হাছন রাজা মরমি কবি, সাধক। তাঁর প্রকৃত নাম দেওয়ান হাসন রজা চৌধুরী। হাছন রাজার মুখ্য পরিচয় একজন মরমি কবি হিসেবে। তাঁর সম্পর্কে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একবার ভারতীয় দর্শন কংগ্রেসের অধিবেশনে সভাপতির ভাষণে বলেছিলেন: ‘পূর্ববঙ্গের একজন  গ্রাম্য কবির গানে দর্শনের একটি বড় তত্ত্ব পাই সেটি এই যে, ব্যক্তিস্বরূপের সহিত সম্বন্ধসূত্রেই বিশ্ব সত্য’

 

সৌখিন বাহার। হাছন রাজা (১২৬১-১৩২৯ বঙ্গাব্দ)

 

কোড়া পাখির বর্ণনা

আল্লা আল্লা বল ভাই, আল্লার নাম সার।

মোহাম্মদ মুস্তফার নামে, হইয়া যাইবায় পার।।

ভালা বুরা কোড়ার যত, করিব বয়ান।

না লেখিলে তুষ্ট নাহি, হয় মন প্রাণ।।

বহুৎ শিকারী যে, কোড়া নাহি চিনে।

তে কারণে আইব খাতা, লিখতে হইল মনে।।

সাঃ গেজা চিটের কোড়া, অতিশয় ভাল।

নাগুয়া কোড়ায় যে, ঠেকায় জঞ্জাল।।

ডাইনে আড়া চিটের কোড়া, অতি উত্তম হয়।

বাউয়ে আড়া চিটের কোড়া, কন্দ যে নিশ্চয়।।

পিঠুয়া চিটের কোড়া, অতিশয় ভাল।

মন্দও আছে তাতে ঠেকায় গোলমাল।।

বড় চিটের কোড়া মন্দ জানিও নিশ্চয়।

মধ্যমান চিটের কোড়া, অতি উত্তম হয়।।

লুলকিয়া চিটের কোড়ার ভাল হয় স্বভাব।

কিস্থিয়া চিটের কোড়ার কম হয় রওয়াব।।

ছোট চিটের কোড়া দেষী, গুণ তার কম।

সেই কুড়া খরিদ কৈলে, মনে সামায় গম।।

টান লাল চিটের কোড়া, হয় মন্দকার।

ডগ ডগা লাল চিটের কোড়ার, গুণের নাই সমার।

বেশী ধলা চিটের কোড়া, ভাল নাহি হয়।

খালদার চিটের কোড়ায় না করিও ভয়।।

বড় চাপার কোড়া ভাল, জানিবায় ভাই।

ছোট মুখের কোড়া মন্দ, জানিবায় তাই।।

বড় মাথার কোড়া হইতে, মধ্যম মাথা ভাল।

ছোট ঠোঁটের কোড়া যে, ঠেকায় জঞ্জাল।।

সাঃ পর মাথাত হইলে, খাছলত হয় ভালা।

আঠালিয়া হইলে কোড়া সকল হইতে আলা।।

আঠালিয়া বলে যে, মাথায় পড়ে রোম।

সেই কোড়া লড়াইতে, করে বড় ধুম।।

লাল চক্ষের কোড়ার গুণ কহন না যায়।

খুনি কোড়া হয়, তারে ধুড়িয়া না পায়।।

লাল চক্ষে পাতলা পানি, যে কোড়ার হয়।

সেই কোড়া মন্দ, তাই জানিও নিশ্চয়।।

পাতলা পানি চক্ষে হইলে, স্বভাব হয় মন্দ।

পাতলা পানির কোড়া মন্দ, জানিও স্বচ্ছন্দ।।

লাল চক্ষের কোড়া যদি ভার পানি হয়।

সেই কোড়া ভাল জানবায়, না করিও ভয়।।

যে সে চক্ষের মধ্যে যদি, পাতলা পানি হয়।

বোরা খাছলত তার, মন্দ স্বভাব হয়।।

উল্টা চক্ষের কুড়ার, দোষের সীমা নাই।

বড় চক্ষের কোড়া ভাল, জানিবায় ভাই।।

খুবলিয়া চক্ষু বুরা দিল হয় খারাব।

ছফেদ চক্ষের কোড়া ভাল, উত্তম হয় স্বভাব।

ঘোর চক্ষের কোড়ার মত পাঁজি কোড়া নাই।

কাজলা চক্ষের কোড়ার মত ঢুরিয়া না পাই।।

ধুমা গান্ধা লাল চক্ষু বড় বদকার।

কালা চক্ষের কোড়ার যে গুণের নাই সমার।।

তেড়া চক্ষু কোড়া মন্দ জানিবায় বেশক।

কেরেঞ্ছা চক্ষে কোড়া ভাল জানিবায় হক।।

পুড়া লাল চক্ষের কোড়া বড় বোরা হয়।

তাহার খারাবির কথা প্রাণে নাই শয়।।

পিঙ্গলা চৌখি কোড়া অতি নেক কার।

জোওয়ান মদ্দির সীমা নাই হিম্মত অপার।।

শাওলা চক্ষুর কোড়া ভাল তার খেছাল।

শিকারেতে গেলে সে না করে গোলমাল।।

শুন হে মমিন ভাই                    ত্রিপদিতে লেখি যাই

কোড়া যত আছে গুণাগুণ

গলা লাম্বা কোড়া আলা                         সকল জিনিয়া ভালা

লাড়াই করে অতিশয় বিস্তর

বাটী গলার কোড়া হইলে           লাড়াইতে কম পারে

লাড়াইতে নাই সে উস্তর

বাটী কোড়া ভাল নয়                 হাছন রাজা জানিয়া কয়

বাটী কোড়ায় গড়াগড়ি বায়

উঁচা লাম্বা কোড়া ভালা              সকল জি নিয়া আলা

সেই কোড়া হয় জেরাওর

উঁচা কোড়া তারিপ যত             আমি আর লিখিমু কত

জানে তারে মনুহর দেওয়ান

উঁচা কোড়ার মত ভাই               সংসারেতে না পাই

উঁচা কোড়া হয় অতি গুণি

উঁচা কোড়া জোওয়ান মর্দ্দ        লাড়াই করে বেহর্দ্দ

উঁচা কোড়া রূস্তম জিনিয়া

উঁচা কোড়ার গুণাগুণ            শিকারী ভাই তোমরা শুন

মালুম আছে আরজু মিয়ার

জালু কনু মিয়া আর                  জনো কিছু সারাসার

আবদুচ্ছমদ আর উমদা মিয়ার

উঁচা কোড়া অতিশয়                 পানির মাইরে ভাল হয়

পিছের বাট যদি বেশী হয়

হাছন রাজায় বলে ভাই              উঁচার মত কোড়া নাই

উঁচা কোড়া সকল হইতে ভাল।।

 

উঁচা লম্বা কোড়া ভাল সকল কোড়া হইতে।

বাটী কোড়ার কথা কহি না পারি আর সইতে।

নিচা কুড়া ভাল নয় শুন মমিন ভাই।

পানির মাইরে ভাগিয়া যায় সর্বদাই তাই।।

গাট্টা মোটা কোড়া যদি নিচা বাটী হয়।

পানির মাইরে হারিয়া যায়, জানিও নিশ্চয়।।

ছোট কোড়া যদি উচ্চা লম্বা হয়।

পানির মাইরে তাহার যে, নাই কোন ভয়।

মধ্যম কোড়া ভাল, শিকার হয় অধিক।

কোন কোড়া ভাল নয় উঁচার মতাবিক।।

ছোট কোড়া ভাল নয়, জান মূলাম্বূল।

ছোট কোড়ায় শিকার করা কেবল মাত্র ভুল।।

ছোটর মাঝে লাল কোড়া কিঞ্চিৎ হয় ভাল।

আর যত কোড়ায় ঠেকায় জঞ্জাল।।

লাল রঙ্গের কোড়া ভাই, অতিশয় উত্তম।

লাল রঙ্গের কোড়া পাইলে, মনে নাই গম।।

সকল ছিফতের মত, লাল কোড়া হয়।

লাউড়ের পাহাড়ে নিলে, না করিবে ভয়।।

বেবদ কোড়া হবে, রুস্তম সমান।

যেখানে শিকারে নিবে, সেখানেই মান।।

অতি গুণী অতি মানি, অতি জোরওয়ার।

লাল কোড়ার গুণের কি, লিখিব সমার।।

সকল শিকারী কহে, কালা কোড়া ভালা।

আমার মতে লাল কোড়া, কালা হইতে আলা।

দশ বিশ কোড়া পালি, কোড়ার জানবেন কি।

হাজারে কোড়া যে, পালিয়াছি আমি।।

কালা রঙ্গের কোড়ার সাজ অতি উত্তম হয়।

বেশী কোড়ার সঙ্গে ডাকা, বড় সংশয়।।

লাল কোড়া হাজার কোড়ার মাঝে ডাকে।

কালা কোড়া দাবিয়া যায় ডাক নাহি রাখে।।

এক কোড়ার মালিক হইলে কালা কোড়া ভাল।

বহু কোড়ার মালিক হইলে, ঠেকায় জঞ্জাল।।

সকল ছিফতে যদি, কালা কোড়া হয়।

তারে খরিদ করতে ভাই, না করিও ভয়।।

আবলক রঙ্গের কোড়া, অতি গুণী হয়।

যে খানে লাড়াইতে যায়, সেখানেই জয়।।

দুধা কোড়ার মত হেন, আর কোড়া নাই।

শিকারেতে জয় হয়, সকল খানে ভাই।।

সকল কুড়া হইতে জানবায়, ছানীদাধ কোড়া ভালা।

আওয়াজ বড় হইলে জান, সকল হইতে আলা।।

ঠোঁট ছোট ছফেদ হইলে, সে কোড়া ও ভাল।

কালা লাল কোড়ায় যে ঠেকা জড়াল।।

মেতিয়া কোড়া মন্দ, জানিবায় সবায়।

বাঘ শাওয়াল কোড়া যে, পাওয়া নাহি যায়।।

বুক পিঠ লাল কোড়া, সকল হইতে ভালা।

লাল কোড়া জানিবায়, সকল হইতে আলা।।

ফুট কুরা কোড়া যে, সাজ ভাল হয়।

দুধা কোড়া দেখলে আমার, খুস হয় হূদয়।।

ছফেদ কোড়া বক শাওয়াল, শুন মমিন ভাই।

আবলক কোড়া বাঘ শাওয়াল, জানিবায় তাই।।

লাল কোড়া বিল শাওয়াল জানিবায় হক।

কালা কোড়া মেঘ শাওয়াল, জানিবায় বেশক।।

চাড়ালিয়া কোড়া মন্দ, জানিবায় বেশক সবায়।

চাড়ালিয়া কারে বলে, সাং দুম ফেলায়।।

যে কোড়া দুমের খত, দুম নাহি রাখে।

খরিদ না করিও ভাই, সেই কোড়াকে।।

ডিমবন্দ কোড়া যদি, দুম ও ফেলায়।

তার জন্য কিছু মাত্র, নাহি আসে যায়।।

বিরবন্দে ভাল হবে, জানিবায় বেশক।

উড়তা কোড়া ভাল নয়, জানিবায় হক।।

এক কোড়ার মালিকের লাগি উড়তা কোড়া ভাল।

বহুৎ কোড়ার মালিক হইলে, উড়তার লাগি জ্বল।।

উড়তা কোড়ার স্বভাব মন্দ, মোদের হয় ভয়।

উড়তা কোড়া বড় পাঁজি, হাছন রাজা কয়।।

ঠাসা পরের কোড়া ভাল, জোর হয় বিস্তর।

পাতলা পরের কোড়া মন্দ, কম তার জোর।।

লরিয়া কোড়া ভাল জানবায় ঠিকানা।

বুক চিরা কোড়া কিনতে করিলাম মানা।।

বুক চিরা কোড়া মন্দ, বড় হারামজাদা।

কখনই তাহার বুক, না হইবে সাদা।।

বুক চিরা পাতলা পানি কাল পাইয়া হয়।

থান মানিবে সে জানিও নিশ্চয়।।

ছফেদ পায়ের কোড়া ভাল সকল হইতে আলা

কাল পাইয়া কোড়া হইলে হইল এক জ্বালা।

 

এর পর পৃষ্ঠা ৪

লাল রঙ্গ পাও হইলে জোর হয় কম।

জর্দা রঙ্গের পাও হইলে কোড়া হয় নরম।।

কচুয়া রঙ্গের পাও হইলে গুণের নাই হদ্দ।

ছফেদ রঙ্গে কচুয়া পাও বড় জোওয়ান মর্দ।।

ছফেদ পায়ের মধ্যে যদি কচুয়া ছাঁট হয়।

তার মত কোড়া নাই হাছন রাজায় কয়।।

চিকনা পাও ভালা জানবায় রূটা পাও মন্দ।

খর খটা পাও ভাল জানবায় করিও পছন্দ।।

চাট পাইয়া কোড়া ভাল গোল পাও দোষী।

বেত পাইয়া কোড়া পাইলে মনে হইও খুশী।।

বেত পাইয়া কোড়ার বান্দ বড় মজবুত হয়।

গোল পাইয়া কোড়ার বন্দি অতি নরম হয়।।

যে কোড়ার পায়ের আঙ্গুলের আগা হয় ক্ষীণ।

সে কোড়াকে কখনই না বাসিও ভিন।।

আগা ক্ষীণ আঙ্গুলের কোড়ার বান্দ হয় উস্তর।

আগা মোটা অঙ্গুলীর যে বান্দ নাই বিস্তর।।

ছফেদ নখের কোড়া ভাল জানিবায় বেশক।

কালা নখের কোড়া মন্দ জানিবায় হক।।

মুখ ছোট কোড়া মন্দ, ডাকে দাবিয়া যায়।

আধা পয়সায় পাইলে খরিদ, না করিও তায়।

মুখ ছোট হইলে যদি আওয়াজ উত্তম হয়।

সেই কোড়া জানিবায়, বিশেষ মন্দ নয়।।

সকল তার মধ্যে আওয়াজ, জানিবায় মূল।

আওয়াজ বড় হইলে কোড়ায়, নাহি করে গুল।।

ঠোঁট বাটী কোড়া মন্দ, জানিবায় মূল।

মোটা ঠোঁটের কোড়া ভাল, নাহি তাতে ভুল।।

উন্দা হইয়া ডাকে কোড়া অতি মন্দকার।

খাড়া হইয়া ডাকে কোড়া বড় গুণ তাহার।।

বড় ডাকের কোড়া ভাল, হয় নেকবক্ত।

লড়াই করিতে সেই, হয় বড় শক্ত।

দলানী ডাকের কোড়া, অতি উত্তম হয়।

লড়াইতে গেলে সে, করে দিগ্বিজয়।।

বড় আওয়াজ মিঠা হইলে, কোড়া হয় গুণী।

সে কোড়া অতি জোরি, তার নাম খুনী।।

টান ডাকের কোড়া মন্দ, জানিবায় বিশেষ।

কুখেছাল হয় কোড়া, কহি সবিশেষ।।

তোতিয়া উরা কোড়া অতি নেকবক্ত হয়।

তোতিয়া উরা কোড়ার লাগি, দগধে হূদয়।।

কোন কোনা ডাকের কোড়া, হয় মন্দকার।

কুখাছলতের তারা কি করমু সমার।।

আবরা কোড়া তা নয় হয় জোওয়ান মর্দ।

লড়াই করিতে সে, পরে বেহর্দ।।

ছোট আওয়াজের কোড়া, ভাল নাহি হয়।

মন্দ স্বভাব তার, জানিবায় নিশ্চয়।।

মিঠা আওয়াজের কোড়া, হয় নেককার।

মিজাজ ভাল হয় তার, গুণ হয় অপার।।

টন্টনা আওয়াজের কোড়া হয় কুখেছাল।

যেখানে সেখানে সে করে গোলমাল।।

বেটেবটা আওয়াজের কোড়া, হয় কিছু ভাল।

ভট্ভটা ডাকের কোড়ায়, ঠেকায় জঞ্জাল।।

গা ঘরিয়া আওয়াজের কোড়া, অতি ভাল হয়।

আওয়াজেতে সেই কোড়া, রওয়াব কম হয়।।

ফেটাৎ ফেটাৎ ডাকে কোড়া, অতি দুরাচার।

কেউ কেউ ডাকে কোড়া, গুণের নাই সমার।।

টেক্ টেক্ ডাকে কোড়া বড় হারামজাদ।

ছেচা ডাকের কোড়া পাইলে, মনের পুরায় সাধ।।

ঢক্ ঢকা আওয়াজের কোড়া ভাল নাহি হয়।

গলা ভাঙ্গরা কোড়া হইলে, সকল খানে জয়।।

পটুৎ পটুৎ ডাকের কোড়া, বড় উত্তম হয়।

 দুই কিছিম আওয়াজে ডাকলে, অতি উত্তম হয়।।

নাকুয়া আওয়াজের কোড়া, বড় বদবক্ত।

শের আওয়াজের কোড়া, যুদ্ধে অতি শক্ত।।

শের আওয়াজের মধ্যে, জাঞ্জ যদি হয়।

তার মত কোড়া নাই, হাছন রাজা কয়।।

গুন গুনা আওয়াজের কোড়া, খারাপ স্বভাব হয়।

উল্টা ঘুঙ্গুরের কোড়া, বড় নেক হয়।।

এক হারা ঘুঙ্গুর হইতে, জোড়া ঘুঙ্গুর ভালা।

উল্টা ঘুঙ্গুরের কোড়া, সকল ইতে আলা।।

ফেছুৎ ফেছুৎ ডাকে কোড়া, অতি দুরন্তর।

সেই কোড়া বাড়িতে থাকলে, ঘরের বাহির কর।

টানী টানী ডাকে কোড়ার, জোর হয় অধিক।

থাকি থাকি ডাকে কোড়া জোর মওয়াফিক।।

ডাকাইলে না ডাকে কোড়া, সকল হইতে আলা।

বাড়িতে কম ডাকুরা কোড়া, মুলুক হইতে ভালা।

পাতায় নাহি ডাকে কোড়া, হুরুইন দিয়া মার।

বিহানে উঠিয়া মুখ না দেখিবায় তার।।

মোটা দুমের কোড়া, দোষী, জানিবায় বেশক।

ছোট দুমের কোড়া ভাল, জানিবায় হক।।

বতক দুমী, কাউয়া দুমী, যত কোড়া হয়।

তাহার মধ্যে কচিৎ দুই এক, ভাল যেন হয়।

তির দুমী, সা দুমী, কোড়া নেককার।

সেই কোড়া অতি ভাল, গুণের নাই সমার।।

একদিন যেই কোড়া, রণেতে ভাগীল।

জোরওয়ার কোড়া হইলে, খারাপ হইয়া গেল।।

ভাগীয়া ফিরে কোড়া, অতি কম জোর হয়।

সেই কোড়া খরিদ করবার, মনে নাহি লয়।।

অধিক ডাকে কোড়ার, জোর হয় অতি কম।

সেই কোড়া খরিদ কৈলে, মনে থাকে গম।

মিলের কোড়া অতি ভাল, জানিবায় ভাই।

বেমিলা কোড়ার মত, হারাম জাদা নাই।।

ছটকা কোড়া অতি ভাল, ছটকিয়া যেই ডাকে।

দুইশত টাকায় পাইলে, হাছন রাজায় রাখে।।

ছটকার মত কোড়া নাই, হাছন রাজায় রাখে।

ছটকি বটকি ডাকে কোড়া, সকল খানে জয়।।

খান নাহি মানে কোড়া, আসমানের নিচে।

মরিয়া যাবে ভাগীবে না, কোড়া মাইরের বিচে।।

ভালা ভালা যত ছিফত সকল মিলাইয়া।

উঁচা, মোটা ডাকের কোড়া, খরিদ করিও মিঞা।

সকল ছিফতের কোড়া কচিৎ মন্দ হয়।

কচিতের সঙ্গে লগ নাই, হাদিছেতে কয়।।

সকল ছিফতে যদি, কোড়া পাও ভাই।

গৃহস্থ যদি ভাল রাখে তার সমান নাই।।

যতইতি শিকারী ভাই, যত খাছ আম।

সকল মমিনের পদে, অধমের ছালাম।।

যতইতি লিখিলাম সব জানিবায় হক।

শত শত কোড়া পালি জানিবায় বেশক।।

কোড়ার গুণ যত আমি, জানিয়াছি ভাই।

আমার মত জানে লোক, বেশী দেখি নাই।।

দেওয়ান মনোহর আলী, বড় জমিদার।

তিনি কিছু জানিয়াছিলা, কোড়ার সারাসার।।

মছ্লন্দ আলীর বেটা, কুমিল্লা জেলায়।

মান্যমান জমিদার, সরাইল পরগণায়।।

দুই এক কোড়া পালি, চিনবার দাবী করে।

তারে কি লিখিমু আমি, আকলে না ধরে।।

এম, এ পাশ ব্যক্তির কাছে, এ, বি, জানয়া গিয়া।

বাইবেলের তর্ক করে, কিছু না জানিয়া।।

হাছন রাজায় বলে, আমার মত জানে কে।

মৌলানা বলিলে কম, কোড়ার মাদ্দাতে।।

এই দোওয়া কর মমিন, মছলমান ভাই।

বেহেস্তে যাইয়া যেন, কোড়া শিকার পাই।