রোসাঙ্গ রাজদরবারের অন্যতম কবি আলাওল। রাজা সাদ উমেংদারের প্রধান অমাত্য মাগন ঠাকুর। তিনি কবি আলাওলকে অনুরোধ করলেন: সুফি কবি মালিক মুহাম্মদ জায়সীর ‘পদুমাবৎ’ যেন তিনি অনুবাদ করেন। আলাওল পদ্মাবতী রচনায় হাত দিলেন

 আলাওলের পদ্মাবতী অনুবাদ (১০৫৭ বঙ্গাব্দ)

 আলাওল (১৬০৭-৮০ খ্রি.) মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের অন্যতম সেরা কবি, কারো কারো মতে শ্রেষ্ঠ। অষ্টাদশ শতকের চট্টগ্রাম নিবাসী কবি মুহম্মদ মুকীম তার পূর্বজ কবি আলাওলকে ‘কবিগুরু ও মহাকবি’ বলে সম্বোধন করেছিলেন। আলাওলের কাব্যচর্চার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ অনুবাদধর্মী। তিনি সংস্কৃত, আরবি, ফারসি ভাষা জানতেন। তিনি বেশ কয়েকটি দীর্ঘ কাব্য অনুবাদ করেন। এসব অনুবাদ আলাওলের নিজস্ব সংযোজন, বর্জন ও পরিবর্তনের মাধ্যমে একটি স্বতন্ত্র কাব্যসাহিত্য হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে, যা বাংলা সাহিত্যের ভাণ্ডারকে বিপুলভাবে সমৃদ্ধ করেছে।

আলাওল রচিত প্রথম কাব্য পদ্মাবতী। এটি উত্তর ভারতের সুফি কবি মালিক মুহাম্মদ জায়সী রচিত কাব্য ‘পদুমাবৎ’-এর বাংলা অনুবাদ। আলাওল এ অনুবাদে তার ভাষাজ্ঞানের সঙ্গে সঙ্গে সৃষ্টিশীল কাব্যপ্রতিভাকে ব্যবহার করেছেন, তাই অনুবাদে পদ্মাবতী বাংলা সাহিত্যেরও সম্পদ হয়ে উঠেছে।

আলাওল পদ্মাবতী অনুবাদ করেছিলেন ১৬৫১ খ্রিস্টাব্দে। মুহাম্মদ এনামুল হক ও আহমদ শরীফ এই মত সমর্থন করেন। তবে মতান্তর আছে। মুহম্মদ শহীদুল্লাহ ও সৈয়দ আলী আহসান মনে করেন, পদ্মাবতীর রচনাকাল যথাক্রমে ১৬৪৬ ও ১৬৪৮। রোসাঙ্গ রাজা সাদ উমেংদারের (১৬৪৫-৫২) শাসনামলের শেষ দিকে প্রধান অমাত্য মাগন ঠাকুরের অনুরোধে আলাওল পদ্মাবতী রচনায় মনোনিবেশ করেন।

মালিক জায়সী পদুমাবতে বেশকিছু অংশ সংযোজন করেছেন— স্রষ্টার স্তুতি, রসুলের তারিফ, চার খলিফার প্রশস্তি, মূল লেখক শেখ মোহম্মদ জায়সীর পরিচয়, রোসাঙ্গের বর্ণনা, মাগনের প্রশংসা, আত্মবিবরণী। এরপর শুরু হয় মূল কাব্য।

কাহিনী সংক্ষেপ

সিংহল দ্বীপের রাজা ছিলেন গন্ধর্ব সেন। তার স্ত্রী চম্পাবতী। এ দম্পতির একমাত্র কন্যা পদ্মাবতী। রূপে-গুণে পদ্মাবতী জগতে অনন্যা। রাজা গন্ধর্ব তার ১২ বছরের কন্যা পদ্মাবতীর জন্য একটি প্রাসাদ নির্মাণ করে দেন। সেখানে পদ্মাবতী সখী পরিবেষ্টিত হয়ে হাসি-বিলাসে দিন কাটাতেন। আর তার সর্বক্ষণের সঙ্গী ছিল হীরামণি নামে এক শুক পাখি।

পদ্মবতী যৌবনে উপনীত। তার রূপের প্রশংসা দূর-দূরান্তে ছড়িয়ে পড়েছে। কিন্তু উপযুক্ত পাত্রের অভাবে তার বিয়ে হচ্ছে না। তখন শুক পাখি বলে, সে দূর দেশ ঘুরে পদ্মাবতীর জন্য পাত্র খুঁজে আনবে। রাজা গন্ধর্ব শুক পাখির এ কথা শুনে ক্রুদ্ধ হন। তিনি শুককে হত্যা করার আদেশ দেন। তবে পদ্মাবতীর মিনতিতে রক্ষা পায় শুক পাখির জীবন। কিন্তু শুকের মন থেকে শঙ্কা যায় না। সে পদ্মাবতীর প্রাসাদ থেকে পালানোর সুযোগ খুঁজতে থাকে। তারপর সুযোগ বুঝে শুক পাখি একদিন পালিয়ে গেল। পদ্মাবতী তখন মানসসরোবরে স্নানরত ছিলেন। ফিরে এসে শুক পাখিকে না পেয়ে শুরু হলো তার বিলাপ।

শুক পাখি পালিয়ে গিয়েছিল এক বনে। সেখানে তখন হাজির এক ব্যাধ। শুক পাখি ধরা পড়ল এই ব্যাধের হাতে। ব্যাধ তাকে বিক্রি করতে নিয়ে গেল সিংহলের হাটে। সেই হাটে চিতোরের এক ব্যবসায়ীর সঙ্গে এসেছিলেন এক গরিব ব্রাহ্মণ। এই ব্রাহ্মণ শুক পাখির পাণ্ডিত্য সম্পর্কে বুঝতে পারে। তাই সে শুক পাখিকে কিনে নিয়ে চিতোরে ফিরে যায়। চিতোর তখন শাসন করছেন প্রয়াত রাজা চিত্রসেনের পুত্র রত্নসেন। শুক পাখির পাণ্ডিত্যের কথা শুনে রত্নসেন তাকে এক লাখ স্বর্ণমুদ্রা দিয়ে কিনে নেন। রত্নসেন এই শুক পাখির সঙ্গে বেশ শাস্ত্র তর্ক করতেন। একদিন রাজা গেলেন শিকারে। রাজার অবসরে রানী নাগমতী শুক পাখিকে জিজ্ঞেস করেন যে, তার মতো রূপবতী নারী দুনিয়ায় আর কেউ আছে কিনা। জবাবে শুক পাখি পদ্মাবতীর রূপের প্রশংসা করে তাকে জানান যে, পদ্মাবতী ও রানীর মধ্যে আকাশ-পাতাল ফারাক। এ কথা শুনে ভয় পেলেন ঈর্ষান্বিত রানী। তিনি আশঙ্কা করলেন, রাজা হয়তো পদ্মাবতীর কথা জানতে পারলে তার প্রেমে পাগল হয়ে যাবেন। নাগমতী তখন তার এক ধাত্রীকে আদেশ দিলেন শুক পাখিকে মেরে ফেলার জন্য। কিন্তু ধাত্রী না মেরে শুক পাখিকে লুকিয়ে রাখেন।

রাজা শিকার থেকে ফিরলে নাগমতী জানালেন, শুক পাখিকে বিড়ালে খেয়েছে। কিন্তু সেই ধাত্রী তখন শুক পাখিকে রাজার সমানে হাজির করলেন। শুক পাখি তখন রত্নসেনের কাছে পদ্মাবতীর রূপ-যৌবনের বর্ণনা করলেন। রত্নসেন পদ্মাবতীর বিরহে শয্যা নিলেন। মা ও স্ত্রী নাগমতীর বিলাপ উপেক্ষা করে রাজা পদ্মাবতীর সন্ধানে সিংহল যাত্রা করলেন। শুকের পরামর্শে রত্নসেন যোগীর সাজ নিয়ে এক মন্দিরে আশ্রয় নিলেন। বসন্ত পঞ্চমীর দিনে পূজা দিতে পদ্মাবতী সেই মন্দিরে হাজির হলেন। পদ্মবতীকে দেখে রাজা অজ্ঞান হলেন। পদ্মাবতী তখন রত্নসেনের সেবা করলেন। চন্দন দিয়ে রাজার শরীরে তার প্রেমের কথা লিখে দিলেন। জ্ঞান ফিরলে রাজা সেই লেখা পড়ে পদ্মাবতীর শোকে দেহত্যাগের সিদ্ধান্ত নিলেন। ইন্দ্রের নির্দেশে মহাদেব তখন পার্বতীকে নিয়ে ছদ্মবেশে রত্নসেনের সামনে হাজির হলেন। মহাদেব তখন রত্নসেনকে পরীক্ষা করার জন্য তাকে বললেন পদ্মাবতীকে ভুলে গিয়ে অপ্সরারূপী পার্বতীকে গ্রহণ করতে। কিন্তু রত্নসেন তাতে সাড়া না দিয়ে পদ্মাবতীর প্রেমেই অবিচল রইলেন। মহাদেব সন্তুষ্ট হয়ে রত্নসেনকে বর দিলেন যে, পদ্মাবতীকে পাওয়ার ইচ্ছা তার পূরণ হবে। মহাদেবের বর পেয়ে রত্নসেন পার্বতীর প্রাসাদের দিকে যাত্রা করলেন। কিন্তু রাজা গন্ধর্বসেন সব শুনে ক্ষিপ্ত হয়ে রত্নসেনকে শূলে চড়ানোর নির্দেশ দেন। তাকে বধ্যভূমির দিকে নিয়ে যাওয়া হলো। এ দৃশ্য দেখে পদ্মাবতী মূর্ছা গেলেন। মহাদেব আবার ছদ্মবেশ নিয়ে এসে রাজা গন্ধর্বকে রত্নসেনের প্রকৃত পরিচয় জানালে রাজার ভুল ভাঙে। এরপর রাজা পদ্মাবতী ও রত্নসেনের বিয়ে দেন ধুমধাম করে।

ওদিকে চিতোরে রাজা রত্নসেনের শোকে পাগলপ্রায় রানী নাগমতী। তার এ অবস্থার কথা রত্নসেনের কানে পৌঁছলে তিনি পদ্মাবতীকে নিয়ে চিতোরে ফিরে গেলেন। সেখানে দুই স্ত্রীকে নিয়ে তিনি শান্তিতে বসবাস শুরু করলেন। এর মধ্যে রাজপণ্ডিত রাঘবচেতনের কিছু চাতুরীতে অসন্তুষ্ট হয়ে রাজা রত্নসেন তাকে নির্বাসন দিলেন। পদ্মাবতীও রাঘবকে অপমান করলেন। রাঘব তখন প্রতিশোধ নেয়ার কৌশল নিল, ‘আমি দিল্লিতে গিয়ে বাদশাহ আলাউদ্দীনকে পদ্মাবতীর রূপের কথা বলব। বাদশাহ নিশ্চয়ই চিতোর আক্রমণ করবেন। এভাবেই আমি প্রতিশোধ নেব।’ রাঘব দিল্লি গিয়ে আলাউদ্দীনকে পদ্মাবতী সম্পর্কে জানালেন। রাজা দূতের মাধ্যমে রত্নসেনকে জানালেন, ‘পদ্মাবতীকে দাও। বিনিময়ে যত রাজ্য চাও দেব।’ রত্নসেন এ বার্তা পেয়ে ক্রুদ্ধ হয়ে দূতকে ফিরিয়ে দিলেন। আলাউদ্দীন চিতোর আক্রমণ ও অবরোধ করলেন। আট বছর অবরোধ করে রেখেও তিনি চিতোর দুর্গে প্রবেশ করতে পারলেন না। বাদশাহ আলাউদ্দীন তখন প্রতারণার আশ্রয় নিলেন। তিনি রত্নসেনকে সন্ধির প্রস্তাব পাঠালেন। রত্নসেন তখন তাকে দুর্গের ভেতরে ডাকলেন। তারা একসঙ্গে সতরঞ্জ খেলতে বসলেন। আলাউদ্দীন পদ্মাবতীকে দেখতে কৌশলে নিজের সামনে একটি আয়না রাখেন। একসময় পদ্মাবতী ঝারোখায় এলে আলাউদ্দীন তাকে দেখতে পান। পদ্মাবতীকে দেখে তিনি মুগ্ধ। দুর্গ থেকে বিদায় নেয়ার সময় সিংহদ্বারে কৌশলে রত্নসেনকে বন্দি করেন এবং তাকে দিল্লি নিয়ে যান। রত্নসেনের দুই সহচর গোরা ও বাদল তাকে মুক্ত করে আনেন। এরই মধ্যে রত্নসেনের অনুপস্থিতিতে কুম্ভলনার শাসক দেবপাল পদ্মাবতীকে বিয়ের প্রস্তাব দেন। চিতোরে ফিরে এ কথা জানতে পেরে রত্নসেন দেবপালকে হত্যা করেন। কিন্তু লড়াইয়ে আহত হয়ে রত্নসেন চিতোর দুর্গে ফিরে মৃত্যুবরণ করেন। স্বামীর মৃত্যুতে পদ্মাবতী ও নাগবতী দুজনই সহরমণ বেছে নেন। এরই মধ্যে আবার চিতোর দখল করতে এলেন আলাউদ্দীন। তিনি এসে শুধু দেখলেন মরদেহের ছাইভস্ম। পদ্মাবতীকে তার আর পাওয়া হলো না। তিনি তখন রত্নসেনের দুই ছেলেকে দুটি রাজ্য প্রদান করেন এবং ব্যর্থ মনোরথে দিল্লি ফিরে যান।

মালিক জায়সীর মূল কাব্যের ৫৮টি খণ্ডের মধ্যে ৫৩ খণ্ড আলাওল অনুবাদ করেন। মূল কাব্যে আলাওলের সংযোজন-বিয়োজনের ইঙ্গিত আগেই দেয়া হয়েছে। আলাওল নিজেও বলেছেন, ‘স্থানে স্থানে প্রকাশিমু নিজ মন উক্তি।’ জায়সী ও আলাওল উভয়ই সুফিতত্ত্বে বিশ্বাসী ছিলেন। জায়সী ছিলেন চিশতি তরিকার ও আলাওল কাদরি তরিকার। প্রেম-আধ্যাত্মভাবে তাই দুজনের মনোভাব কাছাকাছিই ছিল।

কাহিনীর অন্তে আলাওল কিছু পরিবর্তন এনেছেন। জায়সীর কাব্যে আলাউদ্দীনের চিতোর দুর্গে পৌঁছা এবং সেখানে অবস্থানরত নারীদের স্বেচ্ছামরণের মধ্য দিয়ে কাহিনী শেষ হয়। কিন্তু আলাওল আলউদ্দীন কর্তৃক রত্নসেনের দুই পুত্রকে রাজত্ব দেয়ার অংশটি স্বাধীনভাবে যুক্ত করেছেন।

আলাওল অনূদিত পদ্মাবতী কাব্যের কিছু অংশ—

 

পদ্মাবতীর পরিচয়:

রূপে গুণে পদ্মাবতী রাজার কুমারী।

পরম সুন্দর তনু বিধি অবতারী

আর যত পদুমিনী আছে সেই দ্বীপে।

তার প্রতিবিম্ব যে জানিঅ স্বরূপে

শশী নিষ্কলঙ্ক মুখী পঙ্কজ নয়ানী।

কনক সুগন্ধি তনু দোয়াদশ বাণী

হীরামণি শুক মুঁই তার প্রিয় পাখী।

পাইলুঁ মনুষ্য শব্দ হূদে হৈল আঁখি

 

পদ্মাবতীর রূপ বর্ণন:

পদ্মাবতীর রূপ কি কহিমু মহারাজ।

তুলনা দিবারে নাহি ত্রিজগত মাঝ

আপাদ লম্বিত কেশ কস্তুরী সৌরভ।

মহা অন্ধকারময় দৃষ্টি পরাভব

অলি পিক ভুজঙ্গ চামর জলধর।

শ্যামতা সৌষ্ঠবে কেহ নহে সমসর

ত্রিগুণ সংযোগ বেণী ভুবন মোহন।

একগুণে দংশিতে পারএ ত্রিভুবন

বিরচিত কুসুম গুথিত মুক্তাহার।

সজল জলদে যেন তারকা সঞ্চার

তার মধ্যে সীমান্ত খড়গের ধার জিনি।

বলাহক মধ্যে কিবা স্থির সৌদামিনী

স্বর্গ হোন্তে আসিতে যাইতে মনরথ।

সৃজিল অরণ্য মাঝে মহা সূক্ষ্ম পথ

 

রাঘবচেতন দেশ বহিষ্কার খণ্ড:

ব্রাহ্মণে বুলিল সাহা দিল্লীর ঈশ্বর।

সংসারের ছত্রপতি তোমার কিঙ্কর

যতেক দুর্লভ বস্তু আছে পৃথিবীত।

তোমার সাক্ষাতে সব আইসে নিত্য নিত

তোমার সমান আর কে আছে ভুবনে।

তোমা সম থাকিবেক তাহার সদনে

ব্রাহ্মণ ভিখারি মুই চতুর্বেদজ্ঞাতা।

সাহা আগে মিথ্যাবাক্য কি মোর যোগ্যতা

সপ্তদ্বীপ ভ্রমিয়াছি বিদ্যার কারণ।

তেকারণে নাম ধরি রাঘবচেতন

 

পদ্মাবতী রূপচর্চা খণ্ড:

সিংহল দ্বীপেত জন্মে সম্পূর্ণ পদ্মিনী

বিধিবশে জন্মে তথা ত্রৈলোক্যমোহিনী

ঘরে ঘরে তথাত দেখিল ভালমন্দ

পদ্মাবতী আগে সব দিবসের চান্দ

সুর শশী দরশনে বুদ্ধি স্থির রয়

দেখিলে বদন তার মূর্চ্ছাগত হয়

 

উপসংহার:

রাজ্যাপাল একে একে হৈল প্রাণ শেষ

কোথা গেল গন্ধর্বসেন সঙ্গে মিত্রগণ।

কোথা গেল চিতওর গর রত্নসেন

অদ্যাপিহ যার বাক্য আছে পৃথিবীত

কোথা গেল দিল্লীশ্বর উমরার গণ।

একে একে গরাসিল দারুণ শমন

কোথা গেল পদ্মাবতী ত্রিলোকমোহিনী।

কোথা গেল অপ্সরী নাগমতি রাণী

দারুণ শমন কারে দয়া নাহি করে।

সুরূপ কুরূপ কেহ কাকে নাহি এড়ে

এতেক চাহিয়া মনে ভাবি বুদ্ধিজন।

সে সুখসম্পদ সুখ কি আছে এখন

কিছু না রহিব রৈব কীর্তির কথন।

পরিণাম হেতু কিছু করহ যতন

কৃপাল চরিত্র কেহ বুঝিবারে নারে।

একের মানস লাগি লক্ষ প্রাণী হরে

সুবুদ্ধি আছিল দেখি আলাওল কবি।

পদ্মাবতী বিরচিত নিজ মনে ভাবি

 

সূত্র: আলাওল রচনাবলী, সংকলক ও সম্পাদনা: মোহাম্মদ আবদুল কাইউম ও রাজিয়া সুলতানা; বাংলা একাডেমি, ঢাকা।