ঝুঁকে বরের হাতে চুম্বন করে স্বাগত জানাবে।

আবার অনেক বিয়েতে দেখা যায় অতি উত্সুক কিছু ভাইদের, যারা দফ বাজিয়ে রীতিমতো হেঁড়ে গলায় গান ধরে বর-বৌকে এগিয়ে আনতে যাচ্ছে। একেক অঞ্চলে একেক রীতি।

সব টেবিলের মাঝে শরবত আর শুকনো খাবারের বয়াম। কারুকার্য করা প্লাস্টিকের বদনা আর বদনার নিচে হাত ধোয়ার পানি ফেলার বাসন।

খাবার সব বুফে। কিন্তু খাবার নিয়ে বর পক্ষ কন্যা পক্ষকে খোঁটা দেয়া নেই, আস্ত মুরগির রান নিয়ে টানাটানি নেই।

আচানক হই, অতি সাধারণ ভাত, গরুর তরকারি বা ভাজা, মুরগি আর এক থেকে দুটো মেইন আইটেম দেখে। আপনার ভাগ্য বেশি ভালো হলে গরমাগরম পরোটা, পপকর্ন, চা আর আইসক্রিম পেয়ে যেতে পারেন।

গিফট দেয়ার তো বালাই নেই (বর বা বৌয়ের কাছে সবাই গিফট দিয়ে দেয়। না দিলেও মন খারাপ নেই)। এক গোছা ফুল দিয়ে এলেই এরা খুশি।

আবার বিদায় বেলায় কুকিজ, চকলেট, কেক, সেদ্ধ ডিম আর ফুল দিয়ে সাজানো গিফটের প্যাকেট মিলে যায়। এই তো সেবার বিয়ের প্রোগ্রামে পাওয়া আমাদের চারজনের চারটা ফুলের স্টিক দিয়ে একটা ফুলদানি সাজিয়ে ফেলেছি। কত সরল বিয়ের অনুষ্ঠান।

মসজিদনামা

রমজানে মসজিদের ভেতরে সিঁড়িতে বসে চা খাচ্ছি। গরম দুধ চা, আদা দিয়ে বানানো। বিশাল ফ্লাক্সে চা ভরা আছে। যতবার মন চায় নেয়া যায়। একটু আগে ইফতার করলাম। মালয় খাবার খুব একটা খেতে পারি না, তবে ইফতারের সময় সাদা ভাত রক্তলাল করা ঝোলে ভেজা মাছ আর কারি পাতায় রান্না করা মুরগি খুব একটা খারাপ লাগে না খেতে। তারাবির আট রাকাতের পর আবার নাশতা চা, কফি। মাঝেমধ্যে ম্যাকডোনাল্ডস কেএফসি থেকেও ইফতার আসে। থাকে গরু, মুরগি, মাছের নানা পদ। ইফতারের আয়োজন করা হয় এলাকার ব্যক্তি বর্গের দানে। মালয়েশিয়ানদের দানের হাত আসলেই প্রশংসনীয়।

আমরা একই এলাকার অনেক বাংলাদেশী আসি এই মসজিদে। নিজেরা বেগুনি, আলুর চপ, লাচ্ছি, ফল, শরবত, জিলাপি ইত্যাদি নিয়ে চলে আসি, মসজিদের ইফতার তো আছেই। সবাই মিলে দোয়া করি, নামাজ পড়ি, ইফতার খাই। চা খেতে খেতে আড্ডা দিই। সে এক অন্য রকম পরিবেশ। বাচ্চারাও খুব মজা পায়। একেকদিন একেক আন্টি ঈদ গিফট দিচ্ছে—খেলনা, বই, জামা আরো কত কী!

আমরা দেশে এত সুন্দর পরিবেশে রমজান পালন করতে পারি না। সব হয় বাসাকেন্দ্রিক। মহিলাদের মসজিদে নামাজের ব্যবস্থা নেই। বাচ্চারা মসজিদে যেতে পারে না। কেউ কারো বাসায় যায় না। শহরকেন্দ্রিক জীবনে তো পাশের বাসার মানুষকেও এখন চেনে না। অথচ বিদেশ বিভুঁইয়ে আমরাই আমাদের আপন। সবার এত আন্তরিকতা ভালোবাসা ঘিরে থাকে আমাদের, সত্যি নিজেকে খুব ভাগ্যবতী মনে হয়!

মসজিদে তারাবির পর বসে আছি। মাইগ্রেনের ব্যথায় কাইত। সাহেব গিয়েছেন ইফতার খেতে আরেক মসজিদে। তার গাড়িতে আমার পোঁটলাপাটলি। উদ্দেশ্য মসজিদে রাত্রি যাপন। শেষ দশকের বেজোড় রাত চলছে। আমাদের এলাকার ভাই-বেরাদর-বন্ধু-স্বজন অনেকেই আছি এখানে। সব তল্পিতল্পা নিয়ে সুস্থির হয়ে বসে আছি।

এক দফা ইফতারের পর আরেক দফা হালিম আর কাবুলি ছোলার ভুনা খেয়ে ফেলেছি। কেউ বসে কোরআন পড়ছে, কেউ করছে জিকির আসগার। পোলাপান চুপচাপ খেলছে। এই মসজিদে একটা বিশেষ কারিশমা আছে। এক সিকিউরিটি গার্ড মোটা লাঠি হাতে ঘোরাফেরা করে। বাচ্চাকাচ্চা তাতেই কাইত।

মসজিদে দেয়া শরবতের মতো গরম চা নিয়ে বসে আছি, খেতে পারছি না। শরীর ম্যাজম্যাজ করছে। আমার পোঁটলায় কফি, চিনি, ফ্লাক্স ভর্তি গরম দুধ চা আছে। কখন সাহেব আসবে, কখন পাব।

পোলাপান অলরেডি চতুর্থ দফা ঈদ গিফট নিয়ে বসে আছে। কে কোনটা নেবে সবাইকে এক ভাবি ভাগ করে দিচ্ছে। আরেক রাউন্ড খাওয়া হবে বোধ হয়। কোন ভাবি যেন ফিরনি আর রসমালাই আনতে গিয়েছে গাড়ি থেকে।

আমার ঝিমানি ভাব দেখে এক ভাবি তার রেডিমিক্সড চায়ের বিরাট প্রশংসার উপন্যাস শুনিয়ে বানিয়ে আনতে গেল, আমাকে খাওয়াবে। নাম হচ্ছে বোহ টি, আমাকে চায়ের কাপ ধরিয়ে দিল। একটু পর এসে বলল—কেমন খেতে চা। বললাম, আমার আম্মা লালশাক রান্না করে মাছের মাথা দিয়ে। সেটা দ্বিতীয়বার চুলায় জ্বাল দেয়ার পর যেমন স্বাদ হয় তেমন। মাইগ্রেনের ব্যথা অলরেডি উঠে গিয়েছে।

ভানুমতীর খেল

গাড়ির ডিক্রি ভেঙে আমার নতুন বাবুর জামাকাপড় কাঁথাসমেত ব্যাগ উধাও হওয়া, গাড়ি চুরি হওয়া, অনলাইনে সোফার অর্ডার দেয়ার জন্য পেমেন্ট করার সঙ্গে সঙ্গে মেসেঞ্জারে ব্লক খাওয়ার পরও এ দেশে থাকতে আমার বেশ লাগে। কেন লাগে জানি না। ওহ! ব্যাংক অ্যাকাউন্ট হ্যাক আর ক্রেডিট কার্ড থেকে ভেলকিবাজির মতো টাকা উধাও হওয়া, এগুলোর কথা বলতে ভুলে গিয়েছিলাম।

এই তো সেবার ছেলের স্কুলের কাছে বাসা নেয়ার জন্য হন্যে হয়ে খুঁজছি। একটা প্রসিদ্ধ অ্যাপে বাসার সন্ধান পেলাম, দাম অবিশ্বাস্য রকম কম।

এজেন্ট মেয়েটা বড় মিষ্টি দেখতে। আইডি কার্ডের ফটো পাঠিয়ে তারপর কথা বলা শুরু করল। ইংরেজিতে দক্ষ মেয়েটা আমাদের এত কমে বাসা ভাড়া দেবে কেন, মালিক জিন-ভূতের আছর আছে নাকি। এ প্রশ্নের জবাব দিল বাসার বারান্দা থেকে পাশের মসজিদের ছবি তুলে। বলল—এত সুন্দর আজান শোনা যায়, জিন আসবে এত সাহস আছে?

‘তাহলে মালিক প্রায় অর্ধেক দামে কেন ছাড়ছে?’ জবাব এল, ‘আসলে মালিকের একমাত্র মেয়েটা করোনায় মারা গেল। মালিক ওর মৃত্যুর পর অন্য রকম হয়ে গিয়েছেন। তাই কম দামেই দিতে চাচ্ছেন, কারো উপকারও হলো আর ওনার মেয়েটার আত্মাও শান্তি পেল। তিনি এসব ডিলও করতে চাইছেন না। তোমাদের প্রোফাইল বলার পর কথা বলতে রাজি হলেন।’

আমার হাজব্যান্ডকে মালিকের নম্বর দিলাম। কথা শুনেই বোঝা গেল যথেষ্ট শিক্ষিত ও এলিট শ্রেণীর ভদ্রমহিলা তিনি। কথা হলো পরদিন বাসা দেখতে যাব।

পরদিন দুপুর নাগাদ মালিক ভদ্রমহিলা বললেন, ‘বাসার অ্যাক্সেস কার্ড তার কাছে, তার বাসা কুয়ালালামপুরে। শাহআলম আসা সম্ভব নয়। কন্ডোমনিয়ামের ম্যানেজমেন্ট এজেন্টকে দিয়ে বাসা দেখাতে দেবে না, অ্যাকসেস কার্ড ছাড়া।’

এক কাজ করো, তুমি আমার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ২০০ রিংগিত দাও। কার্ডের জন্য ডিপোজিট আমি ম্যানেজমেন্টকে সেন্ড করছি। বাসা পছন্দ হলে ওটা অ্যাডভান্স হিসেবে থাকল। আর বাসা পছন্দ না হলে আমি এজেন্টকে বলে দেব, সে ২০০ রিংগিত তুমি আসার সময় ম্যানেজমেন্টের থেকে নিয়ে পে করে দেবে।’

আমার হাজব্যান্ড বললেন, তোমার এজেন্টকে বল ডিপোজিট পে করতে। সে বলল, না এজেন্টকে এত টাকা ডিপোজিট করতে বলা যায় না। তোমার সঙ্গে তো আমার ডিল, তাই তোমাকে দিতে বলা, আর দিতে না চাইলে সমস্যা নেই। তোমার ইচ্ছে না হলে বাসা দেখো না।

সব শুনে সাহেবকে বললাম, বাদ দাও। এটায় গড়বড় লাগছে। সাহেব বললেন, মানুষ কি এত বড় সেন্টিমেন্টাল ইস্যু নিয়ে মিথ্যা বলবে? হয়তো সত্যি ডিপোজিট চাচ্ছে ম্যানেজমেন্ট, ওদের হয়তো সিকিউরিটি সমস্যা হবে।

সব চিন্তা করে পে করা হলো। মালিক বলল ধন্যবাদ। আমি এজেন্টকে চাবি দিচ্ছি। বিকালে চলে এসো।

আর এজেন্ট আমাকে মেসেজ দিল, ‘নো নিড টু কাম’। কী ভালো মানুষ, এক্সট্রা হেরেসম্যান্ট যাতে না হয় আগেই বলে দিল। মানবতা আজও বেঁচে আছে!

সাহেব আর আমি দুজনকে ফোন দিলাম, মেসেজ দিলাম। ওদের দুজনের ফোনই বন্ধ পাওয়া গেল। আবার নিয়মমতো ২০০ রিংগিত গচ্ছা গেল।

কী ভাবলেন, আমি আবার প্রকৃতি দেখতে যাব? নারে ভাই, চা বানাতে গেলাম। আর সাহেব রুমের দরজা বন্ধ করে অনলাইনে অফিস করতে লাগল। বেশ, কাহিনী শেষ।

 

সানজিদা আক্তার তামান্না: মালয়েশিয়া প্রবাসী