বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামের প্রধান ফটক ও মশাল প্রকল্পটি ফর্ম৩.আর্কিটেক্টসের স্থাপত্য যাত্রা শুরুর দিকের একটি কাজ। কাজটির পরিসর ক্ষুদ্র হলেও জাতীয় পর্যায়ে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কাজটির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে আন্তর্জাতিক গণ্ডিতে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি। যেকোনো আন্তর্জাতিক বা জাতীয় ক্রীড়া উৎসবের উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয় এ মশাল প্রজ্বালনের মধ্য দিয়ে, আর সে কারণেই স্টেডিয়ামের প্রধান ফটক ও মশাল বিশেষ তাত্পর্যপূর্ণ।
১১তম সাউথ এশিয়ান গেমস ২০১০কে উদ্দেশ্য করে বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন ২০০৯-এ বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামের প্রধান ফটক এবং মশাল নতুন রূপে নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেয়। বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ স্থপতি ইনস্টিটিউটের সক্রিয় সহযোগিতায় ঐক্যবদ্ধ হয়ে উন্মুক্ত স্থাপত্য নকশা প্রতিযোগিতার আয়োজন করে। জুরি বোর্ডের সদস্য ছিলেন স্থপতি শামসুল ওয়ারেস, স্থপতি সাইফ উল হক এবং স্থপতি এহসান খান। উল্লেখযোগ্যসংখ্যক অংশগ্রহণকারী দলের মধ্যে ফর্ম৩.আর্কিটেক্টসের প্রস্তাবিত নকশা জুরি বোর্ডের বিবেচনায় জয় লাভ করে। ফর্ম৩.আর্কিটেক্টসকে প্রস্তাবিত নকশার বিস্তারিত ড্রয়িং প্রণয়ন এবং নির্মাণের জন্য সময় বেঁধে দেয়া হয় এক মাস।
নকশার মূল ধারণা ছিল, একটি ক্রান্তিস্থল তৈরি করা, যা কিনা ভেতর ও বাইরের মাঝে সেতুবন্ধ করবে। একটি ৭৫ ফুট উচ্চতার লম্বাটে চৌকাকৃতির ফ্রেমের মধ্য দিয়ে অর্ধছায়াময় ক্ষুদ্র পথের ক্ষুদ্র যাত্রাকে বিশেষায়িত করার জন্য ফটকের ছাদে একটি অনিয়মিত লম্বা চিড় রাখা হয়েছে। উদ্দেশ্য হলো, উন্মুক্ত আকাশের সৌন্দর্যকে এ চিড়ের মধ্য দিয়ে কৌতূহলী চোখে উপভোগ করা। ৫০ ফুট উচ্চতায় স্বচ্ছ কাচের একটি ব্রিজ নির্মাণ করা হয়, যার ওপর স্থান দেয়া হয় অধুনা নির্মিত মশালকে। পূর্ববর্তী নকশায় মশালটি নির্মাণ করা হয়েছিল গতানুগতিক মশালের সরাসরি অনুকরণে। ফর্ম৩.আর্কিটেক্টসের প্রস্তাবিত নতুন মশালটি আগের মশালটির একটি বিমূর্ত রূপায়ণ। মশালটি ফটকের ছাদের চিড়ের কেন্দ্রস্থল ফুঁড়ে উপরে উঠে গেছে আকাশের দিকে। মশালসহ সম্পূর্ণ ফটকটির উচ্চতা ১০০ ফুট। যেকোনো নকশা প্রণয়নের আগে আমরা বিবেচনা করি স্থাপনার স্থান, কাল ও ব্যবহার। এর প্রভাব পড়ে স্থাপনার সমাধানে। বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামের প্রধান ফটকের অবস্থান জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের ঠিক পাশেই। মসজিদের জানালায় আমরা দেখি ইসলামিক জ্যামিতিক নকশা। মশাল ফটকের নিয়ন্ত্রিত দরজায় দেখা যায় অনুরূপ জ্যামিতিক নকশার প্রতিফলন। নির্মাণকাজ ত্বরান্বিত করার জন্য লাইট ওয়েট স্টিল স্ট্রাকচারের সঙ্গে ব্যবহার করা হয়েছে স্বচ্ছ গ্লাস। ত্রিকোণাকৃতির উঁচু প্লাটফর্ম ব্রিজের ফ্রেমের ভেতরেই স্থাপনা করা হয়েছে একটি স্বচ্ছ কপিকল সদৃশ লিফট। ব্যবহারিক দিকের পাশাপাশি পুরো মশাল ফটকের নান্দনিক বিষয়টিকেও বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়েছে। ভিন্নধর্মী এ স্থাপনাটি বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সফল স্থাপত্যচর্চার একটি অন্যতম বিশেষ উদাহরণ বলে আমি মনে করি।
ডিজাইন টিম: দিলরুবা ফেরদৌস শুভ্রা, মো. দিদারুল ইসলাম ভূঁইয়া, এ কে এম মোয়াজ্জাম হোসেন, তারেক মোরাদ, সৈকত বড়ুয়া
লেখক: কো-ফাউন্ডার ও পার্টনার, ফর্ম.আর্কিটেক্টস
কো-ফাউন্ডার ও পার্টনার, মৃ স্টুডিও






