পৃথিবীর বুকে যেদিন থেকে মানুষ পা ফেলেছে, সেদিন থেকেই সে অভিবাসন করে চলেছে। খাদ্য শিকারের খোঁজে আমাদের আদি যাযাবর পূর্বপুরুষরা ঘুরে বেড়িয়েছে এখানে-ওখানে। তুলনামূলকভাবে ‘সভ্য’ হওয়ার পর তারা করেছে নগর পত্তন। কিন্তু তবু মানুষ তার জন্মনগরে স্থির ও থিতু থাকেনি। অনেক ক্ষেত্রে কাজ, কিছু ক্ষেত্রে সুযোগ, মাঝে মাঝে কৌতূহল বা দুর্ভাগ্যবশত দেশান্তরী হয়ে মানুষ তার জন্মস্থান ছেড়েছে সেই বাবা আদমের স্বর্গচ্যুতিলগ্ন থেকে। ইতিহাসে, পুরাণে, লোককথায় মানুষের এ অভিবাসন প্রবৃত্তির বয়ান করা হয়েছে নানা ঢঙে, নানা রঙে।
বর্তমান বিশ্বায়নের যুগে অভিবাসনের মাত্রা সাম্প্রতিক দশকগুলোর চেয়ে অনেক বেশি। এর বিস্তৃতিও অনেক প্রসারিত হয়েছে। বর্তমান প্রজন্মের পিতামহ বা পিতা হয়তো গ্রাম থেকে শহরে এসে থিতু হয়েছে। দূরত্বের দিক থেকে এটা অতটা বিশাল নয় হয়তো। গ্রাম থেকে আসা এ অভিবাসীদের ভাষা, সংস্কৃতি, ধর্ম ও পরিচয়ে সে রকম কোনো পরিবর্তন ঘটেনি। বরং তা পরম্পরায় ধাবিত হয়েছে। এ মাপকাঠির নিরিখে বর্তমান প্রজন্মের অভিবাসন ও তত্পরবর্তী অভিজ্ঞতা প্রকটভাবে ভিন্ন, বহুমাত্রিক ও জটিল। স্বদেশে আমরা যে সংস্কৃতি ও পরিবেশে বেড়ে উঠি তা অনেকাংশে আমাদের চেতনা ও জগত্ধারণা তৈরি করে দেয়। অভিবাসীদের অনেক গভীর বিশ্বাস, বিদ্বেষ, বিরাগ ভেঙে যায় বা সেগুলো পুনর্মূল্যায়ন করার সাহস সঞ্চারিত হয় প্রবাসে। এ রকম কিছু ঘটনা বলার চেষ্টা করব এ উপস্থাপনায়।
আমি আজ প্রায় নয় বছর ধরে বাস করছি অস্ট্রেলিয়ায়। বাংলায় একে আমি অবাচীদেশ ডাকি। প্রায় সমান সময় ধরে থেকেছি এ বিশাল দেশের দুটি বড় নগরীতে। অস্ট্রেলিয়া মূলত অভিবাসীদের দেশ। এখানকার ভূমিসন্তানরা ইংরেজ ঔপনিবেশিকদের বহু বছরের নিষ্পেষণ, গণহত্যা ও জাতিহত্যা এবং তত্পরবর্তী সরকারি নীতিমালার কারণে এখন এক প্রান্তিক জনগোষ্ঠী। শুরুর দিকে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের অপরাধীদের নির্বাসনভূমি হিসেবে এ মহাদ্বীপ ব্যবহূত হতো। অস্ট্রেলিয়ার জনসংখ্যার এক বিশাল অংশ এ অপরাধীদের বংশধর। পরবর্তী সময়ে অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য বিশালসংখ্যক চীনা শ্রমিকদের আনা হয় অস্ট্রেলিয়ায়। প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ইউরোপের বিভিন্ন দেশ থেকে নিরাপদ জীবনের জন্য এখানে পাড়ি জমায় অনেকে এবং তাদের প্রায় সবাই এখানে থেকে যায়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে গ্রিস, তুরস্ক, লেবানন ও অন্যান্য আরব দেশে যুদ্ধ সংঘটিত হওয়ার কারণে সেসব জায়গা থেকে অনেকে শরণার্থী হয়ে আসে অস্ট্রেলিয়ায়। সাবেক যুগোস্লাভিয়া, শ্রীলংকা, আফগানিস্তান প্রভৃতি দেশ থেকে যুদ্ধের কারণে আরেক দফায় অনেক নব্যশরণার্থী সাম্প্রতিক দশকগুলোয় অস্ট্রেলিয়াকে বানিয়ে নিয়েছে তাদের ঠিকানা। উন্নত জীবন ও ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য অস্ট্রেলিয়ার আশপাশের দ্বীপরাষ্ট্রগুলোর মানুষদের কাছে দেশটি অনেক আগে থেকেই স্বপ্নভূমি, আর তাই তারাও মিলিত হয়েছে এ বহুজাতিক মোহনায়। হাল-আমলে দক্ষ শ্রমবাজারে শিক্ষাগত যোগ্যতার দরুন জায়গা করে নিতে পারলে স্থায়ীভাবে বসবাস করার সুযোগ রয়েছে অস্ট্রেলিয়ায়, যার কারণে উপমহাদেশসহ অনেক দেশের শিক্ষার্থী ও পেশাজীবীরা যোগ হচ্ছে অস্ট্রেলিয়ার বহু সাংস্কৃতিক সমাজে।
আমি যখন ছাত্র হিসেবে অস্ট্রেলিয়ায় আসি তখন একটা খণ্ডকালীন কাজ পাওয়া জরুরি হয়ে পড়ে। পড়ালেখার পাশাপাশি একটা পাবে কাজ নিই। প্রথমে পাব কী, সেটা একটু বলা উচিত। পাব মূলত এমন এক পানশালা যেখানে মদ্য-পানীয়ের পাশাপাশি হরেক রকমের খাবার পাওয়া যায়। অন্যদিকে বারে কেবল মদ্য-পানীয় পরিবেশন করা হয়। খাবারের জন্য বার তেমন জনপ্রিয় নয়। তাই অপ্রাপ্তবয়স্করা প্রাপ্তবয়স্ক অভিভাবকদের সঙ্গে পাবে আসতে পারে, কিন্তু বারে যেতে পারে না। অস্ট্রেলীয় কথ্য ইংরেজিতে অবশ্য পাব ও হোটেল সমার্থক। আমি শহরের অভিজাত এলাকার একটি পাবের রান্নাঘরে ডিশওয়াশার হিসেবে খণ্ডকালীন কাজ শুরু করি। অস্ট্রেলিয়ায় আমার পুরো ছাত্রজীবনই আমি সেখানে কাজ করেছি। ওখানে কাজ করার সময় অস্ট্রেলিয়ার শহুরে সমাজের শ্রেণীবৈষম্যের ব্যাপারে আমার কিছু ধারণা তৈরি হয়। পাবে খাবার পরিবেশন করা হলেও পাবের মূল ব্যবসা হয় মদ্য-পানীয় বিক্রিতে। পাবের পানশালায় কাজ করত মূলত শ্বেতাঙ্গ তরুণ-তরুণীরা। খরিদদারকে আকৃষ্ট করার জন্য কিংবা নিশ্চয়তা দেয়ার জন্যই হয়তো মালিকপক্ষের এমন সিদ্ধান্ত ছিল। যে মদ আপ্যায়ন করছে তার সঙ্গে খরিদদারের যোগাযোগে যেন কোনো ত্রুটি না হয় সেটা নিশ্চিত করার জন্যই সম্ভবত এমন পদক্ষেপ তারা নিয়েছিল। তাছাড়া অস্ট্রেলিয়ার মদ্যপায়ীদের পছন্দ-অপছন্দের ব্যাপারে স্থানীয়রাই বেশি জানবে, এমন একটা চিন্তাও এখানে কাজ করত। কিছুদিন সেখানে কাজ করার পর জানতে পারি, পানশালায় চাকরি দেয়ার ক্ষেত্রে সরকারি স্কুলে পড়ালেখা করা তরুণ-তরুণী মালিকপক্ষের অপছন্দ। মালিকপক্ষ সাধারণত প্রাইভেট স্কুলে পড়ালেখা করেছে এমন ছেলেমেয়েকেই পানশালায় নিয়োজিত করে। মালিকপক্ষের ধারণা অনেকটা এ রকম, প্রাইভেট স্কুলে পড়ে আসা ছেলেমেয়েরা নিজেদের বেশি ভালোভাবে উপস্থাপন করতে পারে।
পাবের পানশালায় বেয়ারা হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার প্রাইভেট স্কুলে পড়ে আসা তরুণ-তরুণীরা কাজ করত। আর গ্রাহকদের চোখের আড়ালে রান্নাঘরে ছিল অন্য চিত্র। বাবুর্চি, বাবুর্চিদের সহকারী ও ডিশওয়াশার অধিকাংশই ছিল অস্ট্রেলিয়ার বাইরে থেকে আসা লোকজন। রান্নাঘরের বেশির ভাগ কর্মচারী ছিল নেপালি। নেপালিরা কর্মঠ ও পরিশ্রমী জাতি। ওই পাবে দীর্ঘদিন কাজ করার সুবাদে তাদের অনেকের সঙ্গে ভালো বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। নেপালিদের মধ্যে একতা ও স্বজাতিপ্রীতি বেশ দৃঢ়, যা আমি বাংলাদেশী অভিবাসী সম্প্রদায়ের মধ্যে সে মাত্রায় অনুপস্থিত বলেই লক্ষ করেছি। সর্বপ্রথম এক নেপালিই এ পাবের রান্নাঘরে সহকারী বাবুর্চি হিসেবে কাজ শুরু করে এবং সে অন্য নেপালিদের এখানে কাজের সুযোগ করে দেয়। ২০১৫ সালে নেপালে প্রলয়ংকরী ভূমিকম্পের কারণে অস্ট্রেলিয়ায় তখন অনেক নেপালির আগমন ঘটে। নেপালিদের কর্মস্পৃহা ও অধ্যবসায় আমাকে মুগ্ধ ও অনুপ্রাণিত করত।
নেপালিদের মধ্যে একজনের কথা খুব মনে আছে। উনাকে সবাই ‘রাজুদাই’ ডাকত। নেপালি ভাষায় সমবয়সী বা বয়সে ছোট ব্যক্তিকে ‘ভাই’ বলে সম্বোধন করা হয় আর বয়সে বড় কাউকে ‘দাই’ বলে সম্বোধন করা হয়। অনেকটা বাংলায় ‘দাদা’ বা ‘দা’-র মতো। রাজু দাই নেপালে মাওবাদী গেরিলা ছিলেন। উনি নেপালে সরকারদ্রোহী কার্যকলাপে নিয়োজিত ছিলেন। নেপাল সরকার কোনো একসময় মাওবাদীদের সাধারণ ক্ষমা করে আলোচনার আহ্বান করলে রাজু দাই অস্ত্র ফেলে কোনোভাবে অস্ট্রেলিয়ায় পাড়ি জমান এবং আর নেপালে ফিরে যাননি। অন্য নেপালি কর্মচারীরা মাঝে মাঝে এটা নিয়ে উনার সঙ্গে ঠাট্টা করত। রাজু দাইয়ের এমন ঘটনা শুনে মনে হতো আদর্শ, বিশ্বাস বা ভক্তি, এসব জিনিস মাঝে মাঝে জীবনের তাগিদে বা বেঁচে থাকার ইচ্ছার কাছে কতটা ঠুনকো হয়ে যায়।
যতদিন সেখানে কাজ করেছি প্রধান বাবুর্চি বা হেড শেফ সাধারণত ছিল কোনো অস্ট্রেলিয়ান শ্বেতাঙ্গ। একবার এমনই এক হেড শেফ একজন সহকারী বাবুর্চি হিসেবে তার এক পরিচিতজনকে রান্নাঘরে চাকরিতে নিয়োগ দেয়। ওর নাম ছিল ‘শেইন’। ও অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ড রাষ্ট্রের প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চল থেকে এসেছিল। শহরে কয়দিন হলো সে এসেছে। একবার শুনেছিলাম, ও যে জায়গা থেকে এসেছে সেখানে পানি কুয়া বা নদী থেকে উত্তোলন করতে হয়। অর্থাৎ একদম অজ পাড়াগাঁ। অস্ট্রেলিয়ার মতো প্রথম বিশ্বের দেশে এমন জায়গা আছে সেটা বিশ্বাস করা ছিল কিছুটা কঠিন। লোকটি বর্ণবাদী ও মুসলিমবিদ্বেষী ছিল। রান্নাঘরে হেড শেফ আর ও বাদে সবাই ছিল পিঙ্গল বর্ণের। নেপালি, ভারতীয়, পাকিস্তানি আর আমি বাংলাদেশী। ও প্রায়ই বর্ণবাদী মন্তব্য করত। অস্ট্রেলিয়ার শহর জীবনে দৃশ্যমান বর্ণবাদের শিকার কাউকে তেমন হতে হয় না। কিন্তু শেইন শহুরে জীবনে ছিল নতুন। এক দক্ষিণ ভারতীয় মুসলমান ওই রান্নাঘরে কাজ করত। একবার শেইন ওকে প্রশ্ন করে, ‘এটা
কি সত্যি, তোমরা কোনো নগ্ন মেয়েকে দেখে ফেললে আত্মহত্যা কর?’ রান্নাঘরের
সবাই হো-হো করে হেসে দেয়। মাঝে মাঝে শেইন আমার সঙ্গে কথা বলত আর আমাদের সংস্কৃতি-ধর্ম সম্পর্কে প্রশ্ন করত। আমি কথা সমাপ্ত করার জন্য যতটুকু প্রয়োজন তা বলে কেটে পড়তাম।
একবার একটা পরীক্ষায় কম নম্বর পাওয়ার কারণে আমার মন বেশ খারাপ ছিল। খারাপ মন নিয়েই আমি কাজে যাই। সেদিন আমাকে উদ্দেশ্য করে শেইন অনেক রকমের বর্ণবাদী আর মুসলিমবিদ্বেষী মন্তব্য করতে থাকে। আমিও প্রত্যুত্তরে কিছু বলি। এক কথায়-দুই কথায় ঝগড়া বেঁধে যায়। শেইন আমার দিকে তেড়ে আসে, কিছুটা ভয়ে-ভয়ে আমি ওর দিকে ঘুরে দাঁড়াই। শেইন অনেকটা এভাবে বলে, ‘বিল্ডিং-এর বাইরে তোকে দেখে নিচ্ছি।’ সেদিন আর কিছু হয় না।
পরের দিন আমাকে ওখানকার এক নেপালি মালিকপক্ষের কাছে অভিযোগ করে একটি চিঠি লিখতে বলে। রাগ তখনো দগদগে থাকায়, আমি শিগগির একটা চিঠি লিখে পাবের ব্যবস্থাপিকার কাছে দিয়ে আসি। ব্যবস্থাপিকা দ্রুত ব্যবস্থা নেন, তারপরের দিনই শেইনকে চাকরিচ্যুত করা হয়। এর কয়েক বছর পর আমি ফেসবুকে একটা মেসেজ পাই। শেইনের মেসেজ। মেসেজটার বাংলা তরজমা করলে যা হয় তা ছিল অনেকটা এমন—‘আমি যা বলেছি তার জন্য দুঃখিত। আমি যা বলেছি সেগুলো ভেবে আমি বুঝতে পেরেছি আমি কতটা বিদ্বেষপূর্ণ ছিলাম। আমি জানি না তুমি এটা পড়বে কি না। কিন্তু আমি সবাইকে এখানে তোমার কথা বলি আর তোমাদের বিশ্বাসগুলো বোঝানোর চেষ্টা করি, যা আমি তোমার কাছ থেকে জেনেছি। আর কিছু বলার নেই। ক্ষমাও চাই না। তুমি হয়তো জান, আমি তখন এক নির্বোধ বিদ্বেষী ছিলাম। আশা করি তোমার পড়ালেখা ভালো যাচ্ছে। আমিও পড়াশোনা শুরু করেছি, আর এখন দেখছি এটা সহজ কাজ নয়। আমি আমার বান্ধবীর সঙ্গে সানশাইন কোস্টে একটা নতুন বাসা কিনেছি। তোমার আমন্ত্রণ রইল।’ আমি আর কোনো উত্তর দিইনি। কথাও বাড়াইনি।
অস্ট্রেলিয়ায় দেখেছি এখানকার ভারতীয় ও পাকিস্তানি অভিবাসীরা একে অন্যের প্রতি অনেক বন্ধুপ্রতিম। ভাষাগত দিক দিয়ে এক হওয়ার পাশাপাশি তাদের সংস্কৃতি ও জীবনযাপনেও রয়েছে অনেক মিল। আমার দুজন হাউজমেট ছিল—একজন ভারতীয় ও একজন পাকিস্তানি। ওরা দুজন ছিল খুব ভালো বন্ধু। ওদের সঙ্গে কথা বলে জানতে পেরেছি, বন্ধুত্বের কথা ওদের দেশের পরিচিত জনেরা জেনেও খুব অবাক হয়, ‘তোমার
ভালো বন্ধু একজন ভারতীয়?’ কিংবা
‘তোমার ভালো বন্ধু একজন পাকিস্তানি?’ গণমাধ্যমে
প্রচারিত রাজনৈতিক সংঘাত বা ইতিহাসের তিক্ততা অভিবাসীদের তেমন স্পর্শ করে না। কারণ এখানে সব অভিবাসীর সংগ্রাম একই রকম। একই রকম জীবনসংগ্রামের কারণে অভিবাসীরা তাদের মিলগুলো খুঁজে পায় ভাষা, সংস্কৃতি, ধর্ম ও পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে এসে।
অভিবাসীরা উন্নত জীবনের খোঁজে প্রবাসে পাড়ি জমায়। স্বদেশের অভিজ্ঞতা ও মূল্যবোধের সঙ্গে নতুন এক সংস্কৃতির মিশ্রণে তারা গড়ে তোলে এক নতুন পরিচয়। আমেরিকা বা ব্রিটেনের মতো অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশীদের অভিবাসনের ইতিহাস অত পুরনো নয়। অস্ট্রেলিয়ার সংস্কৃতিও এখনো সেভাবে সংজ্ঞায়িত নয়। তবে অস্ট্রেলীয় মূল্যবোধ মূলত এ ভূমির আদিবাসী ঐতিহ্যের প্রতি সম্মান জ্ঞাপন, এ রাষ্ট্রের ব্রিটিশ প্রাতিষ্ঠানিক পরম্পরা ও এ দেশের বহুজাতিক অর্জন। অস্ট্রেলিয়ার রাষ্ট্রধারণা এখন অভিবাসীদের উপস্থিতি ছাড়া অনেকটা অকল্পনীয়। নাগরিকদের অর্ধেকের বেশি অস্ট্রেলিয়ার বাইরে জন্ম অথবা তাদের বাবা বা মায়ের মধ্যে কমপক্ষে একজনের জন্ম অস্ট্রেলিয়ার বাইরে। এখানকার সবচেয়ে সুন্দর দিকটি হচ্ছে এর বহুজাতিক সমাজের সমন্বয় ও সংগতি। বিশ্বের প্রায় সব প্রান্ত থেকেই অভিবাসীরা এখানে এসে থিতু হয়েছে এবং গড়ে তুলেছে বৈশ্বিক সংস্কৃতির সহাবস্থানের এক অতুলনীয় নিদর্শন।
[উল্লিখিত
সবার
নাম
বদলে
দেয়া
হয়েছে]
আবীর হারুনী: অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী





