মাস দুয়েক আগে দেশের উত্তরাঞ্চলের কৃষিপণ্যের মার্কেটিংবিষয়ক এক সেমিনারে অংশ নিই। আলোচকরা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে তাদের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন। আমিও কিছু বিষয়ে অন্যদের মনোযোগ আকর্ষণের চেষ্টা করি। সেখানে উচ্চারিত বিষয়গুলো কোনো এক লেখায় পাঠকদের সঙ্গে শেয়ার করার ইচ্ছা ছিল। বণিক বার্তা ‘উত্তরাঞ্চলের ভৌগোলিক অর্থনীতি’র ওপর বিশেষ সংখ্যা করতে যাচ্ছে— তথ্যটি জানার পর এ-বিষয়ক ভাবনাগুলো একত্র করতে সচেষ্ট হই। কৃষির মতো ব্যাপক বিষয় একটি নিবন্ধে উপস্থাপন করা প্রায় অসম্ভব ব্যাপার। তাই শুধু বিপণনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো উল্লেখ করতে চেষ্টা করছি। উত্তরের জেলাগুলো দেশের খাদ্যশস্যের মোট চাহিদার একটা বড় অংশের জোগানদাতা। পাশাপাশি আখ, পাট, তামাকের মতো অর্থকরী ফসল উৎপাদনও হয় লক্ষণীয় মাত্রায়। আম, লিচু, তরমুজ, ভেষজ উদ্ভিদের খ্যাতিও সর্বজনবিদিত। শ্রমনির্ভর খাত হওয়ায় এ অঞ্চলের ব্যাপকসংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে কৃষিতে; অন্যান্য কাজের দক্ষতা কম থাকায় পূর্বপুরুষদের পেশাটি আঁকড়ে ধরে আছে সিংহভাগ মানুষ। কিন্তু দিনরাত কঠোর পরিশ্রমের পরও তাদের ভাগ্যের খুব একটা পরিবর্তন হচ্ছে না। এক্ষেত্রে উত্তরবঙ্গের কৃষিপণ্যের বিপণন ব্যবস্থার বাস্তবতা ও প্রত্যাশিত ভূমিকা তুলে ধরাই লেখাটির উদ্দেশ্য।
বাংলাদেশকে ‘কৃষিপ্রধান’ বলা হলেও কৃষকদের ভাগ্য পরিবর্তনে কার্যকর পদক্ষেপ খুব কমই নেয়া হয়। উৎপাদনে বৈচিত্র্যায়ন কিংবা উৎপাদনশীলতা বাড়াতে সংশ্লিষ্ট একাডেমিক ও মাঠপর্যায়ের প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়মিত কাজ করলেও কৃষকদের উৎপাদিত পণ্যবিষয়ক সামগ্রিক পরিকল্পনা প্রণয়ন, সুষ্ঠু বণ্টন ব্যবস্থা গড়ে তোলা, ন্যায্য মূল্য প্রাপ্তি নিশ্চিত করা ইত্যাদি বিষয় প্রায়ই অনুচ্চারিত থেকে যায়। মাঝে মধ্যে আলোচনায় এলেও মানুষ সেগুলোকে কথার কথা বলেই মনে করে। ফলে এতসংখ্যক মানুষের শ্রম, উর্বর জমি, অনুকূল প্রকৃতি, নগদ মূলধন ও অন্যান্য উপকরণ বিনিয়োগ করেও কৃষকদের দুর্দশা কাটে না। কানাডা, অস্ট্রেলিয়ায় মাত্র কয়েক শতাংশ মানুষ কৃষিকাজে জড়িত। অথচ তারা নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে বিপুল পরিমাণ কৃষিপণ্য বিদেশে রফতানি করে! ওই জাতীয় দেশগুলোয় কৃষির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো নানা ধরনের বিশ্লেষণ শেষে প্রতি বছর একেকটি ফসলের মোট উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে। সেই লক্ষ্য অর্জনে আঞ্চলিক বৈশিষ্ট্য ও অন্যান্য বাস্তবতা বিবেচনায় রেখে তারা কৃষকদের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করে। তাছাড়া ওইসব দেশে বড় বড় খামারে চাষাবাদ হয় বলে সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা তুলনামূলকভাবে সহজ হয়। পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তিপণ্যের ব্যবহার এবং দক্ষ ও প্রশিক্ষিত লোকবল দিয়ে সর্বোচ্চ উৎপাদনশীলতা নিশ্চিত করতে সক্ষম হয়। ফলে দেশে ফল-ফসলের মোট চাহিদার সম্ভাব্য সবচেয়ে বেশি অংশ উৎপাদন সম্ভব হয়। বাকিটা (প্রয়োজনে) খুব পরিকল্পিতভাবে আমদানি করা হয়, যেন ভবিষ্যতে দেশে খাদ্য সংকট সৃষ্টি না হয়।
টিভি চ্যানেলগুলোয় কৃষিবিষয়ক অনুষ্ঠানগুলো দেখলে মনে হয়, কৃষকরা বুঝি তাদের কর্মক্ষেত্রে খুবই ভালো করছে। যে কেউ এধরনের উদ্যোগ নিলে সফলতা অনিবার্য। কিন্তু বাস্তবতা হলো, হাজারো ব্যর্থতার মাঝে হাতেগোনা দু-চারটি সফলতার গল্পকেই তারা আকর্ষণীয়ভাবে উপস্থাপন করে। বাস্তবে সাধারণ কৃষকরা চিরদিনই পাদপ্রদীপের বাইরে ছিল, এখনো আছে। সংগঠিত জ্ঞান ও সামর্থ্যের অভাবে বংশপরম্পরায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়াই যেন তাদের নিয়তি। কৃষি খাতের অবদান আমাদের অস্তিত্বের সঙ্গে সম্পর্কিত। অথচ আদিকাল থেকে অপরিকল্পিতভাবে বেড়ে উঠেছে গুরুত্বপূর্ণ খাতটি। কৃষকদের সহযোগিতার লক্ষ্যে সরকারের পক্ষ থেকে নানা পদক্ষেপ নেয়া হয়, কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সেগুলোর প্রকৃত উপকারভোগী তারা নয়। যেমন— সরকার নির্ধারিত দামে তারা কখনো পণ্য বিক্রি করতে পারে না। বেচতে হয় প্রভাবশালী ফড়িয়া, বেপারি ও দালালদের কাছে। যারা মাঠপর্যায়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগসাজশে উচ্চমূল্যের সুবিধাটি পুরো মাত্রায় ভোগ করে। তারা একদিকে উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হয়, অন্যদিকে কৃষিসংশ্লিষ্ট উপাদানের (বীজ, সার, কীটনাশক, সেচ, যন্ত্রপাতি, শ্রমিকের মজুরি ইত্যাদির) চড়া মূল্য পরিশোধে হিমশিম খায়। স্বভাবতই মনে প্রশ্ন জাগে, রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে, মাথার ঘাম পায়ে ফেলে আমাদের অন্নের যোগানদাতারা কেন বারবার বঞ্চিত হয়?
এর পেছনে অনেকগুলো কারণ দায়ী থাকলেও ‘মার্কেটিং’ বা বিপণনের দুর্বলতাকে বিশেষভাবে চিহ্নিত করা হয়। কৃষকদের মতোই কৃষির বিপণন ব্যবস্থাও আদিকাল থেকে দারুণভাবে উপেক্ষিত। দু-চারটি প্রতিষ্ঠানের নামের সঙ্গে ‘এগ্রো মার্কেটিং’ শব্দ যুগল ব্যবহার হতে দেখা গেলেও সামগ্রিকভাবে কৃষকদের ভাগ্যোন্নয়নের সঙ্গে সেগুলোর সম্পর্ক খুবই কম। তারা সাধারণত কৃষকদের ব্যবহার্য পণ্য-দ্রব্যের কারবারি। তাছাড়া তাদের অধিকাংশই অতিরিক্ত মুনাফার লোভে কৃষকদের নিম্নমানের বীজ, জমির উর্বরাশক্তি নষ্টকারী সার, মানবদেহের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর কীটনাশক সরবরাহ করতেও দ্বিধা করে না। অন্যদিকে কোম্পানিগুলোর ক্ষেত্রে বিপণনের জন্য স্বতন্ত্র শাখা বা লোকবল থাকলেও কৃষকদের উৎপাদিত পণ্যের মার্কেটিং করার দায়িত্ব ঠিক কার, তা আজো নির্ধারিত হয়নি। সরকারের বাস্তবসম্মত ও কার্যকর উদ্যোগ ছাড়া এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ মোটেই সম্ভব নয়।
আমাদের দেশে কৃষিপণ্য উৎপাদনের সামগ্রিক পরিকল্পনা মোটেই সংগঠিত নয়; কৃষকরাই ব্যক্তিপর্যায়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়। আগে নিজ নিজ সংসারের প্রয়োজনীয় ফল, ফসল, সবজি, মাছ, মাংস উৎপাদনে কৃষকরা সচেষ্ট থাকত। এখন আধুনিকতার ছোঁয়া লাগায় তারাও বিশেষায়িত উৎপাদনের দিকে ঝুঁকছে। মৌসুম, মাটি ও আবহাওয়াসংক্রান্ত বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে বিশেষ বিশেষ ফল-ফসল উৎপাদনে মনোযোগী হচ্ছে। কিন্তু বছর শেষে প্রতিবারই তাদের হতাশ হতে হয়। কারণ এ বছর আলুর দাম বেশি দেখে হয়তো তারা আলু উৎপাদনে ঝুঁকে পড়ল; ফসল ওঠার সময় দেখা গেল, অতিরিক্ত সরবরাহের অজুহাতে দাম একদম পড়ে গেছে! ফলে তাদের আর্থিকভাবে চরম ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়। এভাবে টমেটো, পেঁয়াজ, মুলা ও অন্যান্য রবিশস্যের ক্ষেত্রেও কৃষকদের বারবার ক্ষতিগ্রস্ত হতে দেখা যায়। এমনকি অফ-সিজনে উচ্চদাম পাওয়ার আশায় কোল্ডস্টোরেজে আলু রেখে পরবর্তীতে ভাড়া পরিশোধ করতে না পারায় কৃষকের পালিয়ে বেড়ানোর সংবাদও মাঝে মধ্যে শোনা যায়। সময় বদলায়, দেশের অনেক ক্ষেত্রেই উন্নতি হয়, কিন্তু তাদের দুঃখের অবসান হয় না। সংখ্যায় বেশি হলেও তারা সংগঠিত নয়। অন্যদিকে ব্যবসায়ীরা অনেক বেশি সংগঠিত (সিন্ডিকেট বলে পরিচিত); হয়তো সে কারণেই শোষণের চিত্র সহসা বদলায় না।
কৃষিপণ্য মজুদ ও পরিবহনের নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা অন্যদের হাতে থাকায় ভোক্তা পরিশোধিত মূল্যের চার বা পাঁচ ভাগের এক ভাগ অর্থ কৃষকের হাতে পৌঁছে। দুঃখজনক হলেও সত্য যে, এ প্রক্রিয়ায় একটা ‘পরজীবী গোষ্ঠী’ আছে, যারা কৃষিপণ্যের উৎপাদন, মজুদ বা বণ্টনে সরাসরি অংশ নয়, কিন্তু সবচেয়ে বেশি সুবিধাভোগী! তারা হলো, নানা পর্যায়ে চাঁদা উত্তোলনকারী। হাটের ইজারাদার থেকে শুরু করে আড়তদার, শ্রমিক কল্যাণ সমিতি, টহলরত পুলিশ ও অন্যান্য গোষ্ঠীর প্রতিনিধি (দালাল), বিভিন্ন সংগঠনের স্থানীয় নেতাদের এজেন্টরা কৃষিপণ্য বহনকারী ট্রাকগুলোকে ধাপে ধাপে আটকায়, চাঁদা না পেলে নানাভাবে হেনস্তা করে। পচনশীল বৈশিষ্ট্যের কারণে ব্যবসায়ীরাও চায় উটকো ঝামেলা থেকে দ্রুত মুক্তি পেতে। ফলে ‘বাঁশের চেয়ে কঞ্চি দড়’ হওয়ার মতোই ক্রয়মূল্যের চেয়ে অন্যান্য ব্যয় যায় কয়েক গুণ বেড়ে। অথচ প্রকৃত উৎপাদনকারীদের এতে কোনোই কল্যাণ হয় না। দাপ্তরিকভাবে কৃষকদের কল্যাণে সরকারের নানা উদ্যোগ রয়েছে; কিন্তু বাস্তবতা বেশ কঠিন। পুরো প্রক্রিয়ায় এক বিশাল চক্র কাজ করে। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর যোগসাজশে সরকারের ভর্তুকির সুবিধাগুলোও প্রত্যন্ত গ্রামপর্যায়ের কৃষকদের কাছে পৌঁছে না।
বীজ বপনের সময় পকেটে পয়সা না থাকায় কৃষকদের প্রায়ই সুদখোর মহাজনদের দ্বারস্থ হতে হয়। মাত্র ২০০ টাকা মণ (বা তারও কম) দরে ধানের দাম ধরে অগ্রিম অর্থ নিয়ে আসে। সেজন্য ফসল উত্তোলনের সময় ধান কৃষকের গোলায় না গিয়ে ওঠে মহাজনদের গুদামে। ফলন ভালো হলে কৃষকের মুখে যে হাসি ফোটার কথা ছিল, তা হাসে প্রভাবশালী দাদন ব্যবসায়ীরা। আর যদি খরা বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ আসে, তাহলে তো ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’ অবস্থা। দাদনের অর্থ পরিশোধ করতে শরণাপন্ন হয় ক্ষুদ্র ঋণ প্রদানকারী এনজিওগুলোর। তাদের পাওনা মেটাতে অনেক সময় হালের বলদ এমনকি ঘরের টিন পর্যন্ত বিক্রি করতে হয়। এ যেন দারিদ্র্যের ভয়াবহ এক দুষ্টচক্র; বংশপরম্পরায় তারা সেই চক্র ভেদ করতে পারছে না। তাছাড়া কৃষকদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে নেই কোনো কার্যকর পদক্ষেপ। আধুনিককালে শিল্প-কারখানা কিংবা সেবাদানকারী সংস্থাগুলোর কর্মীদের মানোন্নয়নে প্রশিক্ষণের ওপর খুব জোর দেয়া হয়। অথচ খাতা-কলমে এমন বেশকিছু উদ্যোগ থাকলেও বাস্তবে বাংলার কৃষককুল পূর্বপুরুষদের কাছ থেকে প্রাপ্ত জ্ঞানের ওপর নির্ভর করেই খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে। রাস্তাঘাট ও যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো হওয়ায় অনেকেই শহরমুখী হচ্ছে। ফলে কৃষি শ্রমিকের সংখ্যা দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে। গৃহস্থরা অসহায় বোধ করছে। সম্ভব হলে জমি ইজারা দিচ্ছে কিংবা কম শ্রমিক দরকার হয় এমন ফসলে আগ্রহী হচ্ছে। এমনকি আম বা লিচু বাগান করে অনেকেই নিশ্চিন্তে বসে থাকছে।
উত্তরাঞ্চলের কৃষকদের অনেকেই এখন সর্বোতভাবে চায়, তাদের পরবর্তী প্রজন্ম যেন এ পেশায় না থাকে। অনেক কষ্টে লেখাপড়া শেখানোর পর প্রয়োজনে জমি বিক্রি করে হলেও সন্তানদের বিদেশ পাঠাতে সচেষ্ট হচ্ছে কিংবা চাকরি পেতে অনেক বেশি ঘুষ দিতে রাজি হচ্ছে। দালালের খপ্পরে পড়ে মাঝে মধ্যে সর্বস্বান্তও হচ্ছে। তবু যেন পালাতে চাইছে। কেন এমনটা হচ্ছে? কারণ গোটা বছর অমানুষিক পরিশ্রমের পর যে প্রতিদান তারা পায়, তার চেয়ে এ পন্থাগুলোকে হয়তো ঢের উত্তম ভাবছে। যদি এ ধারা চলতে থাকে, তবে ভবিষ্যতে আমাদের খাদ্যনিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়তে পারে। যে কৃষক এতদিন আমাদের খাদ্যশস্যের জোগান দিয়ে এসেছে, এখন সে যদি হতাশ হয়ে আম বা লিচু বাগান করে বসে থাকে; ঝামেলা কমানোর জন্য আখ চাষে মনোযোগী হয়, তবে তার জন্য চাল-গম আমদানি করতে হবে ভারত, মিয়ানমার কিংবা ব্রাজিল থেকে। সেগুলোর উচ্চ ক্রয়মূল্য, পরিবহন ব্যয় ও সময় আর গুণগত মান বিষয়ে গণমাধ্যমের বদৌলতে আমরা সবাই অবগত। তাই উত্তরবঙ্গের কৃষকদের হতাশ হতে দেয়া ও কৃষিকাজ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে দেয়াটা সমগ্র জাতির জন্য খুবই আত্মঘাতী ব্যাপার হবে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের কাছে আমরা অসহায়, কিন্তু মনুষ্যসৃষ্ট সংকট আমাদের ভবিষ্যেক ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দিচ্ছে। সময় থাকতে উপলব্ধি করা দরকার।
বিদ্যমান অবস্থায় কিঞ্চিৎ হলেও আশার আলো দেখাতে পারে কৃষির দক্ষ বিপণন ব্যবস্থা। সেক্ষেত্রে প্রয়োজন বাস্তবসম্মত মার্কেটিং পরিকল্পনা ও তার কার্যকর বাস্তবায়ন। কোন ফসল দেশের কোন অঞ্চলে কী পরিমাণে উৎপাদন করতে হবে, তার সুষ্ঠু বণ্টন প্রক্রিয়া কীভাবে নিশ্চিত করা যাবে, কীভাবে তারা ন্যায্য মূল্য পাবে, কৃষকদের দক্ষতা কীভাবে বাড়ানো যায় ইত্যাদি বিষয় সমন্বয় করার কাজ সরকারকেই করতে হবে। অসংগঠিত, কম শিক্ষিত, প্রত্যন্ত অঞ্চলের কৃষকদের হাতে এ ভার ন্যস্ত থাকলে ভবিষ্যতে তাদের হতাশা আরো বাড়তে পারে। তাই ধাপে ধাপে মধ্যস্বত্বভোগী ও চাঁদাবাজদের দাপট কমিয়ে কৃষকদের উৎপাদিত পণ্যে ন্যায্য অধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে। প্রয়োজনীয় পলিসি সাপোর্ট ও মাঠপর্যায়ে তার কার্যকর বাস্তবায়নের মাধ্যমে তাদের উন্নয়নে সচেষ্ট হতে হবে আমাদের স্বার্থেই।
লেখক: শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের শিক্ষক ও ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ স্টাডিজের পিএইচডি ফেলো





