বর্তমানে সৌদি আরবে ২২ লাখের বেশি বাংলাদেশী বসবাস করছেন। এছাড়া দৈনিক অনেক বাংলাদেশী শ্রমিক সৌদি আরবে আসছেন। বাংলাদেশীরা এখানে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, নার্স, শিক্ষক, নির্মাণশ্রমিক, কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারসহ নানা সেক্টরে খুব ভালোভাবে কাজ করছেন। মূলত এখানে কুমিল্লা, ফেনী, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, মাদারীপুর, বরিশাল, শরীয়তপুর, টাঙ্গাইল, গাজীপুর, নরসিংদী এলাকার লোক অনেক বেশি। সাধারণত সৌদি আরবে বাংলাদেশীরা রাজধানী শহর রিয়াদ, বন্দর নগরী জেদ্দা, মক্কা, মদিনা, দাম্মাম, আল জুবাইল শহরে বেশি বসবাস করেন।

এখানে অসংখ্য বাংলাদেশী আছেন, যারা ব্যবসা-বাণিজ্য করে খুব ভালো অবস্থার সৃষ্টি করেছেন। এছাড়া অনেকেই এখানে সৌদি আরবের উন্নয়নে ইনভেস্টার হিসেবে বিনিয়োগ করছেন। ব্যবসায়িকভাবে অনেক সফলতা অর্জন করছেন। সরকার যদি এ প্রবাসীদের দিকে খেয়াল রাখে, দেশের অর্থনীতিতে প্রবাসীদের অনেক ভূমিকা এবং দেশের উন্নয়নে প্রবাসীদের অনেক অবদান থাকবে বলে আমি মনে করি।

বাংলাদেশী অভিবাসীরা সৌদি আরবে অনেক ক্ষেত্রেই বিশেষ সুনাম ও স্বীকৃতি পেয়েছেন, এমন অনেকেই আছেন। উদাহরণ স্বরূপ, এদেশের মক্কায় কাবা ঘরের ক্যালিগ্রাফার হিসেবে শেখ মুক্তার আলম কাজ করে সারা পৃথিবীতে সুনাম অর্জন করেছেন। লাভ করেছেন সৌদি আরবের নাগরিকত্ব। এছাড়া অনেকেই এখানে শিক্ষা খাতে বিশেষ অবদান রেখেছেন। কিং সাউদ বিশ্ববিদ্যালয়ে অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর বিশিষ্ট ন্যানোবিজ্ঞানী ডক্টর রেজাউল করিম সৌদি সরকারের স্বর্ণপদক পেয়েছেন।

করোনা-পরবর্তী যারা নতুন ভিসায় সৌদি আরবে আসছেন, মূলত তারা বিশেষ সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। এখানে কর্মস্থলের কাজের সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করছে। সৌদি আরবে যারাই নতুন ভিসায় আসবেন, অবশ্যই কারিগরি প্রশিক্ষণ নিয়ে আসতে পারলে জীবন গঠনে বিশেষ অবদান রাখতে পারবে। যারা সৌদি আরবে আসবেন, কারিগরি প্রশিক্ষণ নিয়ে সৌদি আরবে এলেই জীবনে সফলতা অর্জন করতে পারবেন।

এখানে বাংলাদেশের অধিবাসীরা প্রত্যেকটা জাতীয় দিবস স্বতঃস্ফূর্তভাবে পালন করেন। বন্ধের দিনগুলোয় সবাই সৌদি আরবের প্রসিদ্ধ ও মনোরম জায়গাগুলোয় ঘুরতে যান পরিবার-পরিজন নিয়ে। বাংলাদেশীদের বিশেষ দিক বলতে বাংলাদেশীরা মূলত ৩০-৪০ বছর পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে এদেশের উন্নয়নে অংশীদার হিসেবে কাজ করছেন। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোয় বাংলাদেশীদের উল্লেখযোগ্য অংশগ্রহণ এদেশের অবকাঠামোগত নির্মাণে সহযোগিতা করেছে। বাংলাদেশের নির্মাণশ্রমিকদের দক্ষতা ও অভিজ্ঞতায় এদেশের অনেক স্থাপনা নির্মাণ করা সম্ভব হয়েছে।

 

মো. আবুল বশির: সভাপতি, সৌদি আরব প্রবাসী সাংবাদিক ফোরাম