ঐতিহাসিক কাল পর্বে বাংলাদেশ ভূখণ্ডের রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলের ভিত রচনা ও বিকাশ ধারায় নেতৃত্ব দিয়েছে উত্তর বাংলা অর্থাৎ বরেন্দ্রভূমি। মধ্যযুগেও এ গৌরবের ধারা অব্যাহত থাকে। নানা প্রত্নবস্তুর সঙ্গে মাটির গভীরে অন্তরীণ থাকা ব্রাহ্মীলিপি খ্রিস্টপূর্ব যুগে আজকের মহাস্থানগড় অঞ্চলে প্রাচীন পুণ্ড্রনগরের অস্তিত্ব ঘোষণা করছে। প্রাচীন সূত্র নিশ্চিত করছে পাল রাজাদের পিতৃভূমি ছিল বরেন্দ্র অঞ্চল। দিব্যকের নেতৃত্বে কৈবর্ত বিদ্রোহ থেকে শুরু করে আধুনিক যুগ পর্বে তেভাগা আন্দোলনের গৌরবগাথাও জড়িয়ে আছে বরেন্দ্রভূমিতে। মধ্যযুগের দুর্গ সুরক্ষিত গৌড় নগরীর শহরতলি হিসেবে বরেন্দ্রভূমি এর ঐতিহ্য গড়া অব্যাহত রাখে।

উত্তর বাংলার রাজধানী অঞ্চল প্রাচীন কাল থেকে গৌড় নামে পরিচিত ছিল। ইতিহাসে ‘গৌড়’ নামের প্রথম সূচনা গুপ্ত সাম্রাজ্যের পতনের কিছু আগে। খ্রিস্টীয় ছয় শতকে বরাহমিহির তার ‘বৃহৎ সংহিতা’ গ্রন্থে ‘গৌড়’কে বাংলার একটি অংশ বলে বর্ণনা করেছেন। ‘ভবিষ্য পুরাণে’ গৌড় দেশকে বর্ধমানের উত্তরে ও পদ্মার দক্ষিণে অবস্থিত বলা হয়েছে। তবে গৌড় রাজ্যের উত্থানের শুরুতে এর অবস্থান নির্দেশ করা হতো বর্তমান মালদহ-মুর্শিদাবাদ অঞ্চলে। সাত শতকে শশাঙ্ক গৌড়ের সিংহাসনে বসেছিলেন। মুসলমানদের বাংলা অধিকারের পর থেকে সুলতান বা শাসকরা নিজেদের ‘গৌড়রাজ’ বলে অভিহিত করতেন।

প্রাচীনকাল থেকে মধ্যযুগ পর্যন্ত গৌড় নামটি বিশেষ অবস্থান নিয়ে আছে বাংলার ইতিহাসে। পাণিনির সূত্রে রয়েছে ‘গৌড়পুরে’র উল্লেখ আর কৌটিল্যের ‘অর্থশাস্ত্রে’ রয়েছে ‘গৌড়িক’ স্বর্ণের নাম। এ থেকে অঞ্চলটির প্রাচীনত্ব সম্পর্কে অনুমান করা যায়। তবে ভৌগোলিকভাবে গৌড়ের অবস্থানটি সুনির্দিষ্ট করা সম্ভব হয়নি। প্রাচীন সূত্রে ‘গৌড় বিষয়’ নামে মুর্শিদাবাদে একটি প্রশাসনিক অঞ্চল ছিল। গৌড় নামের উত্পত্তির উত্স এখানেই। শিলালিপির প্রমাণ থেকে জানা যায়, এ গৌড় ছয় শতকের সমুদ্র পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। সাত শতকে রাজা শশাঙ্কের সময় গৌড়ের রাজধানীর নাম ছিল কর্ণসুবর্ণ।

গঙ্গা নদীর (পদ্মা) উত্তরে ও ব্রহ্মপুত্র নদের পশ্চিমে বিরাট ভূখণ্ড, যা এখন রাজশাহী বিভাগের সঙ্গে অভিন্ন। এ অঞ্চল প্রাচীনকালে পুণ্ড্রবর্ধন ও মুসলিম বিজয়ের প্রাক্কালে বরেন্দ্র নামে পরিচিত ছিল। বাংলার উত্তরাঞ্চল এর ইতিহাস ও প্রত্নতাত্ত্বিক উপকরণের জন্য জনপরিচিত এলাকা। বরেন্দ্র অঞ্চলটি প্রাচীনকাল থেকেই বিশেষ গুরুত্ব ধারণ করছে। এখানে প্রাচীন পুণ্ড্রদের বসতি ছিল। তাদের রাজধানী ছিল পুণ্ড্রনগর। মৌর্য শাসকদের অন্যতম রাজধানী হিসেবেও এর গুরুত্ব ছিল। আধুনিক কালে করতোয়া নদীর তীরে বগুড়া জেলার মহাস্থানগড়েই ছিল এ পুণ্ড্রনগরের অবস্থান। বঙ্গের রাজধানী বিক্রমপুর অথবা দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে ময়নামতির উত্থান ঘটলেও বরেন্দ্রর গৌরবে ভাটা পড়েনি। এ অঞ্চল ছিল পাল রাজাদের আবাসভূমি। রাজশাহী জেলার পাহাড়পুরে আবিষ্কৃত ‘সোমপুর বৌদ্ধবিহার’ সেই স্মৃতিই মনে করিয়ে দেয়। এটি ছিল দক্ষিণ হিমালয় আঞ্চলের বৃহত্তম বৌদ্ধবিহার।

আপাত দৃষ্টিতে পুণ্ড্র ও পুণ্ড্রবর্ধনভুক্তি এক মনে হলেও এর সীমা ও পরিসরে ভিন্নতা রয়েছে। তবকাত-ই নাসিরি গ্রন্থ থেকে জানা যায়, বাংলায় বরেন্দ্র বা বারিন্দ বলে গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল ছিল। পূর্বে করতোয়া আর দক্ষিণে পদ্মা দ্বারা পরিবেষ্টিত অঞ্চল বরেন্দ্র বা বারিন্দ নামে পরিচিত ছিল। অনুমান করা হয়, খ্রিস্টপূর্ব আট শতকে পুণ্ড্রের অস্তিত্ব ছিল। মহাভারত ও পুরাণে পুণ্ড্রকে ঋষি দীর্ঘতমার ক্ষেত্রজ সন্তান হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। এ পুণ্ড্র নামটি পরবর্তী সময়েও প্রচলিত ছিল। সাত শতকে চীনা পর্যটক হিউয়েন সাঙ বর্তমান রাজমহল থেকে রওনা হয়ে গঙ্গা অতিক্রম করে পুণ্ড্রবর্ধনে প্রবেশ করেন বলে তার ভ্রমণ বিবরণীতে উল্লেখ করেন। তিনি যে নদীর তীরে এসেছিলেন বলে উল্লেখ করেছেন, তা করতোয়া বলে গবেষকরা চিহ্নিত করেছেন। এসব বিবরণীর সূত্রে পুণ্ড্র ও পুণ্ড্রবর্ধনের সীমানা পশ্চিমে মহানন্দা ও গঙ্গার সম্মিলিত ধারা এবং পূর্বে করতোয়া নদীকে ধরা যায়।

পুণ্ড্রবর্ধন ভুক্তির (প্রদেশ) রাজধানীর নাম ছিল পুণ্ড্রনগর। প্রাচীনকালে বাংলা অনেকগুলো জনপদে বিভক্ত ছিল। যার মধ্যে অন্যতম একটি জনপদ পুণ্ড্রনগর। এ পুণ্ড্রনগরই বর্তমানে মহাস্থানগড় নামে পরিচিত। দিব্যাবদান, রাজতরঙ্গিনী, বৃহত্কথা মঞ্জুরীসহ নানা প্রাচীন গ্রন্থে পুণ্ড্র ও লিপিমালায় প্রধান নগর হিসেবে পুণ্ড্রবর্ধনের উল্লেখ রয়েছে। বারো শতকের করতোয়া মাহাত্ম্য গ্রন্থে পুণ্ড্রবর্ধনকে পৃথিবীর আদি ভবন (আদ্যম ভুবোভবনম) বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে। এ গ্রন্থেই করতোয়া তীরবর্তী মহাস্থানকে পুণ্য পৌণ্ড্রক্ষেত্র বা পুণ্ড্রনগর বলে উল্লেখ করা হয়েছে। সন্ধ্যাকর নন্দীর রামচরিতে পুণ্ড্রবর্ধনকে বলা হয়েছে বরেন্দ্র ভূমির মুকুটমণি, পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ স্থান। এখানেই প্রাচীন বাংলার সর্বপ্রধান ও সর্ববৃহৎ নগর পুণ্ড্রনগরের ধ্বংসাবশেষ অবস্থিত। স্যার আলেকজান্ডার কানিংহাম ১৮৭৯ খ্রিস্টাব্দে মহাস্থানগড়ে প্রাপ্ত ধ্বংসাবশেষকে প্রাচীন পুণ্ড্রনগর হিসেবে চিহ্নিত করেন। এখানে প্রাপ্ত শিলালিপিতে ‘পুণ্ডনগল’ (পুণ্ড্রনগর) উল্লেখ রয়েছে। ব্রাহ্মীলিপিতে লেখা এ শিলালিপিটি থেকে এটা প্রমাণ হয় যে, নগরটি মৌর্যরাজ শাসনামলের একটি গুরুত্বপূর্ণ নগরী ছিল।

মহাস্থানগড়ে প্রাপ্ত প্রত্নসূত্রগুলো নানা যুগকে নির্দেশ করে। সময়ের ব্যবধানে জীবন মানের উন্নতির ক্রমাগত লক্ষ করা যায় প্রাপ্ত প্রত্নসূত্র থেকে। প্রাক-মৌর্য যুগ থেকে মৌর্য, শূঙ্গ-কুষাণ, কুষাণ-গুপ্ত ও গুপ্ত-পরবর্তী যুগ, পাল ও পাল-পরবর্তী মুসলিমরাজ শাসনের নমুনা পাওয়া গেছে মহাস্থানগড়ে। মৌর্য যুগ তথা দ্বিতীয় স্তরে মহাস্থানগড়ে প্রাপ্ত প্রত্নচিহ্নের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো সাতলাইনে উত্কীর্ণ ‘পুণ্ডনগল’-এর (পুণ্ড্রনগর বা মহাস্থান) কর্তব্যরত মহামাত্রের কাছে জারিকৃত শাসকের একটি আদেশলিপি। ব্রাহ্মীলিপিতে লেখা এ শিলালিপিতে স্থানীয় তথা সংবঙ্গীয় নামে পরিচিত শহর ও শহরতলীয় জনসাধারণের আর্থিক দৈন্য দূর করার জন্য তৈল (তেল), ডুম (গাছ), ধান্য (ধান) এবং দুই ধরনের মুদ্রা (গণ্ড— চারকড়ি মান ও কাকনিক-কপর্দক অথবা কড়ি), কোঠাগল (গোলাঘর), পূর্ণ করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে; যাতে জনসাধারণ যেকোনো দুর্যোগ মোকাবেলা করতে পারে। পুণ্ডনগরে প্রাপ্ত মৌর্য যুগীয় এ শিলালিপি বাংলার যেকোনো অঞ্চলের তুলনায় মহাস্থানগড়ে আগেই নগরায়ণের ইঙ্গিত বহন করে, একই সঙ্গে প্রাচীনকাল তথা মৌর্য যুগ থেকে মহাস্থানগড়ে মুদ্রার (কড়ি) মাধ্যমে পণ্য বিনিময় প্রথা প্রচলিত ছিল বলেই প্রমাণ বহন করে।

এছাড়া মহাস্থানগড়ের পূর্ব দিকে খোদার পাথর ভিটা, মানকালীর কুণ্ডধাপ, পরশুরামের প্রাসাদ ও বৈরাগীর ভিটার মতো প্রত্ননিদর্শনগুলো পাল যুগের পরিচয় বহন করে। তুলনামূলক বিশ্লেষণে দেখা যায়, পাল যুগেই মহাস্থানগড় ছিল সবচেয়ে সমৃদ্ধ নগরী। পাল যুগেই প্রাচীন নগর সীমার বাইরেও সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবনে মহাস্থানগড়ে উন্নতির ছোঁয়া লেগেছিল।

মৌর্যরাজ শাসনামলে পুণ্ডনগল (পুণ্ড্রনগর) জনৈক মহামাত্রের শাসনাধিষ্ঠান হিসেবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। গুপ্ত যুগে এ নগর পুণ্ড্রবর্ধনভুক্তির ভুক্তিকেন্দ্র ছিল। মৌর্য-পরবর্তী শূঙ্গ থেকে পাল শাসনামল পর্যন্ত এ নগরী ক্রমেই উন্নত থেকে উন্নততর হয়েছে। কেবল শাসনকেন্দ্ররূপেই নয়, শিক্ষা-সংস্কৃতি, ধর্মচর্চার কেন্দ্ররূপে এবং দেশীয় ও বহির্দেশীয় স্থলপথ বাণিজ্যের অন্যতম কেন্দ্ররূপেও এ নগরী বিশেষভাবে খ্যাত ছিল। হিউয়েন সাঙ এ নগরী ভ্রমণে এসেছিলেন বলে জানা যায় তার ভ্রমণবৃত্তান্ত থেকে। হিউয়েন সাঙের বর্ণনামতে, সে সময় পুণ্ড্রনগরের ব্যাপ্তি তথা পরিধি ছিল ৩০ লির বেশি, অর্থাৎ ছয় মাইল। পুকুর, ফুল-ফল বাগান, বিহার কাননে সুশোভিত একটি সমৃদ্ধ নগরীর বর্ণনা পাওয়া যায় তার বিবরণ থেকে। পরবর্তীকালে পাল শাসনামলে এ নগরীর আয়াতন ও গৌরব আরো বৃদ্ধি পেয়েছিল, যার প্রমাণ রয়েছে এখানে প্রাপ্ত প্রত্নতথ্যে।

উত্তর বাংলার একটি অন্যতম ও পুরনো নগর হিসেবে বর্তমান নওগাঁ জেলার বদলগাছি থানার অধীন পাহাড়পুর গ্রামটি এখন স্বীকৃত ঐতিহাসিক সত্য। জানা যায়, খ্রিস্টীয় পাঁচ শতকে এ স্থানের একাংশের নাম ছিল ‘বটগোহালী’, যা বর্তমান সময়ে গোয়ালভিটা নামে পরিচিত; যেখানে জৈন শ্রমণাচার্য গুহনন্দীর একটি বিহার ছিল। পাল রাজা ধর্মপালের শাসনামলে এ স্থান সোমপুর বিহার নামে পরিচিতি লাভ করে। কারণ এ স্থানেই ধর্মপালের পৃষ্ঠপোষকতায় সোমপুর বিহার বর্তমান পাহাড়পুর প্রত্নস্থল গড়ে ওঠে। পাহাড়পুরের কাছেই ওমপুর নামে একটি গ্রাম বর্তমান আছে, যা সোমপুর নামের স্মৃতি বহন করছে। বিস্তীর্ণ সমভূমির মধ্যে প্রায় ২৪ মিটার উঁচু প্রাচীন মন্দিরের ধ্বংসাবশেষ স্থানীয়ভাবে পাহাড় নামে পরিচিতি লাভ করে। পাহাড়ের মতো উঁচু স্থানে অবস্থিত মন্দিরের ধ্বংসাবশেষ থেকেই পাহাড়পুর নামের উত্পত্তি হয়েছে।

পাহাড়পুর বিহার থেকে ১৫৯ গুপ্তাব্দের একটি তাম্র শাসন পাওয়া গেছে। প্রাপ্ত তাম্র শাসনে উল্লিখিত তথ্য থেকে জানা যায়, এক ব্রাহ্মণ দম্পতি বটগোহালীতে অবস্থিত বিহারের পূজা ও বিশ্রামাগারের জন্য কিছু ভূমি ক্রয় ও দান করেন। বটগোহালী বিহারের প্রধান ছিলেন বিখ্যাত জৈনগুরু গুহনন্দী। ১২৮ গুপ্তাব্দ তথা ৪৪৮ খ্রিস্টাব্দে বৈগ্রামে প্রাপ্ত তাম্র শাসনেও বটগোহালীর উল্লেখ আছে। পাহাড়পুরে গুপ্ত যুগীয় তাম্র শাসন প্রাপ্তি প্রমাণ করে যে, এ অঞ্চল গুপ্ত শাসনের আওতায় ছিল। এখানে প্রাপ্ত মূর্তিগুলোও সে ইঙ্গিত বহন করে। পাহাড়পুরে প্রাপ্ত বিহারে একই সঙ্গে বৌদ্ধ ও হিন্দু মূর্তির উপস্থিতি প্রাচীন বাংলার সামাজিক সহাবস্থানের যে চিত্র প্রকাশ করে, তা বাংলা ও বাঙালির সংস্কৃতির ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

পাল যুগীয় সামাজিক ও রাজনৈতিক সুস্থির পরিবেশে যে ধরনের জ্ঞানচর্চা বিহারগুলোয় হতো, সেখানে দেশ-বিদেশের বহু শিক্ষার্থী অংশ গ্রহণ করত। অনেক ক্ষেত্রেই বিদেশী ছাত্রদের পাঠ সুবিধার্থে ধর্মপাল বৃত্তি প্রদান করেছেন। শিক্ষা উপযোগী পরিবেশ সৃষ্টিতে ও শিক্ষাসহায়তা দিতে এ বিহারগুলোর ব্যাপক ভূমিকা ছিল। সবচেয়ে লক্ষণীয় বিষয় যে, পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহারে জৈন ও ব্রাহ্মণ্য ধর্মীয় দেবতার মূর্তিগুলো সমমর্যদা পেয়েছে। সব ধর্মীয় দেব-দেবীর একই বিহারে স্থান প্রাপ্তি সেকালের বাংলা ভুখণ্ডের সাধারণ মানুষের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, ভক্তি ও মিলনের প্রতীক বলা যায়। যদিও সে সময় পাহাড়পুর মহাবিহার বাংলার অন্যান্য বিহারের মতো বৌদ্ধ ধর্ম, শিক্ষা ও সংস্কৃতির অন্যতম শ্রেষ্ঠ নগরী ছিল, সে বিষয়ে নিশ্চিত বলা যায়। জানা যায়, এগারো শতকে বর্মণদের আক্রমণে এ বিহারের একাংশ আগুনে পুড়ে গিয়েছিল। পরবর্তী সময়ে পাহাড়পুর বিহারের সংস্কার বা চূড়ান্ত অবনমন সম্পর্কিত বিষয়ে তেমন কিছু জানা যায় না।

ভূতত্ত্বের বিচারে হলসিন পর্বে উত্তর বাংলার বরেন্দ্রভূমির মাটি গড়ে উঠেছিল। অর্থাৎ কয়েক লাখ বছরের পুরনো মাটি। এ মাটি এর বিশেষ স্বাতন্ত্র্য বজায় রেখে প্রাচীনকাল থেকেই উন্নত সংস্কৃতির কর্ষণ করেছে। এভাবে বাংলার জনজীবনে উত্তর বাংলা এর স্বতন্ত্র প্রভাব বিস্তার করে চলেছে।