&dquote;&dquote;গোলাভরা ধান আর পুকুরভরা মাছ— প্রবচনটি যাদের ধানের গোলা ছিল, শুধু তাদের জন্যই প্রযোজ্য। তাদের সংখ্যা শতকরা কয়েকজন মাত্র। তারা ভালোই ছিল। আর বাকিদের ত্রাহিমধুসূদন অবস্থা। নেংটি পরে জমিদারদের অধীনে উদয়স্ত খাটনি আর একগাদা হাড়জিরজিরে ছেলেপুলে এবং বৌ নিয়ে ভাঙা ঘরে বসবাস। অনাহার-অর্ধাহার ছিল তাদের নিত্যসঙ্গী। এই ছিল আবহমান বাংলার চালচিত্র। তত্কালীন ভাইসরয় ও গভর্নর জেনারেল লর্ড মেয়ো (১৮২৩-১৯৬৯) ও ভারতীয় কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠাতা এবং বেঙ্গল সার্ভিসের সদস্য অ্যালান অক্টাভিয়ান হিউম (১৮২৯-১৯১২) ভারতবর্ষের অনাহারক্লিষ্ট মানুষদের কথা মাথায় নিয়ে কৃষি উন্নয়ন বিষয়ে ভাবতে শুরু করেন। তারা ইম্পেরিয়াল গভর্নমেন্টের সঙ্গে এ নিয়ে দরকষাকষি শুরু করেন। ...সে সময়ের আবহাওয়াবিদদের হিসাবমতে, প্রতি ১২ বছরে একবার মারাত্মক দুর্ভিক্ষ দেখা দিত। এমনি এক দুর্ভিক্ষে (১৮৬৯-৭০) তখনকার বাংলাদেশে এক কোটি লোক মারা যায়।

১৮৭৬ থেকে ১৮৭৮ পর্যন্ত সারা ভারতের প্রায় ছয় কোটি মানুষ দুর্ভিক্ষের শিকার হয়। আধাকোটির বেশি মানুষ মারা যায়। মেয়ো-হিউমের পথ ধরে ভয়াবহ এসব পরিস্থিতি মোকাবেলার প্রয়োজনে ভাবনাচিন্তা শুরু করেন খোদ ব্রিটিশ গভর্নমেন্টের কিছু কর্মকর্তা। তবে তাদের সেই পথটা মোটেই সহজ ছিল না। অবশেষে ১৮৮০ সালে দুর্ভিক্ষ কমিশন গঠিত হয়। কমিশন দুর্ভিক্ষ নিরসনে ইম্পেরিয়াল সেক্রেটারিয়েট নিয়ন্ত্রিত একটি কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তোলার সুপারিশ করে। স্যার এডওয়ার্ড বাক বলে একজনকে সেক্রেটারি নিয়োগ করা হয়। ভারতের প্রত্যেক প্রদেশে একজন করে কৃষি পরিচালক নিয়োগ দেয়া হয়। কৃষি জরিপ, পরিকল্পনা প্রণয়ন ছিল তাদের প্রাথমিক চিন্তাভাবনার বিষয়। সেজন্য একজন কৃষি রসায়নবিদকে পাঠানোর সুপারিশ করা হয়। স্বাধীন কৃষি বিভাগ গঠনে এ কমিশনের সুপারিশই বিরাট ভূমিকা রাখে বলে মনে করা হয়।

কৃষি বিভাগ প্রতিষ্ঠার প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে ভারতবর্ষে ব্রিটিশ রয়াল কৃষি সোসাইটির রসায়নবিদ ড. জন অগাস্টাস ভয়েলকারকে পাঠানো হয়। তিনি ১৮৮৯ সালের শেষের দিকে ভারতে আসেন এবং ১৮৯১ পর্যন্ত সারা ভারতবর্ষ পরিভ্রমণ করে Improvement of Indian Agriculture শিরোনামে একটি প্রতিবেদন তৈরি করেন। এ প্রতিবেদনে তিনি সুনির্দিষ্ট কিছু সুপারিশ রাখেন। যেমন— জায়গাভেদে বিদ্যমান কৃষি ব্যবস্থা পদ্ধতিগতভাবে পর্যবেক্ষণ করা, কৃষিশিক্ষাকে ছড়িয়ে দেয়া, কৃষি উন্নয়নের জন্য যথাযথ নীতি প্রণয়ন করা।

দুর্ভিক্ষ কমিশনের সুপারিশ থাকলেও স্বাধীন কৃষি বিভাগ খোলার পদ্ধতি চলতে তাকে ধীরলয়ে। প্রথম দিকে কৃষিকে রাজস্ব, স্বরাষ্ট্র, বাণিজ্য ও অর্থসংস্থান-বিষয়ক বিভাগের সঙ্গে জুড়ে দেয়া হয়। এ অবস্থা ছিল ১৮৮১ পর্যন্ত। একই বছর অন্যান্য প্রদেশের সঙ্গে তত্কালীন বঙ্গ প্রদেশেও (বাংলা, বিহার, উড়িষ্যা ও আসাম) একজন পরিচালক নিয়োগ দেয়া হয়। সেই পরিচালকের অধীনে তিনজন সহকারী পরিচালককে ন্যস্ত করা হয়। ১৮৮৭-৮৮ সালে কলকাতার শিবপুরে একটি কৃষিখামার প্রতিষ্ঠিত হয়। পরে সেটা ‘যথাস্থানে হয়নি’ এ অজুহাতে বন্ধ করে দেয়া হয়। একই সঙ্গে শিবপুর ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে একটি কৃষিকোর্স চালু করা হয়েছিল। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে ১৯১০ সালে সেটা বন্ধ করে দেয়া হয়। ব্রিটিশ কলোনিয়াল সরকার ১৯০৫ সালে বিহারের পুষা শহরে Imperial Agricultural Research Institute প্রতিষ্ঠা করে। আমেরিকার মানবদরদি হেনরি ফিপস গবেষণার সরঞ্জামাদি কেনার অর্থ জোগান দেন। ১৯৩৪ সালের প্রলয়ঙ্করী বিহার ভূমিকম্পে ওই প্রতিষ্ঠান ধ্বংস হয়ে যায়। ১৯৩৬ সালে এটি দিল্লিতে স্থানান্তর হয়। তবে নতুন জায়গাটি পুষার নামেই নামকরণ করা হয়। এটা আমেরিকার ওই দরদি ভদ্রলোক ফিপসের সম্মানেই করা হয়। উল্লেখ্য, পুষা শব্দটি ফিপসের নামের বিহারি অপভ্রংশ।

১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গের মাধ্যমে পূর্ববঙ্গ ও আসাম নিয়ে নতুন প্রদেশ গঠিত হয়। এ প্রদেশের কৃষি উন্নয়নের জন্য কর্তৃপক্ষ ১৯০৬ সালে ঢাকার অদূরেও তেজগাঁ এলাকায় ৩৫৩.০৭ একর জমি কেনে। এখানেই তখনকার গভর্নর জেনারেল বামফিল্ড ফুলার কৃষি গবেষণা খামারের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। এ ফার্মের গেট থেকেই আজকের ফার্মগেট নামটি এসেছে। (এ জায়গার পাশেই কৃষি কলেজ প্রতিষ্ঠার জন্য আরো ৩০৪.৫ একর জমি কেনা হয়)। এখানেই ১৯১০-১১ সালে উপমহাদেশের প্রথম ধান গবেষণা শুরু। সেই থেকে আজ পর্যন্ত ধান গবেষণার ১০৫ বছর চলছে। এখন ফার্মগেট ব্যস্ত নগরীর প্রাণকেন্দ্র। ধান গবেষণা ওখান থেকে সরিয়ে গাজীপুরে নিয়ে যাওয়া হয়। যাহোক সেকালে ধান গবেষণা কার্যক্রম শুরু হয়েছিল নিতান্তই গরিবি হালে। আজ সেটা মহীরুহের আকার নিয়েছে। এই পুরো গবেষণার সময়টাকে আমি পাঁচ পর্বে ভাগ করেছি। যেমন—

১) আদি পর্ব (১৯১০-৪০)

২) প্রাক-প্রস্তুতি পর্ব (১৯৪০-৬০)

৩) প্রস্তুতি পর্ব (১৯৬০-৭০)

৪) উফশী পর্ব (১৯৭০-২০১০)

৫) উফশী-উত্তর পর্ব (২০১০-বর্তমান)

আদি পর্ব (১৯১০-৩৯): আগেই বলেছি, ধান গবেষণার শুরুতে যথেষ্ট অর্থের জোগান ছিল না। লোকবলও ছিল সীমিত। মাত্র চার-পাঁচজন গবেষণা সহকারী-মাঠ সহকারী এবং কয়েকজন ওভারসিয়ার দিয়ে কাজ চালানো হতো। প্রথমে নেতৃত্বে ছিলেন ইকোনমিক বোটানিস্ট ড. জিপি হেক্টর। তিনি ১৯৩৫ সাল পর্যন্ত এখানে ছিলেন। তার জায়গায় আসেন ড. সৈয়দ হেদায়েতুল্লাহ্। তখনকার প্রধান কাজ ছিল পরিবেশ ও পরিস্থিতিভেদে ধানের প্রকৃতি অনুধাবন। সঙ্গে জাত বাছাই-জাত নির্বাচন, আবাদ ও পরিচর্যা-বিষয়ক গবেষণা, সংকরীকরণ, মিউটেশন ইত্যাদি গবেষণা কার্যক্রমও চলতে থাকে। এ সময়ে ধানের কৌলিতাত্ত্বিক বিষয়, কোষবিদ্যা, ক্রোমোজম, পলিপ্লয়ডি নিয়েও ভালো কাজ হয়। নিজস্ব উত্স থেকে উন্নত জাত বাছাই করে বেশকিছু ভালো জাত এ সময়ের মধ্যে অবমুক্ত করা হয়। বিখ্যাত কটকতারা, পানবিরা, পুখি, ধারিয়াল এ সময়ের নির্বাচিত জাত। এ জাতগুলো এখনো দেশের অনেক জায়গায় পাওয়া যায়।

প্রাক-প্রস্তুতি পর্ব (১৯৪০-৫৯): দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ, দুর্ভিক্ষ, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা এবং দেশভাগ-এ সময়ের ঘটনাগুলোর অন্যতম। ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ গবেষক ভারতে চলে যান। তাই গবেষণা কিছুটা থমকে দাঁড়ায়। ১৯৫৫-৫৬ অর্থবছরে প্রথম পাঁচশালা পরিকল্পনার কাজ শুরু হয়। গবেষকের সংখ্যা এবং আর্থিক বরাদ্দ বাড়তে থাকে। দ্বিতীয় পাঁচশালা পরিকল্পনার শুরুতে আলাদা আলাদা গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোকে একটি ছত্রচ্ছায়ায় এনে একটি কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট স্থাপন করা হয়। এ প্রতিষ্ঠানের ফার্স্ট ইকোনমিক বোটানিস্টের First Economic Botanist-এর অধীনে ধান-সংক্রান্ত গবেষণা ন্যস্ত করা হয়। পদটি পরবর্তীতে First Economic Botanist (Cereal)-এ রূপান্তর করা হয়। এখান থেকে ড. এ আলীম ধান গবেষণা-সংক্রান্ত একটি স্কিম জমা দেন। ড. এম এ গণি এ ব্যাপারে যথেষ্ট ভূমিকা রাখেন। তার পরও তেমন কাজ হয়নি। অতঃপর সরকার অবসরে যাওয়া ড. হেদায়েতুল্লাহকে ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠায় নেতৃত্বদানের জন্য নিয়োগ দেয়। তিনি পরিমার্জিত আকারে আরেকটি স্কিম জমা দেন। এটি পাস হয় এবং কিছুটা কাজও হয়। পরে কী কারণে যেন শুরুতেই স্কিমটি থেমে যায়। কৃষি গবেষণাকে তার মূল জায়গা (আজকের ফার্মগেট-সংসদ ভবন এলাকা) থেকে সরিয়ে দেয়ার কার্যক্রম শুরু হয়। তড়িঘড়ি জায়গা বদল করতে গিয়ে ধানের দুই হাজার জার্মপ্লাজম হারিয়ে যায়। গবেষণা ব্যাহত হয়। তার পরও নাইজারশাইল, লতিশাইল, ঢেপি, দুধসর, বাদশাভোগ ইত্যাদিসহ বেশকিছু ভালো রোপা আমনের জাত এ সময়েই অবমুক্ত করা হয়। জলি আমনের জন্য কাত্যা বাগদার, গদালাকি, ধলা আমন, লাল আমন ইত্যাদি এবং বোরোর জন্য টেপি বোরো, খইয়া বোরো, বনজিরা, পশুশাইল ইত্যাদি স্থানীয় উন্নত জাত এ সময়ের গবেষণার ফসল।

এখানে পাজাম বা পাইজাম কীভাবে এল একটু বলা যেতে পারে।

ইন্টারন্যাশনাল রাইস হাইব্রিডাইজেশন প্রকল্পের আওতায় ইন্ডিকা-জ্যাপনিকা হাইব্রিড (আজকের হাইব্রিড নয়) উদ্ভাবনের কাজ শুরু ১৯৫০ সালে। এখানে আমাদের অগ্রজ বিজ্ঞানীদের অংশগ্রহণ ছিল। তারা জার্মপ্লাজম দিয়ে সহায়তা করেছিলেন। প্রকল্পের উদ্দেশ্য ছিল, জ্যাপনিকার সারপ্রীতি এবং ইন্ডিকার শক্তসামর্থ্য গুণাবলিকে একত্র করা। সংকরায়ণ প্রক্রিয়া শুরু ভারতের কটকে অবস্থিত কেন্দ্রীয় ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটে। পূর্ব পাকিস্তান থেকে ইন্দ্রশাইল, লতিশাইল, নাইজারশাইল এবং পাটনাই২৩— এ চারটি জাত পাঠানো হয়। জাপান থেকে ড. মরিনাগার সহায়তায় আটটি জ্যাপনিকা জাত সংগ্রহ করা হয়। সেগুলো ছিল নরিন-৬, নরিন ৮, নরিন ২৮, নরিন ২০, আসাহি, গিম্বঘু, তাইচং ৬৫, রিকু ইউ ১৩২। এগুলো দিয়ে ২৫টি ক্রস করা হয়। এ ক্রসগুলোর পরবর্তী দশা কী হয়েছিল জানা যায় না। তবে মনে করা হয় যে, অন্তত একটি কৌলিক সারি কটক থেকে মালয়েশিয়া হয়ে কুমিল্লা একাডেমির ড. আখতার হামিদের হাত ঘুরে তত্কালীন পূর্ব পাকিস্তানে প্রবেশ করে। পাকিস্তান, জাপান ও মালয়েশিয়ার সংশ্লিষ্টতার কারণে জাতটির নাম হয় Pa (Pakistan) Ja (Japan) and M (Malyasia) সংকরীকৃত শব্দ PaJaM বা Pajam.

বাংলায় শব্দটি পাজাম, পাইজাম, বা কখনো আরো বিকৃত হয়ে ফাইজাম বা ফাইজাক হিসেবেও উচ্চারিত হয়। পটুয়াখালীর উপকূলীয় এলাকায় স্বর্ণমসুরি হিসেবে চাষ হয় বলে আমার মনে হয়েছে। কারণ জাতটি মালয়েশিয়ায় মাহসুরি নামে পরিচিত। সোনালি রঙ বলে স্বর্ণ মাহসুরি থেকে স্বর্ণমসুরি নামে পরিচিতি পাওয়া অস্বাভাবিক নয়।

প্রস্তুতি পর্ব (১৯৬০-৭০): ১৯৫৯ সালে আন্তর্জাতিক ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (IRRI) প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৫৫ সালে জমা দেয়া ড. আলীমের স্কিমটি বহু হাত ঘুরে, FAO, Ford Foundation এবং IRRI-র চেষ্টায় ১৯৬৫-৬৬ সালে East Pakistan Accelerated Rice Research প্রকল্প নামে পাস হয়। ওই প্রকল্প ১৯৭০ সালে ১ অক্টোবর আলাদা মর্যাদায় পূর্ব পাকিস্তান ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। ড. আলীমই প্রকৃতপক্ষে ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের শুভসূচনা করেন। তিনি বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তবে প্রকল্প বাস্তবায়নে তার নেতৃত্ব বেশি দিন স্থায়ী হয়নি। তার জায়গায় আসেন ড. আমীরুল ইসলাম। তিনিও বেশি দিন থাকতে পারেননি। এর পর আসেন ড. শাহ্ মোহাম্মদ হাছানুজ্জামান। ধান গবেষণায় তিনি অনেক দিন নেতৃত্ব দেয়ার সুযোগ পান। এবং গবেষণায় গতিশীলতা আনয়নে তাঁর তাত্পর্যপূর্ণ অবদান আজ সর্বজনস্বীকৃত। IRRI উদ্ভাবিত কৌলিক সারি (IR8) আইআর৮ নামে বাংলাদেশে অবমুক্ত হয় ১৯৬৭ সালে। এর পেছনে ছিলেন BARD-এর প্রতিষ্ঠাতা ড. আখতার হামিদ। তবে প্রকৃত ধানবিজ্ঞানীদের সংশ্লিষ্টতা ছিল এমনটি মনে করার কোনো কারণ নেই। কারণ তারাও সাভার ও অনেক জায়গায় IR8 নিয়ে ট্রায়েল করেছিলেন। সময়ের প্রেক্ষাপটে ওই কৌলিক সারিটি নিয়ে তখন বেশি কাজ করার সুযোগ ছিল না। তাই সারিটি বিস্তারিত পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই আইআর৮ নামেই অবমুক্ত হয়। তবে ধানবিজ্ঞানীদের সরাসরি তত্ত্বাবধানে বিস্তারিত গবেষণাসাপেক্ষে IRRI কর্তৃক উদ্ভাবিত আরেকটি কৌলিক সারি বাংলাদেশে বিআর১ বা চান্দিনা নামে ১৯৭০ সালে অবমুক্ত করা হয়। ব্রি (তখন নাম ছিল EPRRI) থেকে অবমুক্ত এটিই প্রথম উচ্চফলনশীল (উফশী) ধানের জাত।

উফশী পর্ব (১৯৭১-২০০৯): এর পর ১৯৭১। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়ে যায়। তাই বিজয় না আসা পর্যন্ত এ প্রতিষ্ঠানে গবেষণা কার্যক্রম কিছুটা স্থবির থাকে। এর মধ্যেই বিআর২ অবমুক্ত করা হয়। স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম ধানের জাত। ১৯৭২ সালে আবার গবেষণা কর্মকাণ্ড শুরু হয়। নিজেদের হাতে সংকরীকৃত প্রথম জাতটি বিআর৩ হিসেবে অবমুক্ত হয়। জাতটি আজ পর্যন্ত উদ্ভাবিত প্রথম ধানের জাত, যেটি আউশ-আমন এবং বোরো তিন মৌসুমেই এক সময় অত্যন্ত ভালো ফলন দিতে সক্ষম ছিল। জাতটির প্রচলিত নাম বিপ্লব। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বহনকারী নাম। বঙ্গবন্ধুর সবুজ বিপ্লবের অন্যতম হাতিয়ার ছিল জাতটি। জাতটি উফশী আন্দোলনে সত্যি বিপ্লব আনতে সক্ষম হয়।

উফশী পর্ব দিয়ে সবুজ বিপ্লবের শুরু। সবুজ বিপ্লবের ঢেউ (বিগত শতকের) আশির দশকের প্রথম অর্ধেক পর্যন্ত দেখা গেছে। সময়টা সবুজ বিপ্লবের হলেও আমাদের খাদ্যে স্বয়ম্ভরতা অর্জন করতে আরো কিছুদিন লেগে যায়।

১৯৭৩ সালে পার্লামেন্টারি অ্যাক্ট-১০-এর মাধ্যমে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট গবেষণা প্রতিষ্ঠান হিসেবে সাংবিধানিক বৈধতা লাভ করে। ১৯৮৪ সালে XLVIII নং অর্ডিন্যান্স এবং ১৯৯৬ সালে পার্লামেন্টারি অ্যাক্ট-৫ এর মাধ্যমে সংশোধিত হয়। এ সময়ের মধ্যে চারটি হাইব্রিডসহ ৬৮টি উচ্চফলনশীল ধানের জাত উদ্ভাবন হয়। বিআর৩ (বিপ্লব), বিআর১১, ব্রি ধান১৬, ব্রি ধান২৮, ব্রি ধান২৯, ব্রি ধান৩৩, ব্রি ধান৪৭, ব্রি ধান৪৮, ব্রি ধান৪৯, ব্রি ধান৫০— এ সময়ের মধ্যে উদ্ভাবিত উল্লেখযোগ্য জাত। উফশী পর্বের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল ধানের ফলন বাড়ানো। তার পরও কিছু জাতের মধ্যে ফলন ছাড়াও ঘাতসহনশীল এবং আরো কিছু বিশেষ বৈশিষ্ট্য দেখা যায়। কারণ একেকটি পর্বের সূচনা হঠাৎ করেই শুরু হয়ে যায় না। একটা ট্রানজিশন কাল থাকে। কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া এ সময়ের মধ্যে উদ্ভাবিত জাতগুলো ছিল সেচনির্ভর অনুকূল পরিবেশের জন্য।

উফশী-উত্তর পর্ব (২০১০-বর্তমান): এর পরের চিন্তা শুধু উচ্চফলনশীল ধানের জাত নয়। বৈরী পরিবেশে সহনশীল এবং ফলন হতে হবে তুলনামূলক ভালো। ক্ষেত্রবিশেষে উচ্চতর পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ। জীবনকাল কম। এ পথে এগোতে গিয়ে উদ্ভাবিত হয়েছে জলমগ্ন সহনশীল ব্রি ধান৫১, ব্রি ধান৫২। খরাসহনশীল ব্রি ধান৫৬, ব্রি ধান৫৭, ব্রি ধান৬৫, ব্রি ধান৬৬ এবং ব্রি ধান৭১। লবণ সহনশীল ব্রি ধান৬১, ব্রি ধান৬৭ এবং ব্রি ধান৭৩। সরু চালের বালামসদৃশ ব্রি ধান৬৩, উচ্চ জিংকসমৃদ্ধ ব্রি ধান৬২, ব্রি ধান৬৪ , ব্রি ধান৭২ এবং ব্রি ধান৭৪। সম্প্রতি উদ্ভাবিত হয়েছে সুগন্ধি ও সুস্বাদু রোপা আমনের জন্য ব্রি ধান৭৫। জোয়ার-ভাটাপ্রবণ এলাকার জন্য লালামোটা-সাদামোটা জাতের অনুরূপ গুণসম্পন্ন রোপণের সময় খুবই লম্বা চারাসমৃদ্ধ, অথচ উচ্চফলনশীল ব্রি ধান৭৬ এবং ব্রি ধান৭৭ উদ্ভাবন হয়েছে। একই সঙ্গে লবণাক্ততা এবং জলমগ্নতা সহনশীল ব্রি ধান৭৮ (2-in-one) উদ্ভাবন হয়েছে। পাশাপাশি বোরো এবং আউশের উপযোগী পাঁচটি হাইব্রিড ধান উদ্ভাবন হয়েছে।

এখন বৈরী পরিবেশবান্ধব কৃষকের পছন্দমাফিক বাজারমুখী জাত উদ্ভাবনের কাজ এগিয়ে চলেছে। ভবিষ্যতে স্বল্পকালীন এ ধরনের জাত আমরা আরো পাব। পুরনো দিনের স্বাদের ও ঢঙের জাতগুলো কখনো অবিকৃতভাবে, কখনোবা উন্নতরূপে ফিরিয়ে আনার কাজও চলছে। ঔষধিগুণসমৃদ্ধ ধানের জাত উদ্ভাবনের চিন্তাভাবনা চলছে। অতএব শুধু ফলন দিয়েই ধান গবেষণাকে গণ্ডিবদ্ধ করে রাখার কোনো সুযোগ নেই। তাকে যুগের চাহিদা অনুসারে এগোতে হবে।

আমরা চালে স্বয়ম্ভরতা অর্জন করেছি। সেটা উফশী-উত্তর পর্বে গিয়ে। এখন আবার টেকসই খাদ্যনিরাপত্তার কথা ভাবতে হচ্ছে। সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্টাল গোল আমাদের সামনে। এই পর্বে ফলনের চেয়েও বৈরী পরিবেশে অভিযোজনের বিষটা বড় করে দেখা হয়েছে। তাছাড়া মাটির স্বাস্থ্য, কৃষি যান্ত্রিকীকরণ, বাণিজ্যিকীকরণ, কৃষকের সক্ষমতা বৃদ্ধিকরণ, পুষ্টিনিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ ইত্যাদি নিয়ে বিজ্ঞানীদের ভাবতে হচ্ছে। এ যুগে কৃষিতে পাবলিক-প্রাইভেট-পার্টনারশিপ নিয়েও বেশ আলোচনা হচ্ছে। আমাদের বিজ্ঞানীরাও ভাবছেন এ ব্যাপারে। অতএব চ্যালেঞ্জ বেড়েছে অনেক। সঙ্গে জনসংখ্যা বৃদ্ধি, আবাদি জমির ক্রমাগত হ্রাস, জলবায়ুর হুমকি তো আছেই।

ধান নিয়ে আমাদের রূপকল্প

ধান নিয়ে আমাদের যে ধাপে ধাপে যাত্রা, তার প্রাথমিক উদ্দেশ্য ছিল দেশকে খাদ্যে স্বয়ম্ভর করা। তা সম্ভব হয়েছে। এমনকি কিছুটা উদ্বৃত্তও আছে। এখনকার উদ্দেশ্য হলো টেকসই খাদ্যনিরাপত্তা।

১৯১৪-১৫ বছরে সারা দেশে উৎপাদিত চালের পরিমাণ ছিল ৩৪.৮৬ মিলিয়ন টন। আর জনসংখ্যা ১৫৮.৪৯। মাথাপিছু বছরে চালের চাহিদা বর্তমানে ১৪৮ কেজি। একসময় ছিল ১৭০ কেজি। বছরে কমছে শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ হারে। এ হিসাবে এ বছর চালের দরকার ২৪.১ মিলিয়ন টন। উৎপাদিত চালের ২৫ শতাংশ আমাদের খাওয়ার কাজে ছাড়া অন্য কাজে ব্যবহার হয়। যেমন বীজ হিসেবে ১২ শতাংশ ব্যবহার হয়। বাকিটা পশুর খাবার ও অন্যান্য কাজে। না চাইলেও কিছু পরিমাণ নষ্ট হয়ে যায়। এর পরিমাণ দাঁড়ায় ৮.৭ মিলিয়ন টন। অতএব খাওয়া, বীজ ও আর সব দিয়ে মোট ৩২.৮ মিলিয়ন টন চাল কাজে লাগার পর উদ্বৃত্ত থাকছে ২.০৬ মিলিয়ন টন। খাদ্যনিরাপত্তার খাতিরে আমাদের ন্যূনতম প্রতি বছর ২ মিলিয়ন টন খাবার অবশ্যই হাতে রাখতে হবে। সেটা কি সম্ভব? কারণ জমি কমছে। ধানের জমি কমার পরিমাণ প্রতি বছর শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ। প্রতি বছর বাড়তি জনসংখ্যা ২.২ মিলিয়নের জন্য বাড়তি চালের দরকার হচ্ছে শূন্য দশমিক ৩৪ মিলিয়ন টন। ধান বিজ্ঞানীদের হিসাবে ২০৫০ সাল নাগাদ ২১ কোটি ৫৪ লাখ মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় চালের পরিমাণ দাঁড়াবে ৪৭.২ মিলিয়ন টন। এ হিসাবটা ২৫ শতাংশ খাদ্য হিসাবে ব্যবহারের বাইরে এবং উদ্বৃত্ত চালের পরিমাণ ২.৬ টন ধরে। বেশ উচ্চাভিলাষী চিন্তাভাবনা মনে হতে পারে। কারণ এ পথে চ্যালেঞ্জ কম নেই। জমি কমার হিসাব যদি ধরি। চালের (ধান নয়) জাতীয় গড় ফলন হেক্টর ৩.১৯ টন এখনো। ২০৫০ সালে জনসংখ্যা দাঁড়াবে ২১ কোটি ৫৪ লাখ। এ অবস্থার কোনো উন্নতি না হলে চালের উৎপাদন ঘাটতি দাঁড়াবে ১৬.১ টন। উদ্বৃত্ত বাদ দিয়ে এ হিসাব দাঁড়াবে ১৩.৫ টন। বিরাট ঘাটতি। এছাড়া আরো অনেক সমস্যা আছে। আমাদের জমির উর্বরতা ধরে রাখা যাচ্ছে না। জৈব পদার্থের পরিমাণ কমে যাচ্ছে। মাটির উৎপাদনশক্তি কমে যাচ্ছে। যতই চেষ্টা করি না কেন, ক্রপিং ইনটেনসিটি বাড়ানোর সুযোগ কম। ২০৫০-এর পর কোনোক্রমেই ২.২১-এর উপরে নেয়া যাবে না। পানির স্তর অনেক জায়গায় আশঙ্কাজনক হারে নিচে নেমে যাচ্ছে। গ্লোবাল-ওয়ার্মিংয়ের কারণে ফসলের চলতি ধরনের জাতগুলো দিয়ে আর বেশি ফলন না পাওয়ার সম্ভাবনা। উপরন্তু ফলন যথেষ্ট পরিমাণে কমে যেতে পারে বলেই অনেক গবেষক আশঙ্কা করছেন। ভবিষ্যতের এসব সমস্যা থেকে মুক্তির উপায় নিয়ে বিজ্ঞানীরা ভাবছেন। যেমন—

১) Yield ceiling breaking-এর উপায় উদ্ভাবন। ২) জলবায়ু সহনশীল ইনব্রেড ও হাইব্রিড জাত উদ্ভাবন। ৩) পরিবেশ-প্রতিবেশসাপেক্ষে জাত উদ্ভাবনের পাশাপাশি আবাদ-কৌশল উদ্ভাবন। ৪) দিনপ্রতি বেশি ফলন দিতে পারে এমন জাত উদ্ভাবন। ৫) পানিসাশ্রয়ী জাত উদ্ভাবন। ৬) জিন-পিরামিডিংয়ের মাধ্যমে একাধিক বৈরী অবস্থা প্রতিরোধে সক্ষম ধানের জাত উদ্ভাবন। ৭) পরিবেশবান্ধব বালাই ব্যবস্থাপনা উদ্ভাবন। ৮) রফতানিযোগ্য সরু, সুদৃশ্য এবং সুগন্ধি চালের জাত উদ্ভাবন। ৯) উন্নত পুষ্টিগুণ ও ঔষধি গুণসম্পন্ন জাত উদ্ভাবন। ১০) খাবারের বহুমুখী ব্যবহারের উপযোগী যেমন নুডলস, বিস্কুট ইত্যাদি ব্যবহার উপযোগী ধানের জাত উদ্ভাবন। ১১)  ধানের আবাদ সহজ, সাশ্রয়ী ও জনপ্রিয় করার জন্য যথাযথ কৃষি-যন্ত্রপাতি উদ্ভাবন। ১২) জৈব রিসাইক্লিংয়ের মাধ্যমে মাটির স্বাস্থ্য সুরক্ষার উপায় উদ্ভাবন। ১৩) অর্গানিক রাইস কালচারের মাধ্যমে উৎপাদন বৃদ্ধির উপায় উদ্ভাবন। ১৪) ধানের আবাদ ব্যয়সাশ্রয়ী করা, চাষীদের জন্য বাজারমূল্য নিশ্চিত করার উপায় উদ্ভাবন। ১৫) উদ্ভাবিত কৃষিপ্রযুক্তি সম্প্রসারণের তাগিদে কৃষককে প্রয়োজনীয় কৃষিবান্ধব প্রশিক্ষণের উপায় উদ্ভাবন। ১৬) জাত উদ্ভাবনের পাশাপাশি কৃষিতাত্ত্বিক ব্যবস্থাপনা ও মাটির স্বাস্থ্যরক্ষার বিষয়ে যুগোপযোগী প্রযুক্তি উদ্ভাবন করা।

Best variety minus management; Yield tends to Zero। অর্থাৎ যত ভালো জাতই উদ্ভাবন করা হোক না কেন, ভালো পরিচর্যা ছাড়া কোনো লাভ নেই। পরিচর্যা দিয়েও আমরা জেনেটিক গেইন বাড়াতে পারি। তার একটি উদাহরণ এখানে দিচ্ছি। আমরা জানি, আমাদের ধানের খামার পর্যায়ের পটেনশিয়াল ফলন চালের হিসাবে গড়ে ৪.০ টন (ধানের হিসাবে ৫.৭ টন) হেক্টরপ্রতি। কিন্তু পাওয়া যাচ্ছে ৩.১৭ টন (ধানের হিসাবে ৪.৫ টন)। ঘাটতি বা ফলন ঘাটতি প্রায় ১ টন (২০ শতাংশ)। কিন্তু কৃষিতাত্ত্বিক ব্যবস্থাপনা দিয়ে এটা যদি কমিয়ে ফেলা যায়, তাহলে বিরাট লাভ। একটু সতর্ক হলেই সেটা সম্ভব বলে বিজ্ঞানীরা মনে করেন। আরো কিছু হিসাব কষা গেছে। নতুন ভালো জাত দিয়ে পুরনো জাত, তা সে যতই ভালো হোক প্রতিস্থাপন করতে হবে; এবং নিয়মিত। যেমন আমাদের দেশে সবচেয়ে জনপ্রিয় জাত হলো ব্রি ধান২৮ এবং ব্রি ধান২৯ (বোরো মৌসুমের জন্য)। বোরো মৌসুমে ৭০ শতাংশের বেশি জায়গাজুড়ে জাত দুটো আবাদ করা হয়। এদের বয়স ২০ বছরের বেশি। জনপ্রিয়তার শীর্ষে উঠতে সময় নিয়েছে প্রায় ১৫ বছর। কিন্তু এটাকে যদি আরো আগেই কৃষকের কাছে পৌঁছে দেয়া যেত, তাহলে তার ফলন পটেনশিয়ালের আরো বেশি সদ্ব্যবহার করা যেত। আমরা জানি, একটা জাতের নিজস্ব গুণাগুণ নিশ্চয়ই নষ্ট হয় না। কিন্তু বদলে যাওয়া পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিতে অবশ্যই বেশ অসুবিধা হয়। হয়তো নতুন ধরনের বৈরী পরিবেশকে মোকাবেলা করতে হয়। ফলে ফলন কমে যায়। এজন্য অস্ট্রেলিয়া, আমেরিকার মতো দেশে একটি জাত অবমুক্ত হওয়ার কয়েক বছর পরই আবার নতুন জাত দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়। কিন্তু আমাদের দেশে এখনো তা সম্ভব হচ্ছে না। কিন্তু যদি দেয়া যেত, তাহলে ভালো হতো।

বাধাগুলো অতিক্রমের উপায় কিন্তু আছে। নীতিনির্ধারকরা ইচ্ছে করলেই এগুলো পারেন। আমাদের কেবল সুযোগ ও জায়গা বুঝে সেগুলো প্রয়োগ করতে হবে।

২০৭০ সালে আমাদের জনসংখ্যা দাঁড়াবে ২৫ কোটি। তার পর নানা কারণে জনসংখ্যা আর বাড়বে না বা বাড়লেও খুবই সামান্য সংখ্যায়। সে সময় মানুষের দৈনন্দিন খাবারের তালিকায় ভাতের পরিমাণ যথেষ্ট পরিমাণ কমে যাবে। নিশ্চয়ই প্রযুক্তিগত অনেক উন্নতিও হবে। ধান নিয়ে বিজ্ঞানীদের যেসব ভাবনাচিন্তার কথা আগে বলেছি, সেগুলো নিয়ে গবেষণা করতে করতে অদূর ভবিষ্যতে কৃষি এমন জায়গায় যাবে, যাকে Precision agriculture বললে কম বলা হবে। হয়তো তাকে সে সময় Digital agriculture বা nano agriculture বা ultra precision agriculture বলা হতে পারে। তখন ধান গবেষণার আজকের যে চেহারা, তার খোল-নলচে সব বদলে যাবে। আর সেই প্রস্তুতি আমাদের এখনই শুরু করা দরকার। বা শুরু হয়ে গেছে বলা যায়। এবং তা দরকার আমাদের উত্তর পুরুষের অস্তিত্বের প্রয়োজনেই।

 

লেখক: মহাপরিচালক (পিআরএল ভোগরত)

বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট