২০১১ সালে জাপানের ফুকুশিমা পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে দুর্ঘটনার পর প্রভাবশালী মার্কিন ম্যাগাজিন দি ইকোনমিস্ট বিস্তারিত এক প্রতিবেদনের সমাপ্তি টানে এই বলে যে, ‘পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র খুবই ভয়ানক, অপ্রিয়, অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং প্রচণ্ড ঝুঁকিপূর্ণ।’ প্রশ্ন আসে, যদি অন্য উপায়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যায় তাহলে আমরা কেন এ ধরনের বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে যাব?

প্রায় একই সময়ে ফুকুশিমা দুর্ঘটনার পর বিনিয়োগপ্রবণ একটি প্রভাবশালী সুইস ব্যাংকের বিশ্লেষণে প্রশ্ন রাখা হয়, ‘ফুকুশিমা পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের চারটি রিয়েক্টরে ত্রুটি পরিলক্ষিত হওয়ার পর অত্যন্ত উঁচু কারিগরি কৌশল প্রয়োগ করে বেশ কয়েক সপ্তাহের প্রচেষ্টায়ও তা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি। একটি সুশৃঙ্খল প্রশাসন, অর্থনীতি ও কারিগরিতে অত্যন্ত উঁচুমানের রাষ্ট্রেরও পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে সক্ষমতার বিষয়ে এটি সুস্পষ্টভাবে ব্যর্থতাকেই চিহ্নিত করে। আমাদের সুস্পষ্ট মতামত ফুকুশিমা দুর্ঘটনাটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন বন্ধ করার বিষয়ে একটি চূড়ান্ত হুঁশিয়ারি।’ এর পরও বাংলাদেশ সেই বিনাশী পথেই পা বাড়াচ্ছে! হায় সেলুকাস, কি বিচিত্র এই দেশ!!

একই সময়ে জার্মানির প্রখ্যাত ডয়েচে ব্যাংকের বিশ্লেষক ফুকুশিমা দুর্ঘটনার ওপর এক প্রতিবেদনে এই বলে প্রশ্ন রাখেন যে, ‘ফুকুশিমা দুর্ঘটনা নিশ্চয়ই দেশে দেশে নীতিনির্ধারকদের এই বলে জানান দিয়ে গেল যে, জ্বালানি পরিকল্পনা ও স্থাপনে গুরুত্ব নির্ধারণে কোনটি অধিক মূল্য পাবে? জনগণের জীবনের নিরাপত্তা, জনজীবনের ঝুঁকি, জনস্বাস্থ্য, জীববৈচিত্র্য, প্রাণ-প্রকৃতি-পরিবেশ, নাকি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন? এর সুস্পষ্ট উত্তর হলো, আর নতুন কোনো পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র তো নয়ই, বরং পুরনোগুলো উপড়ে ফেলার ত্বরিত পদক্ষেপ নিতে হবে এক্ষুনি।’ জানামতে, এসব বিশ্লেষকের সবাই অত্যন্ত উঁচুমানের বিশেষজ্ঞ। তাহলে আমাদের দেশের নীতিনির্ধারকরা কি রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করে সজ্ঞানেই এ মৃত্যুফাঁদে পা দিচ্ছেন!!

 আমরা কেন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনে বিরোধিতা করছি! এবার আসা যাক স্থাপিতব্য ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিষয়ে।

ক. এটি অত্যন্ত ব্যয়বহুল। আন্তর্জাতিক বাজারে মূলধনি ব্যয় বিবেচনায় প্রতি মেগাওয়াট পারমাণবিক বিদ্যুতে গড়ে পড়ে ২৫ কোটি, কয়লায় ১০ কোটি, গ্যাসভিত্তিক কম্বাইন্ড সাইকেলে পড়ে মাত্র ৭ কোটি টাকা। আর চুক্তি অনুযায়ী রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনে প্রতি মেগাওয়াটে মূলধনি ব্যয় পড়বে প্রায় ৪৪ দশমিক ৫০ কোটি টাকা!

খ. চুক্তির প্রথমদিকে রূপপুর কেন্দ্রটি ১৯৭০ ইংরেজির জেনারেশন-২ ভার্সন ভিভিইআর-১০০০ স্থাপনের কথা ছিল। রাশান সরকার ও বিশেষজ্ঞরা বলে বেড়ালেন যে, এটি অনেক নিরাপদ ও স্বল্প বর্জ্যত্যাগী পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। এ কেন্দ্র পরিবেশদূষণ করবে না এবং এটি একটি সাশ্রয়ী ও নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ স্থাপনা। অথচ কে না জানে যে, এই ভিভিইআর-১০০০ রিয়েক্টরটি অনেক পুরনো এবং এটি অনিরাপদ ও ঝুঁকিপূর্ণ বিধায় এরই মধ্যে রাশিয়ার সঙ্গে করা হাঙ্গেরি দুটি, ইউক্রেন ৩টি, জার্মানি ৪টি ও চেক রিপাবলিক ৪টি চুক্তি বাতিল করেছে। তারা সুস্পষ্টভাবে রাশিয়াকে জানিয়ে দেয় যে, এ রিয়েক্টরকে ইউরোপিয়ান মান ও দক্ষ করে নিরাপদ ও ঝুঁকিমুক্ত না করলে তাদের দেশে তা স্থাপন করতে দেয়া হবে না ।

গ. প্রায় একই সময়ে ইরানে জেনারেশন-২  ভার্সনের রিয়েক্টর ভিভিইআর-১০০০/৪৪৬ ও রাশিয়ার বালাকোভাকে ভিভিইআর-১০০০/৩২০ স্থাপন অনেক দূর এগিয়েও কারণ না জানিয়ে মাঝপথে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

ঘ. এই একই ধারার জেনারেশন-২-এর ভার্সন রিয়েক্টর ভিভিইআর-১০০০/৪১২ ভারতের তামিলনাড়ুর কুদানকুলামে ২০০১ সালে শুরু হয়, যা দীর্ঘসময় ধরে নির্মাণাধীন অবস্থায় ছিল। ২০১১-তে ফুকুশিমা দুর্ঘটনার পর ভারতের পারমাণবিক এনার্জি কমিশনের একদল বিশেষজ্ঞ এ উপকেন্দ্র পরিদর্শন করে একে অনিরাপদ ও ঝুঁকিপূর্ণ বলে চিহ্নিত করেন এবং নকশায় ১৭টি ব্যাপক পরিবর্তনের শর্তসাপেক্ষে এটি চালু করার সুপারিশ করা হয়। ওইসব পরিবর্তন করার পর ১৫ বছর বাদে ২০১৬-তে এটি চালু করা সম্ভব হয়।

ঙ. এই সেকেলে জেনারেশন-২ ভিভিইআর-১০০০ ভার্সন রিয়েক্টরটি নিয়ে যে এত ঘটনা, এত কথাবার্তা, তার পরও বাংলাদেশ সরকার ও সরকারি বুদ্ধিজীবীরা রাশিয়ার বাজানো ঢোলের তালেই নাচতে লাগলেন। জনগণের পক্ষ থেকে বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ ও পেশাজীবীরা যখন সার্বিকভাবে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ভয়াবহতা বিশেষ করে বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থায় এর অনুপযোগিতা এবং সঙ্গে সঙ্গে প্রস্তাবিত ভার্সনটির মান নিয়ে তীব্র প্রতিবাদ জানাতে শুরু করলেন এবং বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে এরই মধ্যে এর বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ ও ঘটনাগুলো প্রকাশ করা শুরু করলেন, তখন রাশিয়া অত্যন্ত সুকাৈশলে প্রস্তাবিত জেনারেশন-২ ভিভিইআর-১০০০ ভার্সনটি বদলিয়ে তাদের ভাষায়, ‘অনেক নিরাপদ, স্বল্প বর্জ্যত্যাগী, নির্ভরযোগ্য, ঝুঁকিমুক্ত জেনারেশন-৩-এর ভিভিইআর-১২০০ ভার্সনটি’ বসানো হবে বলে চুক্তিতে পরিবর্তন আনল।

চ. এ প্রসঙ্গে এটা বলা যায় যে, বিশ্বব্যাপী প্রচণ্ড সমালোচনা এবং পরপর ভয়াবহ দুর্ঘটনার পর রাশিয়া বলতে চাইছে যে, ২০১০-এ জেনারেশন-২-এর চেয়ে এখন অনেক উন্নত ধরনের রিয়েক্টর নির্মাণ করা হয়েছে, যা জেনারেশন-৩ নামে অভিহিত। ফুকুশিমা দুর্ঘটনার পর রাশিয়ার দাবি অনুযায়ী, ইউরোপিয়ান প্রেসারাইজড রিয়েক্টর (ইপিআর) জেনারেশন-৩ নামক ভার্সনটি অনেক নিরাপদ ও স্বল্প বর্জ্যত্যাগী; যা অদূর ভবিষ্যতে বিদ্যুৎ উৎপাদনে কার্যকর অবদান রাখতে পারবে। যদিও বিশেষজ্ঞরা এ কথা খুব একটা আমলে নিচ্ছেন না। আরো একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এ নতুন ধরনের পারমাণবিক কেন্দ্রে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, যা অত্যন্ত বিপজ্জনক, সে বিষয়ে পরামর্শ নেই এবং পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের অতি উচ্চতাপমাত্রায় রিয়েক্টরে ত্রুটিজনিত কারণে প্রাণ-প্রকৃতি-পরিবেশবিনাশী পারমাণবিক বর্জ্য নির্গত হওয়া বন্ধ করারও কোনো পদক্ষেপ দৃশ্যমান নয়।

ছ. পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে নিত্য যে সর্বনাশা রেডিও অ্যাকটিভ (তেজস্ক্রিয়) বর্জ্য পরিবেশের সঙ্গে যুক্ত হয়, তা এতই ভয়ানক, যা মানুষের বিভিন্ন অনিরাময়যোগ্য রোগব্যাধি সৃষ্টিসহ জমির উর্বরা শক্তি, পানি ও বায়ুদূষণের পাশাপাশি জীববৈচিত্র্য অচিরেই ধ্বংস করে। যেকোনো জটিল প্রকল্প গ্রহণে বাংলাদেশের জমি ও ভূগঠনের বিশেষ বৈচিত্র্যের বিষয়ে অবহিত হওয়া অত্যন্ত প্রয়োজন। বাংলাদেশের নদী-নালা, খাল-বিল আর জমি অত্যন্ত মূল্যবান সম্পদ, অথচ পরিবেশবিধ্বংসী, জীববৈচিত্র্যবিনাশী প্রতিক্রিয়ার কথা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, রূপপুর হবে দেশবিনাশী এক ভয়ঙ্কর প্রকল্প। এখানে সর্বনাশা প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে কৃষকরা তাদের জমি হারাবেন, ওই এলাকার জমির উর্বরা শক্তি ধ্বংস হবে, জল ভয়ানক দূষিত হবে, পানি ও বায়ুদূষণসহ জীববৈচিত্র্য অচিরেই ধ্বংস হয়ে যাবে। এ কেন্দ্র থেকে ১০-১২ কিলোমিটারব্যাপী বসবাসরত কৃষক পরিবারগুলোকে ওইসব এলাকা অনিরাময়যোগ্য রোগব্যাধি, জমির উর্বরা শক্তি হ্রাস, পানি ও বায়ুদূষণসহ জীববৈচিত্র্য ধ্বংস হয়ে বসবাসের অযোগ্য হয়ে যাবে বিধায় বসতভিটা ছেড়ে চিরতরে বাস্তুহারা হতে হবে। আর বাংলাদেশ হারাবে অনেক মূল্যবান জমি, নদী-খাল-বিলসহ ভূগর্ভস্থ পানি, জলজ ও বনজ প্রাণী! তো আর রইল কী!! বিদ্যুৎ জ্বলবে অথচ কোনো জনমানুষ নেই, কোনো প্রাণীও নেই!!

জ. পারমাণবিক উপকেন্দ্র অতি উচ্চতাপমাত্রা (১৬০০০ থেকে ২০০০০ সেলসিয়াস) সৃষ্টি করে, যা শীতলীকরণে প্রচুর পানির প্রয়োজন। ফলে ওই এলাকার নদী-খাল-বিলসহ ভূগর্ভস্থ পানি শুকিয়ে অচিরেই মরুকরণ প্রক্রিয়া শুরু হবে।

 ঝ. পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র যে কত ভয়ঙ্কর, তা জ্বালানিবিষয়ক তথ্য ঘাঁটলেই স্পষ্ট হয়ে ওঠে। আজ বিশ্বে বায়ুদূষণ, অ্যাসিড বৃষ্টি, জীববৈচিত্র্য ধ্বংস, অ্যাজমা, পঙ্গুত্ব, ক্যান্সারসহ নানা ধরনের অনিরাময়যোগ্য রোগব্যাধির অন্যতম মূল উেসর একটি হলো পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র।

ঞ. পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের সবচেয়ে ভয়াবহ দিক হলো, এর পরিত্যক্ত তেজস্ক্রিয় বর্জ্য। এ বর্জ্য এত দীর্ঘজীবী যে যুগ যুগ ধরে ধরিত্রীসহ জীববৈচিত্র্যের ধ্বংসলীলায় মেতে থাকে। এর একটি হচ্ছে অতি মারাত্মক টেকনোটিয়াম-৯৯, যার অর্ধজীবন হচ্ছে ২ লাখ ২০ হাজার বছর। আরেকটি হলো আয়োডিন-১২৯, যার অর্ধজীবন হচ্ছে ১ লাখ ৫০ হাজার বছর। এছাড়া নেপটুনিয়াম-২৩৭, প্লুটোনিয়াম-২৩৯ লাখ লাখ বছর বেঁচে থাকে, যা নানা রকম অনিরাময়যোগ্য রোগব্যাধি সৃষ্টি, জমির উর্বরা শক্তি, পানি ও বায়ুদূষণসহ জীববৈচিত্র্য ধ্বংস করতেই থাকে।

ট. পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে প্রতি ১২ থেকে ১৮ মাসের মধ্যে এ ধরনের বর্জ্য তৈরি হয়। এ বর্জ্য জমা করার জন্য কোনো নিরাপদ ব্যবস্থাপনা আজো প্রস্তুত করা হয়নি। আন্তর্জাতিক পরমাণু কমিশন (আইইসি) কর্তৃক বিশ্বের ১৬টি স্থানে এ পরিত্যক্ত বর্জ্যাগার নির্মাণের কথা ছিল, যা আজো নির্মাণ হয়নি। সুতরাং এ অবস্থায় বাংলাদেশে এ কেন্দ্র নির্মাণ করা মানে আরেকটি ভয়ানক তেজস্ত্রিয় মৃত্যুফাঁদ বানানোর পদক্ষেপ নেয়া ছাড়া একে অন্য কিছু হিসেবে অভিহিত করা যায় না।

ঠ. এরই মধ্যে বিশ্বের পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী অধিকাংশ দেশ যথা— জার্মানি, অস্ট্রিয়া, হাঙ্গেরি, যুক্তরাষ্ট্র, নেদারল্যান্ডস, ইতালি, ফিলিপাইন, দক্ষিণ আফ্রিকা, বেলজিয়াম, সুইডেন, সুইজারল্যান্ড, তুরস্ক, জাপান, অস্ট্রেলিয়া অনেক কেন্দ্র বন্ধ করে দিয়েছে এবং দেশভেদে ২০২২ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে বাকিগুলো বন্ধ করে দেয়ার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে।

ড. এখন প্রশ্ন, বিদ্যুৎ ছাড়া তো আমাদের এক মুহূর্তও চলবে না, তাহলে বিদ্যুৎ আমরা কোত্থকে পাব? এ প্রশ্নের সঠিক উত্তরটি দেশপ্রেমিক লোকজন, জ্বালানি বিশেষজ্ঞ, বিজ্ঞানীরাসহ পরিবেশ নিয়ে আন্দোলনরত সব পক্ষকে সঠিকভাবে জানতে হবে। এসব না জেনে যারা আন্দোলন করছেন, তারা শুধু নিজেদেরই খেলো প্রমাণ করছেন না, বরং এ দেশ, দেশের জনগণকেও নিদারুণভাবে প্রতারণা করছেন!! ৩০ বছর আগে আবিষ্কৃত বিজ্ঞানের পুরনো সত্যটি আঁকড়ে ধরে থেকে কূপমণ্ডূকের মতো যারা প্রতিদিনের বিজ্ঞানের নব নব আবিষ্কারকে চোখে দেখেন না এবং নতুন কৌশলকে প্রয়োগ করতে ভয় পান, বলতে হয় তারা নিজেরাই অন্ধ, তারা কী করে এ দেশের গণমানুষকে তা জানান দেবেন। আর কেউ যদি প্রাণ-প্রকৃতি-পরিবেশবিনাশী পুরনো অচল ব্যয়বহুল কারিগরি প্রকল্প বাস্তবায়নে শুধু নিজেদের আখের গোছানোর জন্য বুঁদ হয়ে থাকেন, তখন জনগণ যে এক নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করবে, তা বোধ হয় স্মরণ করিয়ে দেয়ার খুব একটা দরকার নেই।

ঢ. জ্ঞানচর্চায় সমৃদ্ধ হয়ে, সব সত্য জেনে যদি আমরা বাংলাদেশের জমি ও ভূগঠনের বিশেষ বৈচিত্র্যের বিষয়ে নজর রেখে জনবান্ধব, পরিবেশবান্ধব, পানি, বায়ু ও জীববৈচিত্র্যবান্ধব বিদ্যুৎ উৎপাদনের পদক্ষেপ নেই, তাহলে আমি নিশ্চিত যে দেশে অত্যন্ত অল্প সময়ে চাহিদা মেটানোর মতো টেকসই বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যবস্থা নির্মাণ করা সম্ভব। এটি নিয়ে খুব জলদি এ পাতায় বিস্তারিত হিসাব দেব আশা নিয়ে আজ শেষ করছি।

 

লেখক: সাবেক মহাপরিচালক, পাওয়ার সেল