মহাস্থান বা পুণ্ড্রনগর হিসেবে এককালে পরিচিতি ছিল বর্তমান সময়ের বগুড়া জেলার। পুণ্ড্রের কোলঘেঁষে করতোয়া ও যমুনা নদীকে ঘিরে গড়ে ওঠে এ জেলার জনবসতি। জনবসতি গড়ে ওঠার গোড়ার কথা তেমনভাবে জানা না গেলেও ইতিহাস পাঠে ভারতবর্ষের বিভিন্ন রাজার নানা কথা উঠে এসেছে। সেসব কথার বিভিন্ন বর্ণনার মধ্য দিয়েই পুণ্ড্রবর্ধনের কথা পাওয়া যায়। এককালের পুণ্ড্রবর্ধনকে ঘিরেই বগুড়া জেলার যাবতীয় আদি কথার সৃষ্টি, যা বর্তমান সময়কে বয়ে নিয়ে যাচ্ছে। ইতিহাস সাক্ষ্য দিচ্ছে, খ্রিস্টপূর্ব চতুর্থ শতকে তত্কালীন মৌর্য শাসনাধীনের পর গুপ্তযুগ, শশাঙ্ক, হর্ষবর্ধন, পাল, সেনরাজাসহ বেশকিছু রাজা রাজত্ব করেন এ অঞ্চলে। বগুড়া জেলার নামকরণের ইতিহাসে জানা যায়, সুলতান গিয়াস উদ্দিন বলবনের পুত্র সুলতান নাসির উদ্দিন বগড়া ১২৭৯ থেকে ১২৮৪ পর্যন্ত এ অঞ্চলের শাসক ছিলেন। তার নামানুসারে এ অঞ্চলের নাম হয়ে যায় বগুড়া।

নানা সময় পেরিয়ে বগুড়ায় জনবসতি গড়ে ওঠে। প্রয়োজন মেটাতে মানুষ উৎপাদন ও চাষমুখী হয়ে ওঠে। নিজেদের প্রয়োজনে বিভিন্ন কিছুর সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে। ইতিহাসে উল্লেখ রয়েছে, প্রাচীনকালে স্বর্ণ ও রৌপ্য এবং চিনি শিল্পে বগুড়া প্রসিদ্ধ ছিল। বগুড়ার মহাস্থানগড় থেকে পাওয়া বিভিন্ন তাম্রলিপিতে এর প্রমাণ পাওয়া যায়। ব্রিটিশ আমলে (১৭৫৭-১৯৪৭) সড়ক, রেল ও নৌপথে জেলার বিভিন্ন এলাকার যোগাযোগ বেশি ভালো থাকার কারণে ব্যবসার প্রসার ঘটে। ইংরেজরা ১৮০৮ সালে বগুড়ার সুলতানগঞ্জপাড়া ও নওদাপাড়ায় নীল ও রেশম চাষ করত। এ জেলাতেই রেশমবস্ত্র তৈরি হতো এবং ওই সময় রফতানি হতো ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যে। ১৮৩৪ সালে নানা কারণে নীল চাষ এবং ১৮৬৮ সালের দিকে ইউরোপে রেশম গুটি রফতানি বৃদ্ধি পেলে গুটির অভাবে রেশম শিল্পে ধস নামে। এরপর স্থানীয়ভাবে গুটি তৈরির ব্যবস্থা করলেও আগের মতো আর সাড়া পাওয়া যায়নি। ওই সময় ব্রিটিশদের কারণে বগুড়া অঞ্চলের মানুষের মধ্যে   উৎপাদনমুখী বা কারখানামুখী হওয়ার একটি প্রবণতা সৃষ্টি হয়। ব্রিটিশরা তাদের অনেক চাহিদাই এ অঞ্চলের মানুষকে  শ্রমিক হিসেবে খাটিয়ে তা তৈরি করে পূরণ করত। মূলত পুণ্ড্রবর্ধন নদীতীরে অবস্থিত হওয়ার কারণে সে সময়ে এ অঞ্চলে শিল্প-বাণিজ্যের প্রসার ঘটে।

১৯৪৭ সালে ভারত ও পাকিস্তান দুটি আলাদা রাষ্ট্র গঠন হওয়ার পর তত্কালীন  পূর্ব পাকিস্তানের বগুড়ায় শিল্পের বিকাশ হয় ব্যাপক হারে। বগুড়ার বিখ্যাত শিল্প পরিবার ভাণ্ডারী গ্রুপ প্রতিষ্ঠা করেছিল আটটি কারখানা। মেসার্স গোলাম কিবরিয়া সোপ, গোলাম কিবরিয়া সোপ ওয়ার্কস, মুজিবুর রহমান ভাণ্ডারীর প্রচেষ্টায় গড়ে ওঠে নামি প্রতিষ্ঠান বগুড়া কটন স্পিনিং কোম্পানি লিমিটেড, হাবিব ম্যাচ ফ্যাক্টরি, ভাণ্ডারী গ্লাস ওয়ার্কস, নর্থবেঙ্গল ট্যানারি, লিথোগ্রাফিক প্রিন্টিং প্রেস ও ভাণ্ডারী অয়েল মিল। এছাড়া আরেক শিল্প পরিবার জামিল গ্রুপ বেশকিছু কারখানা প্রতিষ্ঠা করে। এর মধ্যে পাকিস্তান আমলের বিখ্যাত জামিল সোপ ওয়ার্কস, জানে সাবা টয়লেট ও ওয়াশিং সোপ সে সময়ে বিদেশে রফতানি হতো। এছাড়াও উৎপাদন করত পারফিউম, সুগন্ধি জর্দা। একই গ্রুপের ভার্জিনিয়া টোব্যাকো লিমিটেড স্বাধীনতার পরে নানা কারণে বিলুপ্ত হয়ে যায়।

বগুড়ার ঐতিহ্যবাহী ভাণ্ডারী পরিবার সূত্রে জানা যায়, বগুড়া কটন স্পিনিং মিল, ভাণ্ডারী গ্লাস ফ্যাক্টরিসহ ১১টি শিল্পপ্রতিষ্ঠান ছিল। বিদেশী পণ্যের প্রতি আকর্ষণ, শ্রমিক সংকট, আর্থিক সংকটসহ বেশকিছু সংকটে পড়ে এগুলোর সবই এখন বন্ধ। শিল্পপ্রতিষ্ঠানের জমিতে এখন হাউজিংয়ের ব্যবসা চলছে। বগুড়া কটন মিল, জাহেদ মেটাল ইন্ডাস্ট্রি দীর্ঘদিন থেকে বন্ধ। সবমিলে ঐতিহ্যবাহী বা ভারী শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো যে আর কখনো নতুন করে চালু করা সম্ভব হবে না, সে ব্যাপারে অনেকটা নিশ্চিত। জামিল গ্রুপের নামে এখনো জামিল নগর প্রতিষ্ঠিত হয়ে আছে। বগুড়া শহরের স্টেশন রোডে জামিল নগরে জামিল সোপ ফ্যাক্টরিতে তৈরি সাবানের সুগন্ধ এখনো পাওয়া যায়। সম্প্রতি সেসব কোম্পানির জায়গায় এখন বড় বড় ভবন তৈরি হচ্ছে। চলছে ফ্ল্যাট বিক্রির ব্যবসা। বাংলাদেশ সময়ে আরেকবার বগুড়া শিল্প-কলকারখানায় এগিয়ে যায়। কিন্তু স্বাধীনতার আগের অবস্থান আর ফিরে পাওয়া হয়নি।

বগুড়া শব্দটির আগে বলা হতো শিল্পনগরী বগুড়া। এই নামটি দিন দিন ক্ষয়ে যেতে বসেছে। ব্রিটিশ আমল থেকে স্বাধীনতার পূর্ব পর্যন্ত বগুড়ার শিল্প-বাণিজ্যের যে প্রসার ছিল তা আজ নেই। দেশের শিল্প-বাণিজ্যের প্রসারে বগুড়ার বড় একটি সম্ভাবনা থেকেও প্রসার হচ্ছে না। প্রযুক্তিগত অনুন্নয়ন, মুক্ত বাণিজ্য, শুল্কমুক্ত না হওয়া, ভিনদেশী পণ্যের প্রতি আকৃষ্টই বগুড়ার শিল্প-বাণিজ্যের প্রসারে ক্ষয় ধরিয়েছে। স্বাধীনতার পূর্বে দেশে-বিদেশে বগুড়ার ভারী শিল্পপ্রতিষ্ঠান নাম-ডাক ছড়ালেও এখন সেসব বন্ধ ও বিলুপ্তপ্রায়। টিকে আছে কেবল হালকা প্রকৌশল শিল্প।

শিল্পনগরী হিসেবে পরিচিত বগুড়ায় পঞ্চাশের দশকে প্রতিষ্ঠিত এবং ৭০ দশকে ধীরে ধীরে ভারী শিল্পকারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে সত্তরের দশকে জেলায় মাঝারি ও ক্ষুদ্র শিল্প স্থাপনে ব্যাপক সাড়া পড়ে। মূলত ভারী শিল্পের শ্রমিকরাই নিজেদের টিকিয়ে রাখতে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি করে। ১৯৬৪ সালে শহরের ফুলবাড়ি এলাকায় সাড়ে ১৪ একর জায়গার ওপর গড়ে তোলা হয় বিসিক শিল্পনগরী। স্বাধীনতার পর পরই শেষ হয়ে যায় প্লটগুলো। উদ্যোক্তাদের চাহিদার প্রেক্ষিতে ১৯৮০ সালে আরো ১৮ দশমিক ৬৭ একর জায়গা সম্প্রসারণ করা হয়। কিন্তু সেটির বরাদ্দও ১৯৯০ সালের মধ্যেই শেষ হয়ে যায়। এভাবে দুই দফায় নির্মিত মোট ২৩৩টি প্লটে ৮৫টি শিল্প ইউনিট গড়ে ওঠে।

বগুড়ার বিসিক কর্মকর্তারা জানান, পঞ্চাশ থেকে সত্তর দশকে বগুড়া শিল্পনগরী হিসেবে দেশ-বিদেশে পরিচিত থাকলেও, ওই দশকের পর থেকেই শিল্প প্রসারে বাধাগ্রস্ত হতে থাকে। ভারী শিল্প-কলকারখানা বন্ধ হওয়ার উপক্রম হলে আশির দশকে বগুড়ায় ধোলাইখাল মডেলে ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্পের পাশাপাশি ফাউন্ড্রি এবং মেটাল শিল্পের ব্যাপক বিকাশ হতে থাকে। জেলাটি কৃষিপ্রধান এলাকা হওয়ায় স্থানীয় কিছু মানুষ কৃষিকাজে ব্যবহারের জন্য বিভিন্ন উপকরণ তৈরি করতে থাকে। দিন যতই গড়িয়েছে প্রযুক্তির উন্নয়নে প্রযুক্তি তৈরি হয়েছে। একসময় কৃষিপণ্যের ব্যবহার বেড়ে গেলে তৈরির চাহিদাও বেড়ে যায়।

চাহিদা বেড়ে গেলে বিসিক শিল্পনগরীতে প্লট না থাকায় উদ্যোক্তারা বাধ্য হয়ে শিল্পের অনেক ইউনিট আবাসিক এলাকায় স্থাপন করতে শুরু করে। কোথাও কোথাও আবার চাষাবাদ জমি এলাকায় কলকারখানা স্থাপন করেছেন। আবাসিক ও চাষযোগ্য জমি এলাকায় শিল্প ইউনিট স্থাপন নিরুত্সাহিত করতে বগুড়া সদরের চারমাথা ছয়পুকুরিয়া এলাকায় ভারী শিল্পের জন্য ১৯৮০ সালে জমি অধিগ্রহণ করা হয়। বাংলাদেশ ইস্পাত ও প্রকৌশল কর্পোরেশন (বিএসইসি) এই জমিটি অধিগ্রহণ করে বগুড়া বিসিকের মাধ্যমে ভারী শিল্পভিত্তিক কলকারখানা স্থাপনের প্রস্তাব করে। পরে জায়গাটিও বগুড়া বিসিককে দেয়ার প্রস্তাব ওঠে। অধিগ্রহণকৃত প্রায় সাড়ে ১৫ একর জায়গায় শিল্পনগরী প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দেয়া হয়। বিসিকের পক্ষ থেকে ১৯৯৮ সালে প্রস্তাবটি উত্থাপন করা হয়। পরবর্তী সময়ে এ নিয়ে বহু চিঠি চালাচালির পর ২০০৫ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি বিসিকের পক্ষ থেকে উল্লিখিত জায়গায় দ্বিতীয় শিল্পনগরী প্রতিষ্ঠার সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের লক্ষ্যে একটি কমিটিও গঠন করা হয়। ওই কমিটির পক্ষ থেকে বগুড়ার শিল্পোদ্যোক্তাদের ব্যাপক চাহিদা, পাইপলাইনে গ্যাস প্রাপ্তির কারণে ভারী শিল্পের জন্য অধিগ্রহণ করা জায়গা বাজারমূল্যে বিসিকের নামে ক্রয় করে সেখানে দ্বিতীয় শিল্পনগরী প্রতিষ্ঠার পক্ষে মতামত প্রদান করা হয়। তাতে বলা হয়, দ্বিতীয় শিল্পনগরীতে নতুন করে ১০৪টি শিল্প ইউনিট গড়ে তোলার মাধ্যমে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে অন্তত ২৫ হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। তবে সেই প্রকল্পটি পরিকল্পনা কমিশনে ফাইলবন্দি অবস্থায় পড়ে থাকায় কাজের কাজ হয়নি। পরবর্তীতে ছয়পুকুরিয়া ভারী শিল্পের জন্য অধিগ্রহণকৃত জায়গাটি আর বগুড়া বিসিককে দেয়া হয়নি। বাংলাদেশ ইস্পাত ও প্রকৌশল কর্পোরেশন বিএসইসি কর্তৃপক্ষ জায়গাটি রেখে দিয়েছে নিজেদের প্রতিষ্ঠান গড়ার জন্য।

এদিকে বগুড়ায় বিসিক শিল্পনগরীতে প্লট সংকট মোকাবেলায় আবারো দ্বিতীয় শিল্পনগরীর প্রস্তাব করা হয়েছে নতুন করে। দ্বিতীয় শিল্পনগরী হিসেবে জায়গা নির্ধারণের জন্য পরিদর্শন শেষে একটি প্রাথমিক প্রস্তাবনা প্রেরণ করা হয়েছে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনে। প্রস্তাবটি এখনো পাস না হলেও বগুড়ার ব্যবসায়ীরা দ্বিতীয় শিল্পনগরী গড়ে তোলার বিষয়ে আশায় বুক বেঁধে আছেন। বগুড়া জেলা প্রশাসন, চেম্বার ও বগুড়া বিসিকসহ বেশকিছু ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের সুপারিশের ভিত্তিতে গত ২০১৬ সালের জুলাই মাসে সার্ভে করা হয়। ওই সার্ভে প্রতিনিধি দল দ্বিতীয় শিল্পনগরীর জন্য বগুড়া শহরের সাবগ্রাম এলাকায় ৩০০ একর জমি পাওয়ার জন্য পরিদর্শন করে। পরিদর্শন শেষে একটি প্রাথমিক প্রস্তাবনা জমা দেয়া হয়েছে। বগুড়ার ব্যবসায়ীদের দাবির মুখে ২০১৬ সালে দায়িত্বে থাকা বগুড়া জেলা প্রশাসক আশরাফ উদ্দিন উদ্যোগ গ্রহণ করেন। তার উদ্যোগের প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন প্রধান কার্যালয়, বগুড়া কার্যালয়, জেলা প্রশাসন, বগুড়া চেম্বার ও কিছু ব্যবসায়ী সংগঠনের সমন্বয়ে দ্বিতীয় শিল্পনগরী গড়ে তুলতে কিছু প্রস্তাবনা তৈরি করা হয়। প্রস্তাবনা মতে বগুড়া বিসিকের কর্মকর্তারা, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি ও জেলা প্রশাসকের প্রতিনিধি সমন্বয়ে বগুড়া শহরের সাবগ্রাম, বুজরুকবাড়িয়া, রবিবাড়িয়া, চকমিথুন মৌজায় ৩০০ একর জমি পাওয়ার আশায় সার্ভে করা হয়। এই সার্ভে শেষে একটি প্রস্তাবনা বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনে প্রেরণ করা হয়। সেখানে বলা হয়েছে জমি পাওয়ার বিষয়ে এবং জমি পাওয়া গেলে পেপারমিল, ঢালাই কারখানা, অটোরাইস বা ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

বর্তমানে সারা দেশে কৃষি যন্ত্রাংশের ৮০ ভাগের জোগানদাতা বগুড়ার ফাউন্ড্রি এবং মেটাল শিল্প মালিকরা। ভারী শিল্প বন্ধ হওয়ার পর মূলত হালকা প্রকৌশল শিল্পের ব্যাপক সম্ভাবনা দেখা দেয়। হালকা প্রকৌশল শিল্পকারখানা গড়ে উঠেছে প্রায় এক হাজার। এসব কারখানায় প্রতিনিয়িত তৈরি হচ্ছে টিউবওয়েল, শ্যালো ইঞ্জিনের যন্ত্রাংশ, যানবাহনের ছোট পার্টস, কলকারখানার প্রয়োজনীয় পার্টসসহ কৃষির সকল যন্ত্রাংশ।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, বগুড়ার ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে হাজার কোটি টাকার লেনদেন হয়ে থাকে বছরে। কিন্তু নানা কারণে এই শিল্পও টিকিয়ে রাখা দায় হয়ে পড়েছে। একদিকে প্রযুক্তিগত অনুন্নয়ন, ফার্নেস অয়েলের মূল্যবৃদ্ধি, মুক্তবাণিজ্য, শুল্কমুক্ত না হওয়া, জায়গা সংকট, ভিনদেশী পণ্যের প্রতি আকৃষ্টই বগুড়ার শিল্প-বাণিজ্যের প্রসারে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে। খরচ কমাতে গ্যাস সংযোগ দেয়া হলেও পূর্বের সেই মান নিয়ে আর প্রসার হয়নি বগুড়ার শিল্পাঞ্চল।

বগুড়া বিসিক শিল্প মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আজিজার রহমান মিল্টন জানান, উৎপাদন খরচ বেশি হওয়ার কারণে গ্যাসনির্ভর কারখানাগুলোর উৎপাদিত পণ্যের সঙ্গে তাল মেলাতে পারে না বগুড়ার পণ্য। এ কারণেই বহু আগেই দেশের নাম করা তাজমা সিরামিক ইন্ডাস্ট্রিজ, বগুড়া প্লাস্টিক কারখানা, অ্যালুমিনিয়াম কারখানাগুলো প্রায় বন্ধ হয়ে আছে। বগুড়ায় ভারী শিল্পকারখানা এখন সব বন্ধ। হালকা প্রকৌশল বা ফাউন্ড্রি শিল্প এখন জেলার শিল্পকারখানাকে বাঁচিয়ে রেখেছে।

বগুড়া বিসিক শিল্প মালিক সমিতির সভাপতি আইনুল হক সোহেল জানান, একসময় বগুড়ার সাবান, স্বর্ণ, চিনি, টোব্যাকো, সুগন্ধি, বস্ত্র, বহির্বিশ্বে রফতানি হতো। ভারী শিল্পে উৎপাদিত পণ্যের নাম-ডাক ছিল। কিন্তু স্বাধীনতা-পরবর্তীতে ভারী শিল্পে ক্ষয় ধরে যায়। এ কারণে বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান বন্ধ ও বিলুপ্ত হয়ে যায়। এরপর হালকা প্রকৌশল বা ফাউন্ড্রি শিল্প এখন টিকে আছে। কিন্তু এ শিল্পও নানা কারণে ধুঁকছে। বগুড়ায় হালকা প্রকৌশল শিল্পে উৎপাদিত কৃষি যন্ত্রপাতি ভারতসহ বিভিন্ন দেশে রফতানি হয়েছে। বগুড়ায় তৈরি কৃষি যন্ত্রাংশ এখন বগুড়ার শিল্পকে টিকিয়ে রেখেছে। বগুড়ার শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে এবং অর্থনীতির গতি বাড়াতে সরকারিভাবে উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। এখানকার কারখানা মালিকদের সহজ শর্তে ঋণ দিয়ে বাঁচিয়ে রাখার ব্যবস্থা করতে হবে।

 

লেখক: সাংবাদিক