স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশের থিয়েটার নিয়ে আমার কোনো গবেষণা নেই। যেখানে যা পেয়েছি, পড়ে ফেলার চেষ্টা করেছি। অনেক কিছুর সঙ্গে নিজে যুক্ত থেকেছি এবং আছিও। তারই আলোকে আমার এ লেখা। নাট্যসমালোচক মফিদুল হক দুই বাংলার থিয়েটার পত্রিকায় এক প্রবন্ধে ঢাকার মঞ্চনাটকের উত্থান ও বিকাশের কথা লিখেছেন। তিনি লিখেছেন, স্বাধীনতার পর শিল্পের যে শাখায় সবচেয়ে বেশি উত্কর্ষ সাধিত হয়েছে, তা হচ্ছে মঞ্চনাটক। চলচ্চিত্র নয়, সে অর্থে সাহিত্যও নয়, নাটক। মঞ্চনাটক। মফিদুল হক যথার্থই বলেছেন। আমার শিল্পভাবনার গুরু সেলিম আল দীন বলতেন, তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তঃহল নাট্য প্রতিযোগিতার ফসল। ১৯৭২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তঃহল নাট্য প্রতিযোগিতার ভেতর দিয়ে স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশের মঞ্চনাটকের ভ্রূণের সঞ্চার হয়। সে নাট্য প্রতিযোগিতার একটি বড় শর্ত ছিল, নাটকের পাণ্ডুলিপি হতে হবে দলের নিজস্ব নাট্যকারের লেখা। এ বিশেষ একটি শর্তই সেদিন বদলে দিয়েছিল প্রতিযোগিতার চেহারা। আমরা পেয়েছিলাম বেশ কয়েকজন নাট্যকার, নাট্যনির্দেশক ও অভিনেতা। সেলিম আল দীন, আল মনসুর, হাবিবুল হাসান, নাসির উদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু, ম. হামিদ, রাইসুল ইসলাম আসাদ, পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায় এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য। বিশ্ববিদ্যালয়কেন্দ্রিক এ নাট্যচর্চা মুদ্রার এক পিঠ।
মুদ্রার অন্য পিঠে ছিলেন নাটকে নিবেদিতপ্রাণ আরো অনেকে। স্বাধীনতার অনেক আগে থেকেই যারা নাটকের সঙ্গে নানাভাবে যুক্ত ছিলেন। বাংলার মঞ্চনাটকের জন্য একটা সুগম পথ যারা রচনা করে চলেছিলেন। আব্দুল্লাহ আল মামুন, মমতাজ উদ্দিন আহমেদ, মামুনুর রশীদ, আলী যাকের, রামেন্দু মজুমদার, ফেরদৌসী মজুমদার, আতাউর রহমান, মমতাজ উদ্দিন আহমেদ, শিমুল ইউসুফ, নাজমা আনোয়ার, সারা যাকের তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য। স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে তাঁদের হাতেই গড়ে উঠল গ্রুপ থিয়েটারের চর্চা।
বাংলা নাটকের ইতিহাস হাজার বছরের হলেও বাংলাদেশের নাট্যচর্চা যাকে আমরা গ্রুপ থিয়েটার বলি, তার শুরু স্বাধীনতার অব্যবহিতপরই ১৯৭২ সালে। যে শুরু কেবল নাটক নয়, জন্ম দেয় বিনা পারিশ্রমিকে পেশাদারি থিয়েটারের ধারা। স্বাধীনতাপূর্ব নাটকগুলোর প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল এর দর্শককে কেবল বিনোদিত করা। স্বাধীনতা-পরবর্তী নাট্যচর্চায় যোগ হলো এক সামাজিক দায়বদ্ধতার হিসাব-নিকাশ। কখনো তা হয়ে উঠল প্রতিবাদের হাতিয়ার, কখনো সামাজিক অসঙ্গতিকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়ার মাধ্যম। অর্থাৎ নাটকের বিষয় গাঁথুনি ও উপস্থাপনায় এল নতুন ধরন। কেউ কেউ অনুসরণ করে চললেন আমাদের দেশীয় আঙ্গিকের নির্ভরতা, কেউ কেউ সেই হেরেসিম লেবেদেফের দেখানো পথেই এগোলেন আরো আধুনিক রূপ পরিগ্রহ করে। নাটকের মঞ্চ, আলো, পোশাক সংগীতে এল পরিবর্তন। নাট্যচর্চা বলতে যা বোঝায়, তা-ই শুরু হলো এ দেশে। তবে তার বেশির ভাগটাই ঢাকাকেন্দ্রিক। সত্তরের দশকের মাঝামাঝিতেই অবশ্য ঢাকার বাইরেও শুরু হয়ে যায় এ চর্চা। এ সময় শ্রেণী সংগ্রাম ও সাম্যবাদে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পক্ষে এবং ধর্মীয় মৌলবাদ ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে স্লোগান তুলেছিল বাংলাদেশের নাট্যদলগুলো তাদের নাট্য প্রযোজনাগুলোয়।
সে সময় ঢাকায় অনেকগুলো নাট্যদল জন্ম নিল। থিয়েটার, আরণ্যক, নাগরিক, নাট্যচক্র, ঢাকা থিয়েটার। একাত্তরে যুদ্ধজয় যেন বিশেষ এক ভূমিকা রাখল বাংলাদেশের থিয়েটারে। গ্রুপ থিয়েটার আন্দোলনের জোয়ার বয়ে গেল ঢাকার মঞ্চে। এ সময়ে গ্রুপ থিয়েটারে সবচেয়ে লক্ষণীয় অনুষঙ্গ হলো, বেশির ভাগ নাট্যযোদ্ধাই আসলে মুক্তিযোদ্ধা। স্বাধীনতার সাময়িক স্বপ্নপূরণের পর থিয়েটার তাদের কাছে নতুন স্বপ্ন হয়ে ধরা দিল। থিয়েটারের প্রতি অভূতপূর্ব নিবেদন নিয়ে তারা শুরু করলেন। মঞ্চের পাদপ্রদীপের আলোয় নিজেকে উজাড় করে দেয়া, থিয়েটার নিয়ে ভাবনা, থিয়েটারে নিজের শ্রম-ঘাম-মেধার নিঃশর্ত বিনিয়োগ, এসব দিয়েই তারা গড়ে তুললেন বাংলাদেশের নিজস্ব থিয়েটারের কাঠামো। অনেক নতুন নতুন কর্মী তৈরি হতে থাকল আর তৈরি হলো অসংখ্য নাটক।
মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকসেনাদের এক দোসরকে কেন্দ্র করে সৈয়দ শামসুল হক রচনা করলেন পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়। এটিকে স্বাধীনতা-পরবর্তী প্রথম কাব্য নাটক হিসেবেও বলা যায়। এছাড়া এখানে এখন নাটকেও সৈয়দ হক উপজীব্য করলেন মুক্তিযুদ্ধের পরবর্তী সময়টাকে। আব্দুল্লাহ আল মামুন রচনা করলেন আয়নায় বন্ধুর মুখ, তোমরাই দেশের মানুষসহ আরো কয়েকটি নাটক। মামুনুর রশীদের নাটক জয়জয়ন্তীর মূল কেন্দ্রিকতা মুক্তিযুদ্ধকালীন গ্রামের মানুষ, বিশেষ করে শিল্পীদের জীবন ও সংগ্রাম। ড. এনামুল হক রচনা করলেন সেইসব দিনগুলো। এসএম সোলায়মানের নাটকেও মুক্তিযুদ্ধের স্বপ্ন আর মুক্তিযুদ্ধের প্রাপ্তির বিষয়টা উঠে এল এই দেশে এই বেশে নাটকে। এসএম সোলাইমান বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে অনুবাদ করলেন কোর্ট মার্শাল নাটকটি, যার বিষয়বস্তু মুক্তিযুদ্ধের পরবর্তীতে বীরাঙ্গনার সন্তানদের সামাজিক অবস্থান।
নাট্যনির্দেশক নাসিরউদ্দিন ইউসুফকেও রচনায় আসতে দেখা গেল একাত্তরের পালা আর টিটোর স্বাধীনতা নিয়ে। মমতাজউদ্দিন আহমেদের অনেকগুলো নাটকে স্বাধীনতার প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তিটা বিশেষভাবে উঠে এল। এর মধ্যে সাতঘাটের কানাকড়ি, কী চাহো শঙ্খচিল, স্বাধীনতা আমার স্বাধীনতা আর বর্ণচোরা উল্লেখযোগ্য। মান্নান হীরার একাত্তরের ক্ষুদিরাম মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক একটি বহুল প্রদর্শিত পথনাটক। নব্বইয়ের দশকের উল্লেখযোগ্য নাট্যনির্দেশকদের একজন শামসুল আলম বকুল রচনা করলেন ঘর লোপাট, যেখানে তিনি হানাদার বাহিনীর দোসরের উত্থানকে তুলে আনলেন। মুক্তিযুদ্ধের চেতনানির্ভর নাটক ছাড়াও রচিত হলো আরো অসংখ্য নাটক; ঈর্ষা এখানে এখন, নূরলদিনের সারা জীবন, হাত হদাই, কিত্তনখোলা, চাকা, যৈবতি কন্যার মন, সেনাপতি, সুবচন নির্বাসনে, অরক্ষিত মতিঝিল, কী চাহো শঙ্খচিল, চোর চোর, ওরা কদমআলী, ইবলিশ, ওরা আছে বলেই, সমতট, সাতঘাটের কানাকড়ি, ময়ূর সিংহাসন, ফণিমনসা, নিত্যপুরাণ, আরজ চরিতামৃত, নানকার পালা, সাত পুরুষের ঋণ, তির্থঙ্কর, খনা সেইসব নাটকের মধ্যে কয়েকটি নাম মাত্র। ঢাকার বাইরের গ্রুপ থিয়েটারের দলগুলোয় নিজস্ব নাট্যকাররা রচনা করে চললেন মৌলিক নাটক। আশির দশকের গোড়ায় স্বৈরশাসন আসার পর গ্রুপ থিয়েটারগুলো যেন ফুঁসে উঠল। শুরু হলো পথনাটক চর্চা। রাস্তায় রাস্তায় প্রদর্শিত হতে থাকল পথনাটক। গ্রেফতারও হলেন অনেক নাট্যকর্মী। ‘দেশ নাটক’ তপন দাশ রচিত খেলা নাটকের প্রদর্শনী করতে গিয়ে পুলিশি হয়রানির শিকার হয়েছিল। স্বৈরাচারবিরোধী পথনাটক রচনায় এলেন মান্নান হীরা, আব্দুল্লাহ হেল মাহমুদ, তপন দাশ, শংকর সাওজাল আব্দুল হালিম আজিজসহ আরো অনেকে। আমার লেখা কাকলাস ও জীবন্ত পোস্টার সে সময় দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রদর্শিত হয়েছে।
ঢাকার বাইরে চট্টগ্রামেও বিস্তার ঘটল নাটকের গ্রুপভিত্তিক চর্চা। গড়ে উঠল থিয়েটার ’৭৩, অরিন্দম, নান্দিকার, তির্যক, গণায়ন। রাজশাহীতে সাংস্কৃতিক সংঘ, নাটোরের সাকাম ফরিদপুরের সুনিয়ম, খুলনার খুলনা থিয়েটার বরিশালের খেয়ালি, কুমিল্লার জনান্তিক, ময়মনসিংহের বহুরূপী, বগুড়ার বগুড়া থিয়েটার, কুষ্টিয়ার বোধন ও নূপুর আমাদের থিয়েটার আন্দোলনে বিশেষ ভূমিকা রাখতে শুরু করল। বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক নাট্যদলও গড়ে উঠল এরই সঙ্গে সঙ্গে।
নাগরিক নাট্য সম্প্রদায় ১৯৭৩ সালে বাদল সরকার রচিত বাকি ইতিহাস নাটকে টিকিট প্রথা চালু করে জন্ম দেন দর্শনীর বিনিময়ে নাটক দেখার ধারা। এরপর থিয়েটারের চর্চায় সব দলই দর্শনীর বিনিময়ে নাটক দেখার প্রথা অনুসরণ করে চললেন। আজো তা চলছে। আশির দশকের শেষভাগে ঢাকার দলগুলোর প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে আলোচনা শুরু হয় এবং থিয়েটার দলগুলোর একটা সমন্বিত প্লাটফর্ম তৈরির উদ্যোগ নেয়া হয়। ১৯৮১ সালের আগস্টে জাতীয় সম্মেলনের মাধ্যমে এ উদ্যোগ বাস্তবে রূপ নেয়। জন্ম হয় গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশন। নাট্যব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদারকে সভাপতিমণ্ডলীর চেয়ার ও নাট্যনির্দেশক নাসির উদ্দিন ইউসুফ বাচ্চুকে সেক্রেটারি জেনারেল করে গঠিত হয় কেন্দ্রীয় কমিটি।
বাংলাদেশের নাটকে বিশেষ করে নাটক মঞ্চায়নে এক আমূল পরিবর্তন ঘটল যখন দিল্লির ন্যাশনাল স্কুল অব ড্রামা থেকে একদল তরুণ নাটকের ওপর পড়াশোনা শেষ করে দেশে ফিরলেন। তারা নাটকের সেট, আলো, কস্টিউম মিউজিক সবকিছুতেই তাদের মেধার স্বাক্ষর রাখলেন। শুরুতে যাঁরা এনএসডি থেকে পড়াশোনা করে এসেছিলেন, তাদের মধ্যে সৈয়দ জামিল আহমেদ, তারিক আনাম খান, কামাল উদ্দিন নীলু, সদরুল পাশা, খ ম হারুনের নাম এ মুহূর্তে স্মরণ করতে পারছি। এনএসডি থেকে নাটকের ওপর পড়াশোনা করে আসার এ ধারা অনেক দিন ধরে চালু ছিল। এখন বেশকিছু বিশ্ববিদ্যালয়েও খোলা হয়েছে থিয়েটার ও থিয়েটার তত্ত্ববিষয়ক বিভাগ।
এরপর অনেক সময় গেছে। সময় গেছে, সঙ্গে করে নিয়ে গেছে থিয়েটারের জৌলুস। কিংবা হয়তো আমরাই ধরে রাখতে পারিনি স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ের সেই প্রাণ দিয়ে থিয়েটারকে ভালোবাসার উচ্ছ্বাস। একসময় আমরা থিয়েটারের কাছে দ্বারস্থ ছিলাম আর এখন থিয়েটার আমাদের কাছে দ্বারস্থ। ক্রমে আমরাই থিয়েটারের বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছি।
আমাদের থিয়েটার এখন নাট্যকারের দ্বারস্থ। নাট্যকারদের এখন অনেক ব্যস্ততা। টেলিভিশনের জন্য নাটক লিখতে হয়, এনজিওদের জন্য নাটক লিখতে হয়, বিজ্ঞাপন চিত্র লিখতে হয়। জীবিকার বিপরীতে প্রাপ্তিশূন্য মঞ্চনাটক রচনার বিষয়টি এখন অনেকের কাছে বোঝার মতো। আমাদের থিয়েটার এখন অভিনয় শিল্পীদের দ্বারস্থ। টেলিভিশনে অভিনয় ও নির্মাণকাজে ব্যস্ততম শিল্পীরা এখন আর মঞ্চনাটক করতে পারেন না। তাদের অন্তরটা হয়তো কেঁদে যায় মঞ্চের জন্য, কিন্তু সবকিছু সামলে তারা মঞ্চের আলোয় আর আসতে পারেন না। ওই অন্তর কেঁদে যাওয়া পর্যন্তই। থিয়েটারকে দ্বারস্থ করে নিজেরা তারকাখ্যাতি অর্জন করেছেন, কিন্তু থিয়েটারের প্রতি তারা কোনো দায় বোধ করেন না। আমাদের থিয়েটার দ্বারস্থ মিলনায়তনের কাছে। নাটকের জন্য এখন ঢাকায় এক শিল্পকলাই সম্বল। কিছুদিন হলো মহিলা সমিতি মিলনায়তন আবারো চালু হয়েছে। তবে ঢাকার আয়তন এখন যত বড়, তাতে সব এলাকার মানুষ যানজট ঠেলে নাটক দেখতে আসতে পারেন না। এলাকাভিত্তিক নাট্যচর্চা গড়ে ওঠার মতো অবস্থা নেই। কারণ সব এলাকায় নাটক করার উপযোগী মঞ্চ নেই। সবকিছুর পরে থিয়েটার দ্বারস্থ দর্শকের কাছে। পিটার ব্রুকের কথায়, একজন দর্শকই থিয়েটারের শর্ত পূরণ করেন। থিয়েটারের পরিভাষায়, এ কথা সত্য হলেও আমাদের বাস্তবতা অন্য রকম। দর্শক কমছে আমাদের থিয়েটারের। এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার উদ্দেশ্যে কিছুদিন ঢাকার নাটকে এক ধরনের প্রবণতা দেখা দিয়েছিল। আর তা হলো হাসির নাটক। হাসির খোরাক খুঁজতেই যেন দর্শক নাটক দেখেন— এমন এক বোধ থেকে নেয়া হলো মঁলিয়ের ও মৌলিক হাসির নাটকের আশ্রয়। কৌশলটি স্থায়ী হলো না, কারণ নাটকের খাঁটি দর্শক তৈরি হলো না এ পন্থায়।
জঙ্গিবাদের উত্থানও আমাদের সারা দেশের নাটককে ব্যাহত করল। এটা খুবই দুঃখের কথা। যাদেরকে পরাজিত করে আমরা স্বাধীনতা পেয়েছিলাম, পেয়েছিলাম মুক্ত দেশে অবাধ নাট্যচর্চার সুযোগ, যার ফলে গড়ে উঠেছিল আমাদের থিয়েটারচর্চা, আজ তাদের জন্যই দেশের কত জায়গায় নিরাপদে নাটকের প্রদর্শনী করা যাচ্ছে না। তবে আমি আশার আলো দেখছি। গত বছর ঢাকায় চল্লিশের অধিক নাটক মঞ্চে বসেছিল। চলতি বছর আরো বেশি নাটক মঞ্চে আসছে। নাট্য উৎসব হচ্ছে। দর্শক ফিরছে। যারা দলকে সময় দিতে পারছিলেন না নিয়মিতভাবে, তাদের অনেকেই ফেরার ভাবনাটা গুরুত্বের সঙ্গে ভাবছেন। ফিরছেনও কেউ কেউ। থিয়েটার আবারো জেগে উঠছে। বেঁচে উঠছে।
থিয়েটার না বাঁচলে যে বাংলার হাজার বছরের ঐতিহ্য বাঁচানো যাবে না। যেকোনো মূল্যে থিয়েটারকে চলতে হবেই।
লেখক: নাট্যকার





