বাংলাদেশে কাঁচামাল প্রক্রিয়াজাতের জন্য ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ ইন্ডাস্ট্রি গড়ে উঠলে  মোটরসাইকেলের দাম যৌক্তিক পর্যায়ে নেমে আসবে। এরই মধ্যে বিভিন্ন দেশের প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে ব্যবসার প্রাথমিক সমীক্ষা করে দেখছে। এটি আশার কথা। বণিক বার্তার সঙ্গে আলাপচারিতায় এমনটাই বলেছেন হোন্ডা বাংলাদেশ প্রাইভেট লিমিটেডের হেড অব ফিন্যান্স অ্যান্ড কমার্শিয়াল শাহ মুহাম্মদ আশিকুর রহমান। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন তাসনিম মহসিন

বর্তমানে বাংলাদেশে মোটরসাইকেলের বাজারের আকার কত?

বাংলাদেশে মোটরসাইকেলের বাজার প্রায় পাঁচ লাখ ইউনিট (বার্ষিক বিক্রি)। চলতি বছর বাজারের যেভাবে প্রবৃদ্ধি হওয়ার কথা ছিল, সেভাবে হচ্ছে না। আশা করছিলাম বিক্রি সাড়ে পাঁচ লাখ থেকে ছয় লাখ ইউনিটে চলে যাবে। কিন্তু প্রথমার্ধে খুব শ্লথ গতিয়ে এগিয়েছে। তার পরও আশা করছি, এ বছরের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে পারব।

বাজারে বিক্রির গতি না থাকার কারণ কী?

বছরের শুরুতে বিভিন্ন কারণে বাজারে গতি ছিল না। জাতীয় নির্বাচনের পর আশা ছিল বাজার বেশ এগিয়ে যাবে। কিন্তু শীত মৌসুম, বৃষ্টি, বন্যা, শস্যের দাম না পাওয়াসহ নানা কারণে বাজারে গতি কম ছিল। তবে এখন ভালোর দিকে যাচ্ছে।

হোন্ডা বাংলাদেশের বাজারে কেমন সম্ভাবনা দেখে?

বাংলাদেশের বাজার বেশ সম্ভাবনাময়। ভিয়েতনামে প্রতি দুজনে একটি মোটরসাইকেল রয়েছে। সেখানে হোন্ডার বার্ষিক উৎপাদন ১৮ লাখ ইউনিটের বেশি। ভারতে হোন্ডার উৎপাদন ৬০ লাখের ওপর। আশপাশের বিভিন্ন দেশে হোন্ডার বাজার বেশ ভালো। কিন্তু বাংলাদেশে পুরো বাজারটি এ মুহূর্তে মাত্র পাঁচ লাখ ইউনিটের। ফলে এ বাজারে বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে, যদি আমরা দাম আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে মিলিয়ে করতে পারি। নিবন্ধন ফি কমলে বাজার আরো বাড়বে। বর্তমানে নিবন্ধন ফি অনেক বেশি। এর সঙ্গে সম্পূরক কর আরোপ হয়েছে। বর্তমানে মোটরসাইকেলের আসল মূল্য কমছে, কিন্তু নিবন্ধন ও অন্যান্য ফি একই রয়ে গেছে আনুপাতিক হারে। সেসঙ্গে নিবন্ধন প্রক্রিয়াটিও সহজ করতে হবে।

হোন্ডার একই পণ্য পার্শ্ববর্তী বাজারে বাংলাদেশের চেয়ে অনেক কম মূল্যে পাওয়া যাচ্ছে।

এখানে দামের ক্ষেত্রে করের প্রভাবটি চলে আসছে। বর্তমানে আমাদের কর দিতে হয় ৫৩ থেকে ৫৯ শতাংশ। এ কর বাদ দিলে দেখা যাবে, আমাদের উৎপাদন মূল্য অনেক দেশের মূল্যের সমান বা এর থেকেও কম। আমরা পুরো পণ্যটি এখানে উৎপাদন করতে পারলে আশা করি, মূল্য যৌক্তিক পর্যায়ে চলে আসবে।

বাংলাদেশে উৎপাদনের বিষয়ে হোন্ডার পরিকল্পনা কী?

আমাদের ভিশন দীর্ঘমেয়াদি। আমরা এরই মধ্যে উৎপাদন শুরু করে দিয়েছি। এখন ধাপে ধাপে নতুন প্রযুক্তি আসবে। আমরা স্থানীয় ব্যবসায়ীদের তৈরি করার চেষ্টা করছি। কারণ ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ ইন্ডাস্ট্রি খুবই জরুরি। মোটরসাইকেল শিল্প ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ ইন্ডাস্ট্রির ওপর নির্ভরশীল। আমাদের কাঁচামালের অভাব রয়েছে। কাঁচামাল আনার পরে এটিকে প্রক্রিয়াজাত করা নিয়ে বিভিন্ন দেশের প্রতিষ্ঠান এসে ব্যবসায়িক সমীক্ষা করে দেখছে।

মোটরসাইকেলের বর্তমান বাজারের তুলনায় মানসম্পন্ন সার্ভিস স্টেশন পর্যাপ্ত কি?

আমাদের নিজস্ব সার্ভিস সেন্টারের মাধ্যমে গ্রাহকদের সার্ভিস দেয়া হচ্ছে। আর আমাদের বিভিন্ন প্রশিক্ষণমূলক প্রোগ্রাম রয়েছে, যা দিয়ে আমাদের সার্ভিস ইঞ্জিনিয়ারদের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। এখন পর্যন্ত সার্ভিস নিয়ে কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। বাংলাদেশে পর্যাপ্ত সার্ভিস স্টেশন রয়েছে। আমরা এগুলোকে আরো উন্নত করছি।