বীমা শিল্পের একটি মাইলফলক ‘১
মার্চ জাতীয় বীমা দিবস’ দেশব্যাপী
উদ্যাপিত হওয়ায় এ শিল্পের
সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আমরা সবাই অনেক উত্ফুল্ল ও গর্বিত। বাংলাদেশের
উন্নয়নের রূপকার, বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত
সফল রাষ্ট্রনায়ক জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু কন্যা গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, জননেত্রী, দেশরত্ন শেখ
হাসিনা গত বছর বীমা শিল্পের সঙ্গে জাতির পিতার স্মৃতিবিজড়িত দিনটিকে ‘জাতীয়
বীমা দিবস’ ঘোষণা
করেন।
ফলে এবার দ্বিতীয়বারের মতো দিবসটি জাতীয়ভাবে পালিত হচ্ছে।
প্রথমেই আমি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে, যার স্মরণে
দেশব্যাপী পালিত হচ্ছে মুজিব শতবর্ষ।
তারই নেতৃত্বে আমরা পেয়েছি একটি স্বাধীন রাষ্ট্র ও পতাকা। আমি
স্বাধীনতার এ মাসে
আরো স্মরণ করছি মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মদানকারী লাখো শহীদকে।
পাশাপাশি স্মরণ করছি বাংলাদেশসহ বিশ্বব্যাপী করোনা মহামারীতে আক্রান্ত হয়ে যেসব ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করেছেন তাদের।
তাদের আত্মা শান্তি লাভ করুক—এ কামনা
করি।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বীমা পেশায় স্মৃতিবিজড়িত ‘১
মার্চকে জাতীয় বীমা দিবস’ ঘোষণা
করায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে আন্তরিক অভিনন্দন ও বিনম্র
শ্রদ্ধা জানাই।
আমরা মনে করি মুজিব বর্ষে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে ‘জাতীয়
বীমা দিবস’ ঘোষণা
বীমা শিল্পে জড়িত আমাদের সবার জন্য একটি বিশাল পুরস্কার।
আমরা এজন্য গৌরব বোধ করি।
গত বছর এ দিনে
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী প্রথমবারের মতো ‘জাতীয়
বীমা দিবস’-এর
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে আমাদের ধন্য করেন।
এটা ছিল বীমা শিল্পের এ যাবত্কালের
সর্বোচ্চ প্রাপ্তি।
বীমা দিবসের এ স্বীকৃতির
মধ্য দিয়ে বীমা শিল্পে এক যুগান্তকারী পরিবর্তনের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।
আমরা এ শিল্পের
সঙ্গে যুক্ত সব স্টেকহোল্ডার মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে গভীরভাবে কৃতজ্ঞ।
তিনি এ শিল্পের
উন্নয়নের জন্য ‘বীমা
আইন ২০১০’ ও
‘বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ
কর্তৃপক্ষ আইন ২০১০’ প্রণয়নসহ
বিভিন্নমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন।
আমরা আশা করব, অন্যান্য দেশের
মতো আমাদের দেশেও ক্রমান্বয়ে সব শ্রেণী-পেশার
মানুষ বীমার আওতায় আসবে এবং বীমা সেক্টর দেশের জিডিপিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম হবে।
প্রসঙ্গত এখানে উল্লেখ করা আবশ্যক, করোনা মহামারীর
কারণে বিশ্বব্যাপী সবাই যখন দিশেহারা তখন আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত ধৈর্যসহকারে সাহসের সঙ্গে তা মোকাবেলা করেছেন।
অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিভিন্ন সেক্টরে আর্থিক প্রণোদনা দিয়েছেন।
ব্যক্তিগতভাবে সর্বদা করোনা পরিস্থিতি মনিটর করেছেন এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন।
সর্বোপরি মানুষ যাতে কর্মহীন না হয়ে পড়ে, জীবন যাতে
সচল থাকে, সে লক্ষ্যে
অত্যন্ত সাহসের সঙ্গে ঝুঁকি নিয়ে তিনি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর এ বিচক্ষণতা
ও দূরদর্শিতা
বিশ্ববাসীর প্রশংসা কুড়িয়েছে।
জীবন ও জীবিকার
পাশাপাশি চলার পথকে সুগম করার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যে নিদের্শনা দিয়েছেন, বীমা সেক্টরে
আমরা তা যথাযথভাবে অনুসরণ করার চেষ্টা করেছি।
সে কারণে এ সেক্টর
তেমন কোনো সংকটে পড়েনি।
এজন্য বীমা সেক্টরের পক্ষ থেকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও বিশেষ
কৃতজ্ঞতা জানাই।
কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি অর্থ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী, আর্থিক প্রতিষ্ঠান
বিভাগের মাননীয় সিনিয়র সচিব ও বীমা
উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ
কর্তৃপক্ষের মাননীয় চেয়ারম্যান ও সম্মানিত
সদস্যদের।
যারা এ দুর্যোগের
সময় বীমা সেক্টরকে সচল রাখার জন্য প্রতিনিয়ত আমাদের দিকনিদের্শনা ও পরামর্শ
দিয়েছেন।
বীমা সেক্টর ডিজিটাইজেশন বাস্তবায়নের পর্যায়ে রয়েছে।
এর মাধ্যমে এ সেক্টরে
স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা
নিশ্চিত করা গেলে বীমার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস
বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে এবং বীমা সেক্টর দেশের জিডিপিতে অধিক হারে অবদান রাখতে সক্ষম হবে বলে আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি।
পরিশেষে আমি আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই ‘জাতীয়
বীমা দিবস’ উদযাপনের
সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অর্থ মন্ত্রণালয়ের ও বীমা
উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ
কর্তৃপক্ষের সব কর্মকর্তাকে, বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানাই বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশন ও বাংলাদেশ
ইন্স্যুরেন্স ফোরামের সব সদস্যকে, বীমা শিল্পের
সঙ্গে জড়িত সব পেশাজীবীকে, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক
মিডিয়ার সাংবাদিকদের।
যারা দিবসটি সফলভাবে বাস্তবায়নের জন্য যার যার অবস্থান থেকে যথাসাধ্য অবদান রেখেছেন।
আমি জাতীয় বীমা দিবসের সার্বিক সাফল্য ও সার্থকতা
কামনা করি।
বি
এম
ইউসুফ
আলী:
প্রেসিডেন্ট
বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স ফোরাম





