প্রতিষ্ঠান হিসেবে মিল্ক ভিটার বেড়ে ওঠা কিংবা প্রতিষ্ঠার গল্পটা একটু অন্য রকম। শুরুতে তাদের উদ্দেশ্য ছিল মহৎ। দেশের মানুষের পুষ্টিসংস্থান করা, একই সঙ্গে গরিব চাষীদের ফড়িয়া-দালালদের কাছ থেকে রক্ষা করা। কিন্তু গল্পটি সেভাবে এগোয়নি, যেভাবে এগোলে আমরা একটি বিশ্ব বিখ্যাত সফল প্রতিষ্ঠানের জন্য গর্ব অনুভব করতে পারতাম। শতভাগ সফল হতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটি। তবে মূল বিষয়টি হলো, আস্থার জায়গাটি তৈরি করেও তা ধরে রাখতে পারেনি মিল্ক ভিটা। বাংলাদেশে রাষ্ট্রায়ত্ত অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষয়িষ্ণু ধারার প্রভাব পড়েছে মিল্ক ভিটায়। প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি নিয়ে নানা কথা রয়েছে মিল্ক ভিটা ঘিরে। বলা হয়, সুযোগ থাকার পরও প্রতিষ্ঠানটি সেই অনুযায়ী সফলতা পায়নি বা পেতে দেয়া হয়নি। চাহিদা থাকার পরও মিল্ক ভিটার পণ্য নিয়মিত বাজারে পাওয়া যায় না— এমন অভিযোগ শোনা যায় হরহামেশা। এতসব অপ্রাপ্তির মধ্যেও দেশে তরল দুধের বাজারের ৭০ ভাগ এ প্রতিষ্ঠানের দখলে রয়েছে। এটিই হয়তো বড় প্রাপ্তি।
পাশের দেশ ভারতে অর্ধশতক আগে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্যের বিরুদ্ধে দুধ উৎপাদনকারীদের যে সমবায় গড়ে ওঠে, তা আজ বিশ্বব্র্যান্ড। শুধু দুধের বাজার নয়, দুগ্ধপণ্য উৎপাদনেও ভারতকে শীর্ষ দেশে পরিণত করেছে আমুল। ড. ভারগিসি কুরিয়েনের নেতৃত্বে ১৯৪৬ সালে গুজরাট কো-অপারেটিভ মিল্ক মার্কেটিং ফেডারেশনের (জিসিএমএমএফ) জন্ম হয়, যা আমুল ব্র্যান্ড নামে ভারতে দুধ ও দুগ্ধপণ্য উৎপাদন শুরু করে। আমুলের সফলতার গল্প ধার করে এ দেশে শুরু হয় সমবায় দুগ্ধ প্রকল্প, যা পরে নাম বদলে রাখা হয় বাংলাদেশ দুগ্ধ উৎপাদনকারী সমবায় ইউনিয়ন লিমিটেড (মিল্ক ভিটা)। আমুলের মতো সফল হতে পারেনি মিল্ক ভিটা। তবে সুযোগ যে রয়েছে তা বলা যায় নিঃসন্দেহে।
একসময় একটি গাভী প্রতিদিন গড়ে ১-২ লিটার দুধ দিত। এখন প্রতিটি গাভী গড়ে ১০ লিটার দুধ দেয়। গত আট বছরে তিন গুণ বেড়েছে দুধ উৎপাদন। এমন সব সফলতার গল্পের পেছনে রয়েছে মিল্ক ভিটার পাশাপাশি বড় বড় করপোরেট গ্রুপের বাণিজ্যিকভাবে ডেইরি ব্যবসায় যুক্ত হওয়া। ১৯৭৩ সালে সিরাজগঞ্জের বাঘাবাড়ীতে প্রথম স্থাপিত হয় মিল্ক ভিটার দুধ পাস্তুরীকরণ কারখানা। সমিতির মাধ্যমে দুধ সংগ্রহ শুরু করে প্রতিষ্ঠানটি। বর্তমানে ২ হাজার ৪৭৫টি সমিতি রয়েছে মিল্ক ভিটার। কোনোটিতে ২০ আবার কোনোটিতে খামারির সংখ্যা ১৬০। কোনো খামারে দুটি আবার কোনোটিতে দেড় শতাধিক গরু রয়েছে। মিল্ক ভিটার মোট ৪০টি দুগ্ধ শীতলীকরণ কারখানা রয়েছে। তরল ও গুঁড়ো দুধ থেকে এখন দুগ্ধজাত বিভিন্ন পণ্য উৎপাদনে ঝুঁকছে মিল্ক ভিটা। প্রতিষ্ঠানটির আয়ে গত কয়েক বছর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে তরল ও গুঁড়ো দুধ। পাশাপাশি স্বল্প পরিসরে উৎপাদন হয় ঘি, মাখন, আইসক্রিম, মিষ্টি দই, টক দই, রসমালাই, ক্রিম, চকোলেট, ফ্লেভার্ড মিল্ক, আইস ললিজসহ ১৭ ধরনের পণ্য। শিগগিরই প্রতিষ্ঠানটির ব্র্যান্ড নেমে কনডেন্সড মিল্ক উৎপাদন শুরু হবে।
মিল্ক ভিটার শুরুর গল্পটা বাংলাদেশ ভূখণ্ডে কারখানাভিত্তিক দুগ্ধ শিল্প গড়ে তোলার প্রথম উদ্যোগ হিসেবে সমাদৃত। এ ধরনের উদ্যোগ প্রথম নেয়া হয় ১৯৪৬ সালে। সে সময় পাবনা-সিরাজগঞ্জ জেলায় নামমাত্র মূল্যে দুধ বিক্রি হতো। সে সময় দুগ্ধ ব্যবসায়ীরা কলকাতাকে মার্কেট হিসেবে চিহ্নিত করে ‘ন্যাশনাল নিউট্রিশন কোম্পানি’ নামে একটি সর্বভারতীয় প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার মানসে সিরাজগঞ্জ জেলার লাহিড়ী মোহনপুর এলাকায় দুগ্ধ কারখানা স্থাপন করার জন্য মেশিনারিজ নিয়ে আসেন। কারখানা স্থাপনের কার্যক্রম শুরু হলেও দেশ ভাগের কারণে ১৯৪৭ সালে এ উদ্যোগ বন্ধ হয়ে যায়। পরে ১৯৪৮ সালে মুখলেছুর রহমান নামে এক ব্যবসায়ী নিজস্ব সম্পদ বিনিময় সূত্রে কারখানাটির মালিকানা নেন। নতুন মালিকানায় কারখানাটির নাম বদলে রাখা হয় ইস্টার্ন মিল্ক প্রডাক্টস। কারখানার আনুষঙ্গিক স্থাপনার কাজ শেষ হয় ১৯৫২ সালে। সে সময় কারখানা থেকে দুধ, ঘি, মাখন ইত্যাদি দুগ্ধজাত পণ্য ভারতের কলকাতা শহরে স্বল্প পরিসরে কিছুদিন মিল্ক ভিটা নামে বাজারজাত করা হয়।
পরে ১৯৬৬ সালে প্রতিষ্ঠানটি সমবায় ব্যবস্থাপনায় এনে সমবায়ভিত্তিক প্রাথমিক দুগ্ধ উৎপাদনকারী সমিতি গড়ে তোলার উদ্যোগ নেয়া হয়। পুরনো নামও খানিকটা সংশোধন করে প্রতিষ্ঠানটির নাম রাখা হয় ইস্টার্ন মিল্ক প্রডিউসার্স কো-অপারেটিভ ইউনিয়ন লিমিটেড। শুরুতে সমবায় ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি ফলপ্রসূ না হওয়ায় ১৯৬৮ সালে সমবায় মার্কেটিং সোসাইটি কারখানাটির দায়িত্বভার নিয়ে নেয়। প্রায় একই সময়ে আর্থিকভাবে দেউলিয়াত্বের কারণে ঢাকার তেজগাঁওয়ে অস্টো ডেইরি নামে বোতলজাত দুগ্ধ উৎপাদন ও বিপণনের আরেকটি প্রতিষ্ঠান সমবায় মার্কেটিং সোসাইটির কাছে হস্তান্তর করা হয়। তবে সমবায় মার্কেটিং সোসাইটিও প্রতিষ্ঠান দুটির আর্থিক অবস্থার উন্নতি করতে সমর্থ হয়নি। প্রতিষ্ঠান দুটি সীমিতভাবে কিছুদিন উৎপাদন ও বিপণন কর্মকাণ্ড পরিচালনা করলেও সঠিক ব্যবস্থাপনা ও আর্থিক সহযোগিতার অভাবে ১৯৭০ সালের প্রথমদিকে এগুলোর উৎপাদন ও বিপণন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার অব্যবহিত পরেই মেহনতি মানুষের ভাগ্যের উন্নয়ন, কৃষকের উৎপাদিত দুধের ন্যায্যমূল্য এবং শহরের ভোক্তা শ্রেণীর মধ্যে নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত দুগ্ধ সরবরাহের নিমিত্তে নিজস্ব উৎপাদন ক্ষেত্র দিয়ে দুগ্ধ চাহিদা মেটানোর লক্ষ্যে ভারতের আমুল পদ্ধতি অনুসরণপূর্বক দুগ্ধ শিল্প গড়ে তোলার জন্য নির্দেশনা প্রদান করেন। তারই ফলে দেশের জনগণের পুষ্টি চাহিদা পূরণে দুগ্ধ সংকট নিরসনের পদ্ধতি নিরূপণের জন্য ১৯৭৩ সালে জাতিসংঘ উন্নয়ন সংস্থা (ইউএনডিপি) ও ডেনমার্কের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন এজেন্সি ড্যানিডার সহায়তায় এ দেশের দুগ্ধ শিল্প নিয়ে স্টাডি করা হয়। স্টাডি দুটির সুপারিশ বিবেচনা করে পূর্বতন কারখানা দুটির দায়দেনা পরিশোধ করে নতুন এলাকায় ‘সমবায় দুগ্ধ প্রকল্প’ নামে ১৯৭৩ সালে একটি দুগ্ধ শিল্প উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। দুগ্ধ উৎপাদনকারী কৃষকদের স্বার্থ সংরক্ষণ করে দুগ্ধ উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য সরকারের ১৩ কোটি ১২ লাখ টাকা ঋণ সহায়তায় দেশের পাঁচটি দুগ্ধ এলাকায় কারখানা স্থাপন করা হয়। পরবর্তীতে ১৯৭৭ সালে বাংলাদেশ দুগ্ধ উৎপাদনকারী সমবায় ইউনিয়ন লিমিটেড (মিল্ক ভিটা) নামকরণ করা হয়।
দুটি মৌলিক আদর্শ বাস্তবায়নের উদ্দেশ্য নিয়ে মিল্ক ভিটার যাত্রা শুরু হয়, যার প্রথমটি শতাব্দী ধরে বঞ্চিত এবং মধ্যস্বত্বভোগী ফড়িয়া-দালাল শ্রেণী কর্তৃক নিগৃহীত এ অঞ্চলের দরিদ্র, ভূমিহীন ও নিম্নবিত্ত দুগ্ধ উৎপাদনকারী কৃষকদের সমবায়ের মাধ্যমে সংগঠিত করে তাদের গবাদিপশু থেকে উৎপাদিত দুধের জন্য ন্যায্যমূল্য প্রদানভিত্তিক একটি নিশ্চিত বাজার সৃষ্টি; আর অন্যটি শহরাঞ্চলে, যেখানে খাঁটি ও স্বাস্থ্যসম্মত দুগ্ধপ্রাপ্তি সহজলভ্য নয়, সেখানে ন্যায্যমূল্যে খাঁটি ও স্বাস্থ্যসম্মত দুগ্ধ ও দুগ্ধজাত পণ্য সরবরাহ নিশ্চিতকরণ। মিল্ক ভিটার ভিশন ছিল— দারিদ্র্য বিমোচন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে দুগ্ধ উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে দেশকে দুগ্ধ ও দুগ্ধজাত পণ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করা।
রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে বাংলাদেশের দুগ্ধ শিল্প উন্নয়নের কাজটা এগিয়েছে অনেকটা ঢিমেতালে। এদিক থেকে চিন্তা করলে সরকারের বিবিধ পদক্ষেপ সম্প্রতি দেশে তরল দুধের উৎপাদন বাড়িয়েছে বহুগুণে। গত ১০ বছরে উৎপাদন বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি। বর্তমানে উৎপাদিত দুধের মাধ্যমে চাহিদার প্রায় ৬০ শতাংশ পূরণ করা হচ্ছে। আগামী ১০ বছরে চাহিদার শতভাগ পূরণ বা উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের লক্ষ্যে কাজ করছে সরকার। শতভাগ গাভীকে কৃত্রিম প্রজননের আওতায় আনা গেলে বর্তমান গাভী দিয়েই চাহিদার চেয়ে বেশি দুধ উৎপাদন করা যাবে। আগামী ১০ বছরের মধ্যে এটি সহজেই বাস্তবায়ন করা যাবে। তখন বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে। উৎপাদন বাড়াতে কৃত্রিম প্রজননে জোর দেয়া হচ্ছে। দুধ উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য জাত উন্নয়নের লক্ষ্যে গবাদিপশুর কৃত্রিম প্রজনন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। দেশব্যাপী ৩ হাজার ৭২২টি কৃত্রিম প্রজনন উপকেন্দ্র ও পয়েন্টের মাধ্যমে গ্রামীণ কৃষকদের এ সেবা দেয়া হচ্ছে। বর্তমানে ৩৫ শতাংশ গবাদিপশু সংকর জাতে রূপান্তর হয়েছে। এছাড়া ৪২ শতাংশ গাভী কৃত্রিম প্রজননের আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে।
সরকারের নীতিনির্ধারকরা দাবি করছেন, দুগ্ধ উৎপাদন বাড়াতে দেশ সঠিক পথে রয়েছে। দুধ উৎপাদন বৃদ্ধি তথা স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে। এজন্য কৃত্রিম প্রজনন কার্যক্রমকে বেগবান করা হচ্ছে। পাশাপাশি খামারিদের মধ্যে উন্নত প্রযুক্তি ও সঠিক ব্যবস্থাপনা সম্প্রসারণের মাধ্যমে বাচ্চার মৃত্যুহার কমিয়ে আনা, বংশগতির ধারার মান উন্নয়ন ও উৎপাদিত দুধের বাজার সম্প্রসারণে কাজ করা হচ্ছে। কৃষককে উত্সাহিত করতে স্বল্প সুদে ঋণ বিতরণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এত সব পরিকল্পনা নিয়ে দাবি করা হচ্ছে নির্দিষ্ট সময়ের আগেই দুধে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করা সম্ভব হবে। দুধ উৎপাদন বাড়াতে গত অর্থবছরে নেয়া প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের আওতায় বিভিন্ন ধরনের ১৫টি প্রকল্প চলমান রয়েছে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী একজন মানুষের জন্য দৈনিক ২৫০ মিলিলিটার দুধের প্রয়োজন। ২০০৫-০৬ অর্থবছরে দেশে একজন মানুষের দৈনিক দুধের প্রাপ্যতা ছিল ৪৪ দশমিক ২৩ মিলিলিটার। সরকারের এসব উদ্যোগের ফলে এর পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২২ মিলিলিটার। ২০২১ সালের মধ্যে একজন মানুষের জন্য দৈনিক দুধ উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১৫০ মিলিলিটার।
কৃত্রিম প্রজনন ও সাধারণ গাভীর দুধ উৎপাদনে বড় ধরনের পার্থক্য রয়েছে। একটি হলস্টেন ফ্রিজিয়ান গাভী থেকে প্রতিদিন ৬০-৬৫ লিটার দুধ উৎপাদন হয়। দেশী গাভী থেকে দুধ পাওয়া যায় মাত্র ২-৩ লিটার। যদি হলস্টেন ফ্রিজিয়ান গরুর সঙ্গে দেশীয় উন্নত জাতের গরুর ক্রসব্রিড করা হয়, তাহলে গড়ে প্রায় ২১ লিটার দুধ পাওয়া যাবে। ২০১৩ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত গাজীপুরের আমেরিকান ডেইরি লিমিটেডের জন্য ১৮টি এবং নারায়ণগঞ্জের ডেনিস ডেইরি ফার্মের জন্য ৩৫টি হলস্টেন ফ্রিজিয়ান জাতের গাভী অস্ট্রেলিয়া থেকে আমদানি করা হয়েছে। এছাড়া ২০১৫ সালে বাংলাদেশ মিলিটারি ফার্মের জন্য ভারত থেকে ১৪০টি ক্রস ব্রিড হলস্টাইন ফ্রিজিয়ান জাতের গাভী আমদানি করা হয়।
দুধ উৎপাদন বাড়াতে উন্নত জাতের যেমন বিকল্প নেই, একইভাবে গাভীর সুষম খাদ্য ছাড়াও দুধ উৎপাদন কাঙ্ক্ষিত হারে বাড়বে না। গরুর সুষম খাদ্যের মধ্যে কাঁচা ঘাস খুবই গুরুত্বপূর্ণ। দুধ উৎপাদন বৃদ্ধিতে কাঁচা ঘাসের কোনো বিকল্প নেই। আধুনিক পদ্ধতিতে ঘাস চাষ করা সম্ভব হলে সারা বছরই গবাদিপশুর কাঁচা ঘাসের চাহিদা পূরণ করা যেতে পারে। গো-খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য খামারিদের প্রশিক্ষণ প্রদান এবং ঘাসের নার্সারি স্থাপনের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের পুনঃঅর্থায়ন তহবিলের মাধ্যমে দুধে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের লক্ষ্যে গবাদিপশুর খামারিদের দেশের ১২টি বাণিজ্যিক ব্যাংকের ও একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ৫ শতাংশ সুদে ঋণ প্রদানের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সব মিলিয়ে বাংলাদেশের দুগ্ধজাত পণ্য উৎপাদন ও বাজারজাতের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটির উদ্যোগ প্রশংসনীয়। বিশেষ করে পরবর্তীকালে বাংলাদেশের যে কয়েকটি প্রতিষ্ঠান এই বিশেষ খাত নিয়ে কাজ করছে বা করার চেষ্টা করেছে, তাদের জন্য মিল্ক ভিটা অনেকটা পথিকৃতের অবস্থানে রয়েছে।
লেখক: সাংবাদিক






