কাতারে বাংলাদেশী ব্র্যান্ড ও ঐতিহ্যকে প্রমোট করা, দেশটিতে প্রবাসী বাংলাদেশীদের স্বার্থ রক্ষা, উভয় দেশের মধ্যে বিনিয়োগ বৃদ্ধিসহ বাংলাদেশ ও কাতারের মধ্যে সম্পর্ক জোরদারে প্রতিষ্ঠিত হয় বাংলাদেশ ফোরাম কাতার। সংগঠনের কার্যক্রম, কাতারে বাংলাদেশীদের অবস্থান, সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলেছেন এর প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ
শফিকুল ইসলাম। তিনি বর্তমানে ডিরেক্টর কাস্টমার এক্সপেরিয়েন্স, উরিদু কাতার হিসেবে কর্মরত। সাক্ষাত্কার নিয়েছেন শানজিদ অর্ণব।
বাংলাদেশ
ফোরাম কাতারের
কার্যক্রম ও
উদ্দেশ্য সম্পর্কে
জানতে চাই।
কাতার ফাইন্যান্সিয়াল সেন্টারের (কিউএফসি) অধীনে নিবন্ধিত ও আইনি বৈধতা নিয়ে প্রতিষ্ঠিত একমাত্র বাংলাদেশী সংস্থা বাংলাদেশ ফোরাম কাতার (বিএফকিউ)। সংস্থাটির প্রধান উদ্দেশ্যই হলো কাতারের সামনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ও অবস্থানকে উজ্জ্বল করার প্রয়াস চালানো। যেহেতু এ সংস্থার সদস্যরা কাতারের বিভিন্ন স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানে খুব ভালো অবস্থানে কাজ করছেন তাই প্রত্যেকেরই নিজস্ব নেটওয়ার্ক রয়েছে। ফলে কাতার সমাজের মূলধারায় বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উন্নত করতে এ সংস্থা বাস্তবিক অর্থেই ভূমিকা রাখতে পারে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ দূতাবাস ও অন্যান্য বাংলাদেশী সংস্থার ভূমিকা প্রশংসনীয়।
কাতারে
বাংলাদেশী ব্যবসায়ী-উদ্যোক্তাদের
অবস্থান কেমন?
তারা সাধারণত
কোন কোন
খাতে বিনিয়োগ
বা ব্যবসা
করছেন?
কাতারে বাংলাদেশী ব্যবসায়ী সমাজের অভিজ্ঞতা বলতে গেলে বেশ বৈচিত্র্যপূর্ণ। স্পষ্ট করে বলতে গেলে এখানে ব্যবসায়ী ছাড়া বিনিয়োগকারী নেই। বাংলাদেশীরা জড়িত এসএমই ও এসওএইচওর সঙ্গে। কেউ কেউ নির্মাণ শিল্পে মার্বেল ব্যবসায় ভালো করছেন। কেউ রয়েছে বড় বড় প্রকল্পে লাইটিং ব্যবসায়। বাংলাদেশী মালিকানায় এমইপি ও এইচভিএসি কোম্পানিও গড়ে উঠেছে এখানে। এর বাইরে পাইকারি সবজি ব্যবসা, হোটেল, রেস্টুরেন্ট, এসি ও রিয়েল এস্টেট ব্যবসাতেও রয়েছে বাংলাদেশী অভিবাসীরা। ব্যবসার জন্য কাতারের সম্ভাবনা বিবেচনা করলে বাংলাদেশী অভিবাসীরা এখানে আরো অনেক কিছুই করতে পারে।
কাতারে
আপনার ব্যক্তিগত
জার্নিটা শুনতে
চাই।
আমি টেলিকম
ইন্ড্রাস্টির মানুষ।
দেশে থাকতে
বাংলালিংকে কাজ
করতাম। ২০০৮
সালের ডিসেম্বরে
আমি তত্কালীন
কিউটেলে (বর্তমান
উরিদু) যোগ
দিই। কিউটেলে
(বর্তমান উরিদু)
তখন কাতারের
একমাত্র অপারেটর
ছিল। ২০০৯
সালে বিশ্বের
নাম্বার ওয়ান
অপারেটর ভোডাফোন
কাতারের বাজারে
প্রবেশ করে।
উরিদু পরিপূর্ণ
টেলিকম সার্ভিস,
যেমণ-মোবাইল,
ফিক্সড ফোন
ও টিভি,
দিয়ে কাতারে
এক নম্বর
অবস্থানে আছে।
বাজার পরিস্থিতি
বেশ চ্যালেঞ্জিং
হওয়ার পাশাপাশি
গত ১৩
বছরে
বেশি সময়ে
কোম্পানির বিভিন্ন
বিভাগে কাজের
সুযোগ হয়েছে।
বৈশ্বিক কোম্পানি
হিসেবে উরিদু
এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য
ও উত্তর
আফ্রিকায় কাজ
করে। বর্তমানে
আমি উরিদু
কাতারের ডিরেক্টর
কাস্টমার এক্সপেরিয়েন্স
পদে আছি।
কাতারে অনুষ্ঠিত
হতে যাওয়া
ফিফা বিশ্বকাপের
জন্য নতুন
এ দায়িত্ব।
তাছাড়া কোম্পানি
গ্রাহকদের আরো
কাছাকাছি হতে
চাচ্ছে ।
আমার মতে,
বসবাস ও
কাজ করার
জন্য কাতার
পৃথিবীর অন্যতম
সেরা জায়গা
হতে পারে।
পৃথিবীর নানা
প্রান্তের বিশেষজ্ঞদের
নিয়ে এখানে
বাস্তবিক অর্থেই
আন্তর্জাতিক মানসম্মত
কাজের পরিবেশ।
কাতারে
বাংলাদেশী পণ্যের
চাহিদা কেমন?
বাংলাদেশ থেকে
কোন ধরনের
পণ্য দেশটিতে
যাচ্ছে?
এ মুহূর্তে কাতারে বাংলাদেশী সম্প্রদায়কে টার্গেট করেই মূলত বাংলাদেশী পণ্য আসছে। আমরা আসলে যথাযথ গুরুত্ব দিয়ে বাংলাদেশী পণ্যকে কাতারে প্রচার করার চেষ্টা করিনি। হয়তো আমাদের ধারণা এটা ছোট বাজার।
কাতারে
অনেক বাংলাদেশী
শ্রমিক কর্মরত
আছেন। দেশটিতে
বাংলাদেশী অভিবাসী
কর্মীদের কর্মসংস্থানের
সুযোগ কেমন?
তাদের জীবনমান
কেমন?
এটা পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে। দক্ষ শ্রমিকদের অবস্থা সবসময়ই ভালো। কোম্পানিগুলো শ্রমিকদের নিয়োগ দেয়। এখানে জীবনযাত্রা ব্যয়বহুল। তাই কাতারে আসার আগে এমপ্লয়ারের মাধ্যমে বাসস্থান, চিকিৎসা ও অন্যান্য প্রয়োজন মেটানোর নিশ্চয়তা নিয়ে আসতে হবে। ফিফা বিশ্বকাপের পর এদেশে সার্ভিস সেক্টরের সুযোগ অনেক বৃদ্ধি পাবে। ভালো কমিউনিকেশন স্কিল থাকা কর্মীরা ভালো সুযোগ পাবেন।
কাতারে
বাংলাদেশীদের ভাবমূর্তি
কেমন?
এক্ষেত্রে আমরা বেশি বেশি মনোযোগ দিচ্ছি। কারণ আমরা অনুভব করি এখনো আমাদের ইমেজ যথাযথভাবে এখানে উপস্থাপন হয়নি।
সামনে
দেশটিতে শুরু
হচ্ছে ফিফা
বিশ্বকাপ ফুটবল।
এ ইভেন্ট
কাতারের বাংলাদেশী
ব্যবসায়ী কিংবা
অন্য পেশার
কর্মীদের জন্য
কোনো বিশেষ
সুযোগ বয়ে
আনবে কিনা।
ফিফা বিশ্বকাপের সব কাজ প্রায় শেষ। বিশ্বকাপের সময় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অনেক দেশ যৌথভাবে কাজ করছে, তবে এ তালিকায় বাংলাদেশের নাম নেই। কাতারে বসবাসরত বাংলাদেশী, বিশেষত ব্যবসায়ীরা অবশ্যই এই মেগা ইভেন্ট থেকে লাভবান হবেন।
বিশেষ
কিছু যুক্ত
করতে চাইলে...
বাংলাদেশ ফোরাম কাতার (বিএফকিউ) সংগঠন হিসেবে ইউনিক একটি ধারণার ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। কাতারে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে আন্তর্জাতিক মানের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড সম্পন্ন করতে প্রফেশনাল ও ব্যবসায়ীরা একত্রিত হয়েছেন এবং এসব কর্মকাণ্ড নিজেদের ফান্ডের মাধ্যমেই করা হয়। অতীতে আমরা অনেক ইভেন্ট করেছি। বর্তমানে আমরা সামনের বছরের শুরুতেই এসইসি ও বিডার সঙ্গে মেগা ইনভেস্টমেন্ট ইভেন্ট করার প্রত্যাশা করছি। ইভেন্টটি কাতার ও বাংলাদেশের মধ্যে অর্থনৈতিক ও বিনিয়োগ খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধি করবে। অর্থনৈতিক সম্পর্ক পারস্পরিক নির্ভরতা তৈরি করে এবং আমরা সে রকম সম্পর্ক নির্মাণের দিকেই তাকিয়ে আছি।





