বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরাম পানিপ্রাপ্যতা ও পানি নিরাপত্তাকে বৈশ্বিক উন্নয়নের পথে এ সময়ের জন্য একটি অন্যতম প্রধান বাধা হিসেবে চিহ্নিত করেছে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে পানিপ্রাপ্যতা ও নিরাপত্তা শুধু উন্নয়নের পথে প্রধান অন্তরায়ই নয়, নদীমাতৃক এ দেশের প্রাণপ্রবাহই হচ্ছে নদীবাহিত পানি ও পলির মিথস্ক্রিয়া। এ দুইকে বাদ দিলে বাংলাদেশ নামক ভূখণ্ডের মানুষ, অর্থনীতি, কৃষি, শিল্প, নৌ-চলাচল, পানীয় জল, জীববৈচিত্র্য, পরিবেশ, প্রতিবেশ, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য অস্তিত্ব সংকটের মুখোমুখি হবে। বাংলাদেশের ধমনী হিসেবে বয়ে চলা তিনটি বড় নদীই (পদ্মা, যমুনা, মেঘনা) দেশের সীমানার বাইরে থেকে উত্সারিত হয়ে দেশের পশ্চিম, উত্তর ও পূর্ব প্রান্ত দিয়ে প্রবেশ করে মিলিত স্রোতধারা তৈরি করে দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়েছে। নদীবাহিত পলি মাটির স্তরায়ণেই কোটি কোটি বছর ধরে গড়ে উঠেছে পৃথিবীর বৃহত্তম বঙ্গীয় বদ্বীপ ও বাংলাদেশ নামক ভূখণ্ডের প্রায় পুরোভাগ। পদ্মা, যমুনা, মেঘনা উজানের দেশ ভারতে গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র, বরাক নামে পরিচিত; অন্যদিকে ব্রহ্মপুত্র চীনে ইয়ারলাং-সাংপো নামেও পরিচিত। এ লেখার মূল প্রতিপাদ্য যমুনা বা ব্রহ্মপুত্র নদের অববাহিকার সম্ভাবনা, অববাহিকাভিত্তিক সমন্বিত ব্যবস্থাপনার বর্তমান (দূর) অবস্থা, মূল প্রতিকূলতা ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনার রূপরেখাকে ঘিরেই আবর্তিত হবে।

ব্রহ্মপুত্র নদের উত্পত্তি তিব্বতের হিমালয়ের কৈলাস পর্বতের অংশু হিমবাহ থেকে। নদীটির মূল স্রোতধারার ২ হাজার ৮৮০ কিলোমিটার যাত্রাপথের মধ্যে চীন, ভারত ও বাংলাদেশের ওপর দিয়ে যথাক্রমে ১৬ লাখ ২৫ হাজার ৯১৬ ও ২৪০ কিলোমিটার পাড়ি দিয়েছে। ব্রহ্মপুত্র নদের অববাহিকা ৫৮ লাখ বর্গকিলোমিটার অঞ্চলজুড়ে বিস্তৃত; যার মধ্যে চীন, ভুটান, ভারত ও বাংলাদেশে যথাক্রমে ৫০ শতাংশ, ৮, ৩৫ ও ৭ শতাংশ আবর্তিত। কিন্তু ব্রহ্মপুত্রের মাধ্যমে বাংলাদেশে বয়ে আসা মোট পানিপ্রবাহের ৩০ শতাংশ উত্পত্তি হয় চীনে ও ভারত-ভুটানে উত্পত্তি হয় প্রায় ৭০ শতাংশ। অন্যদিকে ব্রহ্মপুত্র অববাহিকা অঞ্চলে বসবাসরত ১১০ মিলিয়ন মোট জনসংখ্যার প্রায় ৭৫ শতাংশ বাস করে বাংলাদেশে। বাংলাদেশে প্রবহমান পদ্মা, যমুনা ও মেঘনা নদী প্রতি বছর গড়ে যথাক্রমে ৩ লাখ ৮০ হাজার ৫৩৭ ও ১৯৫ ঘনকিলোমিটার পানি বয়ে নিয়ে আসে। অর্থাৎ মোট পানিপ্রবাহের ৪৮ শতাংশ আসে ব্রহ্মপুত্র নদ দিয়ে। গ্রীষ্মকালে ব্রহ্মপুত্র মোট প্রবাহের ৬৫ শতাংশ পানি বহন করে। অন্যদিকে ব্রহ্মপুত্র প্রতি বছর গড়ে ৪৪০ মিলিয়ন টন পলি বয়ে আনে, যা কিনা মোট পলিপ্রবাহের প্রায় ৪০ শতাংশ। ভাটির দেশ হিসেবে বাংলাদেশের জন্য সব নদীর স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ যেমন কাম্য, তেমনি বদ্বীপ ও প্লাবনভূমির প্রাকৃতিক গঠন প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখার জন্য পলিপ্রবাহও সমানভাবে কাম্য। সে হিসেবে পদ্মার চেয়েও ব্রহ্মপুত্রের গুরুত্ব অনেক বেশি। দুঃখজনক হলেও সত্য যে, বাংলাদেশের গণমাধ্যমে গঙ্গা-পদ্মার পানিপ্রবাহ নিয়ে যত আলোচনা হয়, তার কিয়দংশও ব্রহ্মপুত্রের প্রবাহ নিয়ে হয় না। এর একটা কারণ হতে পারে, গঙ্গায় অবস্থিত ফারাক্কা বাঁধ ও উজানের অন্যান্য অঞ্চলে গঙ্গা নদী থেকে একতরফাভাবে পানি প্রত্যাহারের ফলে সৃষ্ট সমস্যা বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে যতটা দৃশ্যমান, সে হিসেবে ব্রহ্মপুত্রের অববাহিকার উজানে এখন পর্যন্ত সে হারে একতরফাভাবে উজানের কোনো দেশ এখনো পানি প্রত্যাহার করছে না। তাই বলে ব্রহ্মপুত্র অববাহিকার উজানের দেশগুলো পানি ও পলিপ্রবাহকে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক নিয়মে বাধাহীনভাবে চলতেও দিচ্ছে না।

ব্রহ্মপুত্র অববাহিকা অঞ্চলে বেশির ভাগ অঞ্চলই দুর্গম পাহাড় ও প্রাকৃতিক বনাঞ্চল। এ অববাহিকার ২৯ শতাংশ এলাকা কৃষিভূমি। পাহাড়ি ভূগঠন এবং হালকা জনবসতির কারণে এ অববাহিকায় জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যাপক সম্ভবনা বিরাজমান। এ সম্ভাবনাকে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে চীন ও ভারত এরই মধ্যে প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়েছে। চীন ব্রহ্মপুত্রের মূল প্রবাহের ওপর ২০১৪ সালে দেড় বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে ৫৪০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন জাংমো জলবিদ্যুেকন্দ্র চালু করেছে। আরো চারটি জলবিদ্যুেকন্দ্র (গিয়েটসা, জংডা, জিজু ও ল্যাংজেন প্রকল্প) নির্মাণ করার কাজও এগিয়ে চলেছে। চীনের সরকারি একটি ওয়েবসাইটে এ অঞ্চলে মোট ৩৮ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাব্যতা রয়েছে। নির্মিত ও প্রস্তাবিত এ বিদ্যুেকন্দ্রগুলো ‘প্রবহমান-নদী-বিদ্যুৎ প্রকল্প’ (Run-of-the-river) হিসেবে বিবেচিত হয়। অর্থাৎ এ প্রকল্পের জন্য নদী থেকে পানি অন্যত্র সরিয়ে নেয়া হয় না, বরং নদীর পানি জলাধারে ধরে রেখে বিদ্যুৎ তৈরির পর আবার নদীতে পাঠিয়ে দেয়া হয়। কিন্তু তাতেও নদীর স্বাভাবিক প্রবাহে ব্যাপক পরিবর্তন সাধিত হয় এবং চীনের প্রস্তাবিত প্রকল্পের জের ধরে ভারতের গণমাধ্যমে ও সরকারের ওপরের মহলে ব্যাপক অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছিল। চীন অবশ্য ভারতকে আশ্বস্ত করেছে যে, নদীর পানিপ্রবাহে বিঘ্ন ঘটে, এমন কোনো পরিকল্পনা তারা নেবে না। ভারত ও চীনের মধ্যে বন্যাকালীন (মে-অক্টোবর) পানিপ্রবাহবিষয়ক তথ্য আদান-প্রদান করার বিষয়েও সমঝোতা হয়েছে। ভাটির দেশ হিসেবে বাংলাদেশেরও উচিত ছিল এ উদ্যোগে শরিক হওয়া এবং অংশীদার হওয়া, কিন্তু এ রকম কোনো উদ্যোগ কখনো নেয়া হয়েছে বলে জানা যায়নি। ভারতের গণমাধ্যমে উজানের দেশ হিসেবে চীনের নেয়া একতরফা সিদ্ধান্তের ব্যাপক সমালোচনা করা হয় এবং বাংলাদেশকেও চীনের বিরুদ্ধে ভারতের পাশে থেকে সোচ্চার হওয়ার কথা বলা হয়। এটি একটি পরিহাসের বিষয় যে, ভারত যখন একইভাবে গঙ্গা, তিস্তা, মেঘনা, ব্রহ্মপুত্রের ওপর একতরফাভাবে বাঁধ, ব্যারেজ, সেচ প্রকল্প গড়ে তোলে, তখন একবারের জন্যও বাংলাদেশের স্বার্থের কথা বিবেচনায় নেয় না। অথচ একই কাজ যখন চীন ভারতের বিরুদ্ধে করে, তখন যৌথ নদীর পানি ব্যবস্থাপনায় তাদের অধিকারের দাবি অনেক জোরদার হয়ে ওঠে। তবে বাংলাদেশের উচিত ব্রহ্মপুত্র অববাহিকার সার্বিক পানি, পলি, পরিবেশ, প্রতিবেশসহ সব বিষয়েই ভারত, ভুটান ও চীনের সঙ্গ একটি দীর্ঘমেয়াদি সমন্বিত ব্যবস্থাপনা চুক্তি করার লক্ষ্যে কাজ করে যাওয়া। প্রস্তাবিত জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ছাড়াও ব্রহ্মপুত্র থেকে চীনের উত্তরাঞ্চলে পানি সরিয়ে নেয়ার একটি পরিকল্পনাও করছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়। এ প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য পাহাড়ের ভেতর দিয়ে সুড়ঙ্গ কেটে পানি অন্য নদীর অববাহিকায় সরিয়ে নেয়া হবে।

ব্রহ্মপুত্র অববাহিকায় জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাব্যতা ও বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ভারতও অনেক প্রকল্প হাতে নিয়েছে। ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে যার অধিকাংশই ব্রহ্মপুত্র অববাহিকায় অবস্থিত, মোট ১৬৮টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের মাধ্যমে ৬৩ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের মহাপরিকল্পনা নিয়েছে। এরই মধ্যে ১৫ জলবিদ্যুেকন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। এ অববাহিকায় মোট ২৩টি ব্যারেজ, ১২টি বাঁধ ও ১৬টি সেচ প্রকল্প রয়েছে। এসব প্রকল্প মূলত আসাম, পশ্চিমবঙ্গ ও অরুণাচল প্রদেশে অবস্থিত, যার মধ্যে তিস্তা অববাহিকার বিভিন্ন প্রকল্পও রয়েছে। এ-যাবত্কালে নির্মিত বড় বাঁধের মধ্যে কপিলি, রাঙা নদী, রঙিত অন্যতম। নির্মাণাধীন ও নির্মিতব্য উল্লেখযোগ্য বাঁধের মধ্যে রয়েছে সুঁবাসিড়ি, তিস্তা লো ড্যাম, দিবাং, সিয়াং, কামেং ইত্যাদি। প্রতিটি বাঁধই নদীর স্বাভাবিক প্রবাহে বিঘ্ন ঘটায় এবং পানিপ্রবাহ কমিয়ে দেয়। অথচ এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ সরকার কিংবা যৌথ নদী কমিশনের বৈঠকে ব্রহ্মপুত্র অববাহিকার এসব বাঁধ, ব্যারেজ, জলবিদ্যুেকন্দ্র নিয়ে উজানের কোনো দেশের সঙ্গে সমন্বিতভাবে ব্যবস্থাপনার প্রস্তাব বা উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানা যায়নি।

ব্রহ্মপুত্র ও বরাকের অববাহিকার পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা, বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নদীভাঙন, নদী শাসন ও সেচ প্রকল্প বিষয়ে তদারক করার জন্য এবং একটি মাস্টারপ্ল্যান তৈরির লক্ষ্যে ১৯৮০ সালে ভারত সরকার ব্রহ্মপুত্র বোর্ড গঠন করে। যেহেতু এ নদী দুটি অভিন্ন, তাই বাংলাদেশ সরকারের উচিত ছিল যৌথ নদী কমিশনের আঙ্গিকে দুই দেশের সমান অংশগ্রহণ ও অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে এ বোর্ড গঠন করা। কিন্তু সে রকম কোনো উদ্যোগ বাংলাদেশ কখনো নিয়েছে বলে জানা যায় না।

সম্প্রতি বাংলাদেশের অভ্যন্তরে অবস্থিত ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনা নদীর ড্রেজিং করার দায়িত্ব ভারতকে প্রদান করা হয়েছে। এ প্রকল্পের মাধ্যমে ভারত ব্রহ্মপুত্রের সিরাজগঞ্জ থেকে দইখাওয়া পর্যন্ত ১৭৫ কিলোমিটার ও মেঘনা নদীর আশুগঞ্জ থেকে জকিগঞ্জ পর্যন্ত ২৯৫ কিলোমিটার ড্রেজিং করবে। এ দুটি নদীতে ৪৫ মিটার প্রস্থ ও তিন মিটার গভীর প্রণালি খনন করা হবে, যাতে ভারতের পণ্যবাহী জাহাজ আসামের সিলচর ও গুয়াহাটি পর্যন্ত নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারে। এতে ভারতের উত্তর-পূর্বের সাতটি প্রদেশের সঙ্গে ভারতের অন্যান্য অঞ্চলের পণ্য পরিবহনে পশ্চিমবঙ্গের স্থলভাগে অবস্থিত ‘চিকেন ন্যাকের’ মধ্য দিয়ে চলাচলের বাইরেও আরেকটি বিকল্প পথ চালু থাকবে। উপরন্তু নদীপথে পণ্য পরিবহনের খরচও স্থলপথের তুলনায় মাত্র তিন ভাগের এক ভাগ। এ প্রকল্পের মোট খরচ ধরা হয়েছে ৩০৫ কোটি রুপি, যার ২০ শতাংশ বাংলাদেশকে বহন করতে হবে। এ প্রকল্পের মাধ্যমে বাংলাদেশ কীভাবে লাভবান হবে, তা জানা যায়নি। এ প্রকল্প আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

ভারত সরকার তাদের লাভ দেখবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু বাংলাদেশের জনগণের ও সার্বিক উন্নয়ন দেখার দায়িত্ব বাংলাদেশ সরকারের। ব্রহ্মপুত্র দুই থেকে ১২ কিলোমিটার প্রস্থ। তাই মাত্র ৪৫ মিটার প্রস্থ জায়গা ড্রেজিং করলে বন্যা নিয়ন্ত্রণ কিংবা নদীর বহনক্ষমতা বাড়ানো সম্ভব হবে না। তাছাড়া ড্রেজিংকৃত পলিও নদীর মধ্যেই অন্য জায়গায় ফেলা হবে। তাতে ভারতীয় পণ্যবাহী জাহাজ চলাচলের পথ সুগম হওয়ার বাইরে অন্য কোনো উপকার হবে বলে প্রতীয়মান হয় না। অথচ বাংলাদেশের উচিত ছিল একটি সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা নিয়ে ব্রহ্মপুত্র অববাহিকার জন্য সমন্বিত একটি পরিকল্পনা নিয়ে সে বিষয়ে স্থায়িত্বশীল উন্নয়নের পথে সহায়ক যৌথ অংশীদারিত্বের মাধ্যমে পানি-পলি ব্যবস্থাপনা গ্রহণ করা। বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে নদীপথে ভারতের পণ্যবাহী জাহাজ চলাচলের বিনিময়ে ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনা অববাহিকার বিদ্যমান অন্যান্য ইস্যুকে সমন্বিত করার উদ্যোগ নেয়া জরুরি ছিল। তিস্তা নদীর পানি বণ্টন চুক্তির বিষয়টি নদীবিষয়ক এ প্রকল্পের অংশ হতে পারত। কারণ তিস্তার পানিপ্রবাহের বিষয়টিও ব্রহ্মপুত্র অববাহিকায়ই অবস্থিত। ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনার অববাহিকাভিত্তিক উন্নয়নের লক্ষ্যে ভূমি, পরিবেশ, উজান থেকে বয়ে আসা পানির গুণগত মান নিয়ন্ত্রণ করার প্রকল্প, ভূমি ব্যবহার, জলবিদ্যুৎ উৎপাদন, বন্যা নিয়ন্ত্রণের হাওড়সহ ব্রহ্মপুত্র-মেঘনা অববাহিকার বন্যা নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে বিভিন্ন যৌথ পরিকল্পনা গ্রহণ এবং পানি-পলি ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে উজানের সব দেশের অংশগ্রহণে সমন্বিত উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করার উদ্যোগ নেয়া যেত। এ যৌথ প্রকল্পটিকে শুধু নৌ-পরিবহনের লক্ষ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে বাংলাদেশের উচিত ছিল নদী ব্যবস্থাপনাকে আরো বড় আঙ্গিকে দেখা। ভাটির দেশ হিসেবে বাংলাদেশ জাতিসংঘ পানিপ্রবাহ আইনটি অনুস্বাক্ষর করে ভারতকেও আইনটি অনুস্বাক্ষর করায় উত্সাহিত করতে পারত। কিন্তু বাস্তবত নদী ড্রেজিংয়ের কাজটি একটি এক পাক্ষিক স্বার্থপরতায় সীমাবদ্ধ হয়ে রইল। ব্রহ্মপুত্র অববাহিকার সার্বিক উন্নয়ন সমন্বয়হীনতার অভাবে আবারো আরো এক ধাপ পিছিয়ে গেল। আশা করা যাচ্ছে, ব্রহ্মপুত্র অববাহিকার সব দেশ সংকীর্ণ জাতীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে আঞ্চলিক শান্তি ও সমৃদ্ধির লক্ষ্যে অববাহিকাভিত্তিক স্থায়িত্বশীল উন্নয়নের রূপরেখা প্রণয়নে উদ্যোগী হবে।

 

লেখক: অধ্যাপক, লক হ্যাভেন ইউনিভার্সিটি

পেনসিলভানিয়া, যুক্তরাষ্ট্র