বাংলাদেশে যে লাগাতার উন্নয়ন হচ্ছে, এ বিষয় বহু লোক ও প্রতিষ্ঠান জানাতেই থাকে। আমি যে তা না মানার জন্য গোঁয়ারের মতো বসে আছি তাও নয়, অন্য কিছু বিষয়ে তা আমার যতই একরোখামি থাকুক না কেন। কিন্তু এমনও না, এ রকম সরল বচনগুলোকে সবসময় আরামসে হজম করে ফেলার মতো ভালো মানুষ আমি। ফলে কখনো কখনো তর্ক তৈরি হয়। তাও বড়জোর যাকে যাকে উন্নতি বলার চল আছে, সেই তালিকাটা নিয়েই। এমনকি আমি প্রতিষ্ঠানগুলোর এ ঘোষণার মধ্যেও তর্ক করতে চাই না। যথা রাষ্ট্র, মিডিয়া, টেক্সট বই, উন্নয়ন পরিপত্রের নথিপত্র। চাই না মানে পারি না। এসব প্রতিষ্ঠানকে তো আর চা খাওয়ার টেবিলে আপনি পান না যে, আলাপগুলো সেরে ফেলবেন। ফলে যাবতীয় আলাপসালাপ আর পাঁচজনের মতো আমার লোকজনের সঙ্গেই ঘটে থাকে। আশপাশের লোকজন। সহকর্মী, সহযাত্রী, আত্মীয়স্বজন, পরিজন-বান্ধব ও আমার চাকরির কারণে অতি অবশ্যই শিক্ষার্থীরা। তারা বা তাদের একাংশ যখন উন্নয়নের গল্প জোরে জোরে করতে থাকে, তখন আমি শুধু শুনি, তা-ই কেবল তারা চায় তা নয়, বরং আমি যাতে এর সঙ্গে বেমানান কোনো কথা না বলি, এর সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো উদাহরণ না দিই, তাও নিশ্চিত করতে চায়। বড় নিদারুণ এ পরিস্থিতি। খোদ উন্নয়নের চেয়েও উন্নয়নের প্রচারণা আমার কাছে ও প্রতি জবরদস্তিমূলক লাগতে থাকে।

এসব পরিস্থিতিতে আমার প্রায়ই যে উদাহরণটা দেয়া অতীব জরুরি মনে হয় তা হলো, ঢাকা শহরে লাগাতার আসতে থাকা উদ্বাস্তু মানুষজন। বহুকাল রাজনৈতিক পরিভাষায় ‘প্রলেতারীয়’ নামে একটা পরিচিত অভিধা ছিল। কিংবা ‘নিঃস্ব কৃষক’। এখন পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে, এসব অভিধা বা বর্গ দিয়ে এসব মানুষকে চিহ্নিত করলে আপনি সেকেলে জাদুঘরীয় বলে বিবেচিত হতে পারেন। বিশেষত, ‘প্রলেতারীয়’ বর্গটি এখন প্রায় নির্বাসন ঘটানো হয়েছে রাজনৈতিক পরিভাষা থেকে। মাস্টারি করতে গিয়ে আবিষ্কার করেছি যে, সেটা একাডেমিক পারিভাষিক জগৎ থেকেও নির্বাসিতপ্রায়। পরেরটা অর্থাৎ ‘নিঃস্ব কৃষক’ পদ্ধতিগতভাবেই সংকটাপন্ন। কৃষি ব্যবস্থার লাগাতার কাঠামগত বদল একটা কারণ; আবার কৃষককে সংজ্ঞায়নের পদ্ধতিগত ও ম্যানিপুলেটিভ সংকটগুলো আরেকটা কারণ; সর্বোপরি কৃষিক্ষেত্রে মজুরি শ্রমের ন্যূনতম জায়গা থেকেও গরিব মানুষজন এত আগে থেকে উত্খাত হয়ে চলেছে যে, বর্গটি একটা মৌলিক হিসেবে যথেষ্ট শক্তিশালী নেই। উপরন্তু কৃষিক্ষেত্রে মজুরি শ্রমের ন্যূনতম জায়গা থেকে গরিব মানুষজনের উত্খাত হতে থাকা বা অনিশ্চিত (নগণ্য মজুরির কাজটাও) হতে থাকার একটা সুগভীর লিঙ্গীয় মাত্রা আছে। ঢাকা বা এর সন্নিকটের শিল্পশ্রমে, এ মুহূর্তে গার্মেন্ট শিল্পের কথাই হচ্ছে, গত দেড়-দুই দশকে যে বেশুমার নারী শ্রমিক সম্পর্কিত হয়েছেন, তারা বৃহত্তর অর্থে কৃষিজ ক্ষেত্রেরই সীমাহীন শোষণের ফলাফলমাত্র, গার্হস্থ্য শোষণের অধিকন্তু। এটা বোঝার জন্য রকেট সায়েন্স জানার দরকার পড়ে না যে, কৃষিভিত্তিক পরিবারগুলোর খোরাকি নিশ্চিত থাকলে সেসব পরিবারের সদস্যরা মহানগরে বড়জোর প্রমোদভ্রমণে আসবেন, তাও উদ্বৃত্ত আয়ের কালে।

ঢাকার রিকশাওয়ালারা কত টাকা আয় করেন, সে বিষয়ে আমার কৌতূহল আছে। রিকশাওয়ালা নেহাত ইচ্ছাকৃত ও কারণসম্পন্ন, বাছাইকৃত একটা বর্গমাত্র। এ বর্গকে বাছাই করার জন্য সবচেয়ে বড় কারণগুলো সহজে বলে দেয়া যেতে পারে। প্রথমত. এ বর্গ এই শ্রমসাধন করার জন্য প্রায়ই কমবেশি কিছু পূর্ব যোগাযোগ করে আসেন। দ্বিতীয়ত. বাস্তবেই অন্য কিছু অপশনের চেয়ে এটা নগদ মুদ্রা অপেক্ষাকৃত সহজে আনে। তৃতীয়ত. এটি অত্যন্ত শ্রমসাপেক্ষ ও শারীরিকভাবে অনিরাপদ একটা কাজ, নতুনদের জন্য তো বটেই। চতুর্থত. মধ্যবিত্ত পেশাজীবী, চাইলে আর পাঁচটা ‘পেশাক্ষেত্রে’র উদ্বাস্তু গ্রামীণ গরিবের তুলনায় রিকশাওয়ালার সঙ্গে সহজে কথ্য যোগাযোগে আসতে পারেন। তবে প্লাস্টিকের বোতল কুড়ানিওয়ালা, কাগজ টোকানিওয়ালা, ডাস্টবিনের আবর্জনা সর্টার, ভ্যানে মধ্যবিত্ত রান্নাঘরের সবজি বিক্রেতা ও অজস্র আরো মেট্রোপলিটন গরিবদের থেকে উদাহরণ নিলে মূল প্রতিপাদ্য বদলাবে না। আমার ধারণা আছে। এ নিদারুণ শ্রমঘন কাজটা করে ধরা যাক রিকশাওয়ালারা বাস্তবে কত টাকা আয় করেন, তার প্রায় সুস্পষ্ট ধারণা আমার আছে। উপরন্তু তারা কতদিন কাজ করে, কীভাবে গ্যারেজে ঘুমিয়ে তথা নিবাস খরচ বাঁচিয়ে, কত পরিমাণ টাকা পরিবারের সদস্যদের পাঠাতে পারেন সেই বিষয়ে; কীভাবে সেসব টাকা পাঠানো হয়ে থাকে কিংবা কখনো খোদ টাকা পাঠানোর সুযোগটাকেই নৈশবাসের ছাদে চেপে পরিজনদের দেখার সুযোগ হিসেবে নিয়ে থাকেন কিনা, কীভাবে ও কতটা দরকষাকষি করে সেসব বাসে তারা চাপেন ইত্যাদি নানা কিছু নিয়েই আমার খসড়া ধারণা আছে। যে কারণে এ আলাপ করছি তা হলো, আমার নিজ শ্রেণীর পরিজনদের অনেকেই ধমকের স্বরে বলে থাকেন: ‘ওদের আয় জানেন? একটা রিকশাওয়ালা মাসে ৩০-৪০ হাজার টাকা আয় করে। আপনার-আমার চেয়ে ভালো আছে ওরা।’

একটু আগে স্বগোষ্ঠীর যে সংলাপটি উল্লেখ করলাম, তাতে তাদের উল্লিখিত অংকের কিছু রকমফের ঘটতে পারে। কিন্তু যারা বলছেন, তাদের উপলব্ধি কিংবা বলার মূল বিষয় তাতে বদলায় না। বলার মূল জায়গাগুলো এ রকম: প্রথমত. ঢাকা নগরকে এ স্বগোষ্ঠীর লোকজন এসব গরিবদের নাহক জায়গা মনে করেন বা তাদের অধিকারের জায়গা মনে করেন না। দ্বিতীয়ত. তাদের উপস্থিতি বড়জোর আমাদের শ্রম প্রদানের জন্য, সেটাও তারা অন্যায্যভাবে করছেন। তৃতীয়ত. এ বিশাল গরিব বাহিনীর দুর্ভোগে (দুর্ভোগ তো মানবেনই না, তর্কের স্বার্থেও যদি বলি) আমাদের তথা ব্যবস্থার কোনোই দায় নেই, ওটা ওদেরই জীবনযাপনের আবিষ্কার বা খামখেয়ালিমাত্র। চতুর্থত. এ মহানগরের হকের এমনকি আমরাও প্রতিনিধি, যাদের মধ্যেও কেউ কেউ মাত্র সেদিন এসেছেন, কেউ কেউ বড়জোর এক প্রজন্ম; কিন্তু ওরা নন।

ঘোরতর শ্রেণিবিদ্বেষ ঢাকা মহানগরের প্রধান বৈশিষ্ট্য তৈরি করেছে। এখানে বড়জোর একটা উদাহরণেই ঘুরঘুর করলাম আমি।

দুই.

শ্রেণিবিদ্বেষ বলতে এখানে দরিদ্র শ্রেণীর প্রতি গড়পড়তা মহানগরীয় মধ্যবিত্তের ভঙ্গির কথাই ভাবা হয়েছে। কিন্তু ঢাকা নগরের মধ্যবিত্ত শ্রেণীর বিস্তার এত বড় এবং খোদ তারা নিজ শ্রেণীর নানা অংশের প্রতিও এত অবন্ধুসুলভ অথবা অজ্ঞতাতাড়িত যে, সে প্রসঙ্গ আলাপযোগ্য। মহানগরে চাকরিজীবী অংশটি খোদ নিজ শ্রেণীর ইতিহাস ও প্রকরণগুলোর বিষয়ে অজ্ঞ তো বটেই, বিশেষ অনুসন্ধিত্সুও নয়। খুব চলতি বিচারে ভাবলে একে নেহাত ‘কমফোর্ট জোন’-এ থাকার সংকট হিসেবে দেখা যায়। তবে খুব সূক্ষ্মভাবে নিরীক্ষণে আমি একে কমবেশি হীনম্মন্যতা এবং/বা উচ্চম্মন্যতার সংকট হিসেবেও দেখতে চাইব। বলাই বাহুল্য, এ দুই সংকটকে আমি একটা অখণ্ড সংকট হিসেবেই দেখি। হীনম্মন্যতা বা উচ্চম্মন্যতা যা-ই বলি, মহানগরকে অনুধাবন করার ক্ষেত্রে, মহানগরের ইতিহাস বোঝার ক্ষেত্রে, মহানগরের দাবিনামাকে বিচার করার ক্ষেত্রে পরস্পর যোঝাযুঝি— পরিশেষে শ্রেণীর মধ্যে অন্য শ্রেণীরই লক্ষণ। এ পরিস্থিতি নির্দেশ করতে আমি প্রচলিত ভাষামালার মধ্য থেকে ‘পুরান ঢাকা’ বনাম ‘নতুন ঢাকা’ (বা এমনকি শুধু ঢাকা) বর্গবিভাজনকে বেছে নেব। কেবল চলতি আলাপপ্রবাহেই এ দুই বর্গ জাগরূক, তা বিবেচনার আর অবকাশ নেই। সাহিত্য কিংবা শিল্পবোধের মধ্যেও এ বর্গবিভাজন যেমন গুরুতর প্রভাব রেখেছে, পপুলার কালচার নামক চর্চাটিতেও ঘোরতর বিভেদরেখা আছে। বিষয়টা কেবল বিভেদরেখার নয়, সূক্ষ্ম এবং কখনো কখনো এমনকি স্থুলবিদ্বেষেরও।

‘পুরাতন নগরী’ কিংবা ‘ঐতিহ্যবাহী নগর’ বা ‘নবাবী আমল’— এসব গৌরবময় ভাষামালার প্রয়োগ অবশ্যই নিবিড়ভাবে ঢাকার নয়া অধিগ্রহণকারীরা করে থাকেন। তবে মনে রাখার বিষয় হলো, সেটা রেটরিকই মাত্র। ঢাকার নয়া মধ্যবিত্ত কথিত ‘পুরান ঢাকা’র সঙ্গে কোনো সাংস্কৃতিক-সামাজিক সম্পর্ক বোধ করেন না। কথাটা কেউ চাইলে উল্টে দিতে পারেন। প্রশ্ন করতে পারেন, কথিত ‘পুরান ঢাকা’র (নিছক ভৌগোলিক অর্থেই) মানুষজনই ঢাকাই নয়া মধ্যবিত্তকে (অন্য শ্রেণী যদি বিবেচনায় নাও আনি) আপন করেছেন কিনা। কিন্তু অন্তত দুটো কারণে এ উল্টো প্রশ্নকে আমি বিবেচনায় আনছি না। প্রথমত. পুরান বাসিন্দাদের নয়া শহর মানচিত্রে মানসিক ক্ষত তৈরি হওয়ার প্রবণতাকে আমি গুরুত্ব দিয়ে থাকি। দ্বিতীয়ত. শিল্প-সাহিত্য-কলা-বুদ্ধিবৃত্তির জমিনে নয়া ঢাকার মধ্যবিত্তদের দোর্দণ্ডপ্রতাপের মধ্যে দায়দায়িত্ব তাদের ওপর বেশি বর্তায়। এ প্রসঙ্গেই রাষ্ট্রের নীতিমালা তথা পলিসির প্রসঙ্গ গুরুতর হয়ে দেখা দেয়। একটা প্রাক-ঔপনিবেশিক ‘বনেদি’ শহরের ঔপনিবেশিক রূপান্তর এবং উত্তরকালে প্রশাসনিক ও বাণিজ্যিক রূপান্তরের পর সেখানকার বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর মধ্যকার সাংস্কৃতিক সেতুবন্ধের কাজটা রাষ্ট্রের নিতে পারা দরকার। রাষ্ট্রযন্ত্রের মনে হয় না আদৌ কোনো মাথাব্যথা আছে এ বিষয়ে। আর বিবিধ সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনও এ কাজটার দায়দায়িত্ব নেয়নি কখনো। অন্তত বৃহত্তর সাংস্কৃতিক-বুদ্ধিবৃত্তিক জমিন তাই সনাতনী ঢাকা ও তার বাসিন্দাকে ‘অপর’ বানিয়ে ছেড়েছে, প্রায় তামাশার উপজীব্য। ঢাকাসংক্রান্ত কোনো আলোচনায়ই এ প্রসঙ্গকে অস্বীকার করতে পারি না আমি।

গত কয়েক বছরের, হয়তো শেষ দুই দশকেই ঢাকা শহরের মুখ্য বৈশিষ্ট্যকে কিংবা মুখ্য চালিকাশক্তিকে বিবেচনা করলে নয়া ঢাকার পঞ্চাশের দশক-পরবর্তী মধ্যবিত্তকে অতীব গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করতে হবে। চলতি ভাষায় একে ‘ধানমন্ডির মধ্যবিত্ত’ বলা যেতে পারে। তবে কেবল ভৌত এলাকা বিবেচনা করলেও ধানমন্ডির পাশাপাশি লালমাটিয়া, এলিফ্যান্ট রোড, পরীবাগ বা গুলশান ইত্যাদি এলাকা মাথায় রাখা লাগতে পারে। তবে প্রবণতাটি বরং চিহ্নিত করা অত কঠিন নয়। ৫০/৬০-এর চাকরিজীবী ও সার্বভৌম অন্যান্য পেশার— যেমন সাংবাদিক, আইনজীবী— লোকজনদের সরকারি নীতিমালার মাধ্যমে এসব অঞ্চলে পুনর্বাসিত করা হচ্ছিল। আর কয়েক দশক যাওয়ার পরই সেসব মানুষজনের উত্তরসূরিরা কেবল যে বিপুল ধনসম্পদের মালিক তা-ই নন, বরং একটা অনায়াস কসমোপলিটন শ্রেণী। ঢাকা আর নিউইয়র্ক বা লন্ডন কিংবা ব্রাসেলসের মধ্যকার নৈমিত্তিক ভ্রমণকারী ও বাণিজ্যকারী। এর সঙ্গে রাষ্ট্রের দ্বৈত নাগরিকত্বের সুবিধা প্রদান প্রপঞ্চটিও যোগ হয়েছে। এ শ্রেণীটির রাষ্ট্রিক-আন্তর্জাতিক পদপ্রাপ্তি থেকে শুরু করে রাষ্ট্রীয় নীতিমালার মুখ্য কারিগর হওয়া পর্যন্ত কিংবা সাহিত্য-শিল্প/কলা-বুদ্ধিবৃত্তিক ক্ষেত্রে অগ্রদূত হিসেবে আবির্ভূত হওয়া সবটাই ঢাকার বর্তমান মানচিত্র বোঝার ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয়। এটা বণিকশ্রেণী বা শিল্পপতি শ্রেণীর (সাবেকি ঢাকার কিংবা অন্যান্য অঞ্চলের বনেদিদের ঢাকাকেন্দ্রিক শিল্পপতি হয়ে পড়া উভয় ক্ষেত্রেরই) সক্ষমতাকে ভুল বোঝার বা লঘু করে দেখার প্রসঙ্গ নয়। বরং বেশ সাম্প্রতিক ইতিহাসেই বিকশিত বিশেষ এক মধ্যবিত্তকে খুঁটিয়ে উপলব্ধি করার প্রশ্ন। কিন্তু মনে পড়ে না, এ উপলব্ধির ক্ষেত্রে খোদ এ শ্রেণীর মানুষজনের কোনো ভূমিকা আছে কিংবা বৃহত্তর বিদ্যাজগতের লোকজনেরও।

এ প্রবণতাটি নিয়ে আমি ভাবছি অনেকদিন ধরেই নানা উছিলায় নানা সময়ে। বছর দেড়েক আগেও নায়িম মোহাঈমেনের ঢাকা-দর্শনের (্ওর ক্ষেত্রে সেটা আর্টের জমিনে ছিল) সঙ্গে সংমিশ্রিত হতে গিয়ে এ প্রশ্নে বিতর্ক/আলাপ করেছি আমরা। প্রায় কাকতালীয় যে গতকালই (১০ নভেম্বর ২০১৭) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অতিপ্রিয় সহকর্মী আমার অধ্যাপক আজম প্রসঙ্গটি তুললেন। আর ন্যায্যভাবেই তার সমকালীন সামাজিক বিদ্যার সহকর্মীদের এ অপারগতা আর অনীহা নিয়ে তিরস্কার করলেন।

ঢাকা কার নগরী, তা কেবল অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রশ্ন নয়, অধিকন্তু হতাশাজনকভাবে একটিমাত্র মেট্রোপলিটনসর্বস্ব একটা রাষ্ট্রের শ্রেণী ইতিহাসকে নির্মোহ আবিষ্কারেরও প্রসঙ্গ। তা যদি আমরা এমনকি তথাকথিত বৈষম্যকে তথাকথিত মোকাবেলা নাও করতে চাই।

 

লেখক: জাবিতে নৃবিজ্ঞানের শিক্ষক, বিশ্লেষক, গল্পকার