ঢাকা মহানগর বাংলাদেশের বৃহত্তর বাণিজ্যিক কেন্দ্র। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল বা সংক্ষেপে আইএমএফের বিশ্লেষণের সূত্র দিয়ে প্রকাশিত এক তথ্যের ভিত্তিতে ঢাকার নমিনাল গ্রস স্টেট প্রডাক্টের (উৎপাদন প্রক্রিয়ায় ব্যবহূত পণ্য ও পরিষেবা বাবদ খরচ বাদ দিয়ে উৎপাদিত পণ্য ও পরিষেবার সামগ্রিক মূল্য) পরিমাণ হলো সমগ্র বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রায় এক-তৃতীয়াংশের সমান। বৃহৎ ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোর বেশির ভাগ ঢাকায়। টেক্সটাইল ও ফার্মাসিউটিক্যাল প্রসার পাওয়ায় ঢাকার অর্থনৈতিক গুরুত্ব বৃদ্ধি পেয়েছে। অনেকের কাছে ঢাকা হলো ভাগ্য বদলের নগর। ব্যবসা-বাণিজ্য ও বেসরকারি চাকরির সুযোগ বেশি। অর্থোপার্জন, শিক্ষা গ্রহণ ও স্বাচ্ছন্দ্যকর জীবনযাপনে ছুটে আসে এ নগরে। বাংলাদেশে অভ্যন্তরীণ অভিবাসনে কোনো বিধিনিষেধ নেই। চীনে যেমন এ ধরনের বিধিনিষেধ আছে। ফলে ঢাকা মহানগরের আয়তন ও বাসিন্দা সংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে প্রসারিত হচ্ছে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের পরিধি।
চীন ও গ্রিসের পর্যটকের মতে, ঢাকায় বিক্রমপুর ও সাভার একাদশ শতাব্দীতে বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে সমৃদ্ধি লাভ করে। ৪০০ বছর আগে সপ্তদশ শতাব্দীর শুরুতে বাংলার রাজধানী হওয়ার আগেও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের দিক দিয়ে ঢাকা ব্যস্ততম নগর ছিল। ওই শতাব্দীর দ্বিতীয়ার্ধে ভেনিসের পর্যটক ম্যানুচ্চি নিক্কোলাও ঢাকা ভ্রমণ করেন। তার বর্ণনামতে, ঢাকা শহর তখনো বড় আকার ধারণ করেনি। শহরে দুটি কুঠি বা আবাসিক কার্যালয় ছিল। একটি ইংরেজদের, অন্যটি ওলন্দাজদের। প্রতি বছর একাধিক জাহাজে মসৃণ সাদা সুতা (সম্ভবত মসলিন) ও সিল্ক কাপড় বোঝাই করা হতো। বহু খ্রিস্টান ও সাদা-কালো পর্তুগিজ ঢাকায় অবস্থান করত। ওই সময় ঢাকায় দেশীয় শিল্প ও নদীভিত্তিক পরিবহন ব্যবস্থা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি জোরদারে সহায়ক হয়। সুবিদিত মসলিন প্রস্তুতকারক ও মসলা ব্যবসায়ী মালপত্র রফতানি করে নদীপথে আন্তর্জাতিক যোগাযোগ তৈরিতে ঐতিহাসিক ভূমিকা রাখে। মোগল শাসক বাংলার রাজধানী ঢাকায় স্থানান্তর করার পর বাণিজ্যিক ও শিল্প কেন্দ্র হিসেবে প্রসিদ্ধ হয়ে ওঠে। ঢাকার নামকরণ হয়েছিল জাহাঙ্গীরনগর। বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক পরিবর্তনের ফলে স্থানীয় অর্থনীতিতে বিশেষ রূপান্তর পরিলক্ষিত হতে থাকে। প্রায় ২০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য ও ১২ কিলোমিটার প্রস্থের ঢাকা নগর লাখ দশেক লোকের বসবাস স্থল হয়ে দাঁড়ায়। বিশালসংখ্যক শিল্পী ও কারিগর এবং রাজকর্মচারী এসে বহুবিধ পেশাভিত্তিক নতুন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সূচনা করে। ভারতের বিভিন্ন অঞ্চল ও বিদেশ থেকে বণিক ও ব্যবসায়ীরা ঢাকায় আসতে শুরু করে। প্রচুর মহাজন, পোদ্দার ও ব্যাংকার তৈরি হয়ে অর্থনৈতিক ও সামাজিক জীবনে ঢাকার অর্থনীতি এ দেশে বড় রকমের ভূমিকা রাখতে শুরু করে। এভাবে মোগল ও নবাব আমলে কারু শিল্প, দুগ্ধজাত পণ্য, অলঙ্কার, মৃৎ শিল্প, কাগজ তৈরি, নৌকা নির্মাণ মুখ্য বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ড হিসেবে ঢাকার অর্থনীতি প্রসারিত হতে থাকে। রকমাদি পণ্য সমারোহে স্থানীয় বাজারগুলো জাঁকজমকপূর্ণ থাকত। ইউরোপীয় পর্যটক ম্যানরিকের তথ্যানুযায়ী, ব্যবসায়ীরা টাকা গোনার সময় পেত না। ওজন করে টাকার পরিমাণ নির্ধারণ করত। ঢাকার বাণিজ্যিক সমৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক সাফল্য ও সম্ভাবনা আর্মেনীয়, ফরাসি, পর্তুগিজ, গ্রিক ও ব্রিটিশ বণিকদের মুনাফাকর বাণিজ্য ও বিত্তশালী হওয়ার সুযোগ খুলে দেয়। তারা মসলিন রফতানি করে স্বর্ণ আমদানি করত। একসময় স্বর্ণের বৃহত্তম বাজার ছিল ইন্ডিয়া। বিদেশী বণিকদের সমাগম ঢাকা নগরে ক্রম অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও আর্থসামাজিক কর্মকাণ্ডের ওপর প্রভাব আনে। তারা নতুন নতুন কুঠির, এজেন্সি কার্যালয় ও ফ্যাক্টরি খুলতে শুরু করে। ফ্যাক্টরিগুলো প্রথমদিকে যথাসম্ভব তেজগাঁও এলাকায় স্থাপিত হয়। তেজগাঁওয়ের বাণিজ্যিক গুরুত্ব বৃদ্ধি পেয়ে দীর্ঘকাল অব্যাহত থাকে। ঊনবিংশ শতাব্দীতে তেজগাঁওয়ের সঙ্গে রেল যোগাযোগ স্থাপিত হয়। মোগল থেকে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনে উত্তরণের মধ্য দিয়ে বাংলায় অনেক প্রাতিষ্ঠানিক পরিবর্তন ঘটে। এতে ঢাকা মহানগরে বিভিন্ন পণ্য উৎপাদনে পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে অর্থনৈতিক ব্যবস্থারও রূপান্তর ঘটে। মসলিন উৎপাদন বন্ধ হয়ে যেতে থাকে। মসলিন কারিগররা পেশা পরিবর্তন করতে কৃষক, স্বর্ণকার বা ব্যবসায়ী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করে। অষ্টাদশ শতাব্দীর প্রথম দশকে মুর্শিদাবাদ ও পরবর্তীতে কলকাতা বাংলার রাজধানী হলে ঢাকা নগরের মর্যাদা কিছুটা ক্ষুণ্ন হয়। ঢাকার বাসিন্দা সংখ্যা কমে যায়। তবে বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে ঢাকার গুরুত্ব অব্যাহত থাকে।
ঢাকায় বিদেশী বাণিজ্য কোম্পানির এজেন্ট, ফ্যাক্টরি কর্মী, বণিক, ব্রোকার, পাইকার, মহাজন, পোদ্দার, শিল্পকার, পেইন্টার, তাঁতি, স্বর্ণকার, রৌপ্যকার, দোকানদারসহ অসংখ্যক ট্রেডিং ও ম্যানুফ্যাকচারিং শ্রেণীর আবির্ভাব হতে থাকে। ঢাকায় ওই সময় কর্মজীবী ও ভোক্তাদের অস্তিত্ব গড়ে ওঠে। অর্থ সরবরাহ বজায় রাখার জন্য টাঁকশাল নির্মিত হয় এবং বাংলার বিভিন্ন এলাকা থেকে পোদ্দার, শেঠ ও ব্যাংকাররা শহরে আসতে থাকে। স্থানীয়দের মধ্যে শাহ ও বসাক ঢাকার ব্যবসায় নেতৃত্ব দিতে থাকে। এই সঙ্গে মার্কেট ও বাজার গড়ে উঠে অর্থনীতিতে অবস্থার পরিবর্তন ঘটতে থাকে। পরিবহনের সুবিধার্থে মার্কেটগুলো বুড়িগঙ্গা নদীর কাছাকাছি গড়ে ওঠে। এ ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কর্মচারীদের অংশগ্রহণ অর্থনীতিকে আরো জোরদার করে তোলে। উল্লেখ্য, অষ্টাদশ শতাব্দীতে দ্বিতীয়ার্ধে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির নিয়ন্ত্রণে আসে ঢাকা। চামড়া ও পাট শিল্প স্থাপিত হলে বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ড বিস্তার লাভ করে এবং ঢাকার অর্থনীতি অধিকতর শক্তিশালী হয়ে ওঠে। ব্রিটেন ও অন্যান্য ইউরোপীয় দেশ, জাপান ও আমেরিকায় কাঁচা তুলা, সুতা, সুতি বস্ত্র ও পাট রফতানি করা হতো। বাংলার অর্থনীতিতে কলকাতার পুঁজিপতিদের আধিপত্য ছিল। কলকাতা ছিল ব্রিটিশ শাসনের কেন্দ্র। বাংলায় আধুনিক ব্যাংক ব্যবস্থার সূত্রপাত হয় সপ্তদশ শতাব্দীর শেষে কলকাতায়। তবে পূর্ব বাংলার তত্কালীন বড় বড় শহরে এ ব্যবস্থা আসে অষ্টাদশ শতাব্দীর আশির দশকের মাঝামাঝি সময়ে। কারণ উপমহাদেশে বস্ত্র বা টেক্সটাইল শিল্পের প্রতি ব্রিটিশদের বৈরী নীতির ফলে ঢাকা নগরের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক গুরুত্ব কমে যায় এবং দেশীয় শিল্প উৎপাদন পড়ে যায়। ঢাকার ব্রিটিশ বণিক বা কর্মচারীদের এজেন্ট গোমস্তারা তাঁতিদের নিম্নমূল্যে পণ্য বিক্রি করতে বাধ্য করে। অন্যদিকে মিলে তৈরি কাপড়ের সঙ্গে প্রতিযোগিতা শুরু হয়। সেই সঙ্গে বসানো হয় ভারী শুল্ক।
সরকারি প্রশাসনে দক্ষতা বৃদ্ধি, অর্থনৈতিক উন্নতি, শিল্পোন্নয়ন ও স্থানীয় উদ্যোগে আর্থসামাজিক অগ্রগতির লক্ষ্যে বাংলা ‘পার্টিশন’ হয়। পূর্ব বাংলা ও আসামের রাজধানী হলে ঢাকার রাজকীয় মর্যাদা বৃদ্ধি পায়। তবে ছয় বছর পর ১৯১১ সালে পার্টিশন রহিত হলে ওই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধাক্কা খায়। ইংরেজ শাসনামলে কলকাতা বৃহত্তম পণ্য আমদানি ও রফতানি বন্দর ছিল। এশিয়া’স ল্যান্ড অ্যান্ড পিপল বইয়ের রচয়িতা জর্জ ক্রেসসের বর্ণনা অনুযায়ী ১৯৪১ সালে কলকাতায় যে জাহাজগুলো আসে, সেগুলোর সাকল্যে বহনক্ষমতা ছিল ৯০ লাখ টন। অর্থাৎ গড়পড়তা প্রতিদিন প্রায় ২৫ হাজার টন রফতানির পণ্য বোঝাই সম্ভব হতো। একই বছর বোম্বে বন্দরে যে জাহাজগুলো এসেছিল, সেগুলোর মোট বহনক্ষমতা ছিল ৬০ লাখ, করাচি বন্দরে ২০ ও মাদ্রাজে ১০ লাখ টন। কলকাতা বন্দর থেকে রফতানি করা পণ্যের অধিকাংশ ছিল পাট বা পাটজাত, বোম্বে থেকে তুলা, করাচি থেকে তুলা ও গম এবং মাদ্রাজ থেকে মূলত চামড়া। কলকাতা থেকে রফতানি পণ্যের একটা বড় অংশ আসত ঢাকা থেকে। এরপর ১৯৪৭ সালে নতুন দেশ পাকিস্তানের পূর্বাংশের রাজধানী ঢাকা অভিবাসীদের আগমনে নতুন আর্থসামাজিক অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয়।
বর্তমানে ঢাকা মহানগর দুই হাজার বর্গকিলোমিটারের ওপর জায়গা নিয়ে বিস্তৃত। সরকারি অর্থের বিনিয়োগ ঢাকায় বেশি। বিশেষ করে রাস্তাঘাট উন্নয়ন ও শিক্ষায়। ঢাকা মহানগর মোট রাস্তার দৈর্ঘ্য সত্তরের দশকে ৭০০ কিলোমিটার থেকে চলতি দশকের শুরুতে তিন গুণের ওপর হয়েছে। পরিসংখ্যান ব্যুবোর তথ্যের ভিত্তিতে ঢাকা মেগাসিটিতে জনসংখ্যা ২০০১ ও ২০১১ সালের মধ্যে দ্বিগুণ হয়ে ১ কোটি ৪০ লাখের ওপর চলে আসে। একই সময়ে মোট খানা বা পরিবারের সংখ্যা ২১-৩৩ লাখের ওপর বৃদ্ধি পায়। উল্লেখ্য, চার দশক আগে ঢাকা মহানগরে জনসংখ্যা ছিল ২০ লাখের কাছাকাছি। এর আগে পঞ্চাশের দশকের শুরুতে সাড়ে তিন লাখ ও ষাটের দশকের শুরুতে সাড়ে পাঁচ লাখ ছিল। বর্তমানে সারা দেশের মধ্যে ঢাকায় দারিদ্র্য রেখার নিচে বসবাসকারী জনসংখ্যার হার সর্বনিম্ন। খানা বা পরিবারপ্রতি সদস্য সংখ্যাও সবচেয়ে কম। ঢাকা শহরে পৌরসভা স্থাপিত হয়েছিল ১৮৬৪ সালে। পরে ১৯৬০ সালে টাউন কমিটি, ১৯৭২ সালে পৌর করপোরেশন ও ১৯৯১ সালে সিটি করপোরেশনে পরিবর্তিত হয়। ঢাকা সিটি করপোরেশনের (উত্তর ও দক্ষিণ) বাজেট ৫ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে। এ মহানগরে সুপ্রিম কোর্ট, হাইকোর্ট, শতাধিক দূতাবাস, সচিবালয়, জাতীয় জাদুঘর ও চিড়িয়াখানা ও সরকারি অধিদপ্তর, বড় বড় ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান ও এনজিওর প্রধান কার্যালয় অবস্থিত। দেশের বেসরকারি প্রায় ৬৪টি মেডিকেল কলেজের অর্ধেকের কাছাকাছি, ২৪টি ডেন্টাল কলেজের দুই-তৃতীয়াংশ ও ৮৫টি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশই এ ঢাকা মহানগরীতে। মাধ্যমিক স্কুল ও কলেজের সংখ্যা শতাধিক। ঢাকায় অনেকগুলো বহুজাতিক কোম্পানির কার্যালয় আছে। বড় বড় হাসপাতাল ঢাকা মহানগরীতে। সেই সঙ্গে খ্যাতনামা চিকিৎসকও। প্রায় ৬০টি সরকারি অফিস, ১৩৫টি পোস্ট অফিস, ৬২০টি ব্যাংক শাখা, ৩৪৫টি বাজার ও ২ হাজার ৬১৬টি রেস্তোরাঁ ছিল। ঢাকার সঙ্গে বাংলাদেশ বিমানযোগে বিশ্বের প্রায় ২০টি বৃহৎ নগরের সঙ্গে সরাসরি যাতায়াত করা যায়। এছাড়া আন্তর্জাতিক বিমানও আছে। আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ রুটে বছরে বিমানযোগে প্রায় প্রতিদিন হাজার হাজার যাত্রী যাতায়াত করে। টেলিফোন যোগাযোগ ব্যবস্থা বিস্তৃত হয়েছে। ঢাকা শহরে সত্তরের দশকে ৪২ হাজার টেলিফোন লাইন থেকে বর্তমানে এ শহরে বসবাসকারী সবাই মোবাইল ফোনের মালিক হয়েছে। একই সময়ে শহরে যান্ত্রিক যানবাহনের সংখ্যা ৮০ হাজার থেকে ১৭ লাখের ওপর পৌঁছেছে। এছাড়া দুই লাখের ওপর রিকশা আছে। রাস্তাঘাটে দুর্ঘটনাও সবচেয়ে বেশি এ নগরে। ঢাকা মহানগরে অপরাধও বেশি সংঘটিত হয়। দেশে সংঘটিত মোট অপরাধমূলক কাজের এক-চতুর্থাংশের ওপর, ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের এক-পঞ্চমাংশ ও হত্যাকাণ্ডের প্রায় ১০৯ শতাংশ এ নগরে। ঢাকা শহরে দক্ষ ও অদক্ষ শ্রমিক মজুরি হার অন্যান্য শহরের তুলনায় শতকরা ১৫ ভাগের ওপর। একজন সেলুনকর্মী দিনে হাজার টাকা উপার্জন করতে পারে। জুতা শাইনিং বা পলিশ করে ৫০০ টাকার ওপর আয় করতে পারে। লন্ড্রিতে একটি সুতির শাড়ি ইস্ত্রি করতে ৩০ টাকা আর সিল্ক হলে ৫০ টাকার ওপর, প্যান্ট-শার্ট ইস্ত্রি করতে ১৫ টাকা। সাধারণ দর্জির দোকানে প্যান্ট-শার্ট সেলাইয়ে ২০০-৩০০ টাকা। সাধারণ রোগে ডাক্তার ফি ৩০০-৪০০ টাকা। উচ্চ আয়ের বাসিন্দারা আয়েশের মধ্যে বসবাস করলেও নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোর পক্ষে ঢাকা মহানগরে জীবনযাপন বরাবরই কষ্টকর।
জলবায়ু পরিবর্তন এবং ঘূর্ণিঝড় ও বন্যা ঢাকা নগরে অভিবাসন বৃদ্ধির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে আশঙ্কা করা হয়ে থাকে। আগামী দশকে ঢাকা মহানগরের জনসংখ্যা আড়াই কোটি ছাড়িয়ে যেতে পারে। বৃহত্তর নগর হিসেবে বিশ্বে ঢাকার অবস্থান এগিয়ে চলেছে। বিশ্বের অন্যতম মহানগরীতে পরিণত হবে ঢাকা। বৃদ্ধি পাবে এ মহানগরে অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতা।
লেখক: উন্নয়ন গবেষক





