বিভিন্ন কারণে বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চল অনেক দেরিতে সবুজ বিপ্লব কার্যক্রমের আওতায় আসে। অবশ্য ১৯৯০-এর দশকের শেষ দিকে যমুনা নদীর ওপর সেতু নির্মাণের মাধ্যমে সড়ক সংযোগ প্রতিষ্ঠিত হলে আলোচ্য অঞ্চলে যান্ত্রিক ও সম্প্রসারিত কৃষির প্রসার ঘটে। তবু সেখানে এখনো অতিদারিদ্র্যের প্রাবল্য রয়ে গেছে। স্থানীয়ভাবে জনশ্রুতি আছে, ভাগ্যবানরা দেশের দক্ষিণে ঢাকা ও চট্টগ্রামে বাস করে আর সবচেয়ে দুর্ভাগারা (কষ্টে পীড়িতরা) বাস করে উত্তরবঙ্গে। ভারত সীমান্তের খুব কাছাকাছি হওয়া সত্ত্বেও উত্তরাঞ্চল আমাদের সামনে এক ধরনের কূটাভাস (প্যারাডক্স) হাজির করে। এ অঞ্চল অতীতে অবিভক্ত ঔপনিবেশিক বাংলায় ব্যবসা-বাণিজ্যের অন্যতম কেন্দ্র ছিল। তবে দেশ ভাগ ও স্বাধীনতা-উত্তর সময়ে ঢাকা দেশের নীতিনির্ধারণ, সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও রাজনীতির স্নায়ুকেন্দ্রে পরিণত হয় এবং বলা বাহুল্য, এটি উত্তরাঞ্চল থেকে অনেক দূরে অবস্থিত। যমুনা নদীর ওপর বঙ্গবন্ধু সেতু নির্মাণ সত্ত্বেও এ ‘রাজনৈতিক দূরত্ব’ বিরাজমান, যে সেতু উত্তরবঙ্গের সঙ্গে ঢাকা ও দেশের অন্য কৃষি-ব্যবসাকেন্দ্রগুলোর সংযোগ স্থাপন করেছে। আলোচ্য অঞ্চলের ৬০-৬৫ শতাংশ কৃষকই দরিদ্র, প্রান্তিক। উপরন্তু প্রকটভাবে তাদের পুঁজি ঘাটতিও রয়েছে। ফলে এসব কৃষক সবুজ বিপ্লব প্যাকেজের ‘বীজ-সার-সেচ- যান্ত্রিকীকরণের আওতায় উচ্চফলনশীল জাতের (এইচওয়াইভি)’ প্রতিশ্রুিতিতে একীভূত হতে ব্যর্থ হয়।
উত্তরাঞ্চলের ‘দরিদ্র’ জনগোষ্ঠী প্রধানত নিজেদের জীবিকার জন্য খোরাকি কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কয়েক দশক ধরে সেপ্টেম্বর থেকে অক্টোবর সময় পর্বে সেখানে ‘মঙ্গা’ (ডেড অক্টোবর নামেও পরিচিত) বিরাজ করে আসছে, যখন ব্যাপক খাদ্যঅনিরাপত্তা দেখা দেয় এবং দুর্দশাক্লিষ্টরা গৃহপালিত পশু, ভূমি ও গৃহস্থালি সম্পদ বিক্রি করতে বাধ্য হয়। অতিসম্প্রতি সরকারি সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী, নগদ অর্থ প্রদানের মতো দারিদ্র্য প্রশমন কর্মসূচি ও ক্ষুদ্র ঋণের মতো বাজারবান্ধব কর্মসূচি মঙ্গার সময় মানুষের দুর্দশা অনেকখানি কমিয়েছে।
বিদ্যমান দারিদ্র্য ও লিঙ্গ অসমতা দূর সহজ নয়
উত্তর-পশ্চিম অঞ্চল বাংলাদেশের মধ্যে এখনো দরিদ্রতম অঞ্চল (জাহিদ, ২০১৪)। ২০১০ সালের পরিসংখ্যানে বরিশাল বিভাগের পরই দারিদ্র্যের দিক থেকে রংপুর ও রাজশাহী জেলাই যথাক্রমে দ্বিতীয় ও তৃতীয় সর্বোচ্চ অবস্থানে। যদিও ২০০০-১০ সালের মধ্যে ওই দুই জেলায় দারিদ্র্য কমেছে। তবু বহু উন্নয়নমূলক কর্মসূচি সত্ত্বেও এখনো মধ্য সেপ্টেম্বর থেকে মধ্য-নভেম্বর সময় পর্বে আলোচ্য জেলায় খাদ্যভাবের মতো পরিস্থিতি বিরাজ করে।
সবুজ বিপ্লব সম্পদবৈষম্য বাড়িয়েছে
সবুজ বিপ্লবের জন্য ‘আধুনিক’ জ্ঞান, দক্ষতা ও প্রযুক্তি প্রয়োজন। মূলত এ পরিপ্রেক্ষিতেই আরডিএ ও বিএমডিএর মতো কেন্দ্রীভূত গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলো স্থাপন করা হয়। তবে এসব প্রতিষ্ঠান কতটা দরিদ্র জনগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছেছে, সেটি স্পষ্ট নয়। অধিকন্তু উচ্চফলনশীল জাতের জন্য নির্ভরযোগ্য সেচ, সার ও বালাইনাশক দরকার হয়। এছাড়া এসব উচ্চফলনশীল জাত দরিদ্র কৃষকরা পায় না বলেও অভিযোগ রয়েছে। গবেষণা এলাকায় বয়োজ্যেষ্ঠদের অনেকেই সবুজ বিপ্লবের আগে অধিকতর সমতাপূর্ণ ভূমি মালিকানা, উৎপাদন ও ভোগের কথা বলেছে। সবুজ বিপ্লব ভূমি ও পুঁজি সংহতকরণ সহজতর করেছে এবং আলোচ্য বিপ্লব এক ফসল আবাদের সুইচ। এটি আবাদযোগ্য জমিতে কৃষকের ব্যাপকতর অধিকার হারানোর বিষয়টিও ব্যাখ্যা করে।
ধান, তামাক ও ভুট্টা প্রভৃতি অর্থকরী ফসল আবাদের মাধ্যমে কৃষি উৎপাদনশীলতা বেড়েছে সত্য; তবে ভূগর্ভস্থ পানি ও রাসায়নিক উপাদানের নির্বিচার ব্যবহারে সেটি ভূমি ও পানির পরিবেশগত বিপর্যয় বাড়িয়েছে। এটিই ছিল বহুমুখী, আন্তঃসম্পর্কিত নেতিবাচক প্রভাবের শুরু। দীর্ঘমেয়াদে পানির পরিমাণ ও মান, স্বাস্থ্য ও পুষ্টি পরিস্থিতির (বিশেষ করে হাইব্রিড সাদা চালের কারণে) অবনতি ঘটেছে।
মূল ধারার অ্যাপ্রোচের মাধ্যমে দারিদ্র্য নিরসন কঠিন
বঙ্গবন্ধু সেতু (১৯৯৬) ও লালন শাহ সেতু (২০০৩) আলোচ্য অঞ্চলের কৃষি পরিবহনে ব্যাপক উন্নতি ঘটিয়েছে। এখন উত্তরাঞ্চল থেকে দেশের বাকি এলাকায় প্রতি রাতে কয়েক হাজার ট্রাক পণ্য পরিবহন করে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে গবেষণায় পাওয়া গেছে, কৃষিতে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির সুফল পেয়েছে উত্তরাঞ্চলের গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর কেবল একটি ক্ষুদ্র অংশ (৮-১০ শতাংশ)। মূলত যারা চাষযোগ্য ও সেচকৃত জমির মালিক। আলোচ্য অঞ্চলে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর সংখ্যাধিক্যদের (৬৫-৭০ শতাংশ) নিজস্ব জমি নেই। একটি ক্ষুদ্র অংশের (২০-২৫ শতাংশ) অনুপস্থিত ভূস্বামীর কাছ থেকে ইজারা বা বন্ধকের মতো আয়োজনের মাধ্যমে ভূমি ব্যবহারের অধিকার রয়েছে। চাষযোগ্য, সেচকৃত জমির এ অসম বণ্টন ওই অঞ্চলে দারিদ্র্যের দুষ্ট চক্র ভাঙার ক্ষেত্রে প্রধান প্রতিবন্ধক।
সব গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর ঢাকায় অভিগমন পছন্দ নয়
গবেষণায় প্রাপ্ত ফলাফলে দেখা গেছে, কৃষি উৎপাদন ছাড়াও ঢাকা ও দক্ষিণাঞ্চলের সঙ্গে অবকাঠামোগত সংযোগ উত্তরবঙ্গ থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষের অভিগমন সহজতর করেছে। অধিকাংশ অভিবাসীই ঢাকাসংলগ্ন নগর এলাকায় নিম্নমজুরির কাজে নিয়োজিত। এটা দারিদ্র্য থেকে তাদের কমই রেহাই দেয় এবং অনেকেই বলেছে যে, কিছু জমি থাকলে তারা ঢাকায় আসত না, বরং গ্রামেই বাস করত। এ থেকে এটা ব্যাখ্যা করা যায় যে, এখনো দারিদ্র্য, ক্ষুধা ও দুর্দশা থাকা সত্ত্বেও কেন রাজশাহী জেলার গ্রামের এক উল্লেখযোগ্যসংখ্যক লোক (৮৫ শতাংশ) অন্য এলাকায় যেতে পছন্দ করে না।
লিঙ্গ অসমতা: সীমিত ভূমি অধিকার, সামাজিক গতিশীলতা ও মজুরি ব্যবধানের কারণে নারীদের সুযোগ-সুবিধার সংকোচন
বিদ্যমান সামাজিক-সাংস্কৃতিক প্রাসঙ্গিকতায় ভূমিতে নিজেদের অধিকার চর্চা করতে চাওয়া বা সমর্থ না হওয়ায় জমির মালিকানায় লৈঙ্গিক মাত্রা খুবই দুর্বল। ভূমিতে অধিকার সামাজিক বন্ধনের ইঙ্গিত দেয়, যা নারীদের জন্য প্রায়ই ক্রিটিক্যাল সাপোর্ট নেটওয়ার্কের সমতুল্য। ধান, গম, ভুট্টা, শাকসবজি, তামাক প্রভৃতির ব্যাপকতর চাষ শ্রমিকের চাহিদা বৃদ্ধি করেছে। তবে গবেষণায় কৃষি মজুরি শ্রমে স্পষ্টত লিঙ্গবৈষম্য পাওয়া গেছে। একই কাজের জন্য যেখানে পুরুষ শ্রমিক ২ দশমিক ৫ থেকে ৩ দশমিক ৫ মার্কিন ডলার মজুরি পায়, সেখানে নারী শ্রমিক পায় কেবল ১ দশমিক ৫ থেকে ২ ডলার। নারীদের জন্য এসবই কেবল বাধা নয়; গৃহস্থালি পুনরুৎপাদনমূলক দায়িত্ব অব্যাহত থাকায় পর্দা প্রথার সাংস্কৃতিক রীতি হিসেবে জনপরিসরে তারা এখনো কাজ করতে পারে না। এটাও তাদের জন্য অন্যতম বড় বাধা। গবেষণায় দেখা গেছে, এসব জটিল বাস্তবতা কৃষিতে তথাকথিত নারীর ক্ষমতায়ন বাধাগ্রস্ত করেছে।
বাংলাদেশে সামাজিক গতিশীলতার ওপর সাংস্কৃতিকভাবে আরোপিত নিয়ন্ত্রণ নারী-পুরুষের মধ্যে অসম অভিযোজন কৌশল সৃষ্টি করেছে। বাইরে অভিগমন, জীবিকায় পরিবর্তন, অনানুষ্ঠানিক বাণিজ্য, ক্ষুদ্র ব্যবসা-বাণিজ্যিক উদ্যোগ মূলত পুরুষের ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ। উপজাতীয় সাঁওতাল নারী ছাড়া রাজশাহীতে মাঠে কাজ করা কিংবা শহরগুলোয় অভিবাসনপ্রত্যাশী মুসলিম নারীদের জন্য অসংখ্য বাধা ও চ্যালেঞ্জ বিদ্যমান। যেসব নারী কর্মরত, তারা অনেকটা ভয়াবহ অরক্ষণীয়তা ও দুর্দশার জন্য কাজ করতে বাধ্য হয় এবং এটা কোনোভাবেই নারীর ক্ষমতায়ন ইঙ্গিত করে না।
উন্নয়ন কর্মসূচিতে দাবিকৃত ‘দারিদ্র্য কমানো’ ও ‘নারীর ক্ষমতায়নের’ প্রমাণ মেলেনি
গৃহীত উন্নয়ন উদ্যোগগুলো দারিদ্র্যের বস্তুগত ও সামাজিক মাত্রার (ধর্ম, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য) বন্ধনে খুব কমই আঘাত হেনেছে। অধিকাংশ কর্মসূচিই সামাজিক রীতিনীতিতে প্রোথিত লিঙ্গবৈষম্যের কারণ অ্যাড্রেস করে না এবং সেভাবে সমাজে রূপান্তরমূলক পরিবর্তনও আনেনি। উদাহরণস্বরূপ, কয়েক দশকের দারিদ্র্যচালিত পুরুষ অভিগমন সেখানে কৃষিতে নারীর ক্ষমতায়ন ঘটায়নি; কেননা অভিবাসী পুরুষের স্থলে মাঠে নারীদের কাজ করার ক্ষেত্রে সেখানকার সামাজিক রীতি অনুমতি দেয় না। যখন পুরুষ অভিগমন ঘটে, তখন কেবল খুব অল্পসংখ্যক নারীই কৃষি শ্রমিক হিসেবে আবির্ভূত হয়।
কৃষি ও সেচ প্রকল্পগুলোয় বর্ণিত কৌশলে নারীদের ক্ষমতায়ন ও যুক্ততা প্রসঙ্গে সুন্দর সুন্দর কথা আছে। উদাহরণস্বরূপ বিএমডিএতে নারীদের কর্তৃক পরিচালিত ‘স্মার্ট কার্ড’ নামে সেচ ব্যবস্থাপনা কর্মসূচি রয়েছে। এ উদ্যোগ সেচের (বিদ্যুচ্চালিত লিফট) জন্য ফি সংগ্রহ ও প্রদানে নারীদের ক্ষমতা দেয়। তবে এ গবেষণাকাজে নারীরা কতটা ক্ষমতায়িত হয়েছে, তা নিয়ে কমই অভিজ্ঞতালব্ধ প্রমাণ পেয়েছে।
ইরিগেশন ওয়াটার ইউজার অ্যাসোসিয়েশনে (ডব্লিউইউএ) নারীদের যুক্ততাও আবশ্যিকভাবে অর্থবহ প্রতিনিধিত্বের কথা বলে না। ডব্লিউইউএর অন্তর্ভুক্তিতে প্রয়োজন নিজস্ব জমি এবং অধিকাংশ নারীই জমির মালিক নয়। অধিকন্তু একবার আলোচ্য গ্রুপের অংশ হলেও সেচে কার্যকরভাবে সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে সামাজিক রীতিনীতি নারীদের নানাভাবে সীমাবদ্ধ করে রেখেছে।
বয়োবৃদ্ধ ও প্রান্তিকসহ সর্বস্তরের নারীদের জন্য সামাজিক কল্যাণ নিশ্চিতে কয়েকটি সরকারি কর্মসূচি রয়েছে। এ ধরনের কর্মসূচিগুলো থেকেও সুফল প্রাপ্তির ক্ষেত্রে আমলাতন্ত্র ও দুর্নীতি একইভাবে নারীদের জন্য বাধার পাহাড় তৈরি করেছে।
দীর্ঘদিন ধরে তর্ক আছে যে, অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন ছাড়া সামাজিক ক্ষমতায়ন হতে পারে না। এ গবেষণার ফলাফলে বিপরীতটিই বরং সত্য। আর সেটি হলো, সুরক্ষিত সামাজিক বাধা ভাঙা ছাড়া অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন হতে পারে না।
সামনে এগোনোর নিদান
ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পেশাজীবীদের মানসিকতা পরিবর্তনের চাবি হলো লিঙ্গসংবদেনশীল শিক্ষায় দীর্ঘমেয়াদি প্রতিশ্রুতি। এ গবেষণা বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছয়টি একাডেমিক কোর্সে লিঙ্গ, দারিদ্র্য ও প্রতিবেশ ব্যবস্থা একীভূত করতে সাহায্য করেছে। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৫ জনের অধিক ফ্যাকাল্টি সদস্যকে লিঙ্গ ও রাজনৈতিক প্রতিবেশ বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। লিঙ্গ ও দারিদ্র্যের আন্তঃসম্পর্কের বিষয়ে ব্যবহারজীবী এবং আরডিএ ও বিএমডিএর অংশীজনের মধ্যে অব্যাহত আলাপচারিতা প্রয়োজন।
বাংলাদেশে অব্যাহত স্থিত কৃষি প্রবৃদ্ধি ও উৎপাদনশীলতা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। তবে এটি ভূমি মালিকানায় বৈষম্য, কৃষি শ্রমিক, লিঙ্গ অসমতা, সেচে সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও কৃষকের দুর্দশাসহ নানা ব্যর্থতাও উন্মোচন করে। কৃষি ও সেচ প্রকল্প দ্বারা ‘দারিদ্র্য কমা’ ও ‘নারীর ক্ষমতায়নের’ দাবির সত্যতা এ গবেষণায় মেলেনি। এসব উদ্যোগ খাতওয়ারি হস্তক্ষেপ, যা ভূমিহীনতা ও ভূমির প্রান্তিক মালিকানাসহ গভীরে প্রোথিত লিঙ্গবৈষম্যের সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক মাত্রা মোকাবেলা করে না। তাই এ গবেষণা কৃষি উৎপাদনশীলতা ও খাদ্যনিরাপত্তার ক্ষেত্রে জাতীয় লক্ষ্যের প্রাসঙ্গিকতায় যত্নশীল নীতি-পছন্দ দাবি করে। কী ধরনের শস্য ও প্রযুক্তি ক্রমবর্ধিষ্ণু প্রাতিবেশিক বিপর্যয় মোকাবেলা করতে পারে, দারিদ্র্য ও লিঙ্গ অসমতা কীভাবে দূর করা যায়, তার জন্য গভীরতর বোঝাপড়া দরকার। এক্ষেত্রে নীতি, প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো, সংস্কৃতি, সম্প্রদায় ও পরিবারসহ বিভিন্ন পর্যায়ে ব্যাপকতর ও সমন্বিত পরিবর্তন আবশ্যক।
লেখকত্রয় গবেষক
সিজিআইএআর থেকে ভাষান্তর হুমায়ুন কবির





