বাংলাদেশে সাম্প্রতিক কালের উন্নয়ন ডিসকোর্সে, বিশেষ করে নগর উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও নগর দারিদ্র্য অধ্যয়নে ‘বস্তি’ প্রপঞ্চটি বহুল আলোচিত বিষয় হয়ে উঠেছে। আর এর ধারাবাহিকতায় সরকারি, বেসরকারিসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের কর্মক্ষেত্র হিসেবে এ ‘বস্তি’ এলাকা হয়ে উঠেছে গুরুত্বপূর্ণ। ‘বস্তি’ বলতে সাধারণত শহর বা নগরে অপরিকল্পিত ও অনিয়মতান্ত্রিকভাবে গড়ে ওঠা আবাসন ব্যবস্থাপনাকে বোঝানো হয়; যেখানে বসবাসের ক্ষেত্রে স্থান সংকট, নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ এবং জীবনযাপনে করুণ অবস্থা লক্ষণীয়। এসব আবাসস্থল এবং এর বাসিন্দারা বিভিন্ন ধরনের নাগরিক সুযোগ-সুবিধা যেমন— গ্যাস, পানি, বিদ্যুৎ, পয়োনিষ্কাশন, আবর্জনা ব্যবস্থাপনা, পর্যাপ্ত রাস্তাঘাটসহ আরো নানা ধরনের সুবিধা এবং শিক্ষা ও স্বাস্থ্যজাতীয় বিভিন্ন ধরনের মৌলিক সেবা থেকে বঞ্চিত হয়। সমাজবিজ্ঞানীরা বিভিন্ন উন্নয়ন গবেষণাকর্মে ‘বস্তি’বিষয়ক যে ধারণা দিয়েছেন, তা থেকে বলা যায়, বস্তি হচ্ছে এমন এক ধরনের নগর আবাসন ব্যবস্থা, যেখানে নোংরা-অস্বাস্থ্যকর, দুর্বল অবকাঠামোর ঘিঞ্জি পরিবেশে অধিকসংখ্যক লোক বিভিন্ন ধরনের সামাজিক ও নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়ে প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট ঝুঁকি বা হুমকির মধ্যে মানবেতর জীবন যাপন করে। ‘বস্তি’ এলাকার যে ভয়াবহ চিত্র আমরা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন গবেষণাকর্ম থেকে জানতে পারি, প্রকৃত অর্থে তার চিত্র আরো বেশি ভয়াবহ, আরো বেশি মানবেতর ও আরো বেশি মাত্রায় করুণ। বস্তি এলাকায় দীর্ঘ সময় ধরে তীক্ষ পর্যবেক্ষণ ব্যতিরেকে বস্তিবাসীর অসহায়ত্ব পুরোপুরি বোঝা সম্ভব নয়।
যদিও সাম্প্রতিক দশকগুলোয় আাামদের দেশে ‘বস্তি’বিষয়ক গবেষণা বা বিশ্লেষণ আলোচনায় জায়গা করে নিচ্ছে, কিন্তু ‘বস্তি’ প্রত্যয়টি আসলে নতুন কোনো বিষয় নয়। নগরায়ণ ও শিল্পায়নের প্রারম্ভিক সময়ে অর্থাৎ উনিশ ও বিশ শতকের শুরুর দিকে ইউরোপ ও আমেরিকার মতো শিল্পায়িত রাষ্ট্রগুলোয় নব্য বিকশিত আধুনিক নগর ব্যবস্থাপনাকে কেন্দ্র করে ‘বস্তি’ বা ‘অনিয়মতান্ত্রিক আবাসন ব্যবস্থাপনা’ গড়ে ওঠে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে উন্নয়নশীল দেশগুলোর নগর অঞ্চলগুলোকে কেন্দ্র করে বর্ধিত মাত্রায় ‘বস্তি’ গড়ে উঠছে। ইউএন হ্যাবিট্যাটের তথ্যানুযায়ী, ২০১২ সাল নাগাদ উন্নয়নশীল দেশগুলোয় নগরবাসীর ৩৩ শতাংশ অর্থাৎ ৮৬৩ মিলিয়ন লোক বস্তিতে বসবাস করত এবং দক্ষিণ এশিয়ায়ই এর হার ছিল ৩১ শতাংশ। বিশ্বায়ন ও বৈশ্বিক অর্থনীতির যে ক্রমবর্ধমান গতি, তারই অনিবার্য ফলাফল হচ্ছে দ্রুত নগরায়ণ এবং দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির চাকা সচল রাখার জন্য এর কোনো ব্যতিক্রম সম্ভব নয়। আবার দ্রুত নগরায়ণের সঙ্গে তাল মিলিয়ে প্রতিনিয়তই উন্নয়নশীল দেশগুলোয় নগরবাসীর সংখ্যা বেড়েই চলেছে, যাদের অধিকাংশই হচ্ছে দরিদ্র জনগোষ্ঠী। নগরের পরিসরে এ দরিদ্র জনগোষ্ঠীর আবাসস্থল হিসেবে গড়ে উঠছে বিভিন্ন ‘বস্তি’ বা ‘অনিয়মতান্ত্রিক আবাসন’ এলাকা। এ বস্তি এলাকাগুলো দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হিসেবে ভূমিকা পালন করে। তাছাড়া নগর এলাকায় ইনফরমাল সেক্টরগুলোয় কর্মসংস্থানের ৬০ শতাংশ নানাভাবে পূরণ করছে বস্তির বাসিন্দারা। তাই নগর উন্নয়ন বা সার্বিক অর্থনীতির উন্নয়ন নিশ্চিত করার জন্য বস্তি ও বস্তিবাসীকে উন্নয়ন প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত করার কোনো বিকল্প নেই। এজন্য তাদের আলোচনায় আনা যতটা জরুরি, ততটাই জরুরি এ বস্তিবাসীর প্রকৃত বাস্তবতাকে গুরুত্ব দিয়ে সেসব সমাধানের চেষ্টা করা।
বিভিন্ন ধরনের লিটারেচার ও গবেষণাপত্র থেকে বস্তি সম্পর্কে যেসব সাধারণ ধারণা আমরা পাই, তাতে বিভিন্ন বস্তিতে বসবাসরত মানুষ ও তাদের জীবন বাস্তবতার বৈচিত্র্য ও ভিন্নতাকে ঢেকে ফেলে বস্তি ও বস্তিবাসীকে একটি সমরূপ ক্যাটাগরি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। কিন্তু আদতে ‘বস্তি’ কোনো সমরূপ ক্যাটাগরি নয়। অবস্থানগত ও বৈশিষ্ট্যগত দিক দিয়ে প্রতিটি বস্তিই স্বতন্ত্র ও আলাদা আলাদা বস্তির বাসিন্দাদের জীবন ব্যবস্থাও ভিন্ন ভিন্ন। তবে আমাদের দেশের নগরগুলোয় বস্তি এলাকা গড়ে ওঠার ইতিহাস প্রায় একই রকম। নগর দরিদ্ররা তাদের নিজ প্রয়োজনেই বস্তিতে এসে বসবাস করতে থাকে। বস্তির চাহিদা আছে বলেই যুগ যুগ ধরে বস্তিগুলো টিকে আছে। সারা দেশে ছোটবড় সব শহর-নগরে এমন হাজারো বস্তি গড়ে উঠেছে। শুধু রাজধানী ঢাকায়ই চার হাজারের মতো এমন বস্তি গড়ে উঠেছে।
ঢাকার সবচেয়ে বড় বস্তি হলো কড়াইল বস্তি। আমরা যদি এ বস্তি গড়ে ওঠার ইতিহাসের দিকে একটু নিবিড়ভাবে নজর দিই, তাহলে অন্যান্য বস্তি গড়ে ওঠার বিষয়গুলোকেও অনুধাবন করা সম্ভব হবে।
কড়াইল বস্তি গড়ে ওঠার ইতিহাস জানা যায় মুক্তিযুদ্ধের পরবর্তী সময় থেকে। কেউ কেউ পাকিস্তান আমল থেকে বস্তি গড়ে ওঠার বিষয়টিকে সামনে নিয়ে আসেন। বস্তিবাসীর মধ্যে যারা বয়োজ্যেষ্ঠ এবং যারা নিজেদের এলাকার স্থানীয় বলে দাবি করেন, তাদের মধ্য থেকে পাওয়া সবচেয়ে প্রাচীন যে তথ্য পাওয়া গেছে তা হলো, পঞ্চাশের দশকের আগে এ এলাকার জমিগুলো ব্যক্তিমালিকানাধীন ছিল। আনুমানিক ১৯৫৪ সালের দিকে আইয়ুব সরকারের শাসনামলে স্থানীয় জমি মালিকদের কাছ থেকে এখানকার ৩০০ একর জমি টিঅ্যান্ডটির জন্য দখলে নেয়া হয়। তবে কারো কারো মতে, এ জমির পরিমাণ ছিল ১৭০ একর, যার মধ্যে বর্তমানে কেবল ১০ একর জমি টিঅ্যান্ডটি বা BTCL-এর দখলে রয়েছে বলে জানা যায়। ১৯৫৬ সালের দিকে এখানে টিঅ্যান্ডটি গড়ে ওঠে এবং বর্তমানে যে জায়গাটিতে কড়াইল বস্তি অবস্থিত, সে জায়গাটি টিঅ্যান্ডটি কলোনি তৈরির জন্য নির্ধারণ করা হয়। যদিও তখন কলোনি তৈরি করা হয়নি। কেউ কেউ বলেন, এ জায়গার লেকের পাড়ের অংশটি পতিত ছিল এবং কিছু কিছু জায়গায় জঙ্গল ছিল। তার মাঝে মাঝে টিঅ্যান্ডটির বড় বড় ৩০০-৪০০ ফুট উঁচু উঁচু টাওয়ার ছিল। জঙ্গল থাকার কারণে আশপাশ এলাকার লোকজন এখানে গরু-ছাগল চরাত, লেকে মাছ ধরত ও গোসল করত। তখন টিঅ্যান্ডটির কিছু স্টাফ লেকের পাড়ে টঙঘর তুলে থাকত বলে জানা যায়। মুক্তিযুদ্ধের পর খরা, দুর্ভিক্ষ, নদীভাঙনের শিকার কিছু মানুষ ঢাকায় এসে থাকার জায়গা না পেয়ে টিঅ্যান্ডটি কলোনির এ খালি জায়গায় পলিথিনের ছাপড়া ঘর তুলে বসবাস শুরু করে। কেউ কেউ বলেন, এরশাদ সরকারের শাসনামলের শুরুর দিকে ঢাকার বাস্তুহারা কিছু লোকজনকে কড়াইলের বা টিঅ্যান্ডটি কলোনির এ অব্যবহূত জায়গায় সাময়িকভাবে থাকার অনুমতি দেয়া হয়। তখন বেশকিছু লোকজন এখানে এসে বসতি স্থাপন করে। পরে ১৯৯০ সালের দিকে এরশাদ সরকার টিঅ্যান্ডটি স্টাফ কলোনির ৯০ বা ৯৭ একর জমি PWDকে হস্তান্তর করে। PWD তখন প্রাপ্ত জমির চারপাশ কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে ফেলে এবং টিঅ্যান্ডটি টাওয়ারগুলো ভেঙে ফেলে।
তখন এ জমির মালিকানা নিয়ে তিনটি মামলা হয়। প্রথম মামলাটি করেন জমি মালিকরা সরকারের বিরুদ্ধে। কেননা জমি মালিকরা দাবি করেন, জমি যদি সরকারের বা টিঅ্যান্ডটির কাজে না লাগে, তবে জমির পূর্ব মালিকরা এ জমি ফেরত পাওয়ার অধিকার রাখেন। এ সূত্র ধরে PWDকে প্রদত্ত ৯০ বা ৯৭ একর জমির মালিকরা সরকারের বিরুদ্ধে মামলা করেন। তখন জমির মালিকদের পক্ষে ড. কামাল হোসেন লড়েছেন এবং ওই সময় তারা হাইকোর্টের রিটও পেয়েছিলেন বলে জানা যায়। ওই জমির মালিকদের কয়েকজন বলেন, এখনো সে মামলা চলছে। এ জমি তাদের এবং তা কেড়ে নেয়ার অধিকার কারোর নেই।
দ্বিতীয় মামলাটি করে টিঅ্যান্ডটি। কারণ তাদের জন্য বরাদ্দকৃত জমি সরকার অন্য কাউকে হস্তান্তর করার অধিকার রাখে না। তাই তারা সরকারের বিরুদ্ধে মামলা করে। তৃতীয় মামলাটি করা হয় PWD-এর পক্ষ থেকে। PWD-এর মতে, তাদের প্রদত্ত জমি কেন তারা দখল করতে পারবে না। জমির মালিকানা নিয়ে এ তিন পক্ষের সৃষ্ট দ্বন্দ্ব ও মামলার কোনো নিষ্পত্তি না হওয়ায় এ ৯০ বা ৯৭ একর জমি পতিতই পড়ে থাকে। তখন যারা নিজেদের এ জমির মালিক বলে দাবি করেছেন, তাদের কেউ কেউ কাঁটাতারের বেড়া ভেঙে এখানে এসে বসবাস শুরু করেন। এমনকি আগে যারা লেকের পাড়ে টঙঘর তুলে থাকত, তারাও এ সুযোগে ভেতরে কুঁড়েঘর তুলে থাকা শুরু করে। জানা যায়, নব্বইয়ের দশকের শুরু বা মাঝমাঝি থেকেই এ বস্তির যাত্রা হয়। তখন এ বস্তিতে কেবল মাত্র কয়েক ঘর লোকের বসবাস ছিল। তারা তখন শুধু নিজেদের থাকার ঘর তুলে বসবাস শুরু করে। বাকি সব জায়গা তখনো খালি ছিল। জায়গাটা শুনশান ও খুব নীরব ছিল বলে সন্ধ্যার পর এখানে লোক চলাচল করতে ভয় পেত। কিন্তু পরে এখানে বসবাসরত লোকদের দেখাদেখি অন্য লোকজন বস্তিতে বসবাসের জন্য আসা শুরু করে। প্রবীণ একজন বস্তিবাসীর ভাষ্যমতে, ‘লোকজন যখন দেখল, অনেকে তো ওইখানে থাকতাছে, কোনো সমস্যা হইতাছে না, কেউ তুইল্লা দিতাছে না। আবার ভাড়াও লাগতাছে না, তখন তারাও আসা শুরু করল।’
আগে এখানে বালুর মাঠ ও ডোবায় পরিপূর্ণ ছিল এবং বাড়িঘর এত কম ছিল যে, বস্তিতে দাঁড়িয়ে গুলশানের গাড়ি চলাচল দেখা যেত। আর এখন এ জায়গা থেকে বাইরের কোনো কিছুই দেখা যায় না। মূলত খালেদা জিয়ার শাসনামল থেকে এখানে মানুষের বসবাস বৃদ্ধি পায় বলে অনেকেই অভিমত ব্যক্ত করেন। অন্যকে দেখে বা আত্মীয়স্বজনের সূত্র ধরে ক্রমাগত বস্তিতে মানুষজন আসা শুরু করে। ধীরে ধীরে বিভিন্ন অঞ্চলের, বিভিন্ন পেশার লোকজন দ্বারা বস্তি জনবসতিপূর্ণ হয়ে ওঠে। এ সুযোগে স্থানীয় নেতারা বস্তির অধিকাংশ খালি জায়গা দখল করে নেয়। তাছাড়া গুলশান-বনানী এলাকার ময়লা-আবর্জনা লেকের ওপর ফেলায় লেকের কিছু অংশ ভরাট হয়ে গিয়েছিল। স্থানীয় লোকজন বা নেতারা লেকের সেসব অংশে মাটি ফেলে ভরাট করে সে জমিগুলোও দখল করে নেয়। নেতাদের দখলকৃত জমিগুলোর কিছু অংশ তারা অর্থের বিনিময়ে অন্যের কাছে বা বস্তিতে আসা লোকদের কাছে বিক্রি করে দেয় এবং বাকি অংশগুলোয় ঘর তুলে ভাড়া দেয়া শুরু করে। যখন দেখা গেল ভাড়ার বিনিময়ে এখানে লোকজন ঘর নিচ্ছে, তখন শুরু থেকেই যারা এখানে ঘর তুলে থাকছিল, তারাও তাদের দখলকৃত জমির পরিধি বাড়িয়ে ঘর তুলে ভাড়া দেয়া শুরু করে। এভাবে ধীরে ধীরে কড়াইল বস্তিতে জনবসতির সৃষ্টি হয়।
তবে ২০০১ সাল বা তার দু-এক বছর আগে কিংবা পরে বস্তিতে বসবাসের জন্য আসা লোকজন জানায় যে, তারা যখন বস্তিতে আসে, তখনো বস্তির কিছু কিছু অংশ খালি ছিল। তারপর ধীরে ধীরে জনবসতি বেড়েছে এবং তা ক্রমাগত বেড়েই চলেছে। একজন বয়স্ক বস্তিবাসী জানান, শুরুর দিকে এখানে বসবাসের জন্য ২০০-৩০০ ঘর ছিল। যেখানে এখন ঘরের সংখ্যা ২০ হাজারেরও বেশি এবং প্রায় লাখ লোকের বসবাস। কড়াইল বস্তিতে এখন বাড়ি মালিকদের তুলনায় ভাড়াটিয়ার সংখ্যা অনেক বেশি। বস্তিতে বাড়ি মালিকদের কমপক্ষে পাঁচটি ঘর থেকে শুরু করে ৫০-৮০ বা তারও বেশি ঘর রয়েছে, যেগুলোর দু-চারটি ঘরে বাড়ি মালিকরা নিজেরা থেকে বাকি ঘরগুলো ভাড়া দিয়ে দেন। অনেক বাড়ি মালিক আবার গুলশান, বনানী বা মহাখালীতে থাকেন এবং বস্তির ঘরগুলো দেখাশোনার জন্য ম্যানেজার নিয়োগ দিয়েছেন।
আগে এ বস্তিতে এত বাড়িঘর যেমন ছিল না, তেমনি বাড়িঘরগুলোর ধরনও এমন ছিল না। আগে এলাকাটি অনেক নিচু ছিল। ঘর বলতে ছিল টিনের বা বাঁশের বেড়ার ছাপড়া। বর্ষাকালে আশপাশ এলাকার বৃষ্টির পানির ঢল এ বস্তিতে এসে পড়ত। ফলে তখন বস্তিতে পানি জমে জলবদ্ধতার সৃষ্টি হতো। বস্তিতে বসবাসরত মানুষজন ইটের সুড়কি, বালি, মাটি ফেলে জমি উঁচু করায় এখন আশপাশ এলাকার পানির ঢল আর বস্তিতে এসে পড়ে না। তাছাড়া বস্তির পানি এখন লেকে গিয়ে পড়ে। ফলে আগের মতো জলাবদ্ধতার সমস্যা আর নেই। পআগের ছাপড়া ঘরগুলো ভেঙে এখন ইটের বিল্ডিং ও টিনের ঘর উঠেছে। কাঁচা রাস্তাঘাটগুলোতেও ইটের সলিং হয়েছে।
দীর্ঘ ২৭-২৮ বছর ধরে ক্রমাগতভাবে বস্তিতে বহিরাগতদের বসতি স্থাপনের মধ্য দিয়ে কড়াইল বস্তি বর্তমান রূপ লাভ করেছে। অধিকাংশ বস্তিবাসীই মনে করে, এ জমি সরকারের এবং এখানে তাদের বসবাস অস্থায়ী ও স্বল্পকালের জন্য। তবু স্বীয় প্রয়োজন ও স্বার্থে তারা এখানে বসবাস করছে। এভাবে কোনো মালিকানা ছাড়াই একটি ভূমিকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে ঢাকার অন্যতম একটি জনবসতিপূর্ণ বস্তি কড়াইল বস্তি।
লেখক: উন্নয়নকর্মী ও সমাজ গবেষক





